The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ৫ ফাল্গুন ১৪২০, ১৬ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ১৩ রানে হারল বাংলাদেশ | নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১০৬ জন | আল-কায়েদার ভিডিও বার্তার সঙ্গে বিএনপির যোগসূত্র নেই: মির্জা ফখরুল | চট্টগ্রামের অপহৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ী উদ্ধার

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হইবে কিভাবে

সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-অসঙ্গতি লইয়া প্রায়শ নানা অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ভুক্তভোগী জনগণের এইসব অভিযোগের সহিত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহলও সহমত পোষণ করিয়া থাকেন। জনগণের সহিত কণ্ঠে কণ্ঠ মিলাইয়া সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় হইতেও ক্ষোভ-অসন্তোষ প্রকাশ করিতে দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে। সময়ে সময়ে উচ্চারিত হয় কঠোর সতর্ক বার্তাও। বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয় সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নিশ্চিত করিবার উপর। আর যখনই কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে— তখনই অনিবার্যভাবে সামনে চলিয়া আসে যথাযথ ও কার্যকর মনিটরিং বা তদারকির প্রসঙ্গ। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মহল কিংবা গণমাধ্যমের পক্ষ হইতেই যে কেবল এই ধরনের পরামর্শ দেওয়া হইয়া থাকে তাহা নহে, স্বাধীনতাপরবর্তীকালে ক্ষমতাসীন সরকারসমূহ এই সংক্রান্ত যতো কমিটি গঠন করিয়াছে, দেখা যাইবে যে— বেশিরভাগ কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সুপারিশও হইল— কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করা। কিন্তু সেইসব সুপারিশের সহিত বাস্তবতার ব্যবধান কতো ব্যাপক তাহার সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসাবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির তদারকির চিত্রটি এইখানে তুলিয়া ধরা যাইতে পারে।

গত শুক্রবার ইত্তেফাকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০ হাজার। নিয়মিত এইসব স্কুল-কলেজ পরিদর্শনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে 'নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তর' (ডিআইএ) নামে একটি প্রতিষ্ঠানও রহিয়াছে। শুধু সংখ্যার বিচারেও যদি দেখা হয় প্রতিষ্ঠানটির কর্মভার ও পরিধি পর্বতপ্রমাণ। অথচ অবিশ্বাস্য হইলেও সত্য যে, এই দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে কর্মকর্তা আছেন মাত্র ৩০ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবমতে, এই জনবল দিয়া প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একবার করিয়া পরিদর্শন করিতে সময় লাগিবে ২০ বত্সর। আরও উদ্বেগের বিষয় হইল, এই অবস্থা আকস্মিকভাবে সৃষ্টি হয় নাই। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জানাইয়াছেন যে, দীর্ঘদিন ধরিয়া এমনটি চলিয়া আসিতেছে। অতএব, উদ্বিগ্ন না হইয়া উপায় কী? কে না জানেন যে সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পিছনে প্রতি বত্সর সরকারের কী বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হইতেছে। সেই অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করিবার প্রশ্ন তো আছেই। সর্বোপরি আছে শিক্ষার গুণগত মানের প্রশ্নও। বিশেষ করিয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ নূতন নহে। নীতিমালা লঙ্ঘন করিয়া অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, এমনকী অস্তিত্বহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা শিক্ষকের নামে বেতন-ভাতা উত্তোলনসহ নানা উছিলায় শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ জাতীয় সংসদেও উত্থাপিত ও আলোচিত হইয়াছে বিভিন্ন সময়ে।

নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিচালক বলিয়াছেন যে, প্রতিষ্ঠানটির জনবল দুইশত জনে উন্নীত করিবার একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হইয়াছে। জনবল অবশ্যই বাড়ানো দরকার। তবে জনবল বাড়িলেই যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হইয়া যাইবে— এমন ভাবিবারও কোনো কারণ নাই। পরিদর্শনের নামে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কী হয় তাহা ভুক্তভোগীরা তো বটেই— এমনকী নীতিনির্ধারক মহলেরও অজানা নহে। অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানের চিত্রই প্রায় অভিন্ন। পরিদর্শনে যদি সত্যি সত্যিই কাজ হইত, তাহা হইলে মাত্র ৩০ জন কর্মকর্তার উপর ৩০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের দায়িত্ব ছাড়িয়া দিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরুদ্বেগ বসিয়া থাকিতে পারিতেন না। পরিদর্শন করা না করার মধ্যে ব্যবধান এতোই নগণ্য যে, পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তা সেইভাবে অনুভূত হয় নাই বলিয়াই বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া এই অবস্থা চলিয়া আসিতেছে। ইহার পরিবর্তন সম্ভব নহে, এমন কথা আমরা বলি না। পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব। তবে তাহা নির্ভর করিতেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়তের উপর। যিনি বা যাহারা চালকের আসনে বসিয়া আছেন তিনি বা তাহাদের সততা, সংকল্প ও সদিচ্ছায় যদি কোনো খাদ না থাকে— তাহা হইলে সবই সম্ভব।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান বলেছেন, 'আল-কায়েদার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোন সম্পর্ক নেই'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
5 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২৩
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :