The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ৫ ফাল্গুন ১৪২০, ১৬ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ১৩ রানে হারল বাংলাদেশ | নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১০৬ জন | আল-কায়েদার ভিডিও বার্তার সঙ্গে বিএনপির যোগসূত্র নেই: মির্জা ফখরুল | চট্টগ্রামের অপহৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ী উদ্ধার

তালেবানের দাবি মানতে পারবে পাকিস্তান?

বরকতুল্লাহ সুজন

এখন পর্যন্ত শান্তি আলোচনা চালিয়ে নেয়ার ব্যাপারে একমত পাকিস্তানী তালেবান ও ইসলামাবাদ। প্রথম দফা আলোচনায় দু'পক্ষই বেশ কিছু দাবি-দাওয়া বা শর্ত পেশ করে। আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, একটি জায়গায় হয়তো আটকে থাকবে গোটা আলোচনা প্রক্রিয়া। আর সেটা হলো দু'পক্ষের মধ্যে আদর্শের বিস্তর ফারাক। তালেবান চায়, শরীয়া আইন বা কোরআনের আলোকে আলোচনা প্রক্রিয়া এগিয়ে যাক। অন্যদিকে, পাক সরকার বলছে, বর্তমান সংবিধান মোতাবেক আলোচনা হবে। আলোচনায় শুধু শান্তি প্রক্রিয়া নয়, বরং পুরো পাকিস্তানে শরীয়া আইন দাবি করেছে তালেবান। এ ব্যাপারে ছাড় দিতে তারা আগ্রহী নয়। এ অবস্থায় তাদের সাথে আলোচনা কতটুকু সফল হবে বা আদৌ সফল হবে কি-না সে ব্যাপারে পাকিস্তানের সব মহলেই সন্দেহ দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ বা রাজনীতিবিদরা কি তবে ব্যর্থ হবেন? আর সেই ব্যর্থতা ঢাকতে কি সেনা অভিযানের নির্দেশ দিবেন? গোটা বিশ্বের গণমাধ্যমগুলোতে এসব নিয়েই চলছে নানামুখি আলোচনা বিশ্লেষণ।

ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে পাকিস্তানের কাউন্টার টেরোরিজম বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কফম্যান মনে করেন, আলোচনা খুব বেশি সফল হবে না। কারণ সরকারের সাথে আলোচনায় বসতেই হবে, এমন তাড়া নেই তালেবানের। কারণ আলোচনার চেয়ে অস্ত্রের উপর নির্ভরতা তাদের বেশি। কফম্যান বলেন, আলোচনায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তেমন সমর্থন পাওয়া যাবে বলেও মনে হয় না। কেননা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে তাদেরই ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী নিজেদের দেশে ফিরে গেলে আফগান তালেবানরা নিজেদের ক্ষমতা কতটুকু ধরে রাখতে পারবে তার উপরও নির্ভর করছে পাকিস্তানের এই শান্তি আলোচনার ভবিষ্যত্।

যতটুকু জানা গেছে, একই ধরনের শান্তি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে আফগানিস্তানেও। কারজাই সরকারের সাথে তালেবানের যদি তেমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়, তবে পাকিস্তানের শান্তি আলোচনাতে তার প্রভাব অবশ্যই পড়বে।

সরকারি প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার পর তালেবান মনোনীত প্রতিনিধিরা গিয়েছিলেন উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের দুর্গম উত্তর ওয়াজিরিস্তানে। সেখানে তারা তালেবান নেতাদের সাথে সরকারের দেয়া শর্ত বা দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলেন। পরে ইসলামাবাদ ফিরে তালেবান প্রতিনিধি মাওলানা ইউসুফ শাহ জানান, তালেবানরা সরকারের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করছে এবং আলোচনা প্রক্রিয়ায় সাড়া দিয়েছে। তেহরিক ই তালেবান অব পাকিস্তান বা টিটিপির শুরা কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এমন দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানা গেছে। এমনকি তারা পাকিস্তানের সংবিধানের ভিত্তিতে আলোচনা চালিয়ে যাবার ব্যাপারেও নিজেদের সম্মতি জানিয়েছে। মাওলানা ইউসুফের কথায় বেশ আশার আলো দেখা গেলেও বিষয়টা হয়তো এতটা সহজ হবে না, এমন ধারণা দিয়েছেন পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ। তাঁর কথায় পাকিস্তানের এই সংকটের উত্স সম্পর্কে বেশ ধারণা মেলে। সারতাজ বলেন, নাইন ইলেভেনের পর থেকে পাকিস্তানের এই সমস্যা জটিল রূপ নেয়। তিনি জানান, রুশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় তালেবানরা শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলে। আর তাদের প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন ও অস্ত্র দেয়াসহ যৌথভাবে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দেয় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। সারতাজের মতে, এ ধরনের সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নির্ধারণ। কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফসহ প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতারা চান, আলোচনায় ব্যর্থ হলে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান চালানো হোক। একই দৃষ্টিভঙ্গি তেহরিক ই ইনসাফ দলের নেতা ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানেরও। তবে আলোচনা পণ্ড হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন তিনি। ইমরান খান বলেন, শান্তির স্বার্থে তালেবানকে আগে সুযোগ দিতে হবে। আর সেই সুযোগ নিতে জঙ্গিরা ব্যর্থ হলে তাদেরকে অবশ্যই সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। ইমরান বলেন, সেনা অভিযানই সব সমস্যার শেষ সমাধান নয়। কারণ সেনা অভিযানে যার সন্তান বা স্বজন মারা পড়বে, সেই একদিন হাতে বন্দুক তুলে নেবে। ফলে সন্ত্রাসবাদ রয়েই যাবে। অতীতে এভাবেই কোন শান্তি আলোচনা সফল হয়নি বলে মন্তব্য করেন ইমরান। শান্তির স্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনাও রয়েছে তাঁর। সরকারকে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের আস্থা অর্জন করতে সেখানে অর্থ ব্যয় করতে হবে বলে মনে করেন তেহরিক ই ইনসাফ দলের নেতা।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির কো চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো তালেবানদের ব্যাপারে তার মা বেনজির ভুট্টোর মতোই মানসিকতা পোষণ করেন। এক সমাবেশে তিনি বলেন, ইসলামের কথা বলে তালেবান পাকিস্তানকে প্রস্তর যুগে নিতে চাইছে। বিলাওয়াল তালেবানদেরকে পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী চলতে বলেন। সিন্ধুতে কঠোর ভাষায় তিনি অভিযোগ করে বলেন, তালেবান চায় জঙ্গি শাসন কায়েম করতে। বিলাওয়াল বলেন, আগেও তালেবানদের সাথে যোগাযোগ করে শান্তি আলোচনার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তার সবগুলোই ব্যর্থ হয়েছে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান বলেছেন, 'আল-কায়েদার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোন সম্পর্ক নেই'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
5 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ১৮
ফজর৩:৫৬
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৩
সূর্যোদয় - ৫:২১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :