The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ২ ফাল্গুন ১৪২০, ১৩ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ গোপালগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫, আটক ১১ | ২-০ তে সিরিজ জিতল লঙ্কানরা | লন্ডনে বাংলাদেশি নারী খুন, ছেলে গ্রেফতার | যশোরের অভয়নগরে চৈতন্য হত্যার আসামি 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত

জবির তিব্বত হল

হাজি সেলিম ও ছাত্রলীগের পাল্টা চ্যালেঞ্জ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখলে থাকা তিব্বত হলের দখল নিয়ে পাল্টাপাল্টি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিম এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। হাজি সেলিম ওই সম্পত্তিকে তার নিজের দাবি করে বলেন, 'যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই সম্পত্তির মালিকানার পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারে, তাহলে এ সম্পত্তির দাবি পরিত্যাগ করব।' অন্য দিকে ছাত্রলীগ বলেছে, 'তিব্বত হল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ সম্পত্তি। হাজি সেলিম সন্ত্রাসীদের দিয়ে ছাত্রাবাসটি দখল করে নেন। যেকোনো মূল্যে এটি পুনরুদ্ধার করা হবে।'

আজ শুক্রবার বিকালে রাজধানীর গুলশান আরা সিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে হাজি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি ওই সম্পত্তির মালিকানার পক্ষে দলিল, রেকর্ড, পরচা, পানি-বিদ্যুত্-গ্যাসের বিল, হোল্ডিং ট্যাক্স ইত্যাদি উপস্থাপন করতে পারে, তাহলে এ সম্পত্তিতে আমার কোনো দাবি থাকবে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ গুলশান আরা সিটির সম্পত্তি নিয়ে যে অভিযোগ এনেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত। রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্যই আমার বিরুদ্ধে হল দখলের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।'

হাজি সেলিম বলেন, 'সম্পত্তিটি কখনো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ছিল না। সম্পত্তিটি মৌলভি খাজা আবদুল্লাহ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের। ২০০২ সালে মদিনা ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের সঙ্গে ওই ট্রাস্টের বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ চুক্তি হওয়ার পর এখানে মার্কেট নির্মিত হয়েছে। এ ছাড়া, ১৯৮৫ সালের ১৭ মার্চ তত্কালীন জগন্নাথ কলেজের অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত একটি পত্রেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ৮ নম্বর কুমারটুলিতে অর্থাত্ গুলশান আরা সিটি মার্কেটের জায়গায় জগন্নাথ কলেজের (বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়) কোনো হল নেই বলে উল্লেখ রয়েছে।'

হাজি সেলিম বলেন, 'জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও আমাকে বলেছেন—এই সম্পত্তির বিষয়ে তাদের কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। এমনকি সরকারি নথিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নয়টি হলের নামের উল্লেখ আছে, সেখানেও তিব্বত হলের কোনো নাম নেই। আর দুই নম্বর জমিতে আমি কেন এত বড় মার্কেট নির্মাণ করতে যাব? শুধু সংসদে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার কারণেই আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে।'

এ ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, 'তিব্বত হল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ সম্পত্তি। ১৯৮৫ সালে তত্কালীন তিব্বত ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষ হয়। তখন কিছু দিন ওই ছাত্রাবাস ফাঁকা ছিল। এ সুযোগে তত্কালীন বিএনপি-সমর্থিত ওয়ার্ড কমিশনার হাজি মোহাম্মদ সেলিম সন্ত্রাসীদের নিয়ে ছাত্রাবাসটি দখল করে নেন। হাজি সেলিমের কাছে এই সম্পত্তির বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই।'

হাজি সেলিম আরো বলেন, 'বৈধ কাগজপত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়া হবে। প্রয়োজনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তিব্বত হলে অবস্থান নেয়া হবে।'

তিব্বত হল উদ্ধারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার সড়ক ও প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এ কর্মসূচিতে যোগ দেন। ছাত্রলীগের অভিযোগ—ওই হলের জমিটিতে ১০ তলা মার্কেট (গুলশান আরা সিটি) করে ব্যবসা করছেন হাজি সেলিম। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসনের কোনো ব্যবস্থা নেই।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে গত সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক অনির্ধারিত আলোচনায় হাজি সেলিম বলেছিলেন, 'শিবির রগ কাটে আর ছাত্রলীগ কবজি কাটে, মাথা কাটে।' হাজি সেলিমের এমন বক্তব্যের পরদিন মঙ্গলবার এক প্রতিবাদলিপিতে ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম হাজি মোহাম্মদ সেলিমকে 'অশিক্ষিত টোকাই', 'মূর্খলোক' ও 'খুনি এরশাদ শিকদারের বন্ধু' বলে আখ্যায়িত করেন।

সর্বশেষ আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'উপজেলা নির্বাচনেও ভাগ বাটোয়ারার ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
9 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ১৮
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০৩
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :