The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ৫ ফাল্গুন ১৪২০, ১৬ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ১৩ রানে হারল বাংলাদেশ | নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১০৬ জন | আল-কায়েদার ভিডিও বার্তার সঙ্গে বিএনপির যোগসূত্র নেই: মির্জা ফখরুল | চট্টগ্রামের অপহৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ী উদ্ধার

রা জ নী তি

আলু চাষীর চোখে জল

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

দেশের আলু চাষীদের এখন 'মাথায় হাত' অবস্থা। আলু ফলাতে জমির ভাড়া ও ব্যক্তিগত-পারিবারিক শ্রমের দাম বাদেই তাদের খরচ পড়েছে কেজিপ্রতি ৬ থেকে ৭ টাকা। এটি সরকারি হিসেব। এখানে অনেক অদৃশ্য খরচকে হিসেবে ধরা হয়নি। তবুও যদি ধরে নেয়া হয় যে, কেজিপ্রতি আলুর উত্পাদন খরচ ৬/৭ টাকাই হয়েছে, তাহলেও দেখা যাচ্ছে যে, আলু চাষীকে সে আলু বাজারে বেচে দিতে হচ্ছে মাত্র দেড় থেকে দু'টাকা কেজি দরে। অর্থাত্ কেজিপ্রতি তাকে লোকসান গুণতে হচ্ছে ৪ থেকে ৫ টাকা।

অনেকে বলবেন, এ আর কি এমন বড় রকম বিষয়? মামলাতো মামুলি ৪/৫ টাকার। এ নিয়ে আলু চাষীর 'মাথায় হাত পড়ার' বা তাতে তার দুর্ভোগের কথা তুলে মায়াকান্না বা তোলপাড় করার কি এমন থাকতে পারে। ২ লক্ষ কোটি টাকার বাজেটের এই দেশে এই সামান্য টাকার এদিক-ওদিক হওয়া নিয়ে দাপাদাপির কি আছে? কিন্তু বিষয়টি মোটেও মামুলি ৪/৫ টাকার নয়। দেশে এবার মোট প্রায় ৯০ লাখ টন, অর্থাত্ মোট প্রায় ৯০ কোটি কেজি আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কেজিপ্রতি ৪/৫ টাকা করে লোকসান ধরে হিসেব কষলে দাঁড়ায় যে, দেশের আলু চাষীদের এবারের মৌসুমী লোকসানের পরিমাণ হলো প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এ এক বিশাল পরিমাণ, মোটেও 'রাবিশ' বলে উড়িয়ে দেয়ার বিষয় নয়। আলু চাষের ক্ষেত্রে যে অবস্থা তা যদি অন্যান্য প্রধান ফসলের ক্ষেত্রেও সত্য হয়, তবে কৃষকের মোট লোকসানের পরিমাণ বহু হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। বিষয়টি তাই নিঃসন্দেহে গুরুতর।

অনেকে অবশ্য এই হিসেব নিয়ে আপত্তি তুলে বলতে পারেন এ কথা বলে যে, এক্ষেত্রে ধরে নেয়া হয়েছে যে, উত্পাদিত সব আলু এখনকার পানির দামে বিক্রি হয়ে যাবে। একথা তো সঠিক নয়। অনেক চাষীতো তার ফলানো আলু এখনকার পানির দরে বিক্রি না করে সেটি বাড়িতে অথবা কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করে, দাম অনেকটা চড়লে, তখন বিক্রি করবে। এভাবে সে লাভজনক দাম না পেলেও খরচ পুষিয়ে নেয়ার মতো দাম পাবে। সেক্ষেত্রে তো লোকসান থাকবে না। অথচ, পরে বিক্রি করা হবে যে আলু, সেই আলুকেও হিসেবে ধরে লোকসানের পরিমাণ চিহ্নিত করা কি সঠিক হচ্ছে? সুতরাং, ৪০০ কোটি টাকা লোকসানের হিসেব হলো ফাঁপানো হিসেব। কিন্তু আলু এখন বিক্রি না করে ধরে রেখে পরে বিক্রি করতে গেলে দাম যেমন বেশি পাওয়া যাবে, তেমনি তা করতে যেয়ে কিছু আলু নষ্ট হয়ে বিক্রির অযোগ্য হয়ে পড়বে। সেই সাথে নিজ বাড়িতে মাচা তৈরি করে অথবা কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করতে হলে তার পেছনে বাড়তি খরচ হবে। তাছাড়া, উত্পাদন কাজে যে অর্থ ও শ্রম ব্যয় হয়েছে তার দাম যতদিন না উঠিয়ে আনা হচ্ছে, ততদিন তার মূল্য আটকে থাকছে। এরও একটি দাম আছে। এসব 'লুকানো খরচ' সহজে অনুভূত হয় না, কিংবা চোখে পড়ে না। এসব যাবতীয় বাড়তি খরচ ইতিপূর্বেকার উত্পাদন ব্যয়ের সাথে যুক্ত হবে। এক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত বাস্তবে যা ঘটবে তা হলো, বাড়তি উত্পাদন খরচের বিনিময়ে কিছু বাড়তি দামে আলু বিক্রি করা যাবে। ফলে লোকসানের পরিমাণে কিছুটা ঊনিশ-বিশ ঘটবে মাত্র, কিন্তু আলু চাষী লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে পারবে না।

আলু চাষীদের এরূপ 'মাথায় হাত' অবস্থা এই প্রথম নয়। দেখা যায় যে, ঘুরে-ফিরে বারবার এরূপ 'মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার' পরিস্থিতিতে তারা নিক্ষিপ্ত হয়। আলু চাষীর মতো অন্যান্য শস্য, সবজি, ফসল উত্পাদনকারী কৃষকদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একই রকম অথবা ক্ষেত্রবিশেষে তার চেয়ে খারাপ। কৃষকরা ফসলের লাভজনক দাম থেকে ক্রমাগত বঞ্চিত হচ্ছে। বিক্রি করতে গেলে তারা দাম পায় না, কিন্তু কিনতে গেলে সব কিছুর দাম ক্রমাগত বাড়ছে তো বাড়ছেই। এই অবস্থা কি কেবল বিচ্ছিন্ন ও আকস্মিকভাবে উদিত হওয়া কোনো ঘটনা? এ পরিস্থিতি কি নিছক কৃষকের বুদ্ধিহীনতা, অদক্ষতা, ব্যবসা-বুদ্ধির অভাব বা গ্রাম্য সরলতার কারণে ঘটবে বলে মনে করে বসে থাকা যায়? নাকি অবধারিতভাবে এই অবস্থা ক্রমাগতভাবে ঘটছে দেশের প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যের কারণে?

অনেক দশক ধরেই দেশ পরিচালিত হচ্ছে পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতির দর্শনের ভিত্তিতে। আলু চাষীদের তথা উত্পাদনকারী কৃষকদের জীবনের এই ক্রমাগত বঞ্চনা ও হাহাকারের কারণ কি পুঁজিবাদী বাজারের 'অন্তর্গত ধর্মের' কারণে, না কি তা 'বাজার ব্যবস্থার' প্রয়োগে ত্রুটি বা ঘাটতির কারণে? এসব প্রশ্নের জবাব সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারার ওপর নির্ভর করে সমস্যার সমাধান। তার উপরেই নির্ভর করে কৃষকের চোখের জল থামানোর প্রয়াসের সফলতা।

কেন এবার আলু চাষীকে পানির দামে আলু বেচতে হচ্ছে? প্রশ্ন উঠেছে বহু মহল থেকে। দেশের বিভিন্ন এলাকার আলু চাষীরা বিক্ষোভ করেছে। সিপিবি, বাসদ প্রভৃতি বামপন্থি দল এ নিয়ে নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। রাষ্ট্রের কর্তা-ব্যক্তিরা এ প্রশ্নের উপর ভাষা ও টোটকা কিছু 'রেডি মেইড' জবাব দিয়ে সবাইকে সন্তুষ্ট রাখতে চাইছে। কেতাবী পাণ্ডিত্য প্রদর্শন করে তারা সাফ সাফ বলে দিচ্ছে যে- আলুর দাম তো কমবেই, কারণ আলুর চাহিদার চেয়ে তার সরবরাহ অস্বাভাবিক পরিমাণে বেড়ে গেছে। কিছুদিন দেশে যেভাবে হরতাল-অবরোধ চলেছে তাতে করে কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু বের করে চালান দেয়া সম্ভব হয়নি। এখনো বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজে ১৫ থেকে ২০ লাখ টন পুরনো আলু রয়ে গেছে। অবরোধ পরিস্থিতি শেষ হওয়ায় ভরাট কোল্ড স্টোরেজগুলো থেকে আলু এসে বাজার সয়লাব করে দিয়েছে। আবার, এখনই একই সময়ে বাজারে নতুন আলু আসতে শুরু করেছে। সে নতুন আলুর আমদানিও এবার বেশি। কারণ, এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি বছর ৪ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু তারও অতিরিক্ত ৪৪ হাজার অর্থাত্ মোট ৪ লাখ ৮৪ হাজার হেক্টর জমিতে এবার আলু চাষ হয়েছে। ফলে, উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টন নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবিকপক্ষে এবার উত্পাদন ৯০ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে অনুমিত হচ্ছে। অতএব, বাজারে চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি হওয়ায় আলুর অস্বাভাবিক দরপতন হয়েছে। 'বাজারের কাজ বাজার করেছে', তাতে সরকারের কি করার আছে? আলু চাষীদের সর্বনাশের করুণ পরিস্থিতি সম্পর্কে এরকমই সরকারের জবাব!

অবশ্য সরকার পুরোপুরি ততোটা অমানবিক নয়। সরকার থেকে 'বেশি করে আলু খাওয়ার' জন্য জনগণকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। অতি উত্সাহী কিছু মহল শ্লোগান তুলেছে, 'ভাত ছাড়, আলু ধর'। গৃহস্থ বাড়িতে মাচা তৈরি করে তার নিচ দিকে বালু ফেলে তার উপরে আলু রেখে, ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস প্রবাহের ব্যবস্থা করে নিয়মিত বাছাইয়ের মাধ্যমে পচে যাওয়া আলু সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করে কিভাবে আলু সহজে সংরক্ষণ করা যায়— কৃষকদের মাঝে সে শিক্ষা প্রচার করা হচ্ছে। আলু প্রক্রিয়াজাতকরণের শিল্পোদ্যোগ বাড়ানোর গুরুত্বের কথাও বলা হচ্ছে। এসব কথা মোটেও ফেলে দেয়ার মতো নয়। এসব পরামর্শ গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু এতে সমস্যার কিছুটা উপশম হলেও সমস্যার উত্স তাতে দূর হবে না। তার বাস্তব প্রমাণ হলো, আলু চাষীরা ও সত্যি কথা বলতে সমগ্র কৃষক সমাজ, এসব ব্যাখ্যা ও পরামর্শের জোয়ারে প্রতিনিয়ত প্লাবিত হওয়া সত্ত্বেও আর 'ফসলের অলাভজনক দামের' ফাঁদ ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে পারছে না। কারণ, সমস্যার উত্স নিহিত রয়েছে প্রচলিত অর্থনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থার মধ্যে।

অর্থনীতির পণ্ডিতরা তত্ত্বের রং চাপিয়ে ব্যাখ্যা দেন যে, কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে ফসলের দামে মৌসুমী উঠতি-নামতি অবধারিত। কোনো মৌসুমে বাজারে একটি ফসলের দাম ভাল হলে কৃষকরা পরের মৌসুমে লাভের আশায় সেই ফসল ফলানোর দিকে ঝুঁকে পড়ে। আরো বেশিসংখ্যক কৃষক ও আরো বেশি পরিমাণ জমিতে যে ফসল ফলন করায় ফলন বেশি হয়। অথচ, চাহিদা মোটামুটি একই রকম থাকে। ফলে, পরবর্তী মৌসুমে বাজারে চাহিদার তুলনায় সে ফসলের সরবরাহ স্ফীত হয়ে ওঠে। এ কারণে দাম পড়ে যায়। দাম পড়ে যাওয়ার এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করে অনেক কৃষক পরের বছর সে ফসল ফলানো থেকে সরে আসে। এর ফলে এবার বাজারে সে ফসলের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ হরাস পায়। এতে করে সে বছর ভাল দাম পাওয়া যায়। ভাল দাম দেখে কৃষকরা পরের বছর আবার ফলন বাড়িয়ে দেয়ায় তখন পুনরায় মূল্য পতন ঘটে। এভাবে মৌসুমী ব্যবধানে ফসলের পর্যায়ক্রমিক হরাস-বৃদ্ধি ঘটতে থাকে। অর্থনীতি শাস্ত্রে এটিকে 'মাকড়শার জালের' (cobweb) পরিস্থিতি বলে আখ্যায়িত করা হয়।

'ভাত ছাড়, আলু ধর' শ্লোগানটি একেবারে নতুন নয়। অর্ধ-শতাধিক বছর আগে আইউব-মোনায়েমের পাকিস্তানি জামানার সময়কাল থেকে বিভিন্ন সরকার এই শ্লোগান প্রচার করেছে। এ ধরনের প্রচারণার দ্বারা কৃষকের ফসলের দাম নিয়ে ভোগান্তি বিন্দুমাত্র দূর হয়নি। এসব প্রয়াসের মাধ্যমে কেবল ক্ষুব্ধ কৃষক ও দেশবাসীকে শান্ত রাখতে আশ্বস্ততার প্রলেপ প্রদানের চেষ্টা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আশির দশকের একটি ঘটনার কথা মনে পড়ছে। আমি তখন শক্তিশালী ক্ষেতমজুর আন্দোলনের একজন শীর্ষ নেতা। আশ্বিন-কার্তিকের ভয়াবহ মঙ্গার সময়ে অনাহারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। আমরা 'ভাত দাও-কাজ দাও' দাবিতে সর্বত্র জোরদার আন্দোলন শুরু করেছি। সরকারের কাছে এ বিষয়ে দাবি-দাওয়া পেশ করার জন্য তত্কালীন মন্ত্রীর কাছে ডেপুটেশন নিয়ে গেছি। মন্ত্রীকে বললাম, 'অবস্থা খুব খারাপ। দেশের অনেক এলাকায় অনাহার-অর্ধাহারের পরিস্থিতি চলছে। কর্মহীন ক্ষেতমজুররা নিরুপায় হয়ে কচু-ঘেচু খেয়ে আধমরা হয়ে দিন কাটাচ্ছে। তাদেরকে কাজ দিন, ভাতের ব্যবস্থা করে দিন, অস্থায়ী লঙ্গরখানা চালু করুন'। মন্ত্রী কিছু বলার আগেই পাশে বসা সচিব মহোদয় বলে উঠলেন, 'বলেনকি! কচু-ঘেচু খেয়ে দিন কাটানো তো খুব ভাল কথা। কচুতে প্রচুর আয়রন আছে।' অন্নহীন মানুষের জন্য তিনি আয়রন ঘাটতি পূরণের দাওয়াই দিলেন! বেত্যমিজীরও একটি সীমা থাকা উচিত। কেন তার গালে সেদিন একটি চড় দিয়ে বৈঠক থেকে উঠে আসিনি, সে অনুশোচনা এখনো যায়নি।

আলু চাষীদের কাছ থেকে বাজারের কারসাজিতে এবার ৪০০ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। সে হিসেব আগেই দেখিয়েছি। আলুর কারবারে এবার কিন্তু শুধু আলু চাষীরাই নয়, আলু ক্রেতারাও বিপুল আকারের প্রতারণা ও বঞ্চনার শিকার। তাদেরও পকেট কাটা হচ্ছে। আলু চাষী যে আলু কেজিপ্রতি দেড়-দু'টাকায় 'উত্পাদক স্তরের' বাজারে এখন বিক্রি করছে, সেই আলুই সাধারণ মানুষরা খুচরা 'ভোক্তা স্তরের' বাজারে কিনছে ৮ টাকা থেকে ১০/১২ টাকা পর্যন্ত দরে। অর্থাত্, 'উত্পাদক স্তরের' বাজার দর ও 'ভোক্তা স্তরের' বাজার দরের মধ্যে ব্যবধান হলো ৬ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। ধরে নিলাম তা গড়ে ৮ টাকা। এই টাকা যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে। এ কথা অবশ্য সত্য যে, বাজারজাত করতে তাদেরও খরচ করতে হয়। কিন্তু তার পরিমাণ কত আর হতে পারে? খুব বেশি হলে ১ টাকা। অবশিষ্ট ৬/৭ টাকা 'অনুপার্জিত আয়' হিসেবে চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। মোট ৯০ কোটি কেজি উত্পন্ন আলুর ক্ষেত্রে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০০ কোটি টাকার মতো। মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত হয়ে এই অর্থের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত এসে জমা হয় দেশের লুটেরা ধনিকদের হাতে।

তাই দেখা যাচ্ছে যে, এবার আলু মৌসুমে আলু উত্পাদন ও বাজারজাতকরণের সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় একদিকে উত্পাদক আলু চাষী ও অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তা— উভয়প্রান্তের সাধারণ মানুষের নিকট থেকে 'সুকৌশলে' ৪০০ যোগ ৬০০ অর্থাত্ মোট ১ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ মূল্য বেহাত হয়ে যাচ্ছে। সম্পদের 'সুকৌশলী' স্থানান্তর ঘটে চলেছে এক-দু'জনের বিশেষ 'বেআইনী' ডাকাতির কারবার ব্যতিরেকেই। তা ঘটছে পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থার 'আইনী' কলা-কৌশলের মাধ্যমে। পুঁজিবাদী বাজারের এই কারসাজি স্বতস্ফূর্ত, ইচ্ছা নিরপেক্ষ ও অবধারিত। এ হলো এক ধরনের 'আইনসংগত' অদৃশ্য ডাকাতি। এটি পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতির নয়া-উদারবাদী ব্যবস্থার একটি অন্তর্নিহিত অনুষঙ্গ। পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে লালন করার জন্য যে সম্পদের কেন্দ্রীভবন করা অপরিহার্য, বেআইনী লুটপাটের পাশাপাশি তার ব্যবস্থা করে দেয় পুঁজিবাদী বাজার নামের এই অদৃশ্য 'সম্পদ স্থানান্তরের যন্ত্রটি'।

আলু চাষীর চোখে পোকা পড়েছে। সে পোকা হলো লুটেরা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বাজার কারসাজির পোকা। এই পোকাকে দমন করে তা থেকে মুক্ত হতে না পারলে আলু চাষী ও কৃষকের চোখের জল শুকাবে না।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি

E-mail : [email protected]

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান বলেছেন, 'আল-কায়েদার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোন সম্পর্ক নেই'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
2 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ১৮
ফজর৩:৫৬
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৩
সূর্যোদয় - ৫:২১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :