The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ০৩ মার্চ ২০১৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪২০, ০১ জমা. আউয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ প্রাণনাশের হুমকিতেও লাভ হবে না: রিজভী | এশিয়া কাপ: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ১২৯ রানের জয় পেল শ্রীলঙ্কা | পাকিস্তানে আদালতে হামলা, বিচারকসহ নিহত ১১

ব্র্যাক ব্যাংকের অবৈধ চার্জ

গ্রাহকদের টাকা ফেরতের নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

রেজাউল হক কৌশিক

ব্র্যাক ব্যাংককে গ্রাহকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে আদায় করা চার্জ ফেরতের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি গ্রাহকদের থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ব্যাংকটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে এ তথ্য বের হওয়ার পর কেন্দ ীয় ব্যাংক ওই ব্যাংকের প্রতি এ নির্দেশনা দেয়। কেন্দ ীয় ব্যাংক বলছে, শুধু গত ডিসেম্বরেই 'ম্যানেজমেন্ট ফি'-এর নামে ব্যাংকের এক শাখার গ্রাহকদের থেকে দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। নতুন নামে এ ধরনের ফি দেশের অন্যকোন ব্যাংকে নেয়া হয় না।

অন্যদিকে অবৈধভাবে ডকুমেন্ট হ্যান্ডলিং চার্জ আদায় এবং রফতানির মূল্য ফেরত আনার বিষয়ে গাফিলতি করেছে ব্যাংকটি। এ ধরনের অযৌক্তিক ও অঘোষিত চার্জ আদায় ও ব্যাংকের গাফিলতিতে দেশের পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। 'ম্যানেজমেন্ট ফি' নামে আদায় করা ওই টাকা সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে ফেরত দিতে এবং এসব টাকা ছাড়াও 'ম্যানেজমেন্ট ফি'-এর নামে আরো কি পরিমাণ টাকা আদায় করা হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠি দিয়েছে ওই ব্যাংককে। আগামী ১০ তারিখের মধ্যে চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের গুলশান শাখায় কেবল ডিসেম্বরেই ম্যানেজমেন্ট ফি'র নামে দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে, যা এলসি (ঋণপত্র) কমিশন খাতে দেখানো হয়েছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্র্যাক ব্যাংকের দেয়া রিপোর্টে 'সিডিউল অব চার্জেসে'র তালিকায় এ নামে কোন ফি-এর উল্লেখ নেই। আবার কোন কোন গ্রাহকের কাছ থেকে এ টাকা আদায় করা হয়েছে সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য-উপাত্ত দিতে পারেনি ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকদল বলছে, এ ধরনের অযৌক্তিক ও অঘোষিত চার্জ আদায় করে ব্যাংকের আয় বাড়ানো হচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। তাতে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় দেশীয় পণ্য টিকতে পারছে না অন্যদিকে দেশের জনসাধারণের জীবনযাত্রার উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। জনস্বার্থবিরোধী চার্জ আদায়ের ফলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে, ব্র্যাক ব্যাংকের একই শাখায় আয় বিবরণীতে দেখানো হয়েছে 'ডকুমেন্ট হ্যান্ডলিং চার্জ' বাবদ ৪১ লাখ ৭২ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। ব্যাংকের আমানতকারী, বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ব্যাংকের চার্জ যৌক্তিকীকরণ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার রয়েছে। ঘোষিত বা প্রকাশিত তালিকার বাইরে কোন ধরনের ফি, চার্জ বা কমিশন আদায় না করার জন্য সার্কুলারে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। তবে সে নিষেধাজ্ঞার উপর গুরুত্বারোপ না করেই এ ধরনের চার্জ আদায় করছে ব্যাংকটি।

একইভাবে ডিসেম্বরশেষে ব্র্যাক ব্যাংকের ওই শাখায় মেয়াদোত্তীর্ণ দেড় কোটি টাকা সমমূল্যের ১০৩টি রফতানি বিল পাওয়া গেছে। ব্র্যাক ব্যাংক বলছে, যুক্তরাজ্য, ইতালীসহ বিভিন্ন দেশে ২০০৩- ২০০৮ সালের বিভিন্ন সময় কনসাইনমেন্ট ভিত্তিতে সব্জি রফতানি করা হয়। এসব রফতানি ডকুমেন্ট সরাসরি আমদানিকারকের কাছে পাঠানোর নিয়ম থাকলেও তা পাঠানো হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে ব্যাংকে কোন তথ্য নেই। আবার আমদানি ও রফতানিকারকের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিরও কোন কপি দেখাতে পারেনি ব্যাংক। অন্যদিকে রফতানির মূল্য না পাওয়া বিষয়ে মেসার্স ব্র্যাক ২০০৯ সালের মার্চে জানায়, পণ্যগুলো পচা অবস্থায় আমদানিকারকের নিকট পৌঁছেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসার্স ব্র্যাকের এ বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ পণ্য উড়োজাহাজে পাঠানো হয়। এছাড়া এ ঘটনায় ব্র্যাক ব্যাংক আমদানিকারককে শুধুমাত্র উকিল নোটিস পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। এতে ওই ব্যাংকের গাফিলতিই প্রমাণ হয় বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগ। চিঠিতে এলসি কমিশনের নামে ম্যানেজমেন্ট ফি'র দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ টাকার বাইরে অযৌক্তিক ও অঘোষিতভাবে আর কত টাকা নেয়া হয়েছে তাও জানাতে বলা হয়েছে। হ্যান্ডলিং চার্জ বাবদ আদায়ের টাকাও ফেরত দিতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবং এসব টাকা গ্রাহকওয়ারি বিবরণও চাওয়া হয়েছে। এসব অবৈধ টাকা আদায়ের বিষয়ে ব্যাংকের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে। গত ডিসেম্বরে এ ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কেন্দ ীয় ব্যাংক।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, 'এখন আমরা অনেক সুসংগঠিত। আমাদের পতন ঘটবে না।' আপনি কি তার সাথে একমত?
7 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ১১
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৮
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৩
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :