The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ৫ ফাল্গুন ১৪২০, ১৬ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ১৩ রানে হারল বাংলাদেশ | নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১০৬ জন | আল-কায়েদার ভিডিও বার্তার সঙ্গে বিএনপির যোগসূত্র নেই: মির্জা ফখরুল | চট্টগ্রামের অপহৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ী উদ্ধার

দ্বিতীয় জননী একুশের ভুবনজয়ী শক্তি

অজয় দাশগুপ্ত

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির দ্বিতীয় জননী, ভাষাহারা মানুষের দিকে তাকালেই এর গুরুত্ব বোঝা সম্ভব। কি অপরিসীম ক্ষমতা আর ঔজ্জ্বল্য তার। বায়ান্ন সাল কত পুরনো আর সাবেকি আমল। না ছিল স্বাধীনতা না কোন মুক্তি, প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র পাকিস্তানে মুক্তবুদ্ধি বলে কিছু নেই, তখনো ছিল না। তাদের পছন্দ ডাণ্ডাতন্ত্র আর লাঠিয়ালি, কয়েক বছর পর পর একেক জেনারেলের আবির্ভাব আর ধর্ম নিয়ে রাজনীতির কারণে প্রতিশ্রুতিশীল দেশটির চেহারা আজ জরাজীর্ণ। বাইরের দুনিয়ার চোখে সন্ত্রাসী মস্তানী আর তালেবানী এই দেশের সাথে যে থাকা চলে না, বায়ান্ন বছর আগেই তা বুঝেছিলেন আমাদের শহীদেরা। সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার যে সব দেশের নাম জানতেন না বা শোনেননি আজ সেসব দেশেও বাংলার একুশে স্বীকৃত ভাবতে গায়ে কাঁটা দেয়।

জাতিসংঘের মত বিশ্বসংস্থায়ও এদের আত্মদান মর্যাদা পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের উত্স ও পাকিস্তান থেকে মুক্ত হবার প্রেরণা যোগানো একুশে আমাদের আন্তর্জাতিক পরিচয়। লক্ষ্য করুন, মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশও তার উজ্জ্বলতা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতির মোড়লরা হচপচ বা গ্যাঞ্জামে আগ্রহী হলেও একুশের বেলায় তাদের মেনে নেয়ার কোন বিকল্প নেই। এই যে সর্বজনগ্রাহ্য আন্তর্জাতিক গৌরব তার পেছনে কেবল আবেগ আর দেশীয় বইমেলা কাজ করলে এক সময় তা থিতিয়ে পড়বে। বইমেলাটি দেশের নবীন প্রবীণ ও চলমান লেখকদের জন্য আশীর্বাদ। তাদের বিস্তার, প্রতিভা প্রকাশ ও ব্যাপ্তির জন্য এর চর্চা ও পরিচর্যা জরুরিও বটে। তবে এটাই শেষ কথা নয়, বিশ্বায়নের নামে খুলে যাওয়া অবাধ তথ্যপ্রবাহ আর ইলেকট্রনিক মিডিয়ার রমরমা জগতে মানুষের সুপ্ত ইচ্ছাগুলোও আর অপূরণীয় কিছু নয়, যে কেউ চাইলেই যে কোন কিছু হবার চেষ্টা করতে পারে, খেলাধুলা, বিজ্ঞান, চিকিত্সা বা অন্য কোন প্রায়োগিক বিদ্যায় তাত্ক্ষণিক প্রমাণ করতে হয় বলে সে দিকে ঝোঁকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। শিল্প সাহিত্যে যেহেতু তাত্ক্ষণিক বিচার বলে কিছু নেই আর বিচারের মানদণ্ডও শাস্তিহীন। এ এলাকায় ঝাঁকে ঝাঁকে নতুন ও পুরাতন মুখ ঘুরে বেড়ায়। ইদানীং যোগ হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত সচ্ছল বাঙালির সুপ্ত ইচ্ছে বা খায়েশ। খেয়াল করুন প্রতি বইমেলায় বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কত বই বের হয় দুই-চার জন প্রতিষ্ঠিত লেখক যারা বিদেশে বসবাস করেও মূলত মূলধারা অনুগামী ও সর্বদা সচল- তাদের বাদ দিলে বাকীদের প্রকাশ প্রকাশনা মৌসুমী কারো ইচ্ছে পূরণ, কারো যশ-খ্যাতির বিড়ম্বনা, কারো খেদ বা জেদের বহিঃপ্রকাশে আর যাই হোক একুশের লাভালাভ বলে কিছু নেই।

এদের অংশগ্রহণ ব্যতীত একুশের আন্তর্জাতিক উচ্ছ্বাস অসম্ভব। আজকাল মানুষ কোন একটি দেশ এক জাতি বা এক ভাষার বৃত্তবন্দী কিছু নয়। তার বিচরণ দুনিয়া জুড়ে ভাষাকে নিজস্ব করে উড়াল দেয়ার পরিবর্তে এখন সে হরবোলা। সেটাও আমাদের ভাষা শহীদদের উজ্জ্বলতার আরেক নিদর্শন। এরা মাতৃভাষার সম্মান ও মর্যাদায় প্রাণ নিয়ে দেখিয়ে গেছেন কিভাবে তা রক্ষা করতে হয়। বলাবাহুল্য সুরক্ষিত ভাষাই পারে অন্যকে উজাড় করে প্রাণ ঢেলে নিজের মাধুর্য দান করে মহত্ হয়ে উঠতে। বাংলাভাষার সে জায়গাটা পূরণ করবে প্রবাসী প্রজন্ম। দেশের তারুণ্যের সাথে হাল ধরে পৃথিবীর নানা দেশ ও জাতির বৈচিত্র্যে নিজেদের তুলে ধরার ক্ষমতা আছে তাদের। আছে যৌবনের স্বপ্ন ও প্রতিজ্ঞা, কিন্তু বইমেলায় এরা নেই। যে কারণে একুশের গৌরব বা স্বপ্নের বিশ্বপ্রতিফলনটা আসলে অন্যত্র।

সেটা পৃথিবীর কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি তারুণ্যের চোখে তাদের উজ্জ্বলতা আর স্বপ্ন । আমি খুব কাছ থেকে দেখছি ভাষা বর্ণ গন্ধ পছন্দে বিশ্বজননী হবার পরও এরা মূলত বাঙালি, পিজ্জা, কেএফসি, ম্যাক ডোনাল্ডে উদরপূর্তির পর ডাল ভাত ও বেগুন ভাজির কাঙাল। এদের শেষ স্বপ্ন পদ্মাপাড়ের অর্জন ও উত্সব মুখর মাতা পিতার স্বদেশ বা নিজের জন্মভূমির উত্থান। আমি এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একুশের চেতনা ও আন্তর্জাতিকতা মধ্যবয়সী বা বয়স্কজনদের দ্বারা প্রতিষ্ঠা পাবে না। আমরা রাজনৈতিক দলাদলি গোষ্ঠী প্রীতি আর হামবড়া ভাবে অন্ধ। একমাত্র তারুণ্যই ভরসা, এটা যেন ভুলে না যাই ।

ভাষার জন্য যারা জান দিয়েছিলেন তারা ছিলেন বায়ান্নর তরুণ। যুবা বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা আর ভবিষ্যত্ বলছে, তারুণ্যের উত্থান ছাড়া মুক্তি নাই। গোড়াতেই বলছিলাম- একুশে আমাদের দ্বিতীয় জননী, মাতৃভূমির সমান্তরাল এই মাকে বিশ্বসভায় পরিচিত করাবে দ্বিতীয় প্রজন্ম। দেশের যত মন্দ ও অসততা দূর করে এরাই বাংলাভাষার মর্যাদা দেশের সম্মান প্রতিষ্ঠা করবে। সবাই যেন এটা জানেন, যে লক্ষ্যে বইমেলা থেকে বিশ্ব জয়ের আহ্বান তা পূরণে এদের যুক্ত হবার বিকল্প নেই। আমাদের জননীর মুখ মলিন হলে আমরা নয়ন জলে ভাসি, একুশের কাছ থেকে শেখা ভাষায় কাঁদি, হাসি আর উচ্চকিত হই, এর আনন্দ ও গৌরব যেন সীমাবদ্ধ না হয়। একুশে যত বড় হবে তার ছায়াও তত দীর্ঘ হবে। বায়ান্ন বছরে দাঁড়ানো বায়ান্নর শক্তি ছড়িয়ে পড়ুক ভুবনময়।

(সিডনি থেকে)

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান বলেছেন, 'আল-কায়েদার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোন সম্পর্ক নেই'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
3 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৫
ফজর৪:৪০
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৫
মাগরিব৫:৩৬
এশা৬:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৫৬সূর্যাস্ত - ০৫:৩১
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :