The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ২ ফাল্গুন ১৪২০, ১৩ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ গোপালগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫, আটক ১১ | ২-০ তে সিরিজ জিতল লঙ্কানরা | লন্ডনে বাংলাদেশি নারী খুন, ছেলে গ্রেফতার | যশোরের অভয়নগরে চৈতন্য হত্যার আসামি 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত

ভালোবাসা দিবসেও উল্লেখ করার মতো অ্যালবাম নেই

শিল্পী ঠকানোর মহোত্সব বেড়েই চলেছে!

তারিফ সৈয়দ

অডিও বাজারে বর্তমানে যে অস্থিরতা চলছে। তা এক অন্ধকারে মোড় নিচ্ছে। তবে নতুন স্বপ্ন নিয়ে যারা অ্যালবাম করতে আসছেন, তাদের জন্য যেন ভয়াবহ এক দুঃস্বপ্ন ধরা দিচ্ছে। কারণ এখন আর কোনো ক্যাটাগরি মেইনটেইন করে অ্যালবাম তৈরি করা হয় না। যে যত কমে একটি অ্যালবাম প্রকাশকের হাতে জমা দিতে পারবে তার অ্যালবামটিই রিলিজ হবে। আর এ কারণেই তথাকথিত অডিও লেবেল কোম্পানি থেকে যাবতীয় বিশ্বাস উঠে গেছে। আর এই সুযোগ নিচ্ছে ঈষত্ জনপ্রিয়তা পাওয়া কজন সংগীত পরিচালকেরাও। তারা অ্যালবাম অ্যারেঞ্জার হিসেবে নতুন শিল্পীদের কাছ থেকে উল্টো টাকা নিয়ে অ্যালবাম করছেন। অনেকে অডিও-ভিডিও একসাথে কন্টাক্ট করে অ্যালবাম তৈরি করছেন। বিষয়টি যেন এমন, আমাকে টাকা দিলেই আমি তোমাকে অ্যালবামে তালিকাভুক্ত করব। সম্প্রতি ঈগল মিউজিক ও সিডি চয়েজ এই প্রবণতার চূড়ান্ত করছে বলে অনেকেই অভিযোগ জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সিডি চয়েজের কর্ণধার সুমন এমদাদকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, 'আমরা শুধু সময়কে ধরার চেষ্টা করছি। এখন সিনিয়র কোনো আর্টিস্টদের গান বিক্রি হয় না। তাই তাদের অ্যালবাম করে আমি তো লোকসানের ভাগীদার হবো না।'

সিনিয়র শিল্পীদের গানকে প্রমোশন তো দূরের কথা, এখন এ সকল প্রকাশনী শুধু বসে থাকে কখন বিনামূল্যে ৮ থেকে ১০টি গান তার হাতে আসবে। অমনি হয়তো গানগুলো কোনোমতে জুড়িয়ে দিয়ে একটি অ্যালবাম বের করবেন। কিছু পোস্টার, কয়েক জায়গায় প্রচারণা, এরপর ধনী শিল্পীকে ভুলিয়ে ভালিয়ে মিউজিক ভিডিও তৈরি করতে পারলে তো সোনায় সোহাগা। কারণ ভালো মানের ভিডিওগ্রাফি থাকলে যেকোনো চ্যানেলই তাদের অনুষ্ঠান পূরণের জন্য প্রচার করবেই। আর এই সুযোগে সেই প্রচারের বদৌলতে রিংটোন ও ওয়েলকাম টিউনের মুনাফা হাতিয়ে নেওয়া। নতুন শিল্পীরা টাকা দিচ্ছেন প্রথমে সুরকার, সংগীত পরিচালক কিংবা তথাকথিত অ্যালবাম অ্যারেঞ্জারকে। এরপর নিজ খরচায় তারকা হওয়ার স্বপ্নে ভিডিও করছেন। কেউ কেউ মডেল হওয়ার স্বপ্নে কোনো শিল্পীর গান নিজ খরচায় তৈরি করছেন। এই কাজে আবার কাছের গীতিকার, সুরকাররাই সহযোগিতা করছেন। খুব সংক্ষেপে, এভাবেই যেন চলছে গানের অডিও বাজার। আগে অল্প শিক্ষিত প্রযোজক হিসেবে যাদের নাম প্রচলিত ছিল সেই সাউন্ডটেক, সঙ্গীতাও প্রতি উত্সবে কয়েকটি ব্যান্ড অ্যালবাম, কিছু সলো অ্যালবাম, কিছু মিক্সড অ্যালবাম, বাকি জারি-সারি বা বিভিন্ন ক্যাটাগরি অ্যালবাম বের করত। অর্থাত্ মিনিমাম একটি ক্যাটাগরি মেনে চলত, শ্রোতাদের ভিন্ন ভিন্ন স্বাদকে মাথায় রেখে। কিন্তু এখন সব অ্যালবামই যেন কিছু জানা-অজানা শিল্পীদের জগাখিচুরি। এবং একই ক্যাটাগরির ১৬টি অ্যালবাম নিয়ে একসাথে লঞ্চিং করল সম্প্রতি সিডি চয়েজ। কারণ এখন তো শ্রোতাদের কথা মাথায় না রাখলেও চলে। বিনা পয়সার শিল্পী আর তারকা হওয়ার আকুতি নেওয়া শিল্পী হলেই ব্যবসা নিশ্চিত। সেইভাবেই চলছে যেন অডিও বাজার। তাই শীর্ষ শিল্পীরা এখন যে যার মতো দূরে সরে যাচ্ছেন। আর এসব অ্যালবামে ঘুরে ফিরে যেন একই একঘেয়ে কিছু মুখ, সাথে কজন নতুন শিল্পী। যা রিলিজের আগেই অ্যালবাম থেকে প্রাপ্তির অংক লাভের খাতায় ঢুকিয়ে রাখেন।

আর এর প্রতিবাদের মাইলসসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ডদল এখন আর এই ভুঁইফোঁড় লেবেল কোম্পানি থেকে অ্যালবাম প্রকাশের কথা ভাবে না। সর্বশেষ শিরোনামহীন নিজস্ব প্রযোজনায় অ্যালবাম বের করে সাফল্য পেয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় অনেকেই এসেছেন। এ ছাড়া এখন একটি অডিও প্রকাশক যে যে ক্ষেত্রে নবাগতদের ঠকান তা হলো ১. সিডি বিক্রির মুনাফা (যদিও এর পরিমাণ যত্সামান্য), ২. মিউজিক ভিডিও খরচ (বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শিল্পী নিজ উদ্যোগে ভিডিও করেন, লাভ গুনেন প্রকাশক), ৩. রিং টোন থেকে প্রাপ্ত অর্থ, ৪. ওয়েলকাম টিউন থেকে প্রাপ্ত অর্থ, ৫. ইউটিউব বা ভিডিও গান ডাউনলোড পদ্ধতি থেকে প্রাপ্ত অর্থ। এর বাইরেও সবচেয়ে বড় কথা সিডি বের করতেও শিল্পীরা কাছ থেকে উল্টো টাকা নিয়ে থাকেন প্রকাশক!

এই অসুস্থ প্রবণতার জালে অডিও প্রকাশক জি-সিরিজ, সঙ্গীতা, লেজার ভিশন থেকে শুরু করে হালের সিডি চয়েজ ও ঈগল মিউজিক রয়েছে। শিল্পীরা ক্রমাগতভাবে নিষ্পেষিত হচ্ছেন। ডিরকস্টারের শুভর তিনটি অ্যালবামের কন্টাক্ট ছিল জি-সিরিজের সাথে। কিন্তু এরপর সেই কন্টাক্ট রিনিউ করার কোনো উদ্যোগ নেই। এমনকি অনেকেই এই প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে গেছেন শিল্পীদের ক্রমাগত ঠাকানোর কারণে! জি-সিরিজ থেকে বেরিয়ে আসা শিল্পীরা হলেন—শিরোনামহীন, আর্টসেল, তৌসিফসহ অনেকে। এমনি উদাহরণ শীর্ষস্থানীয় অন্য লেবেল কোম্পানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সর্বশেষ তানভীর শাহিনের একক অ্যালবামের 'সখীরে' গানটি সুপার ডুপার হিট হলেও শিল্পীর পরবর্তী অ্যালবামেও প্রকাশক লেজার ভিশন ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে আক্ষেপ করে জানিয়েছেন শিল্পী। এমন উদাহরণ অগণিত। কেউ প্রকাশ্যে বলছেন, 'কেউ বলতে পারছেন না। কোনো শিল্পীকেই প্রকাশকরা স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছেন না। তার কয়টা সিডি বিক্রি হলো, কয়টা রিংটোন বা মিউজিক ভিডিওর খরচটা তারা দেবেন না কেন? তাই শুধু নতুন শিল্পী নয়, এ সকল প্রতিষ্ঠান জনপ্রিয় ধারার শিল্পীদের ছাড় দিচ্ছেন না। আর শিল্পী সংগঠনগুলো একতাবদ্ধ না থাকার কারণেই এই সুযোগ নিয়েই চলেছেন তারা ক্রমাগত। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে তাই এখন যেমন শীর্ষ শিল্পীরা নামকাওয়াস্তের প্রকাশকদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন আগামী নতুনরাও আর নিজের অর্থ জলাঞ্জলি দিতে যাবেন না কেউ।'

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'উপজেলা নির্বাচনেও ভাগ বাটোয়ারার ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
9 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৩
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :