The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ৯ ফাল্গুন ১৪২০, ২০ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ নাটোরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ৩ | শাহ আমানতে সাড়ে ১০ কেজি সোনা আটক | একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন

মহান ভাষার মাসে জেলাভিত্তিক বিশেষ আয়োজন

আমাদের শহীদ মিনার : ঢাকা জেলা

তুহিন খান

ভাষা আন্দোলনের শহীদদের গৌরবোজ্জল অবদানের পবিত্র স্মৃতি বিজড়িত ফেব্রুয়ারি আবার ফিরে এসেছে আমাদের চেতনাকে উজ্জীবিত করতে। ফিরে আসছে একুশ। জেগে উঠছে সাংস্কৃতিক অঙ্গন ।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকার রাজপথ প্রকম্পিত হয়েছিল ছাত্র জনতার মিছিলে। "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই" এই দীপ্ত শ্লোগানে উচ্চারিত হয়ে উঠেছিল দেশের মানুষের কণ্ঠ। আপামর ছাত্রজনতা ঢাকার রাজপথে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছিল। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে লাখ লাখ অকুতোভয় ছাত্র জনতা বিক্ষোভ ও মিছিল বের করলে পুলিশ নির্মমভাবে মিছিলে গুলিবর্ষণ করে। ঘাতক বুলেটের নির্মম আঘাতে শহীদ হন বাংলার বীর সন্তান রফিক, সালাম, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে। রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষা বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে। ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলন পরবর্তীকালে স্বাধীকার আন্দোলনে রূপ নেয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আপসহীন নেতৃত্বে এ আন্দোলনের পথ ধরে শুরু হয় স্বাধীনতার সংগ্রাম। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। ২১ আমাদের জাতীয় চেতনার মূর্ত প্রতীক। ২১ ফেব্রুয়ারি উজ্জীবনের দিন।

ঢাকা মহানগরীর উপকণ্ঠ সাভার উপজেলায় নির্মিত হয়েছিল প্রথম শহীদ মিনার। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী ও এদেশের দালালরা এ শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে দিয়েছিল। পরবর্তীতে তা পুনরায় নির্মাণ করা হয়। সাভারের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবিশাল মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে আজও শহীদ মিনার হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

এলাকার একাধিক প্রবীণ ব্যক্তির সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ১৯৬৮ খ্রীঃ ছাত্র গণআন্দোলন ও পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের প্রাকলগ্নের এমনই সময়ে তত্কালীন সাভারের ছাত্র নেতা আশরাফ উদ্দিন খান ইমু, খ.ম হামিদ রঞ্জু, কাইয়ুম খান, রফিকুল ইসলাম মোল্লা, প্রয়াত ইউসুফ আহমেদ, আবু বক্কর সিদ্দিক (মিন্টু), পান্না লাল পোদ্দার, গৌর সাহা, মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়। এ সময় শহীদ মিনার নির্মাণ ছিল সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। আর এ নিষেধ উপেক্ষা করেই ছাত্র নেতারা শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন এবং রাতের অন্ধকারে চুপিসারে শহীদ মিনারের কাজ শুরু করেন। প্রথম শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছিল বিদ্যালয়ের স্বর্ণময়ী ছাত্রাবাসের সামনে। ১৯৬৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাত জেগে হ্যারিকেন জ্বালিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ শুরু করেন ছাত্র নেতারা। প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোক্তাদের অন্যতম খ.ম হামিদ রঞ্জু বলেন, আমাদের পরিকল্পিত শহীদ মিনারটি ছিল মূল বেদির উপর ৩টি লম্বা স্তম্ভ। তবে স্তম্ভ ৩টির উচ্চতার তারতম্য ছিল। রাত শেষ হওয়ার পূর্বেই সাভারের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ শেষ হয়। নির্মাণ কাজ শেষে ওই রাতেই গাঁদা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল মিনারটি। সাভার কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক দীপক কুমার রায় আর্ট পেপারে সুন্দর করে লিখেছিলেন "শহীদ দিবস অমর হোক এবং অ আ ক খ। সাভারের প্রথম শহীদ মিনারটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যে সবাই তা সকালে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। সকালে ছাত্রনেতারা সবাই খালি পায়ে "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো ২১শে' ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি" গানে গানে শ্রদ্ধা জানায় প্রথম শহীদ মিনারে গিয়ে।

দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে ১৯৭১ সালের ৩ এপ্রিল সাভারের এদেশের কিছু কুসংস্কারাছন্ন বুদ্ধিহীন ব্যক্তি শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে ফেলে। পরবর্তীতে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণকারী ছাত্রনেতারা পুনরায় সাভার অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্বান্ত গ্রহণ করেন। প্রকৌশলী দিয়ে নকশা করে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজের ব্যয় ও আনুসঙ্গিক খরচ উদ্যোক্তরা স্থানীয়ভাবে অনুদান গ্রহণ করে তা মিটিয়ে ছিল বলে জানা গেছে। ভাষা আন্দোলনের প্রতীক শহীদ মিনারটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

ভাষা সংগ্রামী জয়নাল আবেদীন খান: জয়নাল আবেদীন খান ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন , ৬২র' শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ৬ দফা, ৬৮'র ১১ দফা, ৬৯'র গণআন্দোলন, ৭০ এর নির্বাচন ও ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনও ছিল বর্ণাঢ্য। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক কারণে জেল খেটেছেন বহুবার।

১৯৫২ সালে পাবনার গোপাল চন্দ্র ইনস্টিটিউট থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে এ্যাডওয়ার্ড কলেজে ভর্তি হন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে তিনি অংশ নেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পুলিশের গুলিতে রফিক, শফিক, বরকত, জব্বার শহীদ হবার খবর পাবনায় পৌঁছে ২৩শে' ফেব্রুয়ারি (সে সময় পাবনা খবরের কাগজ পৌঁছাতে ১/২ দিন সময় লাগত)। (সরকারি রেডিওতে ছাত্র নিহতের খবর প্রচার হয়নি)। সে কারণে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে ছাত্র নিহতের প্রতিবাদে ২৩ ফেব্রুয়ারি পাবনায় মিছিল বের হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ নেতা আঃ মান্নান তালুকদার। এ মিছিলটি আয়োজন ও অংশ নেয়ার কারণে প্রথমবার গ্রেফতার হন জয়নাল আবেদীন খান। ১৯৫৩ সালে মুসলিম লীগের একটি সভা পণ্ড করে দেয়ার জন্য কামাল লোহানী, রনেশ মৈত্র, আঃ মতিনসহ তিনি পুনরায় গ্রেফতার হন এবং ৬ মাস পাবনা ও রাজশাহী কারাগারে আটক থাকেন। ৮৪ বছর বয়স্ক জয়নাল আবেদীন খান জানান, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাঙ্গালির অধিকার আদায়ে সকল আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা তার কাছে অনেক আনন্দের ও গর্বের।

তিনি বলেন, কোন মহত্ ত্যাগই বৃথা যায় না। তাই একদিন আমরা কাঙ্ক্ষিত স্বদেশ গড়তে পারবো। ভাষা সংগ্রামী জয়নাল আবেদীন খান সাভারের তালবাগ মহল্লায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তিনি বর্তমানে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের উপদেষ্টা পবিষদের সদস্য ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাভারের সভাপতি।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, 'উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি প্রমাণ করেছে শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
9 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৩
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :