The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ১ মার্চ ২০১৩, ১৭ ফাল্গুন ১৪১৯, ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ কাল ঠাকুরগাঁও ও নোয়াখালীতে জামায়াতের হরতাল | মঙ্গলবার বিএনপি'র সকাল-সন্ধ্যা হরতাল | রাজবাড়ীতে ট্রাক চাপায় ৪ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত | নোয়াখালীতে জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ১৫ | গাইবান্ধায় জামায়াতের হামলায় দোকানির মৃত্যু, ১৪৪ ধারা জারি

ঢাকা ও কলকাতা

বাংলা ভাষার বইমেলা

খান মাহবুব

অমর একুশে গ্রন্থমেলার একটি দৃশ্য

একটা বইমেলাকে কেন্দ্র করে মেগাসিটিতে এত আলোড়ন হতে পারে-কলকাতা বইমেলা না দেখলে অনুমান করা সম্ভব নয়। কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার এ বছরের ৩৭তম পর্বের আয়োজন শহরের কেন্দ্র হতে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে মিলনমেলা মাঠে। কলকাতা শহরে প্রতিদিন জনতার ঢল নামে পার্কস্ট্রিট কিংবা ধর্মতলা থেকে মেলার মাঠ পর্যন্ত। জনতার সব জোয়ার যেন নদীর মোহনার মতো মেলার মাঠে মিলে যায়। মেলার প্রবেশমুখের সামনের প্রধান গেটটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের নামে ও আদলে, দেখে মনটা জুড়িয়ে গেল। বইমেলার মাঠে বিভিন্ন দিক থেকে প্রবেশের জন্য উপেন্দ্রকিশোর, সুকুমার রায়, যামিনী রায় নামের পাঁচটি বড় গেট আছে। এ ছাড়া কিছু ছোট ছোট পকেট গেটও রয়েছে। প্রধান প্রবেশদ্বার পেরোতেই সোজাসাপটা বড় রাস্তা, পাশাপাশি বাই-লেন। বাই-লেনের পাশে সুবিন্যস্ত স্টল, প্যাভেলিয়ান ইত্যাদি। মেলার মাঠের মূল রাস্তার পাশে ঢাকার বলাকা সিনেমা হলের চেয়ে বড় আয়তনের সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ ও সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ হল। হলের ভেতরে প্রধানত বিদেশি প্রকাশনীর স্টল ও ভারতে যেসব প্রকাশনী প্রধানত ইংরেজি ভাষায় বই প্রকাশ করে তাদের স্টল আছে। আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার এ মাঠটি নানা ধরনের মেলার আয়োজন হয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে শাড়ি থেকে শুরু করে বইয়ের পসরা এ মাঠে বসে। ফলে মাঠটিতে মেলার সমস্ত সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। নান্দনিক পানির ফোয়ারা, পাকা রাস্তা, রোদ বৃষ্টি থেকে রক্ষার শেড, ওয়াশ রুম, টাকা খুচরা করার মেশিন, এমনকি আপনার ক্রয়কৃত বই যদি সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী রাখতে পলিথিন দিয়ে মোড়াতে চান, তারও ব্যবস্থা আছে এ মেলাতে।

মেলাতে আসা পাঠকদের জন্য রয়েছে সবুজ ঘাসের বড় বড় চত্বর। এ সব চত্বরে ক্লান্ত পাঠকদের দল বেঁধে গল্প করার চিত্র সব সময়ই দেখা যায়। মেলার মাঠে স্বল্পমূল্যের উন্মুক্ত ফুড কর্নারের ব্যবস্থা আছে। মেলা উপলক্ষে সমরেশ মজুমদারের সম্পাদনায় বেরোচ্ছে 'বইমেলা প্রতিদিন পত্রিকা'।

নিরাপত্তাকর্মীরা মেলার মাঠের নির্দিষ্ট ওয়াচ টাওয়ারে অবস্থান করে সুবিধাজনক জায়গা থেকে পর্যবেক্ষণ করে। যা মাঠে অবস্থান করার চেয়ে অধিক কার্যকর।

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার ছোট-বড় প্রতিটি স্টল উন্মুক্ত। আমাদের দেশের বইমেলার স্টলের মতো এখানে স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে বই দেখতে হয় না। স্টলের ভেতর ঢুকে পাঠক আয়েস করে নেড়েচেড়ে বই দেখতে পারেন।

আমাদের বাংলা একাডেমীর বইমেলার মাঠ মূলত একাডেমীর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। ইচ্ছে করলেও একটা আধুনিক মেলার মাঠের উপযোগী করে তুলতে নানা প্রতিকূলতা রয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার মাঠটি একটি আধুনিক মেলার মাঠ। আগত মানুষের গমনাগমন, বৃষ্টির পানির নিষ্কাশন, বিদ্যুত্ সঞ্চালন, ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ, বাতাসের প্রবাহ ইত্যাদি নানা অনুষঙ্গ মাথায় রেখে এ মাঠকে গড়ে তোলা হয়েছে। আর বিভিন্ন দেশের বইয়ের স্টল থাকায় ভারতের মান-মর্যাদার বিষয়টি মাথায় রেখে পরিকল্পনা এই বইমেলার। মেলায় আগতদের গাড়ি রাখার জন্য আমাদের অমর একুশে গ্রন্থমেলার মাঠের চেয়ে বড় আকারের একটা মাঠ আছে।

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় শুধু বই নয়, বইকে কেন্দ্র করে যা যা অনুসঙ্গ সংযোগ করা যায়, তার সবই আছে। বইয়ের পাশাপাশি মেলার বিক্রি ও প্রদর্শন হচ্ছে—পোস্টার, মুখোশ আঁকা আলপনা, হাতের কাজের ডিজাইন ইত্যাদি।

বাংলাদেশ এ বছর থিমকান্ট্রি হিসেবে ঘোষিত হওয়ায় বাংলাদেশ প্যাভেলিয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ৫৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনের আদলে গড়া পাঁচ হাজার বর্গফুট আয়তনের বাংলাদেশ প্যাভেলিয়নে মোট ৩৫টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের স্টল ছিল। এর মধ্যে নয়টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের।

সাংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং কলকাতার বাংলাদেশের উপ-দূতাবাস সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। বিশেষত, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সুযোগ্য সচিব সুরাইয়া বেগম, অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব মোশারফ হোসেন, উপসচিব রওশন আরা বেগমের দিগিনর্দেশনায় কলকাতার উপ-হাই কমিশনার আবিদা সুলতানা গ্রন্থকেন্দ্রের সচিব সোহরাব হোসেন ও উপ পরিচালক মানিক মাহমুদ নিরলস কাজ করেছেন।

মেলায় অংশগ্রহণকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক মাসের অস্থায়ী ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করেছে কলকাতা পৌর সংস্থা। অনেক সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কলকাতা বইমেলায় অংশগ্রহণের একটা অসুবিধা হচ্ছে কলকাতা বইমেলার বিক্রিত বইয়ের টাকা ও অবিক্রিত বই দেশে আনতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পোহাতে হয়। আর বই পরিবহনের ব্যয়ও অধিক, এ কারণে যথেষ্ট বই নেয়ওা যায় না। চাহিদার বইগুলো মেলার শুরুর কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। বাংলা একাডেমীর অভিধানগুলোর প্রচুর চাহিদা থাকলেও ওজনের কারণে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেলায় নেওয়া সম্ভব হয়নি হয়তোবা।

এ বছরের ১৬ দিনের বইমেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বিশেষ সম্মানীয় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশিষ্ট সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ বিশিষ্টজনেরা। উদ্বোধন পর্বে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও লালন ফকিরের গান পরিবেশন করা হয়। পরিবেশিত হয় বইমেলার থিম সং—

'বই ডাকছে বই/ পাতায় পাতায় অনেক কথা/ শুধু তোমার আমার।/ বই ডাকছে বই/ নতুন গন্ধে আঁকা/ চলো হারিয়ে যাই/ বইয়ের মাঝে...'

বইমেলা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আলোচনা ও প্রবন্ধের বিষয়ের মধ্যে ছিল 'শামসুদ্দীন আবুল কালাম বাংলা এপিক উপন্যাসের উত্তর সাধক', 'সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ্ গ্রাম-জীবনভিত্তিক উপন্যাসের নব্য আধুনিকতার রূপকার', 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান', 'সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ' ইত্যাদি। প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশের হাসান আজিজুল হক, আসাদ চৌধুরী, শামসুজ্জামান খান, বেলাল চৌধুরী, রবিউল হুসাইন, গোলাম মুস্তফা, সৈয়দ আবুল মকসুদ, আবুল আহসান চৌধুরী, বেবী মওদুদ এমপি, রামেন্দু মজুমদার, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, মোস্তফা জব্বার, মফিদুল হক, ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক প্রমুখ। বিশেষত, শামসুজ্জামান খানের প্রবন্ধ অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও শেখ মুজিবুর রহমান গভীরতা, তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনা ও বিশ্লেষণ পশ্চিম বাংলার সুধীমহলে সমাদৃত হয়েছে।

কলকাতা বই মেলাতে বিচিত্র সব বিষয়য়ের সঙ্গে পরিচয় হলো। এখানে দেখা গেল ব্যানারে লেখা, 'বইমেলা-সইমেলা'। কৌতূহল নিয়ে ব্যানারের পাশে বসা মহিলাদের জিজ্ঞাসা করে জানা গেল, মেলায় আসা বান্ধবীরা প্রতিদিন এখানে একত্র হয়, তাই এই স্থানের নাম 'বইমেলা-সইমেলা'। এ মেলায় বাচ্চাদের সঙ্গে পাপেটের মজাদারও শিক্ষণীয় বিষয়ের শো করা হয়। এই মেলার আয়োজনে চিন্তার ক্যানভাস বিস্তৃত। যা কিনা কাগজে নয় বরং একটি বৃহত্ আঙ্গিকের বইমেলা। মেলার ভেতর ছোট ছোট ঘরে লেখা আছে 'বই চাই বই কই?'-এসব ঘর থেকে আগত পাঠকদের বিভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তথ্যকেন্দ্র ও স্টল খোঁজার জন্য মোড়ে মোড়ে আছে সহজ দিগিনর্দেশনা ম্যাপ।

মেলার বিষয়টি সবচেয়ে অভিভূত করেছে-সেটি হচ্ছে কলকাতা পুলিশের স্বপ্রণোদিত উদ্যোগ, মেলায় আগতদের জন্য বিনা মূল্যে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। মেলার বেশ কয়েক জায়গায় ড্রামে ড্রামে ভর্তি পানির প্যাকেট। তৃষ্ণার্তদের মন জুড়িয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা। আমাদের অমর একুশে বইমেলায় পুলিশ বিভাগ তাদের স্টলে কর্তাব্যক্তিদের বই বিক্রিতে মশগুল থাকার পাশাপাশি এ রকম দু-একটি শুভ উদ্যোগ নিলে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।

বইমেলা নিয়ে কথা হল মেলার অন্যতম আয়োজক তাপস সাহার সঙ্গে। তিনি আয়োজক প্রতিষ্ঠান পাবলিশার্স গিল্ডের বুক প্রমোশনের বিষয় দেখভাল করেন। বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ থেকে ৪৭-এর দেশভাগে কলকাতায় পাড়ি জমানো ভদ্রলোকের সঙ্গে দু-দেশের প্রকাশনা, যোগাযোগ-বিশেষত ভারতে বাংলাদেশের বইয়ের বাজার বিস্তৃতি নিয়ে আলাপ হলো। তার সঙ্গে পাবলিশার্স গিল্ডের অন্যান্য নেতারা আলোচনায় অংশ নিলেন। আলোচনা পর্বে বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি আলমগীর সিকদার লোটন থাকায় আলোচনাটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল। আলোচনা হলো মেলার মাঠে বঙ্গীয় পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতিরকর্তাদের সাথেও। পাবলিশার্স গিল্ডের নেতৃবৃন্দ জানালেন, ৩৭তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় কমবেশি ছয়শটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মেলায় প্রতিটি একশ বর্গফুটের ইউনিটের ভাড়া নির্ধারিত আছে তিন হাজার টাকা। মেলায় দশ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন এই কমবেশি ১৬ লক্ষ লোকের আগমন হয়। মেলার বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্য বিক্রি সর্ম্পকে পাবলিশার্স গিল্ডের কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্য—বইসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে তুলে ধরা হয়েছে কার্যত বইয়ের পরিচিতি বিস্তৃত করার জন্য। পাঠকদের দোরগোড়ায় বই নিয়ে যেতে তাঁরা কাজ করছেন বিনিদ্র। আয়োজকরা জানালেন, তাঁদের আরও বড় মাঠ চাই মেলার জন্য। যে মেলায় একবার চক্কর দিতেই ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা-আয়োজকেরা নাকি আরও বড় মাঠ চান। গত পাঁচ বছর আগে এই মেলা কলকাতা গড়ের মাঠে হতো। এই মাঠ তার চেয়ে বড়। এখন তাঁদের মেলার ত্রুমবর্ধমান বিস্তারে এ মাঠ মেলাকে ধারণ করতে পারছে না। তাঁদের বক্তব্য, মেলায় পাঠকদের সমস্ত রসদের ব্যবস্থা করা গেলে মাঠের অবস্থান বড় বিষয় নয়। তার প্রমাণ তাঁরা দিয়েছেন কলকাতা শহরকেন্দ্র থেকে দূরে ইস্টার্ন মেট্রোপলিট্রন বাইপাস-সংলগ্ন মিলনমেলার মাঠে বইমেলা আয়োজন করে। এ মাঠের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা ভাড়া দিতে হয় সরকারকে। কর্তৃপক্ষ আরও ভাড়া গুনতে রাজি, যদি আরও বড় মাঠ পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক কলকাতা বই মেলায় দেশে নতুন লেখক তৈরিতে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে দুশ লিটল ম্যাগাজিনকে বিনা ভাড়ায় স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগে বইমেলার প্রবেশমূল্য থাকলেও দু-বছর ধরে তা তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তাবিষয়ক সহযোগিতা ছাড়া পুরো আয়োজনের দায়িত্ব পাবলিশার্স গিল্ডের ঘাড়ে। গিল্ডের সাংগঠনিক শক্তি, নিয়ম-নিষ্ঠা তাঁদের এ জায়গায় নিয়ে এসেছে।

ভারত আজ তথ্যের অবাধ প্রবাহ, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করে বিশ্বের বিশাল গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের পথে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বুনিয়াদ সুদৃঢ় করতে তাদের প্রতিযোগিতা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো দেশের সঙ্গে নয়। তাদের কল্পলোকে বিরাজমান সমৃদ্ধ চীন। বইয়ের বাজারেও তারা চীনকে আদর্শ মান্য করে এগোচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে চীন সাতশ কোটির বেশি কপি বই প্রকাশ করে। এর মধ্যে দশ লক্ষের ওপরে বিক্রিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় একশটি।

সবকিছুর পরও কলকাতা বইমেলা আমাদের অমর একুশে গ্রন্থমেলার মতো কোনো জাতিসত্তার চেতনার ভেতর থেকে অঙ্কুরিত হয়নি। আমাদের মেলা যেমন আমাদের বাঙালিয়ানাকে প্রতিনিধিত্ব করে, তেমনটা কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা নয়। কলকাতা বইমেলা একটি বইয়ের বাণিজ্য মেলা, কলকাতা বইমেলা বিভিন্ন ভাষা ও জাতিগোষ্ঠীর বইমেলা-যাতে একটা জাতিক বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা ও মননের চিত্র না হয়ে বহুজাতিক চিন্তার প্রকাশ হয়। কলকাতা বইমেলার আয়োজকদের বক্তব্য-ভাষা, সাহিত্যের চর্চা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক জনগোষ্ঠীর বিষয় নয়। এটি একটি বৈশ্বিক ব্যাপার।

কলকাতা বইমেলার অনুকরণে বা অনুসরণে নয়-আমাদের বইমেলার বিস্তারের বীজের অঙ্কুুর আমাদের মতো হওয়া উচিত। সরকারের কল্যাণনিষ্ঠ মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে বইমেলার আয়োজনকে বিস্তৃত ও সুবিন্যস্ত করা যায়। অমর একুশে গ্রন্থমেলার বিস্তার বাংলা একাডেমীর ক্ষুদ্র পরিসরের মাঠ পেরিয়ে সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল মাঠে সমপ্রসারিত হলে শুধু মাঠই প্রশস্ত হবে না; এর সঙ্গে প্রশস্ত হবে দৃষ্টির ও আমাদের কৃষ্টি—যা আমাদের আরাধ্য।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
তত্ত্বাবধায়ক আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে সেনাবাহিনীর একাংশ। টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনের এই অভিযোগ যৌক্তিক বলে মনে করেন?
6 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৮
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৪
এশা৬:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :