The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ০৮ মার্চ ২০১৪, ২৪ ফাল্গুন ১৪২০, ০৬ জমা. আউয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ২৩৯ যাত্রী-ক্রুসহ মালয়েশীয় নিখোঁজ বিমানটি ভিয়েতনাম সাগরে বিধ্বস্ত | বগুড়ার আদমদিঘীতে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে সোনালী ব্যাংকের ৩০ লাখ টাকা লুট | এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কা অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন | নিজেরাই অধিকার আদায় করুন : নারীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

ষড়যন্ত্র করে কেউ কিছু করতে পারবে না

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সকল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। ষড়যন্ত্র করে কেউ কিছু করতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, যাবেই। এই অগ্রযাত্রা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। বিএনপি নেত্রী যত জায়গায় ধরনা দিন না কেন, যে যতই তাকে আশ্বাস দিক না কেন জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না। গতকাল শুক্রবার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিকল্পধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বৈঠকের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বিদেশিদের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এখন নিজের তাড়িয়ে দেয়া ব্যক্তিদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন বিএনপি নেত্রী। ছবিতে দেখলাম লাল শাড়ি পরে বদু কাকার সঙ্গে কথা বলছেন। জানি না তিনি রজনীগন্ধা নিয়ে গিয়েছিলেন কিনা। এক সময় তো এমন তাড়া খেয়েছিলেন যে, রেললাইনের তলা দিয়ে পালাতে হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, আমি একগুচ্ছ রজনীগন্ধা নিয়ে চলে গেলাম। আজ দেখি দু'জনে বসে কূজনে কী কথা বলে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অগ্রযাত্রা বিএনপি নেত্রী পছন্দ করেন না বলেই তিনি আন্দোলনের নতুন নতুন সূত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তবে বিএনপি-জামায়াতের চরিত্র জাতির সামনে উন্মোচিত হয়ে গেছে। এখন যতই শলা-পরামর্শ বা ষড়যন্ত্র করুক, দেশের জনগণ এসব সন্ত্রাসী, খুনী, দুর্নীতিবাজ ও জঙ্গিবাদীদের আর দেখতে চায় না, মেনে নেবে না। তাদেরকে দেশবাসী এখন আর মোটেও বিশ্বাস করে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হরতাল, অবরোধ, আন্দোলন চলার পরও আওয়ামী লীগ দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করেছে। তাই আমরা আবার জয় পেয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আওয়ামী লীগ কোথাও ধরনা দিতে যায় না। কিন্তু বিএনপি দেশে কিছু করতে না পেরে বিদেশিদের কাছে বারবার ধরনা দিচ্ছেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নালিশ করছেন। এজন্য এমন কোন দূতাবাস নেই যেখানে যায়নি, অনেক বড় বড় রাষ্ট্রদূত/হাই কমিশনারদের সঙ্গে সপ্তাহে বা পনের দিনে ঘন ঘন দেখা করে ধরনা দেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই প্রেক্ষাপট এবং পরে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাঁক বদলের ঘটনাগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। মিলিটারি ডিকটেটর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাস একে একে মুছে ফেলার চেষ্টা করেন। স্বাধীনতার চেতনাকে ভূলণ্ঠিত করে স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বানান। সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে সামরিক বাহিনীতে প্রায় ১৯টি ক্যু হয়েছিল। এসব ক্যু'তে সেনাবাহিনীর অসংখ্য অফিসার ও সদস্যদের হত্যা করা হয়। পরে তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় এসে স্বামীর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। যুদ্ধাপরাধীদের হাতে লাখো শহীদের রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আমাকেও হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। আমি বেঁচে যাই। তবে আইভি রহমান আওয়ামী লীগের ২২ নেতাকর্মী মারা যায়। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ওই হামলার জন্য তখনকার সরকারে থাকা বিএনপি-জামায়াত জোটকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই হামলার সঙ্গে তারা যে জড়িত এতে কোনো সন্দেহ নেই।

গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতের আন্দোলনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেড়শ'র বেশি মানুষকে তারা পুড়িয়ে মেরেছে। হাজার হাজার গাছ কেটেছে। রাস্তঘাট কেটে ফেলেছে। ৭ পুলিশ সদস্যসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে। তিনি বলেন, ২০২১ সালের আগেই আমরা বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করবো। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে স্থান করে নেবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বাঙালি জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। আর আজ আমরা এখানে আলোর স্তম্ভ করলাম। বিকাল তিনটা পাঁচ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভা শুরু হয়। পরে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকেও পাঠ করা হয়। দুপুর ১২টার মধ্যেই ঢাকা ও আশেপাশের জেলা থেকে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সকাল থেকেই ময়দানে নির্মিত বিশাল সুসজ্জিত মঞ্চ থেকে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বিকাল ৪টা ৩৭ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করেই স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শহীদদের স্মরণে সেখানে নির্মিত স্বাধীনতা স্তম্ভের (আলোর স্তম্ভ) উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি জনসভা মঞ্চে ওঠা মাত্র লাখো মানুষের 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' শ্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রমুখ।

সংবিধান না মানলে দেশে থাকতে

পারবে না:সাজেদা

জনসভায় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, সংবিধানকে যারা মানবে না তারা এদেশে থাকতে পারবে না। তাদেরকে প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে

আন্দোলন করছে বিএনপি:আমু

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন আওয়ামী লীগ কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে নয়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে তারা আন্দোলন করছে। পরাজিত শক্তির মোকাবেলায় তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করে এখনো

ষড়যন্ত্রে লিপ্ত খালেদা জিয়া:তোফায়েল

আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে বহু মানুষকে হত্যা করেছেন। এখনো চক্রান্ত করছেন। তাদের সব ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

স্বাধীনতা রক্ষা করতে নতুন প্রজন্মকে একাত্তরের

মতো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: শেখ সেলিম

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি বলেন, দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য নতুন প্রজন্মকে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কারণ পরাজিত শক্তিরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এমন কোন নির্দেশনা নেই যা এই ভাষণে নেই। বিশ্বের অনেক মনীষী বা নেতার অমর কিছু ভাষণ আছে। কিন্তু বিশ্বের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর দেয়া এই একটি মাত্র ভাষণ, যা যুগের পর যুগ, বছরের পর বছর বেজে চলেছে কিন্তু ভাষণটির আবেদন আজো এতটুকু কমেনি। বরং যখনই প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই ঐতিহাসিক ভাষণটি শ্রবণ করেন, তখনই তাদের মানসপটে ভেসে ওঠে স্বাধীনতার গৌরবগাথা আন্দোলন-সংগ্রামের মুহূর্তগুলো। তারা আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠেন দেশপ্রেমের আদর্শে। ৪৩ বছর ধরে একই আবেদন নিয়ে একটানা কোন ভাষণ এভাবে শ্রবণের নজির বিশ্বের ইতিহাসে নেই বলে তিনি জানান।

খালেদা জিয়াকে তিনটি শর্ত

মানতে হবে: সুরঞ্জিত

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আগাম নির্বাচন ও সরকারের সঙ্গে সংলাপ চাইলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তিনটি শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণকে স্বাধীনতার ঘোষণা মানতে হবে। দ্বিতীয়ত, বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা মানতে হবে এবং তৃতীয়ত, এই সরকারকে বৈধতা দিতে হবে। তিনি বলেন, ৭ই মার্চ এখন সংবিধানের অংশ। এটা অমান্য করলে সংবিধান লঙ্ঘন হবে। এই ভাষণই আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার ঘোষণা। সুরঞ্জিত আরো বলেন, সংবিধানের কিছু মানবেন আর কিছু মানবেন না, তা হবে না।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, 'উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিএনপি সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
2 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ১৯
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩২
এশা৭:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :