The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ৯ ফাল্গুন ১৪১৯, ১০ রবিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ নূহাশ পল্লীতে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে ৯ জন আহত | ২৬ মার্চের মধ্যে জামায়াত নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরুর আলটিমেটাম: শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ | মহাসমাবেশে কর্মসূচির ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হলো শাহবাগের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি | সৈয়দ আশরাফুল রাজনৈতিক শিষ্ঠাচারবিবর্জিত কথা বলেছেন: মির্জা ফখরুল | বরিশাল-ভোলা মহাসড়কে বাস খাদে পড়ে ৫ জন নিহত | আজ মহান অমর একুশে | বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস | কিশোরগঞ্জে শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষ | ঝিনাইদহের মহেশপুরে জামায়াত-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ১৫ জন আহত

প্রজন্ম ব্যবধান সত্য নয়, সত্য তাদের সম্মিলন

শান্তনু কায়সার

প্রজন্ম ব্যবধান স্বাভাবিক, এক প্রজন্ম সাধারণত আরেক প্রজন্মের সঙ্গে একমত হতে চায় না। পরের প্রজন্ম ভাবে, আগের প্রজন্ম বোকা, সেকেলে, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে জানে না অথবা পারে না। একইভাবে পূর্ব প্রজন্ম ভাবে, তার উত্তর-প্রজন্ম তাল মিলিয়ূেই শুধু চলে, মূল্যবোধের ধার ধারে না। ন্যায়-অন্যায়ের চেয়ে সমকালের দাবি ও চাহিদাকে বড় করে দেখে এবং একমাত্র বিবেচ্য বলে মনে করে। ফলে প্রজন্ম ব্যবধান ঘটে এবং ঘটতে থাকে।

কিন্তু সাম্প্রতিক শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর ও তার ধারণা বুঝিয়ে দিয়েছে, প্রজন্ম-ব্যবধান সত্য নয়, সত্য উভয়ের সম্মিলন। তারা সহজেই বলতে পারত—মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবন ও প্রজন্মের ঘটনা নয়, অতএব এ ক্ষেত্রে আমাদের আর কী দায়? যাদের প্রজন্মের ঘটনা তারাই যেহেতু একে অগ্রাহ্য করেছে ও করছে সেহেতু আমরা কী করব? কিন্তু তারা তা বলেনি অথবা করেনি, বরং না করে বা বলে তারা উল্টো পূর্ব-প্রজন্মের দায়কে নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে, ধারাবাহিক এই দায় তাদের ওপরও বর্তায়। সেই দায় নিয়ে তারা স্পষ্ট ও ঋজু কণ্ঠে বলেছে এ দায় তাদেরও। যদি পূর্ব-প্রজন্ম অগ্রাহ্য ও অবহেলা করে কিংবা সে দায় পালনে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তবু অভিমান করে তা থেকে পিছিয়ে থাকা চলে না, এবং ওই দায় গ্রহণের মধ্যেই রয়েছে তাদের প্রকৃত দায়িত্ববোধ।

সন্তান যেমন মাতা ও পিতার দায় গ্রহণ করে তেমনি পূর্ব-প্রজন্মের দায় বহন করতে এগিয়ে এসেছে তরুণসমাজ। এই প্রজন্ম এখানে বিমুখ অথবা উন্নাসিক নয়, পূর্ব-প্রজন্মকে তার যথার্থ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করতে সে এগিয়ে এসেছে। এভাবে সে যেমন প্রজন্ম-ব্যবধান ঘুচিয়ে দিয়েছে, তেমনি পূর্ব ও উত্তর প্রজন্মের মধ্যে সেতুবন্ধনও রচনা করেছে।

তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তিকে বড় বেশি গুরুত্ব দেয়—এ অভিযোগ তরুণদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। প্রকৃত জ্ঞানচর্চা অথবা বিজ্ঞানের মর্ম গ্রহণের ইচ্ছা বা বোধ তার নেই একথাই সবাই জেনে ও মেনে এসেছে। কিন্তু এই প্রজন্ম প্রমাণ করেছে, উপকরণ, কল অথবা যন্ত্র তার হাতিয়ার, সে তার দাস নয়। তার জীবন তার মূল্যবোধ দ্বারা চালিত। মতলবী ও স্বার্থপরদের মতো মুক্তিযুদ্ধকে সে অতীতের বিষয় মনে করে না, বরং তার জীবনকে উপযুক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সে তাকে এর নিয়ামক ভেবেছে। কিন্তু ভেবেই সে আত্মতৃপ্ত হয়নি, বরং তা রক্ষার্থে জনতার কাতারে নেমে এসেছে যাতে তার বার্তাকে সে সকলের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। মানুষ যে তাতে স্বতস্ফূর্ত সাড়া দেবে সেটা হয়তো তারা নিজেরাও ভেবে উঠতে পারেনি।

কিন্তু উভয় পক্ষের এই সম্মিলনের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, প্রজন্ম-ব্যবধান একটি আপাত প্রত্যয়। নানা ধর্ম, বয়স ও মিল ব্যবধান যে এতে ঘুচে গেছে তাতে এও বোঝা যায়, মানুষ হিসেবে এই ভূখণ্ডে আমাদের এক অসাধারণ ঐক্য ও প্রত্যয় রয়েছে।

'শুধু পেঁচা রাষ্ট্র করে দেয় পেলে কোনো জুতা/জানোনা সূর্যের সাথে আমার শত্রুতা।'

রবীন্দ্রনাথ জানতেন, এই শত্রুতা যারা করে তারা মিথ্যার পাহারাদার, তার সাক্ষী। মাইকেলের 'বীরঙ্গনা কাব্য'র 'নীলধ্বজের প্রতি জনা' যেমন বলেছে 'বিষের ওষুধ বিষ' তেমনি তরুণরা আগের শত্রু ও প্রতিক্রিয়াশীল রাজাকারদের জন্য নির্ধারণ করেছে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। যে ব্রিটেন বা তার কেউ কেউ মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে তাদের মনে করিয়ে দেওয়া উচিত যে, চার্লস ওয়ানির শিরচ্ছেদের মধ্য দিয়েই সেখানকার গণতন্ত্র সুসংহত হয়েছিল।

২.

এখন যারা শাহবাগের উদাহরণ দিয়ে গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না কাঁদছে এবং এই চত্বরে তথাকথিত ফ্যাসিবাদের উত্থান দেখেছে তাদের কি মনে করা উচিত নয় ফ্যাসি ও নাজিবাদের উত্থান ও তার বিকাশের ঐতিহাসিক ও বাস্তব পরিস্থিতি কী ছিল? হিটলার মুসোলিনি উভয়ই কি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ও তার স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি? মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি এবং একাত্তরে ঘৃণ্য সহযোগীরা যদি হয়ে যায় গণতন্ত্রের অন্যতম পক্ষ তবে তার বিরুদ্ধে সতর্ক না হয়ে উপায় নেই। যারা হরতালকে নাশকতা ও সন্ত্রাস দিয়ে 'সফল' করতে চায় তারা যদি গণতন্ত্রের পক্ষ হয় তাহলে ফ্যাসিবাদ কী? জনগণ যখন নিজেদের সংকল্প ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাকে অকার্যকর ও নাকচ করে তখন তাকে গণতন্ত্র ছাড়া কী বলব?

যে ব্লগার রাজাকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন তিনি তো আসলে মৃত্যুকে জয় করেন। তার মৃত্যুতে যে অপশক্তি উল্লাস অথবা বিকৃত আনন্দ প্রকাশ করে সে তো প্রতিক্রিয়াশীলতার বন্ধু ও তার সহযাত্রী। আর যে ব্লগারের তথাকথিত ইসলামবিরেধী প্রচারণার কথা বলা হচ্ছে সেই কথা তারা তার নৃশংস মৃত্যুর আগে কেন বলেনি? মানুষ যদি ওই অপপ্রচারের বিভ্রান্ত হতো তাহলে শাহবাগ চত্বরে নিশ্চয়ই লোকসমাগত অনেক কম হতো। কিন্তু তা যে হয়নি তা থেকেই বোঝা যায়, ওই প্রান্ত প্রচারের আসল ও নৈতিক জোর কতটা।

১৯৭১-এ ওই অপশক্তি কী করেছিল? জনগণের সঙ্গে ও জনগণের বিরুদ্ধে শত্রুতা। সেই শত্রুতায় তাদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত লাভ হয়েছিল। কিন্তু একইসঙ্গে ওই কারণে এ দেশের মানুষের বিশ্বাস ও আস্থাও তারা হারিয়েছিল। ফলে এই মৃত্তিকায় তারা সকল তত্পরতার অধিকারও হারিয়েছে। আজ যতই ছদ্মবেশ ধারণ করুক, এ দেশের মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না।

অপপ্রচার সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ দেওয়া যাক। এদের পূর্বজরাই নজরুলকে কাফের, শয়তান ও ইত্যাদি নামে ডেকেছে। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করেছে। নজরুল এর কোনোটাই নন, ওই ভুল শক্তিই বরং ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত। তারা বলেছে নিহত ব্লগার নাস্তিক, ইসলামবিরোধী। এমনভাবে বলেছে যেন তাকে হত্যা করা ঠিক হয়েছে। অথচ তার হত্যার দায় স্বীকার করতে তারা এগিয়ে আসেনি। এ থেকে তাদের ভণ্ডামি বোঝা যায়। এ হচ্ছে হিটলার অথবা তার সহযোগী গোয়েবলসের প্রচার নীতি। সত্যকে মিথ্যার সাথে মেশাও, তারপর ধীরে সত্য প্রত্যাহার করতে করতে এক সময় দেখতে পাবে মিথ্যাই সত্য হয়ে গেছে।

কিন্তু এ যে একবিংশ শতাব্দী। এখন মিথ্যাকে এত সহজে সত্য বানানো যাবে না। মিথ্যা তার নিজের পাপেই ধ্বংস হবে। নীতি ও মূল্যবোধসম্পন্ন তারুণ্যকে পিছু হটিয়ে দেওয়া এখন আর তেমন ও তত সহজ নয়।

৩.

যেখানে নারী পুরুষের বিপুল সমাবেশ ঘটে সেখানে যৌন হয়রানি ও নির্যাতন ঘটা খুব অস্বাভাবিক নয়। যেমন মিশরের তেহরির স্কয়ারে হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে শাহবাগে এখন পর্যন্ত সেরকম কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। ১৯ ফেব্রুয়ারি বিবিসি'র 'প্রত্যুষা' অনুষ্ঠানে কানিজ ফাতেমা যুঁথি নামের এক তরুণী বলেছেন, সেরকম কিছু ঘটা দূরে থাক, কারও মধ্যে সেরকম চিন্তা-ভাবনাও লক্ষ্য করিনি।

এ ক্ষেত্রে তার কোনো শত্রু থাকার কথা নয়। কিন্তু যে পেঁচা, যে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি সে তো ভালোকে ভালো দেখবে না বা বলবে না। তাকে কালো দেখা ও বলাই তার কাজ ও স্বভাব। তাকে একেবারে মূলে গিয়ে ধ্বংস করতে হবে।

তা না হলে রাজাকারের ফাঁসির পরও রাজাকারের জন্ম হবে, রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সহজ হবে না।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের চেয়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা শ্রেয়—ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?
2 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ২৫
ফজর৪:১৯
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:২৭
এশা৭:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :