The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ০৩ মার্চ ২০১৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪২০, ০১ জমা. আউয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ প্রাণনাশের হুমকিতেও লাভ হবে না: রিজভী | এশিয়া কাপ: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ১২৯ রানের জয় পেল শ্রীলঙ্কা | পাকিস্তানে আদালতে হামলা, বিচারকসহ নিহত ১১

একজন নাট্যযোদ্ধা

এ প্রজন্মের মেধা এবং সৃষ্টিশীল চিন্তার সমন্বয়ে নাটকের প্রদর্শনী আর মহড়াতে দারুণ সরব আমাদের নাট্যাঙ্গন। নাট্যাঙ্গনকে যে কজন মানুষ জাগিয়ে রেখেছিল তাদের মধ্যে অন্যতম এ প্রজন্মের মেধাবীজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফর্মেন্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী। গত বছরের প্রায় পুরোটা জুড়েই দেশে ও বিদেশে নাট্য কর্মশালা পরিচালনা, নাটক নির্দেশনা, মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন তিনি। তার এ বর্ণময় নাট্যকর্মের জন্য অর্জন করেছেন নাট্যধারা প্রবর্তিত তনুশ্রী পদক। প্রজন্মের সৃষ্টিশীল মানুষটিকে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু

২০১৩ সালে তার নির্দেশিত উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের 'ম্যাকবেথ' ও সেলিম আল দীনের 'চাকা' নাটক দুটি দারুণ সাড়া জাগিয়েছে। নাট্য সমালোচকদের অনেকেই বছরের সেরা নাট্য প্রযোজনা হিসেবে 'চাকা' নাটকটিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এছাড়াও তার নির্দেশনায় 'মহাজনের নাও', 'লাল জমিন', 'জ্যোতিসংহিতা' নাটকগুলোর প্রদর্শনী বছরজুড়ে দর্শকদের চাহিদার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এ নাটকগুলোর প্রায় ৫২টি প্রদর্শনী হয়েছে। এ বছরই সুদীপ চক্রবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, যুক্তরাজ্যের তিনটি নাট্যদলে এবং দেশের ১৫টি নাট্যদল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাট্য কর্মশালা পরিচালনা করেন। তার এ বর্ণময় নাট্যকর্মের জন্য অর্জন করেছেন নাট্যধারা প্রবর্তিত তনুশ্রী পদক। এ ছাড়া 'কোকিলারা', 'ফণা', 'ইমপর্টেন্ট অব বিং আরনেস', 'বিভাজন', 'পাইতাল', 'তিতুমীর আসে'সহ আরও ডজনখানেক মঞ্চ নাটকের মঞ্চ সজ্জার কথা এলেই যার নামটি আগে চলে আসে তিনি হলেন সুদীপ চক্রবর্তী। পেশাগত জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেও এ কাজটির সাথে তিনি জড়িয়ে আছেন কলেজ জীবন থেকেই। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াকালীন সময়ে ১৯৯৬ সালে সিলেটের শাখা বরাত নামে একটি নাট্য সংগঠনের সাথে কাজ করার মাধ্যমে মঞ্চাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে সেটে কাজ করার মধ্য দিয়েই এ অঙ্গনে হাতেখড়ি হয় তার। কিন্তু এর কিছুদিন বাদেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুবাদে তাকে ঢাকা চলে আসতে হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন এই ক্ষেত্রে কাজের জন্য। যার ফলে ২০০৩ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবির চৌধুরীর অনুবাদে এবং ড. ইসরাফিল শাহীনের নির্দেশনায় পেশাগতভাবে প্রথম সেট ডিজাইনার হিসেবে নিজের নামটি লেখান সুদীপ চক্রবর্তী। এরপর ২০০৪ সালে তিনি 'ওয়েটিং ফর গডো' নাটকের সেট ডিজাইন ও একই সাথে নির্দেশনার কাজটি করেন। আর এই দুটি নাটকই ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রযোজনায় করা। এরপর নিয়মিতভাবেই তাকে মঞ্চ ডিজাইনে দেখা যায়। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১৮ থেকে ১৯টির মতো নাটকের কাজ করেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, 'আমি কখনোই নিজেকে এখানে নিয়ে আসব ভাবিনি। কিন্তু যেহেতু এই বিষয়টা নিয়ে আমি পড়ালেখা করেছি তাই আমি মনে করেছি, আমি যদি এ জায়গাটায় কাজ করি তাহলে আমি অনেক কিছু দিতে পারব। সেজন্যই এ পেশাতে আসা হয় আমার। কারণ দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হলে আগে বেসিক জ্ঞানটুকু অর্জন করতে হবে।' এ পেশাতে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমার মা আমাকে সবসময় এ কাজে উত্সাহ দিতেন। মা গান করতেন। বাবাও গান অসম্ভব ভালোবাসতেন। সেজন্য তারাও চাইতেন তাদের ছেলে সংস্কৃতিবিষয়ক কিছু করুক।' আমাদের দেশে এখনও এই অঙ্গনে তেমনভাবে ছেলেমেয়েরা আসছে না, যতটা আসা দরকার ছিল—এ নিয়ে মন্তব্য করতে বললে তিনি বলেন, 'এই কাজের মধ্যে পেশাদারিত্ব নেই। যার ফলে যারাই আসছে তারা কয়েকদিন থেকেই চলে যাচ্ছে। এতে তাদেরকে আমরা দোষও দিতে পারি না। কারণ হলো, সবারই জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। এর বাইরে আমরা কেউই যেতে পারি না।' এই অবস্থার উন্নয়নে করণীয় সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, 'আমাদের সরকারকে জাতীয় নাট্য দল গঠন করতে হবে। এতে করে দেশের প্রত্যেকটি জেলা থেকে নতুন নতুন ছেলেমেয়েরা উঠে আসবে এবং আমাদের এই শিল্পটা পরিপূর্ণতা পাবে।' সিলেট জেলার হবিগঞ্জে শৈশব ও কৈশোরের মনোমুগ্ধকর সময়গুলো কাটান এই সেট ডিজাইনার। পরিবারে মা, দুই ভাই ও এক বোন নিয়েই তাদের বর্তমান সংসার। কৈশোরেই এই সৃষ্টিশীল মানুষটি তার বাবাকে হারান। ভবিষ্যত্ স্বপ্ন বা পরিকল্পনা নিয়ে তার কাছে জানতে চাইলে সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, 'আমাদের এ নাট্য সংগঠনগুলো একদিন আরো শক্তিশালী হবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকারসহ আমরা সবাই স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অবদান রেখে একে এগিয়ে নিয়ে যাব—এমনই স্বপ্ন আমি দেখি সবসময়।'

সুদীপ চক্রবর্তী

ডাক নাম :সুদীপ

জন্মতারিখ ও স্থান :১০ আগস্ট, নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ

মায়ের নাম :পার্বতী চক্রবর্তী

বাবার নাম :প্রয়াত বিমল চক্রবর্তী

প্রথম স্কুল :শিবপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রিয় মানুষ :মা

প্রিয় উক্তি :ইট'স নট ওনলি অ্যাবাউট 'এন্টারটেইমেন্ট', ইট'স অ্যাবাউটস এক্সপিরিয়েন্সিং লাইফ অ্যান্ড কনফ্রন্টিং মাইসেলফ থ্রো থিয়েটার।

প্রিয় পোশাক :পাঞ্জাবি-পায়জামা

অবসর কাটে যেভাবে :অবসর পাই না

সাফল্যের সংজ্ঞা :কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের মধ্যেই থাকে কাজের প্রতিষ্ঠা।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, 'এখন আমরা অনেক সুসংগঠিত। আমাদের পতন ঘটবে না।' আপনি কি তার সাথে একমত?
1 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ১১
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৮
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৩
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :