The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ২ ফাল্গুন ১৪২০, ১৩ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ গোপালগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫, আটক ১১ | ২-০ তে সিরিজ জিতল লঙ্কানরা | লন্ডনে বাংলাদেশি নারী খুন, ছেলে গ্রেফতার | যশোরের অভয়নগরে চৈতন্য হত্যার আসামি 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত

নির্বাচনী সহিংসতার শিকার ৫ শতাধিক স্কুল এখনো বিপর্যস্ত

আশিস সৈকত

খোলা আকাশের নিচে ক্লাস হচ্ছে গাইবান্ধায়

রাজশাহীতে পড়াশোনা চলছে পরিত্যক্ত ভবনে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পোড়া ভবনেই চলে ক্লাস

নির্বাচনী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। ভোট কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহূত এসব স্কুল-কলেজে ভোটের আগে ও ভোটের দিন রাতে সহিংসতা চালায় নির্বাচন বিরোধীরা। ভোটের আগে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেয়া হয়। চেয়ার-টেবিল থেকে স্কুলের ঘর বাড়ি সবই পুড়ে যায় অনেক এলাকায়। গত ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এবং তার আগে সহিংসতার কবলে পড়ে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নির্বাচনের পর প্রায় দেড় মাস সময় পেরিয়ে গেলেও সহিংসতার শিকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলো মেরামতের জন্য সরকারি অর্থ এখনও অনেক বিদ্যালয়ে পৌঁছেনি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনমতে জোড়াতালি দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হচ্ছে। অনেক স্কুলে এখনও ক্লাস নিতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের পাশে বিকল্প স্থানে কোনমতে পাঠ্যক্রম চালানো হচ্ছে।

জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মেরামতের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারের কাছে সাড়ে ৫ কোটি টাকা চেয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত ৪২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৩ কোটি সাড়ে ৭ লাখ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অধীন ১২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা চেয়েছে।

সহিংস ওইসব ঘটনার পর দুই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাঠ পর্যায় থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই হিসাব অনুসারে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ৪৫৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ১২৫টি প্রতিষ্ঠান। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪৫৭টির মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ৪২৮টির মেরামত করা প্রয়োজন বলে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ১২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদ্য বিদায়ী শিক্ষা সচিব ও বর্তমানে জনপ্রশাসন সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মেরামতের জন্য থোক বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। ছোটখাট কিছু কাজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজস্ব উদ্যোগেই করছে। বরাদ্দের সব টাকা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক করা হবে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলে টিনের ঘরের পরিবর্তে দালান করে দেয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

গাইবান্ধায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামত হয়নি: জামায়াত-শিবিরের সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত গাইবান্ধার সেই ১০৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো সংস্কার করা হয়নি। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানে খোলা আকাশের নিচে চলছে পড়াশোনা। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা (প্রাথমিক/মাধ্যমিক) এসব প্রতিষ্ঠান মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছেন। এর মধ্যে কেবল প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য ৫৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। কিন্তু গত ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোন সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। সূত্র জানায়, গত ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ও আগেরদিন ৪ জানুয়ারি রাতে জামায়াত-শিবিরের সহিংসতায় গাইবান্ধার পাঁচটি উপজেলায় মোট ১০৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরমধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৬টি এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৮৩টি। তবে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

গত ১২ জানুয়ারি কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের চিত্র। ওই তাণ্ডবে অত্যন্ত ক্ষতি হয়েছে বিশ্রামগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। পলাশবাড়ী উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত এই বিদ্যালয়ে গত ৪ ও ৫ জানুয়ারি দুই দফায় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মনজুয়ারা বেগম বলেন, ভোট কেন্দ্র হওয়ায় দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে স্কুলের ২৫ জোড়া বেঞ্চের মধ্যে ২২ জোড়াই পুড়ে গেছে। এছাড়া চেয়ার, টেবিল, সব দরজা-জানালা ও আলমারি ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। তারা বিদ্যালয় মাঠের একটি গাছেও পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, এমনিতেই চার কক্ষ বিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবনে বেঞ্চের অভাবে লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছিল। এর মধ্যে এ তাণ্ডবের কারণে বর্তমানে খোলা মাঠে চট বিছিয়ে প্রায় ২৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে পাঠদান করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাব্বী শেখ জানায়, 'স্যার আপনারা পেপারে লেখেন, আমাদের বেঞ্চ নেই।'

এছাড়া গত ৪ জানুয়ারি রাতে সাদুল্লাপুর উপজেলার হিংগারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে ওই কক্ষের দরজা-জানালা, চেয়ার টেবিল, আলমারি, এবং স্কুলের বাদ্যযন্ত্রগুলো পুড়ে যায়।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা মনমোহনী স্কুল ও কলেজ ১৫০ ফুট দীর্ঘ টিনসেড ঘরটি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজাহার আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক বরাবরে ২৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। সেখান থেকে বরাদ্দ না পাওয়ায় মেরামত করা যাচ্ছে না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, জেলার পাঁচ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ৮৩ টি বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য ৮৪ লাখ ২৮ হাজার ১০০ টাকা বরাদ্দ চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।

রাজশাহীর চারঘাটে পোড়া স্কুলগুলো স্বাভাবিক হয়নিঃ রাজশাহীর চারঘাটে নাশকতার আগুনে পুড়ে যাওয়া কালাবিপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস এখনও স্বাভাবিক হয়নি। যে সামান্য টিআরের চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা দিয়ে স্কুলটির চেয়ার, বেঞ্চ, ব্ল্যাকবোর্ড তৈরি করা গেলেও ঘর পুনঃনির্মাণ করা সম্ভব হবে না বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে টিনশেডের তৈরি স্কুলটি দুর্বৃত্তরা পুড়িয়ে দেয়। এতদিন ৬ষ্ঠ, ৮ম ও ৯ম শ্রেণির ক্লাস স্কুলের মাঠে খোলা আকাশের নিচে নেয়া হতো। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে পার্শ্ববর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দু'টি পরিত্যক্ত কক্ষ এবং স্কুলের কমন রুমকে ক্লাস রুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

শিক্ষার পরিবেশ ফেরেনি দিনাজপুরের ৯৮টি বিদ্যালয়েঃ নির্বাচনী ব্যাপক সহিংসতায় ভোট কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহূত দিনাজপুরের ৮টি উপজেলার ৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৮২ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে সন্ত্রাসীরা। আগুন লাগিয়ে বিদ্যালয়ের দরজা-জানালা, আসবাবপত্র, বই, শিশু শ্রেণির উপকরণ এবং পাঠ্য সামগ্রী পোড়ানো হয়েছে। তাই এখনও শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক হয়নি বলে জানা গেছে। ক্ষতিপূরণের চাহিদাপত্র ১০ জানুয়ারির মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এখন বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহূত দিনাজপুর জেলার ৮টি উপজেলার ৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ চালিয়ে ক্ষতি করা হয়েছে প্রায় ৮২ লাখ টাকার আসবাবপত্র, শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য সামগ্রী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুঃ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ক্ষুদ্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সাময়িক সংস্কারের পর পাঠদান শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩ জানুয়ারী দিবাগত রাতে ক্ষুদ্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রটিতে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগের কারণে বিদ্যালয়ের বেশকিছু আসবাবপত্র পুড়ে যায়। উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে তাত্ক্ষণিকভাবে সাময়িক সংস্কারের ফলে সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'উপজেলা নির্বাচনেও ভাগ বাটোয়ারার ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
3 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ২৪
ফজর৪:১৯
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:২৮
এশা৭:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৩৭সূর্যাস্ত - ০৬:২৩
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :