The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ৫ ফাল্গুন ১৪২০, ১৬ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ১৩ রানে হারল বাংলাদেশ | নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১০৬ জন | আল-কায়েদার ভিডিও বার্তার সঙ্গে বিএনপির যোগসূত্র নেই: মির্জা ফখরুল | চট্টগ্রামের অপহৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ী উদ্ধার

[ আ লো ক পা ত ]

শক্তিশালী স্থানীয় সরকার চাই

ড. শহীদ ইকবাল

উপজেলা নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণের অন্যতম পদক্ষেপ এই উপজেলা নির্বাচন। বড় দু'দল এতে স্বতস্ফূর্ত অংশ নিচ্ছে। অনেক আসনেই রয়েছে তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীও। পত্রিকান্তরে প্রকাশ, প্রথম ধাপের মতো দ্বিতীয় ধাপেও ১১৭ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ৫৪ উপজেলায় রয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী আর বিএনপির ৫১ উপজেলায়। এর কারণ কী? স্থানীয় সরকার পর্যায়ে গণতন্ত্রায়নের যে পদক্ষেপ তার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এটি। এর ভেতর দিয়েই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। বিনির্মাণ পায় তার দৃঢ়ভিত্তি। কিন্তু সেটি এ পর্যায়ে তেমন লক্ষ্যগোচর হচ্ছে না। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে গণতন্ত্র নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নব্বুই-পরবর্তী সময়ে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি কায়েম হলে মানুষের মনে আশা জেগে উঠেছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার কাঠামোতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও অন্যান্য পর্যায়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে গত মহাজোট সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যদিও সে পদক্ষেপসমূহ অনেকটা লেজে-গোবরে হয়ে যায়। অনেক জায়গায় উপজেলা চেয়ারম্যান দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নির্বাহী কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হয়েছেন, অফিস তছনছ করেছেন ইত্যাদি ঘটেছে। এসব নানা ঘটনায় প্রমাণ হয়, আমাদের গণতন্ত্র এখনও শিশুকাল পেরোয়নি। সরকার-কাঠামোতেও ঘটেনি উল্লেখনীয় বিকেন্দ্রীকরণ। আর বাস্তবের এমন এবারের নির্বাচনেও প্রচুর বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে— এর অর্থ কী?

পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে স্থানীয় সরকার কাঠামো খুব মজবুত। সেখানে একজন মেয়র যেমন ক্ষমতাবান তেমনি সুশাসনের প্রতীক। পৌর-ব্যবস্থাপনায় মানুষের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য রাতদিন তারা পরিশ্রম করেন। প্রচুর আর্থিক বাজেট তারা ব্যয় করেন, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য-শিশু সেবাসহ নানা কাজে। সেখানে তাদের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা যেমন থাকে তেমনি জবাবদিহিতার বিষয়টিও নিশ্চিত থাকে। কার্যত, সুশাসনের অপর পিঠই তো জবাবদিহিতা। নাগরিকের নিকট নির্বাচিত ব্যক্তির জবাবদিহিতা না থাকলে সুশাসন কখনোই কায়েম হয় না। আমাদের দেশে এই সুশাসনটুকু কী আছে? নির্বাচন নিয়ে উপরের যে তথ্য দিয়েছি, তা কী কোনো সুশাসন নিশ্চিত হওয়ার কোনো আলামত! জনসেবা তো এখন কাগুজে বিষয়। এদেশের রাজনীতিতে আমরা কী দেখছি? কারা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, কারা দল করেন! দুর্নীতি বিষয়টি সকলের কাছে পরিচিত এবং চিরকালের অভ্যাসে পরিণত, বলা যায়। বরং দুর্নীতির ভেতরে অল্পস্বল্প করে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি কোনো কাজ করেন, তাতেই মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করে, আস্থা পায়। কথা প্রসঙ্গে বলে, 'ইনি খান, তবে কিছু দিয়ে-থুয়ে খান'। এই সন্তোষটুকু যেন একজন নাগরিকের সর্বোচ্চ তৃপ্তি। সেটুকুতেই সে সন্তুষ্ট। এছাড়া একজন প্রান্তিক নিরীহ গ্রামচাষীর আর কী-ই বা চাইবার আছে! আর বিপরীতে যে অবাধে দুর্নীতি করে চলছে, তার বিরুদ্ধে হাজার অভিযোগ কেউ তো কর্ণপাত করেন না। তাদের শুধু পরবর্তী নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়, ভোট দিয়ে প্রতিশোধটুকু নেয়ার জন্যে। এই সংস্কৃতির বাইরে আমাদের স্থানীয় সরকার কেন, কোনো নির্বাচনই সুরক্ষিত নয়। জনবান্ধবও নয়। অথচ আমরা জানি এ পর্যায়ের নির্বাচনগুলো কিন্তু দলীয় নয়, দলীয় প্রতীক যেমন থাকে না তেমনি দলের নেতৃবৃন্দও তাদের পক্ষে ভোট চান না। এমন বিষয়গুলো ভেবে দেখলে আমরা কিছু সম্ভাবনা দেখতে পাই, আবার একইসঙ্গে হতাশার চিত্রও ভেসে ওঠে। এক. স্থানীয় সরকার তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় জবাবদিহিতামূলক সুশাসনের নেতৃত্ব দিতে পারে, দুই. এটি দলীয় নয়, ফলে মাটি ও মানুষের নেতৃত্ব তৈরি হয় এতে, তিন. 'উড়ে এসে জুড়ে বসা' নেতার ভোট করার সুযোগ কম, চার. আপামর জনগণের নাড়ীর সংবাদ জানা থাকায়, সুশাসন প্রদান বা দুর্নীতির রাহুমুক্ত হওয়ার অবকাশ থাকে, পাঁচ.পুরো সরকার-কাঠামোয় বিকেন্দ্রীকরণে বা সমতাবিধানের পরিবেশ থাকে। ঠিক একইভাবে হতাশার প্রধান জায়গা এমন যে, গত তেতাল্লিশ বছরে আমরা স্থানীয় সরকার পর্যায়ে কোনো সুশাসন দিতে পারিনি, মানুষের ন্যূনতম নাগরিক অধিকারটুকু প্রতিষ্ঠিত হয়নি। 'যে যায় লঙ্কায়'সুলভ মানসিকতা দিনের পর দিন যেন বাস্তব ও প্রতিষ্ঠিত সত্যে পরিণত হয়েছে। এটি জনমনে প্রায় প্রতিষ্ঠিত যে, উপজেলা চেয়ারম্যান হলেই ওর স্বভাব পাল্টে যাবে কিংবা তিনি 'খাওয়া'র জন্য ভোটে দাঁড়িয়েছেন— এরূপ কটু-মন্তব্য। আর যে সকল প্রার্থী ভোটে দাঁড়িয়েছেন, তারাও সেই মানসিকতাও লালন করেন বলে মনে হয়। কারণ, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেভাবেই হোক একপ্রকার দলীয় টিকেট নিয়েই তারা নির্বাচনে এসেছেন এবং তা করতে গিয়ে এলাকায় মারামারি, খুনোখুনিও চলছে। এ বিষয়গুলো উপরের যে চারটি আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপের কথা বলেছি ঠিক তার বিপরীত অবস্থাই বলা যায়। এবং এর ফলে স্থানীয় সরকার আদৌ কী তৈরি হতে যাচ্ছে বা তৈরি করা যাচ্ছে— এ প্রশ্নটুকু পুনরায় সামনে এসেছে।

ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও এখন দলীয় হয়ে গেছেন। অথচ বাংলাদেশ হওয়ার পর কিন্তু এমনটা চোখে পড়েনি। এলাকার মুরুব্বী বা প্রফেশনালি যে কোনোভাবে জনপ্রিয় ব্যক্তিরা তখন চেয়ারম্যান হয়েছেন, মেম্বার হয়েছেন। তাদের প্রতাপ বা দাপটও মানুষ মেনে নিত। এর কারণ ছিল, তাদের নির্ভরতা ও গ্রহণযোগ্যতা। কার্যত, তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন না। মানুষকে একটি সীল বা স্বাক্ষরের জন্য ঘোরাতেন না। হয়রানি করতেন না। এখন সবকিছুতেই অর্থ আর হয়রানির একশেষ অবস্থা। সাধারণ মানুষ একপ্রকার আতঙ্কে থাকে, হয়রানির ভয়ে। তাছাড়া গুণ্ডা-মাস্তান পোষা, ক্যাডার তৈরি করা সেটাও তো কম দেখছি না আজকাল। গ্রাম পর্যন্ত, ক্রাইম-সন্ত্রাস বেপরোয়াভাবে চলছে। উঠতি যুবকরা খুব সহজে ও সুলভে এসব অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে। আর স্থানীয় দলবাজ নেতারা তাদের স্বার্থে নানাভাবে তাদের ব্যবহার করছেন। এখানে দল বলে কথা নয়, দল-নামধারী স্বার্থবাজরা নিজের স্বার্থেই সবকিছু করেন। এই যদি স্থানীয় সরকারের দশা হয়, তবে কীভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে— প্রশ্নটি ভেবে দেখা এখন খুব জরুরি হয়ে উঠেছে। বোধকরি, তার ব্যবস্থা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এক্ষুণি নেয়া প্রয়োজন। নইলে মূলের সমস্যা বাড়বে। অন্তত, যেটুকু বেড়েছে, তা থামাতে তো হবেই। নইলে নীতিভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা কী চিরকাল কাগজেই থাকবে, নাকি এটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা হবে। সবকিছুর মূল যদি জনগণ হয় এবং তা যদি সুরক্ষিত না হয় তাবে কোনো ব্যবস্থাই টিকে থাকতে পারবে না, মূল্যহীন হয়ে যাবে সবকিছু।

প্রসঙ্গক্রমে বিদেশে স্থানীয় সরকারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখানে বলেছি— তা এই বাংলাদেশে এক্ষুণি সম্ভব হয়তো নয়, কিন্তু দৃষ্টান্তটুকুর প্রয়োজন এ কারণে যে, এর ক্ষমতায়ন, সমতাবিধান, বিকেন্দ্রীকরণ এ বিষয়গুলোর চর্চা কীভাবে তাদের মধ্যে গড়ে উঠেছে— সেটির দিক্ চিহ্নিত করা। আমাদের দেশে সব জনপ্রতিনিধি যে খারাপ তা বলছি না। কিন্তু যেটি প্রতিনিয়ত অবনতিশীল পর্যায়ে যাচ্ছে তার রাশ টেনে ধরা। জনগণের মৌল চাহিদার নিশ্চয়তা কই। বাহুবল রন্ধ্রে রন্ধ্রে জননেতৃত্ব তো বিচ্ছিন্ন। এর মূল কারণ দলীয়করণ। এ দলীয়করণ সর্বক্ষেত্রে তুলে ধরছে অবক্ষয়। অবক্ষয়ের এ চিত্রটিই ফুটে উঠেছে দলের হয়ে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি। আমি প্রত্যক্ষ সাক্ষী, এক এলাকায় দলীয় ব্যানারে একই দলে চারজন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন, পরে দলের সিদ্ধান্তে একজনকে মনোনয়ন দিয়ে বাকিদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এবং যিনি প্রার্থী হয়েছেন, তিনিও দলীয় ক্ষমতার জোরে হয়েছেন, সাধারণ মানুষের নিকট তার কোনো সমর্থন নেই। এখন প্রশ্ন, এই ব্যক্তি যদি নির্বাচিত হন, তবে তিনি কী সুশাসন দেবেন! নৈতিক চরিত্র, জনসমর্থন, সুশাসন, জবাবদিহিতা এ বিষয়গুলো বায়বীয় কোনো জিনিস নয়। যে দল বা মতই হোক, সমতাভিত্তিক সমাজ এখন তো সবার কাম্য। সমাজ ব্যবস্থা পাল্টেছে, প্রযুক্তির প্রসার ঘটেছে, নানাভাবে মানুষ যোগাযোগ প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে। দৈনন্দিন বাস্তবতাই মানুষকে অস্তিত্বের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এক্ষেত্রে সমতা বা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ তৈরির ব্যবস্থাটুকু মানুষ চায়। সেটি কায়েম না করতে পারলে, সমাজে অপরাধের বিস্তার ঘটবে, তৈরি হবে অর্থনৈতিক অনিরাপত্তা। সেজন্য স্থানীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ। এটি শক্তিশালীকরণে দলবাজি তত্পরতা একটি দুষ্টচক্রের মতো। কারণ এতে করে প্রেসারগ্রুপ তৈরি হয়। নির্বাচিত হলে, তারা জবাবদিহিতার ধার ধারেন না। আমলে নেয় না সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থ। তারা চলেন তোষামোদকারীদের নিয়ে। তাই বলা চলে, ক্ষমতায়ন ও জবাবদিহিতাই সুশাসনের অংশ। বিদেশে এমনকি পাশের দেশ ভারতেও ক্ষমতায়ন ও জবাবদিহিতা একসাথে হাত ধরাধরি করে চলছে। আপামর জনতার ভাগ্যোন্নয়নে তারা কাজ করে। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েতের কথা বলা যায়। তবে, কোনো সিস্টেমই হয়তো ত্রুটিমুক্ত নয়, কিন্তু সুশীল চর্চাটা জরুরি। এবং এটিই কাম্য মনে করছি।

কার্যত আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, শুধু চলতি উপজেলা নির্বাচন নয়, এর পরে স্থানীয় পর্যায়ে যে নির্বাচনগুলো আসবে তা নিয়েও। অতীতের মতো প্রশাসন যেন বিশৃঙ্খল না হয়। উপজেলা চেয়ারম্যানের সুশাসন যেন জনপ্রতিনিধিত্বমূলক হয়। আর নির্বাহী কর্মকর্তা তার কাজটুকু করবেন। ক্ষমতার রশি টানাটানিতে নয়, তা যেন পরিপূরক এবং সহগামী হয়। সে ব্যবস্থা আইনি প্রক্রিয়ার ভেতর হওয়া উচিত। তা না হলে কেউই মানবে না, নিজ নিজ সুবিধামতো বেপরোয়া হয়ে ক্ষমতা প্রয়োগের চেষ্টা করবে। আর মাঝখানে জনগণের স্বার্থ ভূলুণ্ঠিত হবে। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সর্বপ্রকার নীতিনৈতিকতার পরিপন্থি। সুশাসনের জন্যই এ বিষয়টি সরকারকে আমলে নিতে হবে। আমরা সামনের দিকে এগুতে চাই। সত্যিকার অর্থে, এখনও স্থানীয় সরকারের গোড়াপত্তনই হয়নি বলে মনে হয়। কিন্তু এমন জনবহুল দেশে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার কাঠামো না থাকলে কখনোই কী সামগ্রিক উন্নতি সম্ভব! আশার কথা, এই নির্বাচনে সব পক্ষই অংশ নিচ্ছে, এটি একটি উত্সবমুখর পরিবেশ পেয়েছে। জনগণের এ চাঞ্চল্য শুধু একদিনের নয়, তারা দুর্নীতিমুক্ত, সত্ ও যোগ্য নেতৃত্ব চায়। এটি কীভাবে দেয়া সম্ভব, কীভাবে তা আইনগত ভিত্তিটি অর্জন করতে পারে, কী করে তা জনগণের সেবায় কাজে লাগতে পারে— সেটি চিন্তা করা দরকার। আমাদের অনেক সময় পেরিয়ে গেছে, মুক্তিযুদ্ধের পরে যে রাজনৈতিক হানাহানি-দ্বিধাবিভক্তি সেসব আমাদের জন্য সুখকর হয়নি। এখন নতুন প্রজন্ম সুশাসনের পক্ষে, তারা ডিজিটালাইজড হয়েছে, বাস্তবকে গ্রহণ করেছে, আত্মমর্যাদাকর হওয়ার পথে এগিয়ে চলছে। এসবের স্রোত এখন গ্রাম-মফস্বলেও পৌঁছে গেছে। সেখানেও মানুষ এখন কর্মমুখর। কিন্তু মোদ্দাকথা, সুশাসনের দিকে মানুষকে ফেরাতে হবে। এটি কায়েম হলে আমাদের সমৃদ্ধতার পথ আরও খুলবে। স্থানীয় সরকারকে কার্যকর করা, তার প্রতিটি পদক্ষেপ জনবান্ধব করা, সুষম ক্ষমতার বন্ধন সৃষ্টি করা— ইত্যাদির জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাও দরকার। সেটি কখন হবে— সে প্রত্যাশায় কর্মমুখর মানুষ প্রহর গুনছে। আর সেজন্যই ভোট নিয়ে এতো সাজ সাজ রব। আমরা এটি কাজে লাগাতে পারি। যে কৃষক মাঠে কাজ করছে— সে ফসলের দাম চায়, সার চায়, সন্তানকে লেখাপড়ার সুযোগ চায়, কর্ম চায়— এগুলো নৈতিক অধিকার— তাঁদের নিজস্ব জনপ্রতিনিধিদের ভেতর দিয়েই তা অর্জিত হতে পারে। অবশ্যই সেটি সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার বাইরে সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষ আর তার নির্বাচিত প্রতিনিধিই তো সেটুকু শেয়ার করে সমাধানের পথ পেতে পারে। আর সে সমস্যার মূলটুকু চেনার জন্যই তো শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।

লেখক:অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

[email protected]

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান বলেছেন, 'আল-কায়েদার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোন সম্পর্ক নেই'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৫
ফজর৪:৪০
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৫
মাগরিব৫:৩৬
এশা৬:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৫৬সূর্যাস্ত - ০৫:৩১
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :