The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ৫ ফাল্গুন ১৪২০, ১৬ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ১৩ রানে হারল বাংলাদেশ | নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১০৬ জন | আল-কায়েদার ভিডিও বার্তার সঙ্গে বিএনপির যোগসূত্র নেই: মির্জা ফখরুল | চট্টগ্রামের অপহৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ী উদ্ধার

ঝড়-বন্যায় কাবু ব্রিটেন

শিফারুল শেখ

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম যুক্তরাজ্য। দেশটির অবকাঠামো খাত থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক উন্নতি ঈর্ষণীয়। বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার সামর্থ্য থাকলেও একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছে আকস্মিক হানা দেয়া ঝড় ও বন্যার কাছে। দেশটিতে গত ডিসেম্বর থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হয়ে এখনো চলছে। দুর্যোগ থেকে যেন রেহাই নেই দেশটির। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এটা স্বীকার করেছেন। স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ বন্যায় হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। পানির উপর ভাসছে লাখ লাখ ঘরবাড়ি। নৌকা হয়েছে তাদের প্রধান সঙ্গী।

অব্যাহতভাবে বন্যা এবং ঝড় অব্যাহত থাকায় দেশটির অর্থনীতিতে পড়ছে বিরূপ প্রভাব। বিতর্ক উঠেছে দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা নিয়ে। এমনকি আবহাওয়া বিভাগের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রও বন্ধ করতে হয়েছে। দুর্দশাগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের প্রিন্স উইলিয়াম ও হ্যারি। দুর্গতদের পাশে আছেন তাদের দাদি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথও।

ব্রিটেনে বন্যার সাথে ঝড়ের আঘাত শুরু করেছে তীব্র বেগের ঝড়। লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মারা গেছে বেশ কয়েকজন মানুষ। ঝড়ের বেগ এতো বেশি ছিল যে, বিমানের ফ্লাইটসহ বাতিল করতে হয়েছে ফুটবল ম্যাচও। গত বৃহস্পতিবার প্রচণ্ড ঝড়ে বিশেষত ওয়েলসে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে দেড় লাখ বাড়িতে বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে সেটার কিছুটা সমাধান হলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সার্বিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন কর্মস্থলমুখী মানুষ। ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। কর্তৃপক্ষ জানায়, টেমস নদীর তীরবর্তী ১ হাজার ১শর বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গত ২৯ জানুয়ারি থেকেই পানিতে ডুবে রয়েছে। বন্যা উপদ্রুত গ্রামগুলোতে বালির বস্তা ফেলতে এবং আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক সৈন্য কাজ করছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে অস্থায়ী জরুরি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে বন্যা মোকাবেলায় সরকারের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয় এমন অভিযোগ ওঠার পর সামগ্রিক তত্পরতা জোরদার করা হয়েছে। বন্যার্তদের সাহায্যার্থে কয়েক হাজার সৈন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং অনেক সৈন্য ইতিমধ্যে উদ্ধার কাজেও যুক্ত হয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চল ও ওয়েলসের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় দেড়শ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। টেমস নদীর পানি গত ৬০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি ধনী দেশ। তাই আমাদের এটি করার দরকার নেই। বৈদেশিক ত্রাণ বাজেটে হাত না দিয়েই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করতে পারবো।

জানুয়ারিতে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা এখন লন্ডনের আশপাশের কয়েকটি এলাকায় আঘাত করেছে। টেমস নদী উপচে পড়ায় শত শত মানুষকে ওইসব এলাকা থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে ধেয়ে আসা সামুদ্রিক ঝড়। পুরো দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে ১৬টি অঞ্চলে মারাত্মক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৪টি সতর্কীকরণ বার্তা জারি করা হয়েছে টেমস নদীর কূল বরাবর বার্কশায়ার, সমারসেট এবং সমারসেট কাউন্টি জুড়ে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই লন্ডন ও অক্সফোর্ডের মধ্যবর্তী জেলা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নানা জায়গায় বন্যা এবং ঝড়ের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ব্রিটেনের আবহাওয়া দপ্তর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় এবং প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা করছে। সমারসেটের বাসিন্দা লুত্ফর রহমান বলেন, তিনি যে গ্রামে থাকেন সেখানে ইতিমধ্যেই স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তিনি বলছেন, সেনাবাহিনী তাদের ট্রাক ব্যবহার করে গ্রামের মানুষজনকে সরিয়ে নিচ্ছে। মানুষজনকে সরিয়ে নেয়ার জন্য উঁচু ট্র্যাক্টরও ব্যবহার করা হচ্ছে। লন্ডনের পাশের কাউন্টি বার্কশায়ারের গ্রাম রেসবারি। সেখানে লোকজন বন্যার পানি ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সেখানে স্কুলগুলোকে আশ্রয় শিবিরে পরিণত করা হয়েছে।

১৭৬৬ সালের পর গত মাসে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে টেমস নদীর দুই কূল জুড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার পানির প্রবল তোড়ে এ এলাকার রেলপথগুলো বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। লন্ডনের পশ্চিমে টেমস নদীর দুই পাড়ের কয়েকশ বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বন্যার পানি ক্রমাগত বাড়ছে। বন্যা প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়া ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে দেরি করার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে ক্যামেরন সরকার। বন্যা পরিস্থিতির ক্রমাবনতির মুখে এবং পরিবেশ সংস্থা ও মন্ত্রীদের পরস্পরকে দোষারোপ চলছে।

২০১৩ সালের শেষ থেকে ইংল্যান্ড, বিশেষত দক্ষিণ ইংল্যান্ডে লাগাতার বর্ষণ চলছে। আবহাওয়া দফতরও কোন আশার বাণী শোনাতে পারছে না। ওয়েস্টারশায়ারেই ভেসে গেছে একশরও বেশি বাড়ি। ডিসেম্বর মাস থেকে আবহাওয়া দফতর ১৩০ বারেরও বেশি বন্যা সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়া খারাপ থাকায় ভাটা পড়ছে পর্যটন ব্যবসাতেও। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের অন্যতম পর্যটনস্থল, ইংল্যান্ডের রাজবাড়ি উইন্ডসর ক্যাসেল। বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলা নিয়ে নানা সংকটের মুখে পড়েছে দেশের সরকার। সেনাবাহিনীর কাজ নিয়েও আছে সমালোচনা। ইংল্যান্ডের নদীগুলি সময় মতো সংস্কার করানো হয়নি, তার জন্যই এই অবস্থা বলে মন্তব্য করেন উপ-প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ। প্রশ্ন উঠেছে, পরিবেশ সংস্থার সভাপতি লর্ড স্মিথের কাজ নিয়েও। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি শুধু বলেন, দায়িত্ব থেকে আপাতত কাউকে সরানো হচ্ছে না। আগে বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হোক, পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বন্যা প্রতিরোধ ও নদী খননের জন্য যথেষ্ট বিনিয়োগ না করার জন্য ব্রিটেনের দ্বি-দলীয় জোট সরকার প্রবল সমালোচনার চাপে পড়েছে। গত মঙ্গলবার লন্ডনের আশপাশের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড। বিশেষজ্ঞদের মতে, মে মাস পর্যন্ত এই পানি থাকতে পারে। দক্ষিণাঞ্চলীয় সাসেক্সে জানুয়ারি মাসে বন্যার পানি ১৭৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়েছে। বন্যার পানি কবে নামবে তার সঠিক পূর্বাভাস কেউই দিতে পারছে না।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান বলেছেন, 'আল-কায়েদার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোন সম্পর্ক নেই'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
3 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ১৫
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৪
আসর৪:২০
মাগরিব৬:০৬
এশা৭:১৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০১
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :