The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ১ ফাল্গুন ১৪২০, ১২ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ মানিকগঞ্জে বাসে ধর্ষণ : চালক-সহকারীর যাবজ্জীবন | লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যা | বাতিল হওয়া সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৪ মার্চ | কোপা দেল রে'র ফাইনালে বার্সেলোনা

টেন্ডারবাজি ও সরকারি প্রশাসনে ই-টেন্ডারিং

জামালপুর জেলার সরিষাবাড়িতে কয়েকদিন আগে দুইটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নূতন ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার জমাদানে বাধা দেয় সন্ত্রাসীরা। তাহারা একজন ঠিকাদারের ম্যানেজারকে লাঞ্ছিত ও মারিয়া আহত করে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে এই দুইটি ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে। ইহাতে ৩৬টি দরপত্র বিক্রি হয়। তবে দরপত্র জমার শেষদিনে মাত্র আটটি দরপত্র জমা পড়ে। যাহাতে আর কেহ দরপত্র জমা দিতে না পারে, এ জন্য টেন্ডারবাজরা সকাল হইতেই এলজিইডি অফিসে অবস্থান গ্রহণ করে। সরিষাবাড়ির এই ঘটনা একটি সামান্য উদাহরণ মাত্র। প্রকৃতপক্ষে টেণ্ডারবাজি লইয়া ইহার চাইতে বড় বড় কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটিতেছে আমাদের দেশে। এই ধরনের ঘটনায় প্রায়শ হাতাহাতি হইতে শুরু করিয়া গোলাগুলির ঘটনাও ঘটিতে দেখা যায়। এইজন্য আমাদের খুব অতীতে যাইতে হইবে না। ২০১২ ও ২০১৩ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রামে টেন্ডার ছিনতাই সংক্রান্ত সহিংসতায় সরকারি দলের দুইজন নেতা মারা যান। অবশ্য সামপ্রতিককালে টেন্ডারবাজির মাত্রা কিছুটা হইলেও কমিয়াছে বৈকি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সব প্রতিষ্ঠানে শুধু ই-টেন্ডার চালু করিবার মাধ্যমে দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজি অর্ধেক কমাইয়া আনা সম্ভব। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে ই-টেন্ডার সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হইতে পারিতেছে না বলিয়া অভিযোগ উঠিতেছে। টেন্ডারবাজির কারণে শুধু সন্ত্রাসই জন্ম নেয় না, ইহাতে সরকারি কাজের গুণগত মানও খারাপ হয় এবং জনগণ নূতন করিয়া দুর্ভোগে নিপতিত হন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র আহ্বানে প্রযুক্তিগত এই সুবিধার সদ্ব্যবহার করা হইতেছে। কিন্তু ইহা হইতে পিছাইয়া আছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি। উল্লেখ্য, সরকারি অফিসে ই-টেন্ডার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৯৮ সালে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হইতে সরকারি সব প্রতিষ্ঠানে ই-টেন্ডার কার্যকর করিবার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় ২০১১ সালে। ইতোমধ্যে সরকার অনলাইনে টেন্ডার জমা দিতে সবার জন্য একটি ওয়েবপোর্টাল চালু করিয়াছে। ইহার ঠিকানা- www.eprocure.gov.bd। ইহা ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট বা সংক্ষেপে ই-জিপি নামেও পরিচিত। বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইটের পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত এই ওয়েবসাইটেও টেন্ডার প্রকাশ ও জমাদানের নিয়ম রহিয়াছে। কিন্তু এই নিয়মই যথাযথ মানা হইতেছে না।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্তমানে সরকারি কাজ ৮০ শতাংশই হইতেছে ই-টেন্ডারিংয়ের বাহিরে। বিশেষত সরকারি সেবাখাতগুলিতে উল্লেখযেগ্য হারে ই-টেন্ডার বাস্তবায়ন না হওয়ায় ইহার পুরাপুরি সুফল পাওয়া যাইতেছে না। সরকারিভাবে উন্নয়ন কাজ ও কেনাকাটার জন্য সবচাইতে বেশি টেন্ডার আহব্বান করে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ), জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, স্বাস্থ্য অধিদফতর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর, পিডব্লিউডিসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা। কিন্তু এইসব প্রতিষ্ঠান ই-টেন্ডার পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ করিতেছে না। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এডিবি, জাইকাসহ দাতা ও উন্নয়ন সংস্থাগুলির সঙ্গে ঋণচুক্তির সময় এই শর্ত জুড়িয়া দেওয়া হয় যে, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবাখাতের কাজের ই-টেন্ডার করা না হইলে তাহারা অর্থায়ন করিবেন না। এই বাধ্যবাধকতা মানিয়া শুধু দাতা সংস্থাগুলিকে সন্তুষ্ট করা নহে, গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্যও ইহার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। গণতন্ত্রের অন্যতম পূর্বশর্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। ইহাছাড়া দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন অসম্ভব। এইসব বিবেচনায় সর্বত্র ই-টেন্ডারিংয়ের বাস্তবায়ন অত্যাবশ্যক। পছন্দের বিশেষ কোন ব্যক্তিকে কাজ পাইয়ে দিতে গিয়া যদি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোন অনিয়ম করা হয় তাহা হইলে বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ না হইয়া পারে না। ইহাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সরকারের ভাবমূর্তিও। তাই সকল পর্যায়ে ই-টেন্ডারিংয়ের প্রচলন ও সুষ্ঠুভাবে দরপত্র পরিচালনার মাধ্যমে সরকারি কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ৫ বছর পর একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে এবং তা হবে বর্তমান সংবিধান আলোকেই। আপনি কি তার সাথে একমত?
3 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ২০
ফজর৩:৪৯
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :