The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ৫ ফাল্গুন ১৪২০, ১৬ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ১৩ রানে হারল বাংলাদেশ | নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১০৬ জন | আল-কায়েদার ভিডিও বার্তার সঙ্গে বিএনপির যোগসূত্র নেই: মির্জা ফখরুল | চট্টগ্রামের অপহৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ী উদ্ধার

মহান ভাষার মাসে জেলাভিত্তিক বিশেষ আয়োজন

আমাদের শহীদ মিনার : নারায়ণগঞ্জ জেলা

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

ভাষা আন্দোলন ঢাকায় শুরু হলেও নারায়ণগঞ্জও পিছিয়ে ছিল না। এখানকার তত্কালীন নেতৃবৃন্দ ঢাকার পাশাপাশি গড়ে তোলে আন্দোলন। ভাষার দাবিতে আন্দোলন সংগ্রামে সবসময়ই নারায়ণগঞ্জ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

স্বাধীনতার ৩৫ বছর পর নারায়ণঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়ায় নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার অর্থায়নে মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভির ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অবশ্য তত্কালীন প্রশাসন নারায়ণগঞ্জবাসীর দাবির প্রতি সম্মান প্রর্দশন না করায় ১৯৮৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে একই এলাকায় ভাষা সৈনিক মরহুম একে এম সামসুজ্জোহা ও মরহুম শফি হোসেন খান যৌথভাবে শহীদ মিনারের ভিত্তি স্থাপন করেন। রাজধানীর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে খান সাহেব ওসমান আলী, একে এম সামসুজ্জোহা, শফি হোসেন খান, বজলুর রহমান, মোস্তফা সারোয়ার, নাজির মোক্তার, জালাল আহাম্মেদ, গোলাম রব্বানী খান, দায়মুদ্দিন আহম্মেদ, বশিরউদ্দিন আহম্মে্দ, আলহাজ্ব জানে আলম, মমতাজ বেগম, মোস্তফা মনোয়ার, বিচারপতি বদরুজামান, এম এস জামি , আব্দুল গফুর চৌধুরী, খাজা জহিরুল হক, গোলাম মোর্শেদ ফারুকী, সুলতাস মাহমুদ মলি¬ক, মোঃ হাসান, মোঃ নাসিরুল¬াহ্, মোঃ মোসলেউদ্দিন আহম্মেদসহ নাম না জানা অনেকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ভাষা আন্দোলনকারীদের উপর তত্কালীন সরকারের দমন-পীড়ন বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মর্গ্যান গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ বেগমসহ শতাধিক ভাষা সৈনিককে গ্রেফতার ও নির্যাতনের পর নারায়ণগঞ্জে আন্দোলন আরও বেগবান হতে থাকে। ১৯৫৩ সালে মর্গ্যান গার্লস স্কুলে ও ১৯৫৪ সালে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলে শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর একে একে বিভিন্ন স্কুলে শহীদ মিনার গড়ে উঠলেও নারায়ণগঞ্জে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার গড়ে ওঠেনি।

১৯৮৩ সালে তত্কালীন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ শহীদ মিনারে ফুল দেয়া যাবে না মর্মে ঘোষণা দিলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সাংস্কৃতিক জোট ৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়। ১৯৮৪ সালে তত্কালীন জেলা প্রশাসক আহমেদ মাহমুদুল রাজা চৌধুরীর সাথে বিভিন্ন প্রতিনিধিত্ব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ চাষাড়ার মোড়ে অবস্থিত পৌরসভার জায়গায় গড়ে ওঠা নার্সারী উদ্যানটিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু তত্কালীন জেলা প্রশাসক এ প্রস্তাবে ভিন্ন মত পোষণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চাদমারী এলাকায় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিলে সাংস্কৃতিক জোট নার্সারী উদ্যানেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঐবছরই বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির সভায় চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

নারায়ণগঞ্জে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ পৌর পাঠাগারে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষা সৈনিক মোঃ শফি হোসেন খানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন তত্কালীন আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম মিজানুর রহমান, শহর আওয়ামী লীগের তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক নাজমা রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বাদল, সাবেক এমপি মরহুম মোবারক হোসেন, গণফোরাম নেতা দেলোয়ার হোসেন চুন্নু, সাংস্কৃতিক জোটের রফিউর রাব্বি, সাবেক এমপি শামীম ওসমান, জাসদের মিজানুর রহমান বাচ্চু, সিপিবির রোকনউদ্দিন আহম্মদ, শাপলার মোঃ আলী মন্টু, ছাত্র ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম মিন্টু, কবি বুলবুল চৌধুরী, বর্তমান পিপি আসাদুজ্জামান আসাদ, ডেফডিলের বজলুর রহমান, উদীচির জাহিদুল হক দিপু ও আনোয়ার হোসেনসহ ৫৯টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ১৩ ফেব্রুয়ারি পৌর পাঠাগারে ভাষা সৈনিক একে এম সামসুজ্জোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য সকলের সাথে যোগাযোগ ও মাইকিং করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি পৌর পাঠাগারের সামনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একসঙ্গে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গানটি গাইতে গাইতে চাষাড়া নার্সারী উদ্যানে যায়। সেখানে ভাষা সৈনিক একে এম সামসুজ্জোহা ও শফি হোসেন খান ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

২০০৩ সালের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভি নির্বাচিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা আবার উদ্যোগী হয়। এবারও তত্কালীন জেলা প্রশাসক শহীদ মিনারটি চাষাড়ায় না করে চাদমারীতে শহীদ মিনার স্থাপনের চেষ্টা চালায়। এ যেন আবার মনে করিয়ে দেয় সকল শাসকরাই নিজের অজান্তে শহীদ মিনারকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবে, পৌরসভা নিজস্ব অর্থায়নে বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে মাত্র এক বছরের মধ্যে মূল শহীদ মিনারটি প্রতিষ্ঠা করে ২০০৪ সাল থেকে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যবস্থা করেছে। পর্যায়ক্রমে ২০০৬ সালে শহীদ দিবসের আগেই প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রতিকৃতিসহ বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে বিশাল তোরণসহ একটি পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যা শুধু বছরের একদিনই নয় বরং সারাবছরই সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মানুষের কোলাহলে পূর্ণ থাকে ।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান বলেছেন, 'আল-কায়েদার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোন সম্পর্ক নেই'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
3 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ১৮
ফজর৩:৫৬
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৩
সূর্যোদয় - ৫:২১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :