The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ০৩ মার্চ ২০১৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪২০, ০১ জমা. আউয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ প্রাণনাশের হুমকিতেও লাভ হবে না: রিজভী | এশিয়া কাপ: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ১২৯ রানের জয় পেল শ্রীলঙ্কা | পাকিস্তানে আদালতে হামলা, বিচারকসহ নিহত ১১

রাজধানী হইতে গার্মেন্টস শিল্প স্থানান্তর

রাজধানী ঢাকা হইতে গার্মেন্টস কারখানাগুলি অন্যত্র সরাইয়া নেওয়ার আলোচনা দীর্ঘ এক দশক ধরিয়া চলিয়া আসিতেছে। শ্রমঘন শিল্প হওয়ার কারণে ঢাকা শহরের ওপর গার্মেন্টস কারখানাগুলি নানা মাত্রিক চাপ সৃষ্টি করিতেছে। সৃষ্টি করিতেছে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যাও। অনেকে মনে করেন, রাজধানীর গার্মেন্টস কারখানাগুলি অন্যত্র সরাইয়া নেওয়া হইলে ঢাকা শহরের যানজট কমিয়া যাইবে বহুলাংশে। নগরবাসীর জীবনে ফিরিয়া আসিবে স্বস্তি ও শান্তি। ঢাকায় অবস্থিত অনেক গার্মেন্টস কারখানার ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ। অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা সাংবাত্সরিক লাগিয়াই আছে। বিশেষত তাজরিন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন ও গত বত্সর রানা প্লাজা ধসিয়া পড়িয়া স্মরণাতীতকালের এক হাজার ১২৭ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু সারাবিশ্বেই আলোড়ন সৃষ্টি করে। ইহাতে কারখানা ভবনগুলিকে ত্রুটিমুক্ত করা, যথাসম্ভব ঢাকার বাহিরে স্থানান্তর, পরিদর্শক নিয়োগ, ট্রেড ইউনিয়ন চালু এবং শ্রমিক অসন্তোষ দূরীকরণে কর্মপরিবেশ ও তাহাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের দাবি জোরালো হয়। বিশেষত ওয়ালমার্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও মহলের চাপে শেষপর্যন্ত সরকারেরও টনক নড়ে। ফলে ঢাকা হইতে ৩৭ কিলোমিটার দূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলাধীন বাউনিয়া এলাকায় উন্নত পরিবেশে একটি গার্মেন্টস শিল্পপার্ক বা পল্লী প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ইহার পাশাপাশি বেশ কতিপয় উদ্যোক্তা ইতোমধ্যেই তাহাদের কারখানা রাজধানী হইতে দূরে সরাইয়া নিয়াছেন। বিশেষ করিয়া স্যুয়েটার খাতের উদ্যোক্তারা এক্ষেত্রে পালন করিতেছেন অগ্রণী ভূমিকা।

রাজধানী হইতে অনেক গার্মেন্টস কারখানা মুন্সিগঞ্জে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলিলেও এ ব্যাপারে এখনও কোন কোন গার্মেন্টস মালিকের অনীহা আছে বলিয়া জানা যায়। এ সম্পর্কিত ইত্তেফাকের এক খবরে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতির বরাত দিয়া বলা হইয়াছে যে, তাহারা কেহ রাজধানীতে থাকিতে চাহেন না। সরকারি সহায়তা পাইলে উদ্যোক্তারা কারখানা সরাইয়া নিবেন। তাহারা এইজন্য গার্মেন্টস পল্লীর জমির দাম কমানো ও কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়ার দাবি জানাইয়াছেন। তাহাদের মতে, অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পক্ষে সরকার নির্ধারিত দাম দিয়া জমি কেনা অসম্ভব। যদিও তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকগণ শুল্ক সুবিধাসহ নানা প্রণোদনা পাইতেছেন, তথাপি তাহাদের এখনকার দাবিও বিবেচনা করা যাইতে পারে। উল্লেখ্য, তিন বত্সর মেয়াদি গার্মেন্টস পল্লী প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা আগামী ২০১৬ সালে। ৫৩২ একর জমির ওপর এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হইতেছে। তন্মধ্যে ৩০ শতাংশ জমি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অবশিষ্ট জমি ফ্যাক্টরি নির্মাণের জন্য ব্যবহূত হইবে। এখানে এক, তিন ও পাঁচ বিঘা আকারে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হইতেছে। প্রতি বিঘা জমির দাম ধরা হইয়াছে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। প্লট প্রদানে আশুলিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ ও নন-কমপ্লায়েন্ট ফ্যাক্টরিগুলিকে প্রাধান্য দেওয়া হইতেছে বলিয়া জানা যায়। এই শিল্পপার্কে পাওয়ার স্টেশন, ফায়ার ব্রিগেড, চাইল্ড কেয়ার, পুলিশ স্টেশন, ব্যাংক, নদীবন্দর, পাম্প হাউজ, সলিড ওয়াসটেজ পাম্প, সিইটিপি (সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) ও ডাম্পিং ইয়ার্ডের সুযোগ-সুবিধা থাকিবে। এই প্রকল্পে ব্যয় হইবে প্রায় ১০০ বিলিয়ন টাকা।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আজ ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হইয়াছে। এক্ষেত্রে বিশ্বে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। আমাদের দেশে এই শিল্পের ভবিষ্যত্ আরও সম্ভাবনাময়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সেখানকার নাগরিকদের জীবন যাত্রার মান যতই বাড়িবে, ততই অনেক অর্ডার আমাদের দেশে আসার সম্ভাবনা তৈরি হইবে। এইভাবে বাংলাদেশ একদিন তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে এক নম্বরে উঠিয়া আসিতে পারে। এইজন্য এই খাতের উত্তরোত্তর উন্নয়নে আমাদের আরও সচেষ্ট থাকিতে হইবে। কর্মপরিবেশ ও আমাদের শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়া আন্তর্জাতিক মহলে যেসব অভিযোগ আছে, ক্রমান্বয়ে তাহার সমাধান করিতে হইবে। জানা মতে, গার্মেন্টস পল্লী বাস্তবায়নের মাধ্যমে চার শতাধিক কারখানা স্থানান্তরিত হইতে পারে। অথচ ঢাকায় গার্মেন্টস কারখানা রহিয়াছে তাহার চাইতে কয়েকগুণ বেশি। অর্থাত্ ইহার মাধ্যমে আপাতত সমস্যার আংশিক সমাধান হইবে। তবে ইহার পাশাপাশি এখন হইতে ঢাকা শহরে নূতন করিয়া কোন গার্মেন্টস কারখানা গড়িয়া তোলার ক্ষেত্রে নিরুত্সাহিত করিতে হইবে। যাহা হউক, রাজধানী ঢাকা হইতে গার্মেন্টস শিল্প স্থানান্তর ও মুন্সিগঞ্জে গার্মেন্টস পল্লী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। একইসঙ্গে সেইখানে শ্রমিকদের আবাসনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও থাকা দরকার বলিয়া আমরা মনে করি।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, 'এখন আমরা অনেক সুসংগঠিত। আমাদের পতন ঘটবে না।' আপনি কি তার সাথে একমত?
2 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ৩
ফজর৪:০৬
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪২
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৩
সূর্যোদয় - ৫:২৯সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :