The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০১৪, ২৯ ফাল্গুন ১৪২০, ১১ জমা. আউয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে কাল বিএনপির বিক্ষোভ | টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বধোন করলেন প্রধানমন্ত্রী | ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ | বিদ্যুতের দাম বাড়ল ৬.৬৯ শতাংশ, ১ মার্চ থেকে কার্যকর | রাজধানীতে ছয় তলা ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে | আদালত অবমাননা : প্রথম আলোর সম্পাদক-প্রকাশক খালাস | খন্দকার মোশাররফ সরকারের চক্রান্তের শিকার : রিজভী

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্যক্তিখাতে পর্যাপ্ত পলিসি সাপোর্ট এবং সরকারি খাতে উপযুক্ত প্রকল্প গ্রহণ ও সঠিক বাস্তবায়নের ফলে বিগত মহাজোট সরকারের মেয়াদে ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৭-এ উন্নীত হয়েছিল। যা দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। অথচ মহাজোট সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকালে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরপর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের আওয়ামী লীগের সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের সঠিক রপ্তানি নীতি এবং এর বাস্তব প্রয়োগের ফলে ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় করতে সক্ষম হয়েছে। যেখানে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইউরোপিয়ান ডেব্ট্ ক্রাইসিস ও মার্কিন অর্থনীতিতে নিম্নমুখিতা থাকা সত্ত্বেও পূর্বের রেকর্ড ভেঙ্গে ২০১০-১১ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। গত পাঁচটি অর্থবছরে এ খাতে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৬১ শতাংশ।

তিনি আরো জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরপরই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত এসব প্রকল্পের এক নম্বরে রয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প। এরপর গুরুত্ব বিবেচনায় পর্যায়ক্রমিক প্রকল্পগুলো হচ্ছে- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্লান্ট, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ প্লান্ট, ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) উন্নয়ন বা মেট্রোরেল, কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ এবং এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প।

শেখ হাসিনা জানান, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের দিকে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সুসভ্য দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বর্তমান সরকারের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনার শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য রেখার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ১৩ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং বিদ্যুত্ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর বর্তমান হার ৬২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে সবার বাড়িতে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেয়াও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অন্যতম।

পিরোজপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র এমপি রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, সংসদের সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্ব এবং সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারকে ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হয়েছে। এ সরকারের কাছে জনপ্রত্যাশা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত মেয়াদে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা অভিঘাত সত্ত্বেও রূপকল্পের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্য থেকে আমরা বিচ্যুত হইনি। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমাদের নিরন্তর প্রয়াস থেকে প্রাপ্তির পরিমাণ প্রণিধানযোগ্য। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণকামী দেশ গড়ার প্রত্যয়ে পরিকল্পনা ও কর্মকৌশল গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

রাজশাহী-৪ আসনের এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, খরা মোকাবিলা ও সেচ কাজে সহায়তার জন্য বরেন্দ্র এলাকার কৃষকদের ১০০ ঘণ্টা বিনামূল্যে সেচ প্রদানের সহায়তা দেয়া হবে। কৃষকদের উত্পাদিত ফসল বাজারজাতকরণ এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির লক্ষ্যে ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে গ্রামাঞ্চলে আরও ২৯৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে।

সিলেট-৫ আসনের সেলিম উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, 'স্পট এসেসমেন্ট'র মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ব্যবসা কেন্দ্র ও 'গ্রোথ সেন্টারে' নতুন করদাতা সনাক্তকরণ কার্যক্রমের ব্যাপ্তি নতুন অর্থবছরে আরো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে করযোগ্য আয় আছে, এমন সবাইকে আয়করের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

নীলফামারী-১ আসনের আফতাব উদ্দিন সরকারের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, বিচ্ছিন্নভাবে দেশের কোথাও কোথাও অসত্ বিক্রেতারা খাদ্যে ভেজাল ও ফরমালিন মেশাচ্ছে। ফরমালিনের অপব্যবহার রোধে বর্তমান সরকার কঠোর শাস্তির বিধানসহ 'ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩' প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। খসড়া আইনটি বর্তমানে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে ভেটিংয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

বেসামরিক প্রশাসনেরও প্রতিরক্ষা জ্ঞান

থাকা অপরিহার্য :প্রধানমন্ত্রী

বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে সম্যক জ্ঞান থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতিরক্ষা তথা জাতীয় নিরাপত্তার পরিধি ও পরিসর বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রচলিত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ধারণার সাথে সাথে ব্যক্তি, অর্থনৈতিক, জাতীয় সমৃদ্ধি ও পরিবেশগত নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'সামরিক বাহিনীর সদস্য ছাড়াও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের জন্য প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে সম্যক জ্ঞান থাকা অপরিহার্য।' প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) ও সামরিক বাহিনী কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) ১৫তম যৌথসভায় একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, সংশ্লি¬ষ্ট সচিববৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেসনালস'র ভিসিগণ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ।

শেখ হাসিনা বলেন, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ ও সামরিক বাহিনী কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের দুটি অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আগামী বছরগুলোতে এই দুই প্রতিষ্ঠান যাতে যুগোপযোগী ও আরও কার্যকরভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অধিকতর সুপরিচিতি লাভ করতে পারে, সেদিকে বোর্ডের সকল সদস্যকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমি আশাবাদী, দেশে ও বিদেশে প্রতিষ্ঠান দু'টি সাফল্যের এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং উন্নততর প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠান দু'টি হতে এ যাবত্ বন্ধুপ্রতীম ৩৭টি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর অফিসারগণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং পরবর্তীকালে তারা নিজ নিজ দেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন-এ কথা জেনে তিনি খুশি হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠান দুটির সকল কমান্ড্যান্ট, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিসহ যারা অবদান রেখেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ এবং আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সামরিক বাহিনী কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজের একটি বহুতল অফিসার্স আবাসিক ভবন নির্মাণ কাজ সমপন্ন হয়েছে এবং একটি বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মিত হচ্ছে। অবকাঠামোগত এই সমপ্রসারণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দু'টির সার্বিক মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ বলেছেন, 'ইঁদুর স্বভাবের কিছু নেতার কারণে সংসদ নির্বাচন প্রতিহতের আন্দোলন ঢাকায় সফল হয়নি।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
2 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ২৬
ফজর৩:৪৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪১
এশা৮:০৪
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :