The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১১ ফাল্গুন ১৪১৯, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ধর্ম নিয়ে কাউকে খেলতে দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী | খুলনায় ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকের দুই শ্রমিক নিহত | কুমিল্লা, ফরিদপুর ও ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ | ইসলামী ১২ দল চট্টগ্রামে সোমবারের হরতাল প্রত্যাহার করেছে | চট্টগ্রাম তাণ্ডবে মামলা: ২৩ নামসহ সাড়ে তিন হাজার আসামি | আগারগাঁও ইসলামী ব্যাংকের বুথ ভাংচুর | নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় কার্য়ালয়ে হামলা ভাংচুর | ইসলামী দলগুলোর ডাকা হরতালে বিএনপির সমর্থন | ২৬ মার্চের আগেই জামায়াত নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরু হবে : আইনমন্ত্রী | রাতে মাঠে নামছে বিজিবি | আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে পাঁচ মামলা | পাবনায় পিকেটার-পুলিশ সংঘর্ষ, নিহত ২ | রবিবারের এসএসসি পরীক্ষা শুক্রবার ৯টায় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ২৬ ফেব্রুয়ারি

প্রজন্ম চত্বরে আবারো ক্ষোভেরআগুন জ্বালাল তরুণরা

আসিফুর রহমান সাগর ও মাহবুব রনি

প্রজন্ম চত্বরে আগুন জ্বালিয়ে আবারো পথে নেমে এসেছে শাহবাগ আন্দোলনের তরুণরা। অহিংস আন্দোলনের বিপরীতে জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা গণজাগরণ মঞ্চের তরুণদের আবারো প্রজন্ম চত্বরে আন্দোলনে নামতে বাধ্য করেছে। গতকাল শুক্রবার জামায়াত-শিবিরের সারাদেশব্যাপী হত্যা, গুলিবর্ষণ, ভাঙচুরের প্রতিবাদে তরুণরা আবারো আন্দোলনের পথ বেছে নিল। এর আগে টানা ১৭ দিন শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে শুক্রবার রাতেই ঘরে ফিরে গিয়েছিলেন গণজাগরণ মঞ্চকে ঘিরে জেগে ওঠা লাখো ছাত্র-জনতা। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণ, আক্রমণ এবং সারাদেশে অরাজকতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শাহবাগের পথ বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলনে নামে ছাত্র-জনতা।

সারাদেশে জামায়াত-শিবিবের হামলার খবর বিক্ষুব্ধ করে তোলে প্রজন্ম চত্বরে উপস্থিত তারুণ্যকে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। আন্দোলনকারীরা জানায়, তারা বাধ্য হয়েই আবার মূল চত্বরে অবস্থান নিয়েছে। তারা সংসদের চলতি অধিবেশনেই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে আইন পাসের দাবি জানায়।

দেশজুড়ে জামায়াত-শিবিরের সহিংসতার পেছনে আমার দেশ পত্রিকাকে চিহ্নিত করে এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে শাহবাগের এই আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ইমরান এইচ সরকার গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জাগরণ মঞ্চ থেকে বলেন, সারাদেশে হামলায় উস্কানি দিয়েছে জামায়াত-শিবিরের পত্রিকা আমার দেশ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করতে হবে। তা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়া হবে। ইমরান জানান, এখন শাহবাগ আন্দোলনের তরুণরা ২৪ ঘণ্টাই রাজপথে থাকবে।

'যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি না দিয়ে ঘরে ফিরে যাবো না', 'জামায়াত-শিবির বন্ধ করো তা না হলে ঘরে ফিরে যাবো না', 'তরুণদের শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শাহবাগ চত্বর। হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতে থাকে আবারো। ফেসবুকে রটে যায় 'শাহবাগে আসেন সবাই'। এই আহ্বানে জড়ো হতে থাকেন আগেরদিনই প্রজন্ম চত্বর ছেড়ে যাওয়া লাখো ছাত্র-জনতা। বিকালের দিকে শাহবাগে লোকজন কিছুটা কম থাকলেও সন্ধ্যার আগেই জনসমুদ্রে রূপ নেয় শাহবাগ। এ সময় জনতার স্রোত উত্তরে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যা-লয়ের মেইন গেট, দক্ষিণে চারুকলা, পূর্বে শিশু পার্ক ও পশ্চিমে আজিজ সুপার মার্কেট ছড়িয়ে পড়ে। চারদিক থেকেই আসতে শুরু করে বিক্ষুব্ধ জনতা। জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে রাস্তায় লাল কালিতে বিভিন্ন শ্লোগান লেখা হয়।

গতকাল শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে আলাদা হয়ে হঠাত্ করেই সাধারণ ছাত্র-জনতা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়। এ সময় সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে যুক্ত হয় হাজার হাজার পথ চলতি সাধারণ মানুষ। এ সময় শাহবাগ মোড়ে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন তরুণ ছাত্র-জনতা। এ সময় অনেকেই বলেন, আন্দোলনকে নমনীয় না করার পরামর্শ দিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু কিছু ছাত্র সংগঠনের দলীয় লেজুড়বৃত্তির কারণে এ আন্দোলনকে নমনীয় করা হয়েছিল। কিন্তু তা আর সম্ভব হবে না।

আন্দোলনে শরীক হওয়া মাফরুহা ইফফাত দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে আন্দোলন চলে না। যুদ্ধাপরাধীদের লালনকারী জামায়াত-শিবিরকে ছাড় দেয়ার কিছু নেই। সরকারকেও এ নিয়ে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। তরুণরা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবে না।

সাধারণ ছাত্রদের চাপে পড়ে সকল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এসে শাহবাগের গণজাগরণের মূলমঞ্চে এসে মিলিত হন।

গতকাল জুমার নামাজের পর কয়েকটি ইসলামী দল ও সংগঠনের মিছিল থেকে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম, পল্টন ও কাঁটাবন, মিরপুর, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। হামলা-সংঘর্ষ হয় চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয় স্থানীয় সংহতি মঞ্চ। সিলেটের শহীদ মিনারে আগুন দেয় মিছিলকারীরা। অনলাইন সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেলে এসব খবর পেয়ে বেলা তিনটার পর থেকে শাহবাগে জড়ো হতে শুরু করেন এ আন্দোলন ছেড়ে যাওয়া তরুণরা। তারা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে শ্লোগান দিতে থাকেন।

গণজাগরণ মঞ্চ ছাড়তে চায়নি একটি পক্ষ

গত বৃহস্পতিবার শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে মহাসমাবেশ থেকে রাজধানীসহ দেশের সকল জেলায় গণজাগরণ মঞ্চ ছড়িয়ে দেয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা ও প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগ মোড় থেকে মূল মঞ্চ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান ফটকে নিয়ে যান আন্দোলনের সংগঠকরা। তখন শাহবাগে মূলমঞ্চে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র এবং ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার ঘোষণা করেন—দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। তবে শাহবাগ মোড় ছেড়ে দিয়ে জাদুঘরের সামনে অবস্থান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। কিন্তু তখন ঐ ঘোষণার সাথে একাত্মতা পোষণ করেননি উপস্থিত বেশ কয়েকজন তরুণ ছাত্র-জনতা। জাদুঘরের সামনে মাইকসহ গণজাগরণ মঞ্চ সরে এলেও ৩০-৪০ জনের একটি গ্রুপ শাহবাগ মোড়ে বসে থাকে। সারারাত তারা বসে থাকে ও বিক্ষিপ্ত শ্লোগান দেয়। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ৫ জনের একটি গ্রুপকে কৌশলে শাহবাগ মোড় থেকে সরিয়ে আনে শাহবাগ থানা পুলিশ ও আন্দোলনের সংগঠকদের কয়েকজন। তাদের শাহবাগ থানার হেফাজতে রাখা হয়। পরে বিকালে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এদের মধ্যে তিনজন হলেন মিরপুর বাংলা কলেজের শুভ্রা, বিএফ শাহীন কলেজের যুবরাজ, একুশের উল্লাস নামক একটি সংগঠনের নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন। ব্লগারদের একটি গ্রুপও শাহবাগ মোড় দখল করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়।

এ পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল জুমার নামাজের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামী দলগুলোর নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশ-গণজাগরণ মঞ্চের জনতার সংঘর্ষের পর শাহবাগ এলাকায় জনতার ভিড় বাড়তে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান কয়েকজন ছাত্র, কয়েকজন ব্লগার ও সংস্কৃতি-সমাজকর্মী পৃথক বৈঠক করে জাদুঘরের সামনের সড়কে শ্লোগান দেন। তাদের জাদুঘরের মূল ফটকে চলমান গণজাগরণ মঞ্চের শ্লোগানে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হলেও তারা সাড়া দেয়নি। এরপর বিকাল ৫টা ২৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন ছাত্র এবং বামধারার কয়েকটি সংগঠনের জুনিয়র নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে শ্লোগান দেয়। পরে ৫টা ৫০ মিনিটে গণজাগরণের মূলমঞ্চও শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়। রাতভর তরুণরা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি, জামায়াত-শিবিরসহ ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধসহ ছয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ চলতে থাকে।

ফাঁসির গণদাবিতে গণস্বাক্ষর চলছে

জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ ছয় দফা দাবিতে চলমান গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি চলছে। দাবির সপক্ষে সংগৃহীত গণস্বাক্ষর জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর পেশ করা হবে আগামী সপ্তাহে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মিডিয়া সেলে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত শাহবাগে গণস্বাক্ষর করেন জনতা।

স্পিকার বরাবর গণস্বাক্ষর পত্রে বলা হয়, 'প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে উত্থাপিত ছয় দফা দাবির সঙ্গে আমি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে সংহতি প্রকাশ করছি। সকল যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাত্ মৃত্যুদণ্ডের রায় ও তা কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে কলংকমুক্ত করার যে দাবি এখান থেকে উচ্চারিত হয়েছে তা আমার প্রাণের দাবি। একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী ও দেশবিরোধী দল জামায়াতে ইসলাম ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবির সঙ্গে আমি কায়মনোবাক্যে একাত্মতা ঘোষণা করছি। অতএব আপনার কাছে একান্ত অনুরোধ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপ্রসূত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে আপনি কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।'

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিরোধী দলীয় নেত্রী সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারবর্জিত। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুলের এই অভিযোগ যৌক্তিক বলে মনে করেন?
3 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৯
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :