The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ০৮ মার্চ ২০১৪, ২৪ ফাল্গুন ১৪২০, ০৬ জমা. আউয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ২৩৯ যাত্রী-ক্রুসহ মালয়েশীয় নিখোঁজ বিমানটি ভিয়েতনাম সাগরে বিধ্বস্ত | বগুড়ার আদমদিঘীতে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে সোনালী ব্যাংকের ৩০ লাখ টাকা লুট | এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কা অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন | নিজেরাই অধিকার আদায় করুন : নারীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

অগ্রগতির সোপানে নারী

তৈরি পোশাক খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

অর্কপ্রভ দেব

বিশ্ব নারী দিবসের এই দিনে দেশের নারীদের সুযোগ-সুবিধা কতটুকু বাড়ছে বা তাদের ক্ষমতায়ন কেমন তা বিবেচনা করতে হলে শ্রমজীবী নারীদের দিকে মনোযোগ দেয়া যাক। এই মাপকাঠি নির্ধারণে তৈরি পোশাক খাত (গার্মেন্টস) একটি বড় উদাহরণ হতে পারে। মোটাদাগে হিসাব করলে দেশের শ্রমঘন এই খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ বা ৩২ লাখই গ্রাম থেকে আসা হতদরিদ্র নারী শ্রমিক। যে কোন বিবেচনায়ই এই নারী শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি। তুলা উত্পাদনকারী দেশ না হয়েও তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিকারক দেশ। ৮০'র দশকের গোড়ার দিকে মাত্র ১২ হাজার মার্কিন ডলার দিয়ে রপ্তানি শুরু করা এই খাত গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে রপ্তানি করেছে ২ হাজার ১৫২ কোটি ডলার! এর পেছনেও বড় অবদান ওই লাখ লাখ নারী শ্রমিকের।

নারীর শ্রম-ঘামে তৈরি হওয়া এই খাতের উপর নব্বইয়ের দশক থেকে ঝড়-ঝাপটা কম আসেনি। সব বাধা অতিক্রম করে সদর্পে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহত্ এই রপ্তানি খাত। এ খাতের প্রসারের ফলে শিল্পখাতে নারীর কর্মসংস্থান বছরে প্রায় ৬ শতাংশ হারে বাড়ছে। সেবাখাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। নতুন নতুন শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। বিশ্বাঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়ছে। এই সুপরিচিতি আবার অনেকের আঁঁতে ঘা লাগছে। তারা প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। প্রতিযোগী দেশগুলো বাংলাদেশকে পিছনে ফেলার জন্য নিরন্তর অপচেষ্টা-অপপ্রচার করে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে তাদের মনোবাসনা পূরণ হচ্ছে। কখনও কখনও বাংলাদেশকেও এর দায় নিতে হচ্ছে। স্পেকট্রাম গার্মেন্টস, তাজরিন ফ্যাশনস এবং সর্বশেষ রানা প্লাজা ধস এসব অপকৌশলকে শক্তি যুগিয়েছে। তারপরও দেশের তৈরি পোশাক খাত এগিয়ে যাচ্ছে।

সারণী-১ থেকে দেখা যায়, আশির দশকের শুরুতে তৈরি পোশাকের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ ছিল একেবারেই নবাগত। ওভেন পোশাক তথা শার্ট, প্যান্ট প্রভৃতি রপ্তানির শুভযাত্রা হলেও নিট পোশাক তথা টি-শার্ট, সুয়েটার, পোলওভার, অন্তর্বাস প্রভৃতি রপ্তানি প্রায় অজানাই ছিল তখন। কে জানতো আশির দশকের এই নবাগত খেলোয়াড়ই ২০১০ সালে মহীরুহে পরিণত হবে। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানটি দখল করে নেবে। তাহলে হয়ত প্রতিযোগী দেশগুলো তখন থেকেই ষড়যন্ত্র শুরু করে দিত। এখানেই শেষ নয়। এখন লক্ষ্য শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশের স্থানটি দখল করা। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। বিগত পাঁচ বছরে গড়ে ১৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে (সারণী-২)।

এক্ষেত্রে একটি আশাব্যঞ্জক তথ্য আছে। তা হচ্ছে চীনের শ্রমিকের মজুরি হু হু করে বাড়ছে। চীনের মানব সম্পদ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০১৩ সালেই সাংহাই-এ তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্প শ্রমিকের মাসিক মজুরি ১৫০ ডলার বেড়েছে। উপকূলীয় শিল্পসমৃদ্ধ প্রদেশগুলোতেও শ্রমিকের মজুরি প্রায় একই হারে বাড়ছে। পাশাপাশি শ্রমিকের চাহিদাও বাড়ছে। ফলে এসব প্রদেশে শ্রমিকের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অন্যান্য প্রদেশ থেকে শ্রমিক এসে ভিড় করলেও তারা থিতু হতে পারছে না। কারণ শিল্পাঞ্চলে জীবনযাত্রার ব্যয় এত বেড়েছে যে, বাড়তি আয় দিয়েও তারা দুই জায়গার সাংসারিক ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

চীন অবশ্য এক দশক আগে থেকেই শ্রমঘন তৈরি পোশাক খাতে সংস্কার শুরু করেছে। তারা সস্তার পোশাক তৈরির চেয়ে অধিক মূল্য সংযোজিত দামি পোশাক তৈরিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। চীন কম দামি পোশাক বানাবে না বলে ইউরোপ, আমেরিকা, ওশেনিয়ার ক্রেতারা শার্ট, প্যান্ট, সুয়েটার, অন্তর্বাস ইত্যাদি পরিধান করা ছেড়ে দেবে না। বরং প্রায় ৬ বছর ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করায় ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। তাই তারা সস্তা পণ্য ক্রয়কেই প্রাধান্য দিচ্ছে। চীনকে পিছনে ফেলার এই সুযোগটি বাংলাদেশ গ্রহণ করতে পারে। অবশ্য বাংলাদেশেও শ্রমিকের মজুরি বাড়ছে। চীনে চাহিদা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মুক্তবাজার ব্যবস্থার আওতায় মজুরি বাড়ছে। আর বাংলাদেশে শ্রমিক-বান্ধব সরকার শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি বাড়াচ্ছে এবং মালিকদের তা দিতে বাধ্য করছে। গত চার বছরে শিক্ষানবীশ শ্রমিকের মজুরি ১,৬৬২ টাকা থেকে ৫,৩০০ টাকায় উন্নীত করেছে। মজুরি ২২৫ শতাংশ বাড়লেও তা এশিয়ার মধ্যে বিশেষ করে এই অঞ্চলের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে, এখানে পোশাক শ্রমিক চাহিদার প্রবৃদ্ধি বছরে বর্তমানের প্রায় ৬ শতাংশ হারে বাড়লেও অদূর ভবিষ্যতে শ্রমিক সংকট দেখা দেবে না। তদুপরি বাঙালি জাতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এদেরকে খুব দ্রুত ও সহজে প্রশিক্ষিত করা যায়। জনমিতির বিচারেও বাংলাদেশ এখন সর্বোত্তম অবস্থানে আছে। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশই বর্তমানে কর্মক্ষম শ্রেণিভুক্ত। অর্থাত্ তাদের বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। একটি দেশে এমনি সর্বোচ্চ কর্মশক্তি অবস্থায় পৌঁছুতে কয়েকশ বছর লাগে। এই অবস্থা গড়ে ৩০ বছর স্থায়ী হয়। রাষ্ট্র উদ্যোগী হলে এই ৩০ বছরই সর্বোচ্চ উত্পাদনশীলতা অর্জন করতে পারে। তাই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প কয়েকগুণ বিকশিত হলেও শ্রমিকের অভাব হবে না। কিন্তু তৈরি পোশাক খাতের স্বাভাবিক প্রসারে বাধা অন্যত্র। আর তা যতোটা না পদ্ধতিগত তার চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক।

পোশাক খাত প্রসারের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে আছে, এক. কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতাদের সাথে বাংলাদেশের গার্মেন্টস মালিকদের মতানৈক্য। দুই. গত জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা স্থগিত রাখা। যদিও এটি যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির সাথে সরাসরি জড়িত নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক দশক আগেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আমদানির ওপর থেকে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সব স্বল্পোন্নত দেশকেই এ সুবিধা দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্লাস্টিক, সিরামিকসহ কয়েকটি পণ্যে জিএসপি বা প্রায় বিনাশুল্কে রপ্তানি সুবিধা দিচ্ছে। এর পরিমাণ মোট রপ্তানির মাত্র শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ। সেই বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি ফিরে পাওয়া না পাওয়ায় তেমন যায় আসে না। কিন্তু এ অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর কোটা আরোপ করতে পারে।

বিশ্ববাজারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তারা ইউরোপসহ অন্যান্য আমদানিকারক দেশকে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানিকে নিরুত্সাহিত করতে পারে। প্রেসিডেন্ট ওবামার আগে বিল ক্লিনটনের সময়ও এএফএল-সিআইও'র পরামর্শে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারের দাবি জানিয়েছিল। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যের শিল্প-কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ নেই। তারা নব্বইয়ের দশকে শিশুশ্রম নিয়ে আপত্তি তুলেছিল। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রথম সম্মেলনেও তারা বিষয়টি উত্থাপন করেছিল। কিন্তু স্বল্পোন্নত দেশের মুখপাত্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রবল আপত্তির মুখে তারা সেখান থেকে সরে আসে। এবার রানা প্লাজা ধসের পর তারা বাংলাদেশকে বাগে পেয়ে সব চাহিদা পূরণ করতে চাইছে। তারা জিএসপি স্থগিতের সময় তা প্রত্যাহারের জন্য ১৬টি শর্ত দেয়। সরকার বলেছে, ১৬টি শর্তের মধ্যে ১৩টি ইতোমধ্যে পূরণ করা হয়েছে বা সঠিক পথে এগোচ্ছে। কিন্তু অপর তিনটি শর্তের একটি হচ্ছে, সব পোশাক কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন চালু করতে হবে। যা সহসা সম্ভব নয়। পাঁচ হাজারের বেশি কারখানার মধ্যে মাত্র ৩০০টিতে ট্রেড ইউনিয়ন আছে। বাংলাদেশে এই ট্রেড ইউনিয়নের অভিজ্ঞতাও ভাল নয়। শ্রমিকদেরকে পুঁজি করে কারখানায় অসন্তোষ জিইয়ে রেখে কিছু লোক অর্থশালী হওয়ার উদাহরণই বেশি। কারখানা ভবনের মান, শ্রমিক নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণ করাও সহজ কাজ নয়। এজন্য আরও ৮০০ পরিদর্শক এবং প্রায় ৩০০ অগ্নিপরিদর্শক নিয়োগ দিতে হবে। শ্রম অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করতে হবে। আইনী ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ জন পরিদর্শক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়েছে। তাই আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য জিএসপি সংক্রান্ত রিভিউ বৈঠক থেকে কোনো সুফল আশা করা যায় না।

এদিকে পোশাক কারখানা পরিদর্শনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর ক্রেতাদের সংগঠন 'এ্যাকর্ড' ইতোমধ্যে কারখানা পরিদর্শন শুরু করেছে। বিজিএমইএ তাদেরকে সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশের ৫২ শতাংশ পোশাক আমদানিকারক ইইউ যুক্তরাষ্ট্রের চাপে নতি স্বীকার না করে গত বছরই ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা জিএসপি সুবিধা স্থগিত করবে না। বরং বাংলাদেশের পাশে আর্থিক ও কারিগরি সাহায্য নিয়ে দাঁড়াবে যাতে নিরাপদ উত্পাদন নিশ্চিত হয়। এখন তারা তাই করছে। তবে দুঃসংবাদ হচ্ছে, ইইউ ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের প্রতিযোগী পাকিস্তানকে জিএসপি সুবিধা দিয়েছে। আগামী মাসে ভারত এই সুবিধা পেতে যাচ্ছে। ভিয়েতনামও জিএসপি সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশকে এই তিনটি বড় প্রতিযোগী দেশের সাথে প্রতিযোগিতা করেই টিকে থাকতে হবে। সেজন্য কারখানা ও শ্রমিকের উত্পাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সবসময় অভিযোগ করা হয় যে, এখানে শ্রমিককে ন্যায্য মজুরি দেয়া হয় না। কিন্তু আমাদের শ্রমিকদের উত্পাদনশীলতা বিবেচনায় নেয়া হয় না। কম্বোডিয়ার একজন পোশাক শ্রমিকের উত্পাদনশীলতা বাংলাদেশের তুলনায় ১২১ শতাংশ বেশি। ভারতের প্রায় ১৩৫ শতাংশ এবং চীনের প্রায় ৩৫০ শতাংশ বেশি। একইভাবে নিম্ন প্রযুক্তি এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে কারখানার উত্পাদনশীলতা প্রতিযোগী অধিকাংশ দেশের চেয়ে বাংলাদেশে কম। এই দুটি ক্ষেত্রে উন্নতি করার ব্যাপক সুযোগ আছে। এজন্য বিজিএমইএ ও সরকারকে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শ্রমিক ও ব্যবস্থাপকদের উন্নত প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। উত্পাদন প্রক্রিয়াকে ঢেলে সাজাতে হবে। যাতে পুরো উত্পাদন প্রক্রিয়ায় সময় আরও কমিয়ে আনা যায়। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা যতো বাড়ছে এসব ক্ষেত্রে ততো উন্নতি করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। ইউনুস ইস্যু, ক্লিনটন বৈরিতা, ভূরাজনৈতিক ইস্যু, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, জঙ্গি আশকারা যাই থাকুক না কেন দিনশেষে ক্রেতার চাহিদা পূরণ করতে পারলে কোনো ইস্যুই ধোপে টিকবে না। ক্রেতা চায় সস্তায় ভাল পোশাক কিনতে।

দেশের পোশাক রপ্তানিকে বাধাগ্রস্ত করতে নব্বইয়ের দশক থেকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চক্রান্ত এবং দেশীয় দালালদের সর্বমুখী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাংলাদেশ বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। এবারও নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু প্রয়োগ করে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র নস্যাত্ করতে সরকার, মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। কারখানা ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে ভবন সংস্কার ও পুনঃস্থাপন করতে হবে। এজন্য জাইকাসহ কয়েকটি সংস্থা অর্থসাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসেছে। মালিকদেরও উদ্যোগী হতে হবে। অগ্নিনির্বাপণের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম সব কারখানায় স্থাপন করতে হবে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিধানে শ্রমিকদেরকে তাদের করণীয়গুলো প্রতিপালনে অভ্যস্ত করতে হবে। তাদেরকে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বিজিএমইএ'র পক্ষ থেকে কারখানা মনিটরিং জোরদার করতে হবে। আন্তর্জাতিক উত্পাদন রীতি-নীতি অনুসরণে সব মালিককে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এই ব্যবসাটি দিন দিন কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে এবং তা মোকাবেলা করেই দেশকে এগিয়ে যেতে হবে। তবেই বাংলাদেশ একসময় বিশ্বের শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশে উন্নীত হতে পারবে।

সারণী-১: বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ক্রমবিকাশের চিত্র (কোটি ডলারে)

অর্থবছর ওভেন পোশাক নিট পোশাক মোট আয়

১৯৮০-৮১ ০.৩২ ০.০১ ০.৩৩

১৯৯০-৯১ ৭৩.৫৯ ১৩.১২ ৮৬.৭১

২০০০-০১ ৩৩৩.৬৪ ১৪৯.৬২ ৪৮৩.২৬

২০১০-১১ ৮৪৩.২৪ ৯৪৮.২১ ১,৭৯১.৪৫

২০১২-১৩ ১,১০৩.৯৮ ১,০৪৭.৫৯ ২,১৫১.৫৭

সারণী-২: বছর-ভিত্তিক নিট ও ওভেন পোশাকের রপ্তানি (কোটি ডলারে) ও বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হার

সাল নিট ওভেন মোট প্রবৃদ্ধি (%)

২০০৯ ৬১৯.৬৬ ৫৬৯.৯৫ ১,১৮৯.৬১ ১৬.৩০

২০১০ ৭৭৮.৮২ ৭০৬.৮০ ১,৪৮৫.৬২ ২৪.৮৮

২০১১ ৯৯৬.১৭ ৯২৫.২৮ ১,৯২১.৪৫ ২৯.৩৪

২০১২ ১,০৬৬.০২ ১,০৫২.৫৮ ২,১১৮.৬০ ১০.২৬

২০১৩ ১,১৪৪.৮৭ ১,২০৫.২৩ ২,৩৫০.১০ ১০.৯৩

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, 'উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিএনপি সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
3 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ২১
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩১
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :