The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ২ ফাল্গুন ১৪২০, ১৩ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ গোপালগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫, আটক ১১ | ২-০ তে সিরিজ জিতল লঙ্কানরা | লন্ডনে বাংলাদেশি নারী খুন, ছেলে গ্রেফতার | যশোরের অভয়নগরে চৈতন্য হত্যার আসামি 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত

টেলিফেভনে পাঠকের মতামতমত

দলীয়ভিত্তিতে স্থানীয় নির্বাচন

বাংলাদেশে স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে কারার বিধান থাকলেও কার্যত স্থানীয় নির্বাচন দলীয় রঙে রঙিন হয়ে পড়ে। তৃণমূলের এই নির্বাচন ভারতে দলীয় ভিত্তিতে হয়ে থাকে। ভারতের স্থানীয় নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হওয়ায় আত্মপ্রবঞ্চনা বা বর্ণচোরা বিষয়টি ঘটতে পারে না। পক্ষান্তরে আমাদের দেশের স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়, অথচ দলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে হওয়ায় স্থানীয় নির্বচন আত্মপ্রবঞ্চনার বিষয়টি দিব্য চক্ষুতে ধরা পড়ে। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অরাজনৈতিক হলেও, ভোটের মাঠে প্রার্থীদের পরিচয় রাজনৈতিক ভাবে প্রতিভাত হয়ে থাকে। অরাজনৈতিক নির্বাচনটি বিধানিক বলে, নির্দলীয় হওয়ায় বিভিন্ন দল থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা অধিক মাত্রায় দেখা যায়। যার ফলে দলীয় প্রধানরা দলের একক প্রার্থী রাখতে গলদঘর্ম হয়ে পড়েন। হাই কমান্ডের কেন্দ্রীয় সেলের প্রয়োজন দেখা দেয় দলের একক প্রার্থী ঘোষণা নিশ্চিত করতে। এমনকি দল থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার পর্যন্ত করা হয়। বহিষ্কৃত প্রার্থী নির্বাচনে জিতে দলের ছেলে দলে ফিরে আসেন। এ এক বিধানিক নৈরিত্য। কাজেই যে নির্বাচনে প্রার্থীকে দলীয় ভাবে সমর্থন ও দলীয় প্রচারণার প্রয়োজন পড়ে, সে নির্বাচনকে দলীয় ভাবে করতে বাধা কোথায় ? বর্তমান ঘোষিত উপজেলা নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থী দাঁড় করাতে দেশের দুটি প্রধান দলই যেখানে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছে এবং বাস্তবতাও তাই, সেখানে নির্দলীয় নির্বাচনের এই বিধান অলংকারিক বৈ আর কিছু নয়। স্থানীয় নির্বাচন সংক্রান্ত বিধানটি ঠিক এমন, এক ভদ্রলোক বলেছেন রহিম সাহেব বাড়িতে আছেন ? রহিম সাহেবের স্ত্রী বলেছেন, খোকা বল তোর বাপ বাড়িতে নেই। উপজেলা নির্বাচন সংসদীয় আসনের ন্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। যদিও বিধি বিধান বলে, সংসদ সদস্যদের কাজের ব্যপ্তি ও মর্যাদা একটু ভিন্ন। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান পদের মর্যাদা কোন ক্রমেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। একারণে বিশেষ করে উপজেলা নির্বাচন বিষয়টি গুরুত্ব বিবেচনায় দলীয় ভাবে হওয়া উচিত। দলীয় ভাবে নির্বাচনের বিধান থাকলে, সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান এমনকি ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে ছোট-খাট কিছু সাংঘর্ষিক বিষয়াদি এড়ানো যেত। কোদালকে কোদাল বলায়ই উত্তম।

মুরাদ হোসেন

মধুখালী, ঝিকর গাছা, যশোর

কেউ যদি বলেন- 'আপনি কোন্ দল করেন'? জবাব দেই:'কোন্দল কি দরকার'? আমাদের গণতন্ত্র আসলে 'দলতন্ত্র'। এমন কারণেই কি সমালোচকগণ গণতন্ত্রকে 'মূর্খের শাসন' বলেছেন? হাত থাকলেই যেমন হাতাহাতি করা ঠিক না, তেমনি দল করলেই দলাদলি করাও ঠিক না। স্বীকৃত কারণেই আমেরিকার প্রশাসন দল ভিত্তিক এবং সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনও বদলে যায়। ভারতে স্থানীয় নির্বাচন দলীয়ভাবে হয়— সবই মানি। কিন্তু সত্য কথা কী, বাংলাদেশের বাস্তবতাই আলাদা এবং তা অস্বীকার করা যাবে কি ? রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্বকথা— "কোন রাজনৈতিক মতবাদই তার সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ছাড়া বোধগম্য হয় না"।

বাংলাদেশে অসংখ্য অভিজাত, সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও জনদরদী ব্যক্তিত্ব আছেন যারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পদে অধিষ্ঠিত হলে জনগণ বেশি উপকৃত হন। ঐসব সম্মানিত ব্যক্তিগণ জনকল্যাণের স্বার্থে ও সচেতনভাবেই দলীয় লেজুড়বৃত্তি এড়িয়ে চলেন। সুতরাং স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রভাব মেনে নিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয়করণ সমর্থনযোগ্য নয়। কেননা, স্থানীয় নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনের উদ্দেশ্য ও আবেগ আলাদা। তবে স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল দেখে জাতীয় নেতৃবৃন্দ তাদের দলের গ্রহণযোগ্যতা আঁচ করতে পারেন। যদিও স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলে কেন্দ্রীয় সরকারের পতন বা পরিবর্তন হয় না।

অধ্যাপক মোঃ আলী এরশাদ হোসেন আজাদ

বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ,

কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর -১৭৩০

বাংলাদেশে স্থানীয় নির্বাচন সরকার নির্দলীয়ভাবে করার নিয়ম থাকলেও এখন হচ্ছে দলীয় ভিত্তিতে। এটা আমরা আশা করি না। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ছয় দফায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বিষয়। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়া দরকার নির্দলীয়ভাবে। এটাই সহজ কথা।

মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদউল্লাহ

প্রধান সড়ক, ফেনী।

দশম জাতীয় নির্বাচন সফল করে সরকার গঠন করতে পেরে চাঙ্গা ক্ষমতাসীন বর্তমান সরকার। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামছে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে এই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে। তবে নির্বাচন হওয়া দরকার কার্যত নির্দলীয়ভাবে।

লাডলা

আজিমপুর, ঢাকা।

গত ৫ জানুয়ারি ২০১৪ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। দেশের বৃহত্ রাজনৈতিক দল বিএনপি ব্যতীত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে করে আওয়ামী লীগের অনেক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এখন আমাদের দেশে আসন্ন উপজেলা নির্বাচন কার্যত দলীয় ভিত্তিক হতে যাচ্ছে। এজন্যও নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।

বজলুল করিম

রিসোর্স ইন্ট্রিগ্রেশন সেন্টার (রিক)

ধানমন্ডি, ঢাকা।

বাংলাদেশে স্থানীয় নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে বা নির্দলীয় ভিত্তিতে যে ভিত্তিতেই অনুষ্ঠিত হোক না কেন, এ নিয়ে স্থানীয় জনগণের কোন মাথা ব্যথা নেই। তাদের মাথা ব্যথা সে তার মূল্যবান ভোটটি একজন সত্ ও কর্মঠ প্রার্থীকে দিতে পারবে কি-না। তার কারণ রাজনীতিবিদদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনও আবার নাকি ভোটবিহীন, ভাগ-বাটোয়ারা ও প্রহসনের নির্বাচনের পথের দিকে এগিয়ে চলেছে কি-না।

মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান বাদল

এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে দেশের বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশ গ্রহণ না করায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা কোথাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। আবার কোথাও জাতীয় পার্টি কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপি জাতীয় নির্বাচন বর্জন করলেও তারা স্থানীয় উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ায় ভোটারদের মাঝে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। অর্থাত্ এই নির্বাচনে দলীয় ব্যক্তিরা অংশ নিচ্ছেন। যদিও সংবিধানে দলীয়ভাবে নির্বাচন করা যাবে না বলে উল্লেখ আছে। আর এ দলীয় মনোনয়ন ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে বাড়ছে দলীয় কোন্দল। সম্প্রতি রাজশাহীর বাঘায় ৫-৮ লক্ষ টাকা দলীয় মনোনয়ন দেয়া এক নেতার কুশপুত্তলিকাতে জুতা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয় তৃণমূল বিএনপি কর্মীরা। শুধু তাই নয় এ অবস্থা সরকারি দলেরও। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীরা বলছেন উপজেলা নির্বাচন স্থানীয় সরকারের নির্বাচন এতে দলীয়করণ থাকার কথা নয়। যাহোক, এখন সারাদেশে চলছে স্থানীয় নির্বাচনের উত্সব। জনগণ চায় উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হলে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে অহেতুক কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবেন না। এ জন্য দলীয় মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ করতেই হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

স্থানীয় নির্বাচন আমাদের দেশে নির্দলীয়ভাবে করার নিয়ম আছে। অন্যদিকে ভারতের স্থানীয় নির্বাচন দলীয় ভিত্তিক হয়। ভারত হচ্ছে একটি বৃহত্ দেশ। সেখানকার রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতন্ত্রের পুরো নিয়ম আছে। অথচ আমাদের দেশে সে নিয়ম গড়ে উঠেনি। সেহেতু আসন্ন উপজেলা নির্বাচন কার্যত দলীয় ভিত্তিক হচ্ছে। বিষয়টির প্রতি সবারই সচেনতা রয়েছে।

নার্গিস সুলতানা

নতুন পল্টন লাইন, আজিমপুর, ঢাকা।

এদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বা জাতীয় সরকার নির্বাচন সব নির্বাচনেই জনগণের অভিজ্ঞতা আছে। কাজেই দলীয়ভাবে নির্বাচন হওয়াটা কারোরই প্রত্যাশিত নয়। বিষয়টি গ্রহণযোগ্য ও নয়।

মো: খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ।

বর্তমান অবস্থায় কোনো কিছুই সহজ মনে হয় না—সমর্থন করাও যায় না। দলাদলি, নির্বাচনী ব্যয়ের আধিক্য ও নির্বাচনী গণ্ডগোল প্রশমনের জন্য জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন এক সঙ্গে ও 'প্যানেল ভিত্তিক করা যায় কি না, তা ভেবে দেখবার এখনই সময়।

দিলশাদ শারমিন জাহান (লোটাস)

গোহাইলকান্দি (সানকীপাড়া শেষমোড়)

ময়মনসিংহ-২২০০

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো গণতান্ত্রিক দেশের মূলভিত্তি। উক্ত প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনগুলোকে আমাদের সংবিধানে নির্দলীয়রূপ দিয়ে সার্বজনীন করা হয়েছে। ফলে উক্ত নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠানকালীন সময়ে দেশব্যাপী সাজ সাজ রব পড়ে যায় এবং সর্বস্তরের গণমানুষের অংশগ্রহণ থাকায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সাফল্যের নব নব পালক যুক্ত হয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী এবং সংবিধিবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ক্ষীণ ও ম্রীয়মাণ গণসম্পৃক্ততা, ক্ষেত্রবিশেষে জনবিচ্ছিন্নতা এবং দেউলিয়াত্ব ঢাকার জন্য উক্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনগুলোর দিকে ওত্পতে বসে থাকে এবং দলীয় প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে তত্পর হয়ে পড়ে। অপরদিকে সেই ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী হয় তাহলে তারা সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের যে কোন প্রকার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে উক্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনগুলোতে সুবিধাজনক পদে দাঁড় করিয়ে ফলাফল নিজেদের করায়ত্তে আনার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। তাতে সফল না হলে বিভিন্ন ফন্দি-ফিকির করে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের দলভুক্ত করে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় মসনদ কণ্টকমুক্ত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত থাকে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের উক্ত অপপ্রয়াস কাঙ্ক্ষিত ফল লাভে সমর্থ হয়। যেমন হয়েছিল আইয়ুবের বিডি মেম্বার, জিয়ার গ্রাম সরকার, এরশাদের উপজেলা পরিষদভুক্ত জনপ্রতিনিধিগণ। তারই ফলশ্রুতিতে কালক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয় অবয়ব পেয়ে যায় আর সংবিধান ও বিধিবদ্ধ আইনগুলোকে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্টরা বৃদ্ধাঙ্গুল দেখাতে থাকে। পৃথিবীর অপরাপর দেশে রাষ্ট্রিয় ভাবে সংবিধান ও বিধিবদ্ধ আইনের সাথে এধরনের হঠকারিতা ও শঠতার অনুশীলন কস্মিনকালেও করা হয় না বলে ভারতসহ অন্যান্য দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে আইনসিদ্ধ উপায়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বাস্তবতার নিরিখে আমাদের দেশেও তাই হওয়া উচিত বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন। কারণ রাষ্ট্রযন্ত্র যদি সংবিধান ও বিধিবদ্ধ আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার করে তাহলে জাতীয় জীবনে ঘন অন্ধকার নেমে আসতে বাধ্য। আমরা সেই অন্ধকার থেকে নিষ্কৃতি চাই

ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

সাধারণ সম্পাদক, ঢাকাস্থ বেগমগঞ্জ পেশাজীবী সমিতি

৫-বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা-১২০৩

আমার মতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্দলীয় ভিত্তিতে হওয়া উচিত। যেহেতু আইনের বিধান রয়েছে নির্দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। তাই অন্য দেশের সঙ্গে তাল মিলাতে গেলে সমস্যার সৃষ্টি হবে। তাই উপজেলা নির্বচন নির্দলীয় ভিত্তিতে হোক।

আলমগীর হোসেন

ভালুকা বাজার, ময়মনসিংহ

বাংলাদেশের স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে করার কথা। অন্যদিকে ভারতের স্থানীয় নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হয়। এখন আমার কথা হলো অন্যদেশে দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হলেই যে আমাদেরও দলীয়ভিত্তিতে করতে হবে তা ঠিক নয়। যেহেতু আমাদের সংবিধানে উল্লেখ আছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভিত্তিতে হবে সেজন্য উপজেলা নির্বাচনও নির্দলীয় ভিত্তিতে হোক এই প্রত্যাশা করছি।

জসিম উদ্দিন

আখরাবাজার, কিশোরগঞ্জ

আমাদের দেশে উপজেলা সৃষ্টির শুরুতেই প্রশাসনিক কাঠামোর ব্যাপারে যথেষ্ট মতানৈক্য ছিল। জনগণের মুখে মুখে চলছিল উপজেলার নাম। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ইতিবাচক অনেক কর্মকাণ্ড ঘটে যাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সে কারণে আজকের বাংলাদেশে উপজেলা এখন জনগণের সার্বিক উন্নয়নের প্রথম স্তর বলে গণ্য করা হয়। আমরা লক্ষ করেছি এই উপজেলা নির্বাচন সরাসরি কোন রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় অথবা প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় না। তাই একে দলীয় প্রভাবমুক্ত স্থানীয় প্রশাসন বলেও গণ্য করা হয়। তবে ভারতের উদাহরণ মেনে নিয়ে বাংলাদেশও উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। কারণ আমরা প্রায় সবক্ষেত্রেই দলীয় প্রভাব যুক্ত হয়ে যাচ্ছি বিধায় উপজেলা নির্বাচন দলীয় বলয় থেকে পৃথক থাকাই উত্তম। নির্দলীয় প্রশাসন স্থানীয় জনগণের জন্য বেশি উন্নয়ন সহায়ক। সবার জন্য সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে দলীয় প্রভাবমুক্ত স্থানীয় প্রশাসনের একান্ত প্রয়োজন।

ওয়াহিদ মুরাদ

স্বরূকাঠি, পিরোজপুর

স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দল ছাড়া নির্বাচন হয়। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক দল নিজেদের লোক মনোনয়ন দিচ্ছে। সরকার আইন করে নিজেই আইন ভঙ্গ করে। আমাদের নির্বাচন কমিশন শক্ত থাকলে এই বেআইনী কাজ করতে পারতো না সরকার। এ থেকে প্রমাণিত হলো নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না।

সৈয়দ হায়দার আলী

মহাখালী, ঢাকা

সংসদীয় নির্বাচন রাজনৈতিক দলীয় ভিত্তিতে হয়ে থাকে। এই জন্য যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের উপর নির্ভর করে সরকার গঠন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকার জন্য। অপরদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রাজনৈতিক দলীয়ভিত্তিক হওয়ার কোন সুযোগ নেই নির্বাচন কমিশনের নিয়ম-নীতিতে। আর সেজন্যই স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় নির্বাচনের মতো দলীয় প্রতীক দেয়া হয় না। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক দলীয়ভাবে প্রার্থী সিলেকশন করছে। দলের সিলেকশনের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তাকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ও রাজনৈতিক দলের বাস্তব প্রক্রিয়া সাংঘর্ষিক— যা দেশের জন্য শুভকর নয়। তাই এই ব্যবস্থা পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।

মনজু খন্দকার

চুয়াডাঙ্গা

আমাদের দেশে যে পদ্ধতিতে স্থানীয় নির্বাচন হচ্ছে তা হাস্যকর। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। হয়তো দলীয় ব্যানারেই নির্বাচন হবে অথবা সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে হতে হবে। স্থানীয় নির্বাচন দিয়ে দেশ ও জনগণের লাভ হচ্ছে না। এর মাধ্যমে দেশের লুটপাটকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে স্থানীয় নির্বাচনের তেমন গুরুত্ব থাকে না।

সাইফুর ইসলাম তানভীর

বারিধারা, গুলশান, ঢাকা।

বাংলাদেশে স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে করার বিদান রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের স্থানীয় নির্বাচন দলীয়ভিত্তিক হয়। কিন্তু আমাদের দেশে আসন্ন নির্বাচন দলীয় ভিত্তিকে হচ্ছে। এটা কোনভাবেই শোভনীয় কিংবা গ্রহণযোগ্য নয়।

নীলুফা আক্তার

টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা

বাংলাদেশে স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে করার বিধান আছে। কিন্তু এখন হচ্ছে অন্যরকম। অন্যদিকে পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থীদের হলফনামা তথ্য এখনো ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই আমরা আশা করছি সরকার উপজেলা নির্বাচনের সমস্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

মো. খায়রুল বাসার

কুতুবখালি, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা

নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন করার বিধান থাকলেও নির্বাচন হচ্ছে দলীয়ভিত্তিক। বিষয়টি অত্যন্ত বির্তকিত। কোন মানুষই চায় না বিষয়টি এমন হোক।

সোহাগ

ভাগলপুর লেন,

নবাবগঞ্জ লেন, ঢাকা

বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সেভাবেই এই নির্বাচন হয়ে থাকে। ভারতে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত— তাই সে দেশে নির্দলীয় নির্বাচন সম্ভব। বাংলাদেশে উদারপন্থি রাজনীতিতে উগ্রপন্থিরা রাজনীতিতে ভিন্ন ধারা সৃষ্টি করেছে। তাই সুস্থ রাজনীতির অভাব থাকায় সব নির্বাচন দলীয়ভিত্তিতে রেওয়াজে হওয়ার পরিণত হয়েছে। আসন্ন স্থানীয় উপজেলা নির্বাচন দলীয়ভিত্তিক হওয়াই স্বাভাবিক ও বাস্তব। আমাদের দেশে মানুষের অধিকার নিয়েও চলছে রাজনীতি। কার্যত এদেশের নির্বাচন দলীয়ভিত্তিক ও নিভরশীল। গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে এ উত্তোরণ ঘটাতে হবে।

শাহ মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন হিরো

কালিহাতি, টাঙ্গাইল

আমাদের দেশে গণতন্ত্র কোথায়? গণতন্ত্রের 'গ' নেই এখানে। তাহলে নির্বাচন সঠিক হবে কিভাবে? ভারত একটি বৃহত্ ও শক্তিশালী দেশ হিসাবে সারা বিশ্বে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত— সেখানে গণতন্ত্র সম্পূর্ণভাবে বহাল। আসন্ন উপজেলা নির্বাচন কার্যত দলীয় ভিত্তিকভাবে হচ্ছে। আমরা চাই আসন্ন নির্বাচন হোক নির্দলীয়ভাবে।

ফারুক আলম,

মালিবাগ, ঢাকা

সারা বিশ্বে এখন গণতন্ত্র বিরাজমান। ভারতেও গণতন্ত্র বহু আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত। অথচ এদেশে যখন যে সরকার আসে তখন সেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলে নির্বাচন হয়ে ওঠে দলীয়ভিত্তিক। যার জন্য গণতন্ত্র বার বার বাধাপ্রাপ্ত হয় ও দলীয়ভিত্তিকভাবে সব কাজকর্ম চলে আসছে। তবে এটা কারোরই কাম্য নয়।

মোঃ শহীদুল ইসলাম (রয়েল)

নিশিদারা, মধ্যপাড়া, বগুড়া।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন। চারদিকে চলছে হৈ হৈ। যদি এদেশে স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে করার প্রথা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। দলীয়ভিত্তিক নির্বাচন বরাবরই চলে আসছে। যা এদেশের মানুষের জন্য কোন সুখবর নয়। কিন্তু এদেশের জনগণ চায় একটি গ্রহণযোগ্য ও নির্দলীয় নির্বাচন। তাই আমরাও মনে করছি নির্দলীয় নির্বাচন হোক।

মাসুদ আলম বিপ্লব

উর্দু রোড, লালবাগ, ঢাকা

বাংলাদেশে স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হওয়াটা খুবই জরুরি। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার জন্য এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতের স্থানীয় নির্বাচন দলীয়ভিত্তিক হয় এটাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশেও বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার।

আলমগীর,

লালবাগ, ঢাকা

সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিও অংশগ্রহণ করতে যাওয়ায় উপজেলা নির্বাচনকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি। উপজেলা নির্বাচনের এই লড়াইয়ে জিততে সব স্থানে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে দল সমর্থিত একক প্রার্থী নিশ্চিত করার জন্য সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমরা মনে করছি তিনি ঠিক কাজটি করেছেন।

মেজবাহ উদ্দিন সেলিম

পূর্ব ইব্রাহিমপুর,

শেওড়াপাড়া, ঢাকা

উপজেলা নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হওয়াটাই সবার কাম্য। যেহেতু নির্বাচিতরা গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের নানা সমস্যা সত্যিকার অর্থে সেবার কাজে নিয়োজিত হবেন ।

মো. মোজাহারুল ইসলাম

চেয়ারম্যান, ইডাফ, মানবাধিকার সংস্থা

দেশের প্রতিটি নির্বাচনই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হওয়ার নিয়ম রয়েছে আমাদের সংবিধানে অথচ সেখানে আজ দলীয়ভিত্তিকভাবে হচ্ছে। এটা আমাদের কারোরই কাম্য নয়।

মাসুম আহম্মেদ

শেকড়ের সন্ধানে, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

বাংলাদেশে স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে করার বিধান আছে। অথচ সেটাকে উপেক্ষা করে আজ দলীয়ভাবে উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে করে কতটুকু মানুষের কল্যাণে আসবে তা দেখার বিষয়।

পারভীন আক্তার

হাজারীবাগ, ঢাকা

বাংলাদেশে স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে করার নিয়ম থাকলেও এখন হচ্ছে তা দলীয়ভাবে। এটা সময়ের ব্যাপার।

হোসনে আরা করিম নীলা

এনায়েতগঞ্জ লেন,

পিলখানা, ঢাকা

বাংলাদেশে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংবিধানে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন করার নিয়ম থাকলেও তা হচ্ছে দলীয় ভিত্তিকভাবে। অন্যদিকে ভারতে তা হয় দলীয় ভিত্তিকভাবে-এর কারণ ভারত গণতান্ত্রিক দেশ।

আর আমরা এখনও গণতন্ত্র থেকে অনেক দূরে আছি। তাই নির্বাচন কার্যত দলীয় ভিত্তিক হওয়া ঠিক নয়।

আইরিন সুলতানা (মনজু)

ধুপপুর,

মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম

আমাদের নির্বাচন অনেকগুলোই হয় কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কোন নির্বাচন একেবারেই নির্দলীয়ভাবে হয় সেটা ভাবনার বিষয়। কাজেই উপজেলা নির্বাচন কার্যত দলীয়ভাবে হওয়াটা সমীচীন নয়।

মারুফুজ্জামান,

খিলগাঁও ঢাকা

আসন্ন উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কার্যত তা হয় না। আমরা মনে করি, এদেশে নির্বাচন হোক নির্দলীয়ভাবে।

জুয়েল

বারিধারা, ঢাকা

নির্বাচন, নির্বাচন, হাওয়া চলছে চারদিকে। কিন্তু নির্বাচনের জন্য আনন্দ-উত্সব দরকার। কিন্তু সত্যিকার হিসাবে তা তো হচ্ছে না। তাহলে কিসের নির্বাচন? কিসের গণতন্ত্র? যেখানে নিরপেক্ষতা নেই।

আবদুর রাজ্জাক মৃধা

মহাখালী, ঢাকা

এদেশে কোন নির্বাচনই নির্দলীয়ভাবে হয় না। যা হয় তা হচ্ছে দলীয়ভাবেই। আমাদের আসন্ন উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে কার্যত দলীয় ভিত্তিকভাবে। এটা প্রত্যাশিত নয়।

মো. সেলিম

মহাখালী, ঢাকা

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে এখন আবারও উত্সবমুখর হয়ে উঠছে দেশ। এই নির্বাচনকে ঘিরে অনেক কিছু নির্ভর করছে। উপজেলাভিত্তিক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর সেটা যদি যেনতেনভাবে অনুষ্ঠিত হয় তাহলে জনগণের কাছে সেটার কোন মূল্য থাকবে না। তাই আমরা আশা করছি উপজেলা নির্বাচন হোক একটি স্বচ্ছ ও পরিষ্কার নির্বাচন।

মো. মনির হোসেন

মিরপুর ১, ঢাকা

উপজেলা নির্বাচন বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন এদেশে নতুন কিছু নয়। তবে নির্বাচন যদি নিয়মমাফিক সুন্দর সুষ্ঠু হয় সেটা অবশ্যই সবার জন্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। তা না হলে নির্বাচন কার্যত দলীয়ভিত্তিক বলে সবার কাছে পরিচিত হবে। সেটা কারোই কাম্য নয়।

শিশির

আজিমপুর, ঢাকা

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আসন্ন। প্রথম দফায় ১৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। খুবই ভালো কথা। কিন্তু কথা হচ্ছে প্রার্থীরা যোগ্য ব্যক্তি কিনা। দলীয়ভিত্তিক বা নির্দলীয়ভাবে যেভাবেই হোক না কেন এ নির্বাচন হওয়া দরকার সুষ্ঠু।

এম কে মোহাম্মদ রমিজউদ্দিন

প্রশিকা, প্রধান কার্যালয়,

মিরপুর, ঢাকা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবশ্যই নির্দলীয়ভাবে করা উচিত। কারণ এতে করে সত্, যোগ্য ও নেতৃত্বদানের উপযুক্ত লোকের নেতৃত্বে আমার পথ সুগম হয়। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে কখনও অনুপযুক্ত লোককে ফাঁকি দেয়। কখন কালো টাকা এবং পেশীশক্তি নির্বাচনকে প্রভাবিত করে এমনটাই প্রমাণিত। তাই দলীয়মুক্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাই।

মো. ফখরুল ইসলাম টিপু

সেনবাগ, নোয়াখালী

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবশ্যই নির্দলীয়ভাবে হওয়াটা দরকার। যদিও কালো টাকা ও পেশীশক্তির ওপর নির্বাচন হয়ে থাকে বেশি। সাধারণ মানুষ তাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো সমস্যার সমাধান চায়। কাজেই একজন সত্, যোগ্য ও আদর্শবান ব্যক্তির কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করা যায়।

রিফাত

ঝিনাইদহ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবশ্যই প্রয়োজন নির্দলীয়। দলীয় নির্বাচন মানেই হচ্ছে দলীয়করণ সবকিছুতেই। সাধারণ মানুষ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ চায় তাদের সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যার সমাধানের বিষয়টি। কাজেই এ কথা সত্য যে কোন নির্বাচনই হতে হবে সুষ্ঠু।

পারভীন সুলতানা

মালিবাগ, ঢাকা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হওয়া উচিত। বর্তমানে বাংলাদেশে বৃহত্ রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা করে। যা নির্বাচন আচরণ বিধির লংঘন। তার চেয়ে বড় সমস্যা হলো যাঁরা আইন প্রণিতা তাঁরাই আইনের লংঘন করেন বেশি। সর্বোপরি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবেই হওয়া উচিত।

মো. আবদুল মজিদ সর্দার

সভাপতি,

প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল,

শাহজাদপুর উপজেলা শাখা, সিরাজগঞ্জ

যে কোন নির্বাচনই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমাদের দেশে নির্দলীয়ভাবে করার বিধান রয়েছে। কিন্তু দলীয়ভিত্তিতে করতে চাইলে সংবিধানের বিধান তৈরি করতে হবে সেটা বড় কথা। উপযুক্ত সত্ ব্যক্তি শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন সহিংসতা দূরীকরণের পারদর্শী, দুর্নীতি দমনে সত্ সাহসী এমন ব্যক্তিই নির্বাচনে জয়ী হোক। দলীয় নির্দলীয় যে কোন উপযুক্ত ব্যক্তি উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারে কিন্তু উপযুক্ত হতে হবে। আমরা আশা করবো উপজেলায় উন্নয়ন দ্রুতগতিতে হবে। জনগণ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে গ্রামে গ্রামে শান্তিতে বসবাস করবে। প্রচুর কর্মসংস্থান হবে, কৃষি সম্পদের উন্নতি হবে, হিমাগার তৈরি করে কৃষকদের ফসল সংরক্ষণ করতে হবে। এতে করে শহরের চাপ কমবে বলে আমি মনে করি।

আশা এলিজাবেত গোমেজ

প্রধান শিক্ষিকা,

সেন্ট মার্টিন কিন্ডার গার্ডেন, লক্ষ্মীবাজার

ঢাকা ১১০০।

বাংলাদেশে স্থানীয় নির্বাচন আসন্ন। এদেশে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন করার নিয়ম আছে। চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন ছয় ধাপে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইসি। তফসিল অনুযায়ী প্রথম ধাপের ৪০টি জেলার ৯৮টি উপজেলার ভোট গ্রহণ হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ১১৭টিতে ২৭ ফেব্রুয়ারি, এছাড়া তৃতীয় ধাপে আগামী ১৫ মার্চ ৭৪টি, চতুর্থ ধাপে ২৫ মার্চ ৭২টি, ৫ম ধাপে ৩১ মার্চ, ৬৫টি ষষ্ঠ ধাপে, ৩ মে ৫৭টি উপজেলায়। সেনা মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হবে বলে ইসি জানিয়েছেন। সবই ভালো কথা। তবে উপজেলা নির্বাচন কার্যত দলীয়ভিত্তি হচ্ছে এটা খুব একটা আশাজনক নয়। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে কোন নির্বাচনেরই গুরুত্ব থাকে না।

হাসান মো. হোসাইন চৌধুরী

কবিরহাট, নোয়াখালী

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'উপজেলা নির্বাচনেও ভাগ বাটোয়ারার ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
8 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ১৫
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৪
আসর৪:২০
মাগরিব৬:০৬
এশা৭:১৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০১
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :