The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ৫ ফাল্গুন ১৪২০, ১৬ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ১৩ রানে হারল বাংলাদেশ | নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১০৬ জন | আল-কায়েদার ভিডিও বার্তার সঙ্গে বিএনপির যোগসূত্র নেই: মির্জা ফখরুল | চট্টগ্রামের অপহৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ী উদ্ধার

বাংলা ভাষার উত্পত্তি নিয়ে কিছু কথা

মো. আব্দুল বাকী চৌধুরী নবাব

ঊনবিংশ শতাব্দীতে ভাষার উত্পত্তি সম্পর্কে একের পর এক যতগুলো তত্ত্ব প্রবর্তিত হয়েছে, তাদের প্রত্যেকটিই ততটা স্বীকৃতি পায়নি। কেননা প্রত্যেকটির তত্ত্বের পিছনে যে শানে নযুল দেখানো হয়েছে, তা কেমন যেন এলোমেলো। যেমন- একটি তত্ত্ব ছিল যে, ধ্বনির অনুকরণ থেকেই ভাষার উত্পত্তি। উদাহরণস্বরূপ- কুকুরের ডাক অনুকরণের মধ্যদিয়ে কুকুর বাচক শব্দের সৃষ্টি। এক্ষেত্রে বিরোধীরা কৌতুক করে এর নামকরণ করেছিলেন 'বৌ-ঔ, তত্ত্ব বা ভৌ-ভৌ তত্ত্ব। আরেক দল মনে করতেন, ভাষার আদিম রূপ হল আবেগবাচক ধ্বনি, ইংরেজিতে যাদের বলা হয় Interjectional শব্দ, যেমন- উঃ আঃ, ইত্যাদি; যা হলো মানুষের প্রথম উচ্চারিত ধ্বনি এবং এরই বিকশিত রূপ ভাষা। আবার এক্ষেত্রে বিরোধীদল এটিকে ব্যঙ্গ করে নাম দিলেন পুঃ পুঃ তত্ত্ব। ঠিক এ ধরনের আরেকটি স্বভাব-তত্ত্বে উল্লেখ করা হয় যে, ধ্বনি আর অর্থের মধ্যে একটা গভীর সম্পর্ক আছে বিধায় বিভিন্ন ধ্বনির দ্বারাই আদিমযুগে বস্তুর নামকরণ করা হয়েছিল। এক্ষেত্রে ধ্বনিগুলোর সাথে বস্তুকে জুড়ে দিয়ে বিভিন্ন নাম দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো- ডিং ডং (ঘন্টা), তাছাড়া এ ধরনের অনেক আছে। যাহোক, যে ঐতিহাসিক ভিত্তি ধরে ভাষার উদ্ভব হয়েছিলো বলে উল্লেখ করা হয়, তার কোনো তথ্যাদি না থাকায়, এ সংক্রান্ত অনুমানের বেশির ভাগই জল্পনা-কল্পনা জাতীয় এবং অনেক ক্ষেত্রে উদ্ভট। সৃষ্টির ক্ষেত্রে যাঁরা দৈব উদ্ভবে বিশ্বাস করেন, তাঁদের অনুমানের যৌক্তিকতার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তাই এটা নিয়ে দড়ি টানাটানি চলতে থাকে। ভাষার উদ্ভব সম্বন্ধে এই ধরনের অনুমান বা কল্পনার সত্যতা ও মূল্যায়ন সম্বন্ধে গবেষকদের মনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল বিধায় ১৮৭৮ সালে প্যারিসের ভাষাতত্ত্ব সমিতিতে (লা সোসিয়েতে লাঁগিস্তিক দ পারি) গণ্ডগোল বাধবে বলে কোন এক অধিবেশনে ভাষার উদ্ভব বিষয়ক কোনো প্রবন্ধ পাঠ না করার ব্যাপারে নির্দেশনামা জারি করা হয়। তবে ভাষার উদ্ভব সম্বন্ধে মানুষের প্রশ্নের উত্তরে কোনো সুনিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাক বা না যাক, নিশ্চয় এক্ষেত্রে একটা সংগত ও বিশ্বাস অনুমানের জায়গা আছে। এরকমই একটি অনুমান করেছিলেন মিঃ হার্ডার। তিনি বলেন যে, ভাষার সৃষ্টি করেছে মানুষ। ব্যক্তি থেকে সমাজের সৃষ্টি এবং পরস্পরের সঙ্গে ভাবের বিনিময়ের জন্যেই ভাষার উদ্ভব। এদিকে মিঃ মার্কস একটি মজার কথা বলেছেন- "ব্যক্তিমানুষ একসঙ্গে বাস করছে না, পরস্পরের সঙ্গে কথা বলছে না, অথচ ভাষার জন্ম ও বিকাশ হচ্ছে। এটি অসম্ভব এবং যৌক্তিক নয়"। সেহেতু এ কথা বলতে দ্বিধা নেই যে সমাজ তৈরি না হলে মানুষের মধ্যে আদান-প্রদান বা ভাব বিনিময়ের সম্বন্ধ সৃষ্টি হতো না এবং সেহেতু ভাষার জন্ম সম্ভবপর ছিল না। প্রসঙ্গতক্রমে উল্লেখ্য যে, আজকের জগতে নিসর্গের এবং জীব-উদ্ভিদ-মানুষের সম্বন্ধের আবর্তে প্রতিদিন নতুন নতুন তত্ত্ব, তথ্য ও সত্যতা উদঘাটিত হচ্ছে। আর মানুষের জীবন এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর। তাই এ যন্ত্রনির্ভর জীবনে মানুষের মন-মনন-মনীষা প্রসূন বা পুষ্পসম্বলিত ভাষা, যা বিকশিত হচ্ছে বিভিন্নভাবে, চিকিত্সা ও পুষ্টিবিজ্ঞানসহ বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখারও নব নব আবিষ্কার-উদ্ভাবন মানুষের মানসিক ও ব্যবহারিক জীবনের চিন্তা-চেতনা ও আচার-আচরণ একাধারে বিকাশ এবং যুগপত্ উত্কর্ষের, সৌকর্যের, বৈচিত্র্যের ও স্বাচ্ছন্দ্যের গুণে-মানে-মাপে-মাত্রায়-ঘন-ঘন রূপান্তর ঘটাচ্ছে এবং সবটাই পরিণামে নতুন নতুন শব্দে আশ্রিত হয়েই দাঁড়াচ্ছে অভিব্যক্তি স্বরূপ সাবলীল ভাষা। আদি সূত্রের সন্ধান না মিললেও প্রতিক্ষণে ভাষা নিঃশব্দে এ অবনীর ঘুম ভাঙ্গায়, প্রকৃতিকে জাগায় এবং মানুষকে ভাবায়। তাই আজ সাড়ে সাতশ' কোটি মানুষের ভাষায় মুখর হয়ে উঠেছে সারাবিশ্ব। কত না সুন্দর এবং কত না অনাবিল শান্তি, যা ভাষা বাহন হিসেবে এগিয়ে দিয়েছে, দিচ্ছে এবং আগামীতে দিবে।

সমুদ্রের তলদেশে অগণিত প্রবাল কীট্্ তাদের আপন দেহের আবরণ মোচন করতে করতে কখনো একসময়ে দ্বীপ বানিয়ে তোলে। তেমনি বহু সংখ্যক মন আপনার একান্ত অংশ দিয়ে গড়ে তুলেছে আপনার স্ব স্ব ভাষা দ্বীপ। এভাবে এক এক ভৌগোলিক ভূখণ্ডে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর ব্যবহূত কথ্য বা উপ-ভাষা থেকে সময়ের আবর্তে বিভিন্ন ভাষার উদ্ভব। উদাহরণস্বরূপ- চীনের ভূখণ্ডে বসবাস করে যে জনগোষ্ঠী, তাদের ভাষা চাইনিজ। ফ্রান্সের অধিবাসীদের ভাষা ফরাসি। ঠিক তেমনই বাংলাদেশের অধিবাসীদের ভাষা "বাংলা"। বাংলা ভাষা বাংলাদেশের বাইরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে, আসাম ও ত্রিপুরাসহ আরও কিছু কিছু জায়গায় প্রচলিত আছে। পৃথিবীর প্রায় পঁচিশ কোটি লোক বাংলা ভাষায় কথা বলে। ভাষাভাষী জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাকে বিশ্বে চতুর্থ স্থানীয় ভাষা বলে মনে করা হয়। তাছাড়া প্রথম ভারতীয় রাজ্য হিসেবে বাংলাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা মর্যাদা দেয়া হয়েছে ঝাড়খন্ডের দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে কর্নাটক। এদিকে পৃথিবীর স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাকে সরকারি হিসেবে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা মর্যাদা দিয়েছে সিয়েরালিয়ন। এর স্থান কেবল চাইনিজ, ইংরেজি, হিন্দি-ঊর্দু, স্প্যানিশ, আরবি ও পর্তুগিজের পরেই। আর বাংলাই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র ভাষা, যার জন্য বায়ান্নতে তরতাজা কতগুলো উঠতি বয়সী মানুষ (রফিক, শফিক, সালাম, জব্বার, বরকত প্রমুখ) জীবন দিয়েছেন এবং এর প্রতি ভালোবাসা ও মর্যাদাবোধ থেকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম আমাদের এই লাল-সবুজের বাংলাদেশ। তাছাড়া ১৯৬১ সালের ১৯ মে ভারতের আওতাধীন আসামের শিলচরে ভাষার জন্য জীবনদানও প্রণিধানযোগ্য। যাহোক, এক্ষেত্রে ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞরা শিক্ষায় মাতৃভাষার স্থান সম্বন্ধে যে রিপোর্ট তৈরি করে, তাতে ভাষার যে বিভাজন ও ক্রমনির্দেশ ছিলো তা নিম্নোক্ত সারণীতে সন্নিবেশন করা হলোঃ

লেখক :গবেষক

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান বলেছেন, 'আল-কায়েদার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোন সম্পর্ক নেই'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
2 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ১৮
ফজর৩:৫৬
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৩
সূর্যোদয় - ৫:২১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :