The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১১ ফাল্গুন ১৪১৯, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ধর্ম নিয়ে কাউকে খেলতে দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী | খুলনায় ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকের দুই শ্রমিক নিহত | কুমিল্লা, ফরিদপুর ও ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ | ইসলামী ১২ দল চট্টগ্রামে সোমবারের হরতাল প্রত্যাহার করেছে | চট্টগ্রাম তাণ্ডবে মামলা: ২৩ নামসহ সাড়ে তিন হাজার আসামি | আগারগাঁও ইসলামী ব্যাংকের বুথ ভাংচুর | নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় কার্য়ালয়ে হামলা ভাংচুর | ইসলামী দলগুলোর ডাকা হরতালে বিএনপির সমর্থন | ২৬ মার্চের আগেই জামায়াত নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরু হবে : আইনমন্ত্রী | রাতে মাঠে নামছে বিজিবি | আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে পাঁচ মামলা | পাবনায় পিকেটার-পুলিশ সংঘর্ষ, নিহত ২ | রবিবারের এসএসসি পরীক্ষা শুক্রবার ৯টায় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ২৬ ফেব্রুয়ারি

মহানবীর (স.) অবমাননার প্রতিবাদ

দেশ জুড়ে সংঘর্ষে চারজন নিহত, আহত তিন শতাধিক

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ব্লগে আল্লাহ ও মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি এবং ইসলামকে অবমাননার ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সারাদেশে। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের আগে-পরে রাজধানীসহ প্রায় সারাদেশে প্রতিবাদকারী ইসলামী ও সমমনা ১২টি দলের কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে গাইবান্ধায় ২ জন এবং সিলেট ও ঝিনাইদহে একজন করে নিহত হয়েছে। সবচে বড় সংঘর্ষ হয়েছে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকা ও এর আশপাশে। নামাজ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইসলামী দলগুলোর কর্মী-সমর্থকসহ মুসল্লিরা তিনদিক থেকে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর দখল করতে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে পল্টন, কাঁটাবন ও চানখারপুল এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঢাকায় ৭ জন ও চট্টগ্রামে হামলার শিকার হন অন্তত ৩ জন সংবাদকর্মী। সারাদেশে অর্ধশতাধিক গুলিবিদ্ধ ও পুলিশসহ তিন শতাধিক আহত হয়। এরমধ্যে ঢাকাতেই আহত হয় শতাধিক। চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, বগুড়া, ফেনী ও চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণজাগরণ মঞ্চ দখল ও ভাংচুর করা হয়। কোথাও কোথাও শহীদ মিনার ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে।

সিলেটে মিছিলকারীরা পুলিশের ভ্যানসহ চারটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা ট্রাস্ট ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় ভাংচুর চালায় ও অগ্নিসংযোগ করে। প্রতিবাদে ছাত্রলীগের মিছিল থেকে ইসলামী ব্যাংকে ভাংচুর করা হয়। চট্টগ্রামে ইসলামী দলগুলোর মিছিল থেকে প্রেসক্লাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পেটানো হয় তিনজন সাংবাদিককে। এর প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চের সমর্থকরা দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক সংগ্রামের স্থানীয় অফিসে ভাংচুর চালায়। তারা অগ্নিসংযোগ করে দিগন্ত টেলিভিশন কার্যালয়ে।

কর্মসূচিতে বাধা প্রদান, কর্মী-সমর্থকদের আহত করা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং ব্লগে মহানবী (সা.) সম্পর্কে কটূক্তিকারীদের শাস্তি ও ব্লাসফেমি আইন প্রণয়নের দাবিতে আগামীকাল রবিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে ইসলামী ও সমমনা ১২টি দল। সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকায় ১৭৫ জনসহ সারাদেশে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার ইত্তেফাককে বলেন, যে দলই নাশকতায় জড়িত হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের পিছপা হবার কোনো সুযোগ নেই।

ব্লগে আল্লাহ ও মহানবী (সা.) সম্পর্কে কটূক্তির প্রতিবাদে ইসলামী দলগুলো গতকাল বাদ জুমা সারাদেশে সাড়ে ৪ লাখ মসজিদ থেকে একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করার কর্মসূচি ঘোষণা করে বুধবার। একইসঙ্গে কটূক্তিকারী ব্লগারদের শাস্তি এবং ইসলাম বিরোধী ওয়েবসাইটগুলো বন্ধের লক্ষ্যে জনমত গঠনে গতকাল সারাদেশে সকল মসজিদে দোয়ার ও খুতবার কর্মসূচিও দেয়া হয়।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের মহাসমাবেশ থেকে একাত্তরে সকল শহীদ ও এর পরবর্তী সময়ে জামায়াত-শিবিরের হাতে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় শুক্রবার সারাদেশে সকল মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করে। গণজাগরণ মঞ্চ এবং ইসলামী সংগঠনগুলো একই সময়ে সারাদেশে সকল মসজিদে পৃথকভাবে কর্মসূচি দেয়ায় আগে থেকেই এক ধরনের উত্তেজনা দেখা দেয়। যার কারণে গতকাল সকাল থেকেই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকাসহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সকল মসজিদ প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক র্যাব-পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়। তবে ইসলামী দলগুলোর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মূল সংঘর্ষ ঘটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

ঢাকায় যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

গতকাল জুমার নামাজের বেশ আগে থেকেই রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও এর আশপাশে অবস্থান নিতে থাকে সংশ্লিষ্ট ইসলামী দলগুলোর নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। নামাজের আগে থেকেই সংঘর্ষ শুরু হয়ে চলতে থাকে নামাজের পরেও। বেলা পৌনে একটার দিকে জুমার নামাজ পড়ার জন্য মসজিদের ভেতরে প্রবেশের সময় পুলিশ দেহ তল্লাশি করলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কার্যত এখান থেকেই শুরু হয় সংঘর্ষ। নামাজের পরেও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে এসব ইসলামী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের একাংশ এক পর্যায়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেয়। তারা মসজিদের ভেতর থেকেই শ্লোগান দিতে থাকে। পুলিশ মসজিদের চারপাশ ঘিরে রাখে। বাইরে অবস্থান করা পুলিশ, র্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাইকে সাধারণ মুসল্লিদের মসজিদ থেকে বের হয় আসার আহ্বান জানান। এ সময় ঐ এলাকার রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরপরই পুলিশ সেখানে ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।

বায়তুল মোকাররম থেকে মত্স্য ভবন

ঘড়িতে সময় বেলা ১টা ২৫ মিনিট। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার মুহূর্ত। ইমাম প্রথমে ডানদিকে ও পরে বামদিকে সালাম ফেরানোর সাথে সাথে উত্তর গেটের বাইরে সিঁড়িতে সবাই একত্রে দাঁড়িয়ে শ্লোগান দেয় 'নারায়ে তকবির আল্লাহু আকবর'। এরপরই ইসলামী ঐক্যজোট ও সমমনা ১২ দল গেট ঠেলে রাস্তায় নেমে আসে। অপরদিকে হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরেশনের সামনে থেকে বের হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মিছিল। রাস্তায় তখন ছিল টানটান উত্তেজনা।

বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ফুটওভার ব্রিজের নিচে আগে থেকেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাবের দিকে যেতে শুরু করলে পুলিশ তাদের ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়। পুরানা পল্টন ক্রসিং পার হয়ে মিছিল প্রেসক্লাবের দিকে যাওয়ার সময় তোপখানা রোডে ঘটে প্রথম ঘটনা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান ভাষা শহীদ দিবস উপলক্ষে ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয়ের সামনে লাল কাপড়ের গেট বিক্ষোভকারীরা ভাংচুর শুরু করলে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তেড়ে আসার সাথে সাথে ভাংচুরকারীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর বিক্ষোভ মিছিল থেকে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়ার পর ১টা ৩৫ মিনিটে দ্বিতীয় দফা ওয়ার্কার্স পার্টি অফিসের সামনে গেট ভাংচুর শুরু হলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। মুহূর্তেই বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে মত্স্য ভবন গেট পর্যন্ত পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিক্ষোভ মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে অলি-গলিতে প্রবেশ করলেও প্রধান সড়কে সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করে। মিছিলকারীরা পুলিশ ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে বৃষ্টির মত ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ শর্টগান ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস সেল ও রায়টকার থেকে গুলি করে।

সংঘর্ষ চলাকালে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের নিকট মিছিলকারীরা দুটি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার পরপরই তারা একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করলে পুলিশের পাশাপাশি র্যাব এ্যাকশনে নামে। এক পর্যায়ে রায়টকার থেকে আকাশের দিকে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায় পুলিশ। সংঘর্ষ চলাকালে সব ধরনের যানবাহন সেগুনবাগিচা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সামনে দিয়ে চলাচল শুরু করে। এ অবস্থায় পুলিশের রায়টকার এপিসি-৯ ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে সেগুন বাগিচায় প্রবেশ করে। ডিআরইউ'র সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের গেইটে গুলি করলে ডিআরইউ'র আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভুঁইয়া ডান পায়ে আঘাত পান। এ ঘটনার সময় ডিআরইউ চত্বরের সামনে দাঁড়িয়ে আমিনুল হক ভুঁইয়াসহ কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে কথা বলছিলেন সাবেক সভাপতি শফিকুল করিম সাবু। মাথায় টুপি পরিহিত বিক্ষোভ মিছিলকারী কেউ না থাকলেও পুলিশের গুলির ঘটনায় সবাই হতবাক হয়ে পড়েন।

বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে রাস্তায় সর্টগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাস সেলের খোসা এবং মিছিলকারীদের নিক্ষেপ করা ইটপাটকেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের প্রবেশ পথে র্যাব সকাল থেকেই মোতায়েন ছিল। তবে সংঘর্ষের পর র্যাব তাদের টহলসহ নজরদারি বাড়িয়ে দেয়।

সাংবাদিক আক্রান্ত

জুমার খুতবা চলাকালে উত্তর গেট দিয়ে এটিএন বাংলার ক্যামেরাম্যান ইমরান তুহিন ও মাছরাঙ্গা টিভির রিপোর্টার আবদুল্লাহ তুহিন ভিতরে প্রবেশ করেন। ক্যামেরা দিয়ে ছবি উঠানোর সময় তাদের উপর একযোগে হামলা চালানো হয়। ইসলামী সমমনা ১২ দলের যারা উত্তর গেটের সিঁড়িতে জড়ো হয়েছিলো তারা বেদম প্রহারের সাথে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। রাস্তায় ফেলে দুই সাংবাদিককে প্রহার করার সময় পুলিশ এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা মসজিদের ভিতরে চলে যায়। পরে আহত দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নামাজ শেষে সংঘর্ষ শুরু হলে দু'দিকের টার্গেটে পরিণত হয় সাংবাদিকরা। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একাত্তর টিভির ক্যামেরাম্যান আরিফুজ্জামান পিয়াস ও বিটিভির ক্যামেরাম্যান পুলিশের গুলিতে আহত হন। র্যাংগস টাওয়ারের সামনে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান নূরকে মারধর করা হয়। সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ইত্তেফাকের সিনিয়র আলোকচিত্র সাংবাদিক সুবীর কুমারের ব্যবহূত ক্যামেরাটি ইটের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটের সিঁড়ির নিকট নামাজ আদায়ের গালিচায় বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার পর সমমনা ইসলামী ১২ দল বলেছে তারা এ ঘটনার সাথে জড়িত নয়। আগুন কারা দিয়েছে তা তারা জানে না। মসজিদের খাদেমসহ সাধারণ মুসল্লিরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলেন। একই সময় দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। এছাড়াও বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজের আগে বয়ানে ইমাম শাহবাগ মঞ্চের আহ্বানে সাড়া দিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করলে সামনে বসা কতিপয় মুসল্লি চিত্কার দিয়ে তার হাত থেকে মাইক কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন।

কাঁটাবন রণক্ষেত্র

জুমার নামাজের পর কাঁটাবন মোড়ে পুলিশ ও ইসলামী দলগুলোর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রাথমিকভাবে আটক করা হয় পাঁচজনকে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজের পর কাঁটাবন মসজিদ থেকে কয়েকটি ইসলামী দলের নেতা-কর্মীরা শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আসতে উদ্যোগ নেয়। এসময় মসজিদের ফটকেই পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশ ও মিছিলকারীদের মধ্যে হাতাহাতি-ধস্তাধস্তি হয়। ইসলামী দলের কর্মীদের হামলায় শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম আহত হন। এসময় লালবাগ পুলিশের সহকারী কমিশনার (পেট্রোল) রেজাউল করিম ও পুলিশের আরেকজন সদস্যসহ বিক্ষোভকারীদের অন্তত সাতজন আহত হন। পুলিশ, স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ মসজিদের ভিতরে ও বাইরে কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ছোঁড়ে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রচুর ঢিল ছুঁড়ে।

এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে কাঁটাবন মোড়ে হেফাজতে ইসলাম নামে একটি সংগঠনের এম্বুলেন্স ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। ঐ এম্বুলেন্স থেকে মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদীসহ চারজনকে আটক করে শাহবাগ থানার পুলিশ। নূরে আলম আল-আলম সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি। আর ভাংচুরকৃত এম্বুলেন্স থেকে পুলিশ বেশকিছু ইসলামী 'জঙ্গী' বই উদ্ধার করেছে। এম্বুলেন্সের চারযাত্রী ছাড়াও কাঁটাবন মোড় থেকে আরো একজনকে দুপুরে আটক করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঐ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

চানখারপুল-দোয়েল চত্বর থেকে শাহবাগমুখী মিছিল

দুপুরে জুমার নামাজের পর রাজধানীর চানখারপুর এলাকার কয়েকটি মসজিদ থেকে ইসলামীদলগুলোর নেতা-কর্মী ও মুসল্লিরা পৃথক মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে যাত্রা করেন। এসময় পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। দুপুর আড়াইটার দিকে ঐ বিক্ষোভকারীরা একযোগে চানখারপুল মোড় থেকে মিছিল বের করে। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল, এফএইচ হল, একুশে হল ও আবাসিক এলাকার ছাত্রলীগ কর্মীরা মিছিলকারীদের ধাওয়া দেয়। একুশে হল ও চানখার পুল মোড়ে দুই পক্ষই পরস্পরের দিকে ঢিল ছুঁড়ে। পরে পিছু হটে চানখারপুল এলাকার বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নেন ইসলামী দলগুলোর কর্মীরা। তবে প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পওয়া যায়নি। দুপুর দুইটা থেকে তিনটার মধ্যে পুলিশ তিন দফায় ঐ এলাকায় ফাঁকা গুলি করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

চানখারপুল ও একুশে হলের সামনে মুসল্লিদের বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে একুশে হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা অন্তত আট শিবির কর্মীকে ধরে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, কাঁটাবন ও চানখারপুল এলাকায় তিন পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কাঁটাবন এলাকা থেকে প্রাথমিকভাবে চার-পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। দুষ্কৃতিকারীদের আটক করতে অভিযান চলছে। মামলা দায়ের করা হবে।

কারওয়ান বাজার ও মিরপুরে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ

বাদ জুমা জামায়াত-শিবির কর্মীদের একটি মিছিল ফার্মগেট থেকে বাংলামোটরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এসময় পুলিশ মিছিলটিকে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ে সার্ক ফোয়ারা মোড়ে বাধা দেয়। পরে মিছিলটি পান্থপথের দিকে চলে যায়। কিছুদূর এগুনোর পর মিছিলকারীরা পান্থপথ এলাকায় পরপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর মিছিলের পেছনের অংশটি আলাদা হয়ে আবার কারওয়ান বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণে কারওয়ান বাজারমুখী মিছিলটি পুলিশ পূর্ণিমা সিনেমা হলের কাছে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশ এসময় ধাওয়া করে চারজনকে গ্রেফতার করে। তারা ছুটাছুটি শুরু করেন। দৌড়ে আন্ডারপাস পার হওয়ার সময় পড়ে গিয়ে ও দেয়ালে ধাক্কা লেগে আটজন পথচারী আহত হন।

অপরদিকে পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির সামনে ইটের আঘাতে একজনের মাথা ফেটে যায়। মিছিলকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে প্রায় আধাঘন্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। এলাকায় বাড়ানো হয় পুলিশ ও র?্যাবের টহল। অন্যদিকে প্রায় একই সময় মিরপুর ১০ নম্বরে পুলিশের সঙ্গে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে।

৩ ঘণ্টা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

জুমার নামাজের আগে-পরে সংঘর্ষের সময় ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং সাভার ও টঙ্গীতে সড়ক অবরোধ করে রাখে ইসলামী দলগুলোর কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সারাদেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আছরের নামাজের সময় মহাসড়কগুলো মুক্ত হলে যান চলাচল আবার শুরু হয়।

গাইবান্ধায় পুলিশের গুলি, নিহত ২

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, জেলার পলাশবাড়িতে ওলামা মাসায়েক এর ব্যানারে একদল মুসল্লি শহরের চৌমাথায় গণজাগরণ মঞ্চ ভাংচুর করেছে। এসময় পুলিশ-মুসল্লি সংঘর্ষে দুইজন নিহত, কমপক্ষে ৫০ জন আহত ও ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এদিকে গাইবান্ধা শহরেও পুলিশের সাথে মুসল্লিদের সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ ২০ জনকে আটক করেছে। আহতদের মধ্যে ১২ জনকে পলাশবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পলাশবাড়ির বিভিন্ন জামে মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে ইসলামী দলের কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শহরের রংপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হয়। পরে সেখান থেকে দা কুড়াল খুন্তিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের চৌমাথা নামক স্থানে এসে গণজাগরণ মঞ্চ ভাংচুর করে। এসময় পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ অসংখ্য রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল এবং ২০ রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করে। এসময় ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশসহ আহত হয় কমপক্ষে ৫০ জন। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ দুইজন গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে মারা গেছেন। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। পরে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা শহরের মহেশপুর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বেপরোয়া যানবাহন ভাংচুর করে। এতে দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো। এখান থেকে ১৪ জনকে পুলিশ আটক করেছে। সন্ধ্যায় দুইজনের মৃতুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আবারো মহেশপুর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার একেএম নাহিদুল ইসলাম দুইজন নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

সিলেটে শহীদ মিনারে হামলা, নিহত ১

সিলেট অফিস জানায়, বাদ জুমা তৌহিদী জনতার ব্যানারে নগরীর বিভিন্ন মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এক পর্যায়ে তারা স্থানীয় শহীদ মিনারে হামলা চালালে পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ এসময় গুলি ছুঁড়লে স্থানীয় এমসি কলেজের ছাত্র মোস্তফা মোর্শেদ তাহমিদ (২৮) আহত হন। পরে ওসমানী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন । এর মধ্যে পুলিশের একজন এএসআইও রয়েছেন। গুরুতর আহত গুলিবিদ্ধ কয়েকজনকে পুলিশি পাহারায় চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। গ্রেফতার করা হয়েছে অন্তত ৩০ জনকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা পৌনে ৩টার দিকে তৌহিদী জনতার মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা চৌহাট্টায় গণজাগরণ মঞ্চে ভাংচুর ও শহীদ মিনারের বেদীর পুষ্পস্তবক তছনছ করে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে পুলিশের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শহীদ মিনারের লোহার বেষ্টনীও ভেঙ্গে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় তারা চৌহাট্টায় ট্রাস্ট ব্যাংক অফিসে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় কয়েকশ' রাউন্ড গুলি ও টিয়ার সেল বর্ষণ করে পুলিশ। মিছিলকারীরা পুলিশের একটি ভ্যান ও ভাড়া করা একটি টেম্পু এবং দু'টি মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় রেডক্রিসেন্ট ব্ল¬াড ব্যাংকেও ভাংচুর চালানো হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

বিকালে শহীদ মিনারে হামলার প্রতিবাদে ছাত্রলীগের একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণকালে জামায়াতের মালিকানাধীন আল-হামরা মার্কেট, সুরমা টাওয়ার,তালতলা ইসলামী ব্যাংকে হামলা চালায় ও ভাংচুর করে। এ সময় সুরমা টাওয়ারের নিচে রাখা ৪টি মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সংঘর্ষ চলাকালে চৌহাট্টায় একটি দোকানে আশ্রয় নেয়া এনটিভির ক্যামেরাপার্সন আনিস রহমান, দিগন্ত টিভির ক্যামেরা পার্সন বদরুর রহমান বাবর এবং চ্যানেল এস ইউকে'র ক্যামেরাপার্সন আলাউদ্দিনকে পুলিশ বেধড়ক মারপিট করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিদিনের ফটো সাংবাদিক নাজমুল কবির পাভেল ও ফটো সাংবাদিক আব্দুল মজিদও আহত হয়েছেন। পুলিশ তার ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলে। নগরীতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।

ঝিনাইদহে সংঘর্ষে মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহে জুমার নামাজের পর সমমনা ১২টি ইসলামী দলের কর্মী-সমর্থকদের সাথে সরকার সমর্থকদের সংঘর্ষে আব্দুস সালাম (৩৫ ) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত ও দুই সাংবাদিকসহ প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত আব্দুস সালাম ঝিনাইদহের কালিকাপুর আলিয়া মাদ্রাসার আরবী শিক্ষক। তার বাড়ি রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলায়। পিতার নাম আব্দুল মজিদ।

ঝিনাইদহের অতিরক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান জানান, জুমার নামাজের পর ১২টি সমমনা ইসলামী দল সমর্থক ওলামা মাশায়েখরা শহরে মিছিল বের করে। এ সময় আগে থেকে অবস্থানরত লাঠিধারি যুবকদের সাথে শহরের নতুন হাটের রাস্তায় তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ১২ রাউণ্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

সংঘর্ষেকালে লাঠি পেটায় মারাত্মক আহত হন আব্দুস সালাম। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাশেদ আল মামুন তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহতদের সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর শহরে চরম উত্তেজনা ছুড়য়ে পড়ে। মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ২ জনকে আটক করেছে।

সংঘর্ষের সময় দৈনিক জনতার আজিজুর রহমান ও এনএবি'র সংবাদদাতা এমএ কবির আহত হন। দিগন্ত টেলিভিশনের সাংবাদিক আলাউদ্দিন আজাদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় মিছিল প্রতিরোধকারিরা।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান জানান, আওয়ামী লীগ বা এর কোন অঙ্গ সংগঠনের সাথে কারো কোন সংঘর্ষ হয়নি।

চট্টগ্রামে প্রেসক্লাবে হামলা ৩ সাংবাদিক আহত

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, দুপুরে নগরীতে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে সমমনা বিভিন্ন ইসলামী দলের সমাবেশ চলাকালে এবং মিছিলের সময় তাদের হামলায় ৩ সাংবাদিক আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে বিকালে গণজাগরণ মঞ্চের সাথে সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিক্ষুব্ধ কর্মী সমর্থকরা দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন, দৈনিক সংগ্রাম অফিসে ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

নগরীর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে সকাল থেকে নগরী ও তত্সংলগ্ন বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে ছাত্র-শিক্ষকরা জমায়েত হতে থাকে। জুমার নামাজের পর আন্দরকিল্লা মোড় থেকে মিছিল শুরুর পূর্বে ছবি তুলতে গেলে দৈনিক ইনকিলাবের ফটো সাংবাদিক কুতুব উদ্দিন চৌধুরীকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়া হয়। কুতুব উদ্দিন জানান, ইনকিলাব পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরও তাকে মারধর করা হয়। এ সময় মিছিলকারীদের হামলায় যুগান্তরের ফটো সাংবাদিক রাজেশ চক্রবর্তীও আহত হন। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে কিল ঘুষি মারা হয়। মারাত্মক আহত কুতুব উদ্দিন চৌধুরীকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জুমার নামাজের পর আন্দরকিল্লা মোড়সহ তত্সংলগ্ন এলাকায় কিছুক্ষণ সমাবেশ শেষে বিশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলকারীরা জামালখান এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের দেয়াল ও এলাকায় থাকা গণজাগরণ মঞ্চের ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, ভাংচুর ও ছিঁড়ে ফেলে। মিছিল থেকে প্রেসক্লাবে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাংচুর চালায়। প্রেসক্লাবের সম্মুখে ব্যানার, ফেস্টুন জড়ো করে অগ্নি সংযোগ করে। গণজাগরণে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহারের জন্য সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ গণশৌচাগারেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এখানে ছবি তুলতে গেলে মিছিল থেকে বাংলা ভিশনের ক্যামেরাম্যান পলাশকে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। একজন পুলিশ ইটের আঘাতে আহত হন। মিছিলটি পরবর্তীতে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। জমিয়তুল ফালাহ মাঠে ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের প্রধান মুফতি ইজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে সমাবেশ শেষে মিছিলকারীদের একটি অংশ জামালখান এলাকা অভিমুখে ফেয়ার পথে অপরাহ্নে প্রেসক্লাব সংলগ্ন খাস্তগীর মোড়ে গণজাগরণ মঞ্চ সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। এ সময় পুলিশ ফাঁকা গুলিবর্ষণ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে গণজাগরণ মঞ্চ সমর্থক নেতা-কর্মীরা প্রেসক্লাব এলাকায় সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এখান থেকে বিক্ষুব্ধ একটি অংশ লাঠিসোটা নিয়ে প্রথমে জামালখান এলাকায় দৈনিক সংগ্রাম অফিসে ঢুকে ভাংচুর চালায়। এরপর এর পাশের সানমার সিপ্রং গার্ডেন ভবনের তিন তলায় দিগন্ত টেলিভিশন অফিসে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধ লোকজন দিগন্ত টেলিভিশনের অফিসে থাকা ক্যামেরাসহ অন্যান্য মালামাল ও আসবাবপত্র নীচে ছুঁড়ে ফেলে এবং অগ্নিসংযোগ করে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ থাকলেও তাদের নিবৃত করতে পারেনি। বিক্ষুব্ধ লোকজন এরপর মিছিল সহকারে লাভলেইন মোড় সংলগ্ন মান্নান ভবনে আমার দেশ অফিসে হামলা চালায়। তারা কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে অফিস ভাংচুর চালায়।

খুলনায় সংঘর্ষ ভাংচুর আহত অর্ধশত

খুলনা অফিস জানায়, বিকালে নগরীর শিববাড়ি মোড়ের কেডিএ ভবনের সামনে পুলিশের সঙ্গে মুসল্লীদের ব্যাপক সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধি হয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪শ' থেকে ৫শ' রাউন্ড রাবার বুলেট ও অর্ধ শতাধিক টিয়ারশেল এবং গরম পানি ব্যবহার করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আব্দুল্লাহ আল মামুন, দিদারুল হক তামিম, উসমান আলী, নাজমুল হাসান ও সাইফুল ইসলাম নামে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

চাঁদপুরে প্রজন্ম মঞ্চ ভাংচুর

চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, প্রজন্ম মঞ্চ ভাংচুর করাকে কেন্দ্র করে মুসল্লীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র পরিণত হয় চাঁদপুর। পুলিশ সুপার মো. আমির জাফর জানান, তিন ঘন্টা স্থায়ী সংঘর্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ১৭৮ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৪৭ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করতে হয়। এতে ৮ পুলিশসহ ইসলামী দলগুলোর কমপক্ষে অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

হবিগঞ্জে পুলিশ-মুসল্লি সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জে পুলিশ-মুসল্লিদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ শতাধিক আহত হয়েছেন। এ সময় শায়েস্তাগঞ্জ জংশন পার্কিং এলাকায় গণজাগরণ মঞ্চ, ইসলামী ব্যাংকের বুথ ভাংচুর, আওয়ামী লীগ অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ৬১ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৯ রাউন্ড টিয়ার গ্যাস ছুঁড়েছে।

নোয়াখালীতে ব্যাপক ভাংচুর, সংঘর্ষ

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, জুমার নামাজের পর ইসলামী সমমনা দলগুলোর বিক্ষোভ চলাকালে জেলা শহর মাইজদীতে সিএনজি অটোরিকশা, বাস ও ট্রাকসহ ১২টি গাড়ি, ইউসিবিএল ব্যাংকের সাইনবোর্ড, কাঁচের জানালা ও দোকানপাট ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপে ৩ পুলিশসহ কমপক্ষে ১৫ জন পথচারী আহত হয়। এই ঘটনায় পুলিশ বিক্ষোভকারী ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

পাবনায় শিবির-পুলিশ সংঘর্ষ

পাবনা প্রতিনিধি জানান, জেলায় সমমনা ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও গণজাগরণ মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় তাত্ক্ষণিকভাবে ৪ জামায়াত-শিবির কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও ইসলামী ব্যাংক ভাঙচুর করেছে আ'লীগ।

আহত তিন পুলিশ সদস্য হলেন সদর থানার এসআই জিয়াউর রহমান, কনস্টেবল আলাউদ্দিন আলী, ডিবি পুলিশের কনস্টেবল আব্দুল হান্নান।

নাটোরে গণজাগরণ মঞ্চে হামলা

নাটোর প্রতিনিধি জানান, গোলাম আজমসহ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে নাটোরের কানাইখালীতে টাঙানো ব্যানার ফেষ্টুন ভাংচুর করেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। গতকাল জুমার নামাজের পর হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে বিভিন্ন মসজিদ থেকে একাধিক মিছিল বের হয়। মিছিলকারীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে গণজাগরণ মঞ্চে হামলা চালায়। এ সময় তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের ছবি সংবলিত ব্যানারও ছিঁড়ে ফেলে। নাটোর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ফেনীতে শহীদ মিনারে

হামলা, গাড়িতে আগুন

পরশুরাম সংবাদদাতা জানান, জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা শহরের ট্রাংক রোডস্থ মুক্তিযুদ্ধের নতুন প্রজন্মের 'গণজাগরণ মঞ্চে' অগ্নিসংযোগ এবং ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অমর একুশের পুষ্পস্তবক তছনছ করেছে। এছাড়া তারা নাস্তিকদের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। এসব ঘটনায় পুলিশ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া বিকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফাজিলপুর নামক স্থানে স্টার লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বিকালে শহরের কলেজ রোডে কিছু সংখ্যক বিক্ষুব্ধ লোক ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড কলেজ রোড শাখায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ব্যাংকের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে যায়। লতিফ টাওয়ারে ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডর এটিএম বুথেও হামলা চালায় তারা।

কুমিল্লায় জাগরণ মঞ্চ ভাংচুর

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, সমমনা ইসলামী দলের ব্যানারে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামীদলগুলো। জুমা'র নামাজের পর নগরীর বিভিন্ন এলাকার মসজিদ থেকে বের হয়ে মিছিল সহকারে তারা কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে মিলিত হয়। এসময় তারা কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরের 'জাগরণ মঞ্চ' ভাংচুর করে এবং ব্লগার রাজিবের সকল পোস্টার-ব্যানার নামিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকালে ছাত্রলীগ মিছিল বের করে। এসময় তারা কান্দিরপাড় জিলা স্কুল রোডস্থ ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

মৌলভীবাজারে ২১ জন আটক

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, জেলায় ধর্মপ্রাণ জনতা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। বিভিন্ন মসজিদ থেকে কয়েক হাজার মুসল্লি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জড়ো হন শহরের পশ্চিমবাজার চৌরাস্তায়। পরে সেখানে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল ও সমাবেশ শেষে ফেরার পথে পুলিশ ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে।

রাজশাহীতে পুলিশের ওপর হামলা

রাজশাহী অফিস জানায়, হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে মুসুল্লিদের মিছিল থেকে পুলিশের উপর হামলার পর ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও বোমাবাজির জবাবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শত শত রাউন্ড টিয়ার সেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। ফলে সাহেববাজার মণিচত্বর, মালোপাড়া, গণকপাড়া, কুমারপাড়া, সাগরপাড়ার একাংশ ও আলুপট্টি এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল ও হাতবোমা বিস্ফোরণ, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেটে পুলিশসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়।

সংঘর্ষের আগে জামায়াত-শিবির কর্মীরা মহানগরীর আলুপট্টির বঙ্গবন্ধু চত্বরে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে স্থাপিত গণজাগরণের 'একাত্তর মঞ্চ' ভাঙ্গচুর এবং রাজশাহী সিটি মেয়র এ. এইচ. এম খায়রুজ্জামান লিটনের গাড়িতে হামলা করে। এর পর পরই গণজাগরণ মঞ্চের সমর্থকরা আলুপট্টির ইসলামী ব্যাংকের শাখায় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে রাজশাহী সদর ফায়ার স্টেশন ও সিভিল ডিফেন্স অফিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।

চারঘাট (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার নন্দনগাছি বাজারে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়ায় উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে। এতে শহিদুল ইসলাম (২৩) ও নাজমুল হক (২৪) নামে চারঘাট মডেল থানার ২ কনস্টেবল আহত হন। পড়ে পুলিশ ও স্থানীয় জনতার তাড়া খেয়ে বিক্ষোভকারীরা পালিয়ে যায়।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, তৌহিদী জনতার ব্যানারে জুমার নামাজ শেষে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হলে পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ সময় ২৪ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৩ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এতে ১ জন গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জুমার নামাজ শেষে ইসলামী ঐক্য জোটের নেতৃত্বে মুসল্লিরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের চাষাড়া চেতনা মঞ্চে আগুন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে সদর উপজেলার ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের বিভিন্ন স্তরের ১৫ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে জিহাদ সম্পর্কিত কমপক্ষে আড়াইশ' বই।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, নাস্তিক-মুরতাদ ব্লগারদের বিচারের দাবিতে ইত্তেফাকুল উলামা জেলা শাখা বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। সমাবেশের আগে ময়মনসিংহের বড় মসজিদের জুমার নামাজের পর ইমাম সাহেব শাহবাগের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার সময় সাধারণ মুসল্লিরা এর প্রতিবাদ করলে উলামার নেতা-কর্মীরা জনৈক মুসল্লিকে মারধর করে।

গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার চৌগাছা জামে মসজিদে বিক্ষোভ মিছিল শুরুর আগেই পুলিশের বাধার মুখে পড়েন মুসল্লিরা। এ সময় পুলিশ ও মুসুল্লিদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে মুসল্লিদের উপর ২ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোঁড়ার পর মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, জেলা সদরসহ কয়েকটি উপজেলায় তৌহিদী জনতার ব্যানারে জঙ্গি মিছিল বের হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২২ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উলিপুর উপজেলায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ শেষে মুসুল্লিরা লাঠি নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৭ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোঁড়ে।

বরিশাল অফিস জানায়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তৈরি 'প্রজন্ম একাত্তর মঞ্চ' দখল করে সমাবেশ করেছে কয়েকটি ইসলামী দল। নগরীর বিভিন্ন মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে একযোগে সদর রোডে জড়ো হয়ে এসব ইসলামী দলের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ আন্দোলন থেকে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ এনে তা প্রত্যাহারের দাবিতে শ্লোগান দেয়। ব্লগারদের বিচার ও বক্তব্য প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে আজ শনিবার নগরীতে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল জিলানীকে সিরাজদিখান থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সে উপজেলার মালখানগর গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের পুত্র।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে কওমী ওলামা পরিষদ। মুসল্লি, ওলামা ও ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী জনতা এতে যোগ দেয়। কয়েকজন লাঠি নিয়ে মুসল্লিদের মিছিলে হামলা করে। চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিরোধী দলীয় নেত্রী সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারবর্জিত। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুলের এই অভিযোগ যৌক্তিক বলে মনে করেন?
4 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৯
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :