The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ৯ ফাল্গুন ১৪২০, ২০ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ নাটোরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ৩ | শাহ আমানতে সাড়ে ১০ কেজি সোনা আটক | একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন

ঢাকা গেট সংস্কার করা হউক

জাতি হিসাবে আমরা আমাদের ঐতিহ্য লইয়া যত গর্ব করিয়া থাকি, সেই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের ব্যাপারে ততটাই উদাসীন। ইউরোপে দেখা যায় পুরনো ঐতিহ্যমণ্ডিত ভবনগুলি তাহারা বারংবার সংস্কার করিয়া থাকে এবং তাহা করা হয় পুরানা স্থাপত্যরীতিকে অবিকৃত রাখিয়া। এইক্ষেত্রে আমরা যেন বর্বরের ন্যায় অবিবেচক ও অসচেতন। আমাদের যাহা ঐতিহ্যমণ্ডিত, তাহার সামান্যই সংরক্ষণ করিতে সমর্থ হই। পুরানা স্থাপত্যরীতিসম্পন্ন ভবনকে ভাঙ্গিয়া নূতন সরল-সোজা দালান খাড়া করাইয়া দিতে আমাদের জুড়ি নাই। জাতির অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য, কালের অনেক সাক্ষীকে আমরা অবহেলায় পায়ে ঠেলিয়া থাকি। শহর হিসাবে ঢাকা কলকাতার চাইতে পুরানা, ইহার বয়স ৪০০ বছর অতিক্রম করিয়াছে। কিন্তু শহরটি প্রদক্ষিণ করিয়া ইহার প্রাচীনত্বকে বুঝিবার উপায় নাই। পুরানা ঢাকার জরাজীর্ণ ভবনগুলি ভাঙ্গিয়া নূতন স্থাপত্যরীতির ভবন গড়িয়া উঠিতেছে একের পর এক। অথচ সরকারি উদ্যোগে এইসব ভবনকে যদি কয়েক দশক পরপর সংস্কার করা হইতো, তাহা হইলে সবগুলি ভবন রক্ষা পাইতো এবং ইহা হইতে পারিত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের খনিবিশেষ। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে স্বীকৃতি পাইতে পারিত পুরানা ঢাকা।

এইদিকে ইত্তেফাকের খবরে প্রকাশিত হইয়াছে যে, অযত্ন, অবহেলা ও সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংস হইতে বসিয়াছে মোগল আমলের স্মৃতিবিশেষ, ঢাকার প্রাচীন ঐতিহ্য ঢাকা গেট। যত্নের অভাবে খসিয়া পড়িয়াছে গেটটির দেয়ালের ইট-চুন-সুরকি। বেয়াড়া বিজ্ঞাপনী পোস্টারের আড়ালে ঢাকা পড়িয়াছে গেটের স্থাপত্যসৌন্দর্য। ইতোমধ্যে ধ্বংস হইয়া গিয়াছে স্থাপনার একাংশ। দুইশত বত্সরের স্মৃতিচিহ্ন হারাইয়া যাইতেছে। বর্তমান স্থাপনা দেখিয়া সাধারণ চোখে বুঝিবার উপায় নাই ইহাই ঐতিহ্যবাহী 'ঢাকা গেট' বা 'মীর জুমলার গেট'। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের শুরুতে, দোয়েল চত্বরের নিকট, এই গেটটি অবস্থিত। ভারতের দিল্লি গেটের তুলনায় ইহাকে নিতান্ত সাদামাটা মনে হয়, কেহ দেখিলে ইহাকে তিনটি হলুদরঙা স্তম্ভমাত্র মনে করিবে। জানা যায়, বিভিন্ন পর্যায়ে মূল গেটটি খর্বিত হইয়াছে, ইহার ঐশ্বর্যকে বাড়াইয়া তুলিবার পরিবর্তে ক্রমশ ইহাকে বামন করিয়া দেওয়া হইয়াছে। গেটের তিনটি অংশের একটি রহিয়াছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবায়নযোগ্য শক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের দিকে এবং অপর অংশটি রয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে তিন নেতার মাজারের পাশে। বর্তমান চেহারায় গেটটিকে যতটা ছোট দেখা যায়, পূর্বে ইহা এতটা ছোট ছিল না বলেই ধারণা করেন ইতিহাসবিদরা। অযত্ন-অবহেলায় এবং চারিদিকে বিভিন্ন স্থাপনা গড়িয়া উঠায় গেটটির আকার ছোট হইয়া গিয়াছে।

ধারণা করা হয়, মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়কার বাংলার সুবেদার মীর জুমলা রমনা অঞ্চলে গেটটি নির্মাণ করেন। ঢাকা নগরীকে উত্তর দিক হইতে মগদের আক্রমণ প্রতিহত করিবার জন্য এই প্রবেশদ্বারটি নির্মাণ করা হইয়াছিল। তবে অবশিষ্ট বর্তমানের স্থাপনাটি মোগল আমলের নয়। ১৮২০ থেকে ১৮২৫ সালের মধ্যে এই গেট পুন:নির্মিত হয়েছিল বলিয়া মনে করেন ইতিহাসবিদরা।

তিন নেতার মাজার প্রাঙ্গণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবায়নযোগ্য শক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রাঙ্গণে অবস্থিত দুই অংশের দেয়ালেরই ইট, চুন, সুরকি খসিয়া পড়িয়াছে। নবায়নযোগ্য শক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাশে অবস্থিত স্তম্ভ-দেয়াল ঘেঁষিয়া একটি ছোট টিনের ঘর গড়িয়া উঠিয়াছে। স্তম্ভের দেয়ালটি ব্যবহার করা হইয়াছে টিনের ঘরটির একপাশের দেয়াল হিসাবে। এই ঘরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের অব্যবহূত বা পরিত্যক্ত জিনিসপত্র রাখা হয়। মাজারের পাশের স্তম্ভ-দেওয়ালের চাইতে এই পাশের দেওয়ালটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে। ঘন ঝোপ-জঙ্গলও এই পার্শ্বের স্তম্ভটিকে ঘিরিয়া ধরিয়াছে। আর মাঝের স্তম্ভটিসহ তিনটি স্তম্ভেই বিভিন্ন দল-সংগঠন পোস্টার লাগাইয়া রাখিয়াছে। ফলে এক নজরে দেখিয়া বুঝিবার উপায় নাই যে, ইহাই ঐতিহ্যবাহী ঢাকা গেট। অথচ কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল এই গেটটিকে সযত্ন পরিচর্যার মাধ্যমে একটি আকর্ষণীয় দর্শনীয় বস্তু ও প্রত্নসম্পদে পরিণত করা এবং প্রচলিত হলুদরঙা সাদামাটা রঙের পরিবর্তে রঙের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহারের মাধ্যমে ইহার ডিজাইনকে পরস্ফূিট করিয়া তোলা। অবহেলা ও অসচেতনতা কোন পর্যায়ে গেলে এইরকম একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার দেওয়ালকে টিনের ঘরের অবলম্বন হিসাবে ব্যবহার করা হয় তাহা বোধ হয় না বলিলেও চলে। অচিরেই এই স্থাপনাটিকে সংস্কারের আওতায় আনিয়া, ইতিহাসের দায় শোধ করিয়া, আমাদের ঐতিহ্য-অসচেতনতার গ্লানি হইতে মুক্ত হইতে হইবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন বলিয়াই আমাদের বিশ্বাস।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, 'উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি প্রমাণ করেছে শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৩
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :