The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০১৪, ১ চৈত্র ১৪২০, ১৩ জমা. আউয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ শরীয়তপুরে ব্যালট ছিনতাইকালে গুলিতে যুবক নিহত | ভোট গ্রহণ সম্পন্ন, চলছে গণনা | ২৬ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত: ইসি | জাল ভোট ও কেন্দ্র দখলের মহোৎসব চলছে: বিএনপি | ময়মনসিংহে বাস খাদে, নিহত ৫ আহত ৪০

তরুণ বিজ্ঞানীদের তাক লাগানো উদ্ভাবন

কম জ্বালানি খরচে চলবে গাড়ি, কম্পিউটারে হবে রেলক্রসিং নিয়ন্ত্রণ, পুরনো টায়ার থেকে জ্বালানি, ইশারায় চলবে রোবট। এমনি সব চমক লাগানো উদ্ভাবন রুয়েটের তরুণ শিক্ষার্থীদের...

আনিসুজ্জামান, রাজশাহী অফিস

বিজ্ঞান-প্রযুক্তির চরম উত্কর্ষের এই যুগে বিশ্বজুড়ে চলছে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের তুমূল প্রতিযোগিতা। যে জাতি বা দেশের এ ক্ষেত্রে অর্জন যত বেশি, সে জাতি বা দেশের সমৃদ্ধিও তত বেশি। যে কারণে উন্নত বিশ্বে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য সংশ্লিষ্টদের রাষ্ট্রীয়ভাবে দেয়া হয় বিশেষ প্রণোদনা, যোগান দেয়া হয় পর্যাপ্ত অর্থ সহায়তা। আশার কথা, নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই আমাদের তরুণরাও। বাংলাদেশের অনেক প্রতিভাবান বিজ্ঞানী বিদেশের মাটিতে বিরল প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে কুড়িয়েছেন বিপুল প্রশংসা, পেয়েছেন বিশেষ সম্মাননা। শুধু বিদেশে কেন, স্বদেশের মাটিতেই নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই নানা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন এই তরুণরাই। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) তরুণ শিক্ষার্থীদের কথাই বলি না কেন—গত দুই বছরেই তারা উদ্ভাবন করেছেন বেশ কয়েকটি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল জরিপ যন্ত্র, ডিজিটাল রুম নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, রেলক্রসিং নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ি, পুরাতন টায়ার থেকে জ্বালানি তেল উত্পাদন, শরীর চর্চায় বিদ্যুত্ উত্পাদন, তিন ধরনের রোবটসহ আরো কিছু প্রযুক্তি। কিন্তু সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তরুণ বিজ্ঞানীদের এসব উদ্ভাবন কাজে লাগানো যাচ্ছে না। উদ্ভাবকদের অভিমত, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব উদ্ভাবন কল্যাণে আসবে দেশের মানুষের, সেগুলো অবদান রাখবে জাতীয় অর্থনীতিতে।

জরিপের ডিজিটাল যন্ত্র: রুয়েটের পুরকৌশল শিক্ষার্থী মো. আল হেলাল উদ্ভাবন করেছেন দেশীয় প্রযুক্তির ডিজিটাল পরিমাপক যন্ত্র। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, রাস্তা ও জমিসহ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ পরিমাপক হিসেবে সাধারণত আমরা ফিতা বা স্কেলের ব্যবহারই বুঝি। এজন্য একাধিক ব্যক্তির সহায়তা যেমন প্রয়োজন হয়, তেমনি সময়েরও অপচয় হয়। শুধু তাই নয়, ফিতা বা স্কেল দিয়ে নির্ভুল পরিমাপ অনেক সময় পাওয়া সম্ভব হয় না। ফিতা স্কেলের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই হেলালের এই চেষ্টা। এছাড়া যেসব স্থানে ফিতা বা স্কেল দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়, যেমন নদীর ভিতরে কোন ব্রিজের উচ্চতা বা কোন উঁচু ভবনের কোন অংশের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, আয়তন ইত্যাদি হেলালের যন্ত্রের সাহায্যে দূর থেকে মাত্র কয়েকটি বাটনে চাপ দিয়ে নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা সম্ভব। এজন্য নিজের অবস্থান পরিবর্তন ও বস্তুর কাছে যাবারও প্রয়োজন নেই। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল দূরত্বটি প্রদর্শিত হবে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে। অত্যন্ত সূক্ষ্ম এমনকি দশমিকের পরের ৪-৫ ঘর পর্যন্ত মান নেয়া যাবে। যা ফিতা দিয়ে মেপে বের করা প্রায় অসম্ভব। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যন্ত্রটিতে ব্যবহূত হয়েছে সি প্রোগ্রামিং এবং মাইক্রোপ্রসেসর চিপ। ফলে যন্ত্রটির উত্পাদন খরচও অনেক কম। মাত্র ২/৩ হাজার টাকা। ২০১২ সালের ১ জুন বিভাগীয় শিক্ষক কামরুজ্জামান নয়নের সহায়তায় তার উদ্ভাবিত প্রকল্পের প্রদর্শনীতে অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। পুরকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. ইকবাল মতিন বলেন, 'প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ও এর বাণিজ্যিক ব্যবহার হলে দেশে জরিপের ক্ষেত্রে এক নতুন ডিজিটাল দিগন্তের সূচনা করবে।'

ডিজিটাল রুম নিয়ন্ত্রণ: রুয়েটের তড়িত্ কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আব্দুর রাজ্জাক জনি এবং বিপ্লব হোসেন সম্পূর্ণ ডিজিটাল রুম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছেন। এতে রয়েছে ডোর লক সিস্টেম, যা দিয়ে ডিজিটাল সংকেতের মাধ্যমে সংয়ক্রিয়ভাবে দরজা তালা বন্ধ করা এবং খোলা যাবে। খোলার জন্য শুধু প্রয়োজন একটি গোপন সংখ্যা। এর সঙ্গে অতিরিক্ত নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় সংযোজন করা হয়েছে ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবস্থা। যেটি আঙ্গুলের ছাপ থেকে ব্যক্তি শনাক্ত করে রুমের দরজা খুলে দেবে। এছাড়া এই যন্ত্রের সঙ্গে ফ্যান, লাইট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র জুড়ে দিলে সেগুলোও চলবে তারবিহীন ব্যবস্থায়। আবার সবগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে একটি রিমোট কন্টোল দিয়ে। এগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা যাবে মোবাইল ফোনও। উদ্ভাবকরা বলেন, ধরুন আপনি বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েছেন। অনেক দূর রাস্তা অতিক্রমও করেছেন। ঠিক তখন আপনার মনে হয়েছে, বাসার ফ্যানের সুইচ অফ করতে ভুলে গেছেন। মনে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের মোবাইল ফোনের সাহায্যে রাস্তায় অথবা অফিসে বসেই অফ করতে পারবেন বাসার ফ্যানের সুইচটি। কিংবা অফিস থেকে ফিরছেন, আপনি চান আপনার প্রবেশের আগেই ঘরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রটি চালু হয়ে থাক। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কাজটি করতে পারবেন। যন্ত্রটির সঙ্গে কিছু অতিরিক্ত আলোক, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ যোগ করা হয়েছে। ফলে তাপমাত্রার নির্দিষ্ট ধাপে সংক্রিয়ভাবে রুমের ফ্যান কিংবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ হবে। আবার সূর্যের আলো ঘরে প্রবেশের সঙ্গেই রুমের লাইটের সুইচগুলো সংক্রিয়ভাবে বন্ধ হবে। উদ্ভাবিত প্রকল্প নিয়ে সংশ্লিষ্টরা ২০১৩ সালের ১৬ এপ্রিল রুয়েটে প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এ ব্যাপারে তড়িত্ কৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, 'উদ্ভাবিত যন্ত্রটি সত্যিই রুম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এক অভাবনীয় পরিবর্তন ও ডিজিটাল বংলাদেশকে আরেকধাপ এগিয়ে নিতে পারে।' একই বিভাগের শিক্ষক মোঃ সামিউল হাবিব বলেন, 'রুম নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রটির বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদন সম্ভব হলে কম মূল্যে উচ্চমানের সেবা পাওয়া সম্ভব।'

কম্পিউটারে রেলক্রসিং নিয়ন্ত্রণ : রুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী খন্দকার মারছুছ কম্পিউটার ভিত্তিক রেলক্রসিং নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন। ট্রেন আসার নির্দিষ্ট সময়ে যন্ত্রটি রেলক্রসিংয়ের গেট স্ব্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেবে। আবার ট্রেনটি ক্রসিং পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেট খুলে দেবে। ফলে অন্যান্য গাড়ি দ্রুত চলাচল শুরু করতে পারবে। উদ্ভাবিত যন্ত্রের সঙ্গে কম্পিউটার সংযোগ থাকায় প্রতি মুহূর্তে গেট কাজ করছে কিনা তা দূরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণও করা যাবে। এভাবে একটি কম্পিউটার থেকে প্রায় ৪০-৫০টি রেলক্রসিংয়ের গেট একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ২০১২ সালের ১৮ জুলাই প্রকল্পের সমন্বয়ক রুয়েটের প্রভাষক সেলিম হাবিবের সহায়তায় প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রভাষক সেলিম হাবিব বলেন, 'প্রকল্পটি সরকারিভাবে এগিয়ে নিলে রেলক্রসিং নিয়ন্ত্রণে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।'

জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ি : রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবন করেছেন রিকশা-ভ্যান সদৃশ তিন চাকা বিশিষ্ট জ্বালানি সাশ্রয়ী ছোট্ট গাড়ির মডেল। এ গাড়িটি বাজারের সাধারণ গাড়ির তুলনায় অধিক জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং গাড়িটির গতিও সমমানের সাধারণ গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি। ফলে সমপরিমাণ জ্বালানি ব্যবহারে সাধারণ যে কোনো গাড়ির তুলনায় এটি অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারবে। রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত 'অয়্যার হর্স টিম' এবং 'দ্যা রয়েল টিম' ২০১২ সালের ৮ মার্চ রুয়েটে এ মডেল গাড়িটি প্রদর্শন করে। এ সময় সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি তৈরি করতে তাদের দু'টি গ্রুপের প্রায় ২৮ জন শিক্ষার্থী কাজ করেন। মডেলটি তৈরিতে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে সহায়তা করেছেন রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক ড. শাহজাদা মাহমুদুল হাসান। শিক্ষার্থীদের উভয় টিমের সদস্যরা জানান, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন এজেন্সি কর্তৃক পরিচালিত প্রদর্শনীতে গাড়ির মডেলটি পাঠানো হয়।

পুরাতন টায়ার থেকে জ্বালানি তেল : একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শিক্ষক-শিক্ষার্থী গাড়িতে ব্যবহূত পুরাতন টায়ার থেকে 'পাইরোলাইসিস' প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি তেল উত্পাদনের প্লান্ট উদ্ভাবন করেছেন। রুয়েট যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একই বিভাগের প্রভাষক মোঃ আব্দুল কাদের, শিক্ষার্থী আল-আমিন, খায়রুল ইসলাম, তাকের ও সমাপন মাঝারি আকারের প্লান্টটি উদ্ভাবন করেন। তারা বলেন, বহির্বিশ্বে এই বিষয়ে কাজ হলেও বাংলাদেশে এটাই প্রথম। সমপ্রতি চীন থেকে আমদানিকৃত ২-৩টি প্ল্যান্ট বাংলাদেশে স্থাপিত হয়েছে। তবে সেগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কম লাভজনক। এতে উত্পাদন ও পরিবেশ সংক্রান্ত কিছু সমস্যাও রয়েছে। চীনা প্রকল্প থেকে উন্নত কিছু পদ্ধতি সংযোজনে উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তি আরও বেশি গ্রহণযোগ্য এবং সাশ্রয়ী। প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৯০ হাজার টন পরিত্যক্ত টায়ার জমা হচ্ছে। যার অধিকাংশই ব্যবহূত হয় ইটের ভাটা, সিমেন্ট কারখানার জ্বালানি হিসাবে। এভাবে ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ক্ষতি করে। দীর্ঘদিন মাটিতে থাকলেও টায়ার পচে না। বরং টায়ারের ফাঁকা অংশে বৃষ্টির পানি জমে মশা উত্পাদন ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। বর্জ্য টায়ার সৃষ্ট সমস্যার সমাধান ও উন্নত ব্যবহারে রুয়েটে প্রায় ১০ বছর ধরে গবেষণা চলছে। ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর এই প্রকল্পের এক প্রদর্শনী রুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় গবেষক দলের সদস্যরা ৩৫টির বেশি পরিত্যক্ত টায়ার থেকে প্রায় ১৭ লিটার জ্বালানি তেল উত্পাদন করে দেখান। গবেষণা দলটির উত্পাদিত তেলের গুণাগুণ পরীক্ষা করে রুয়েটের শিক্ষকরা জানান, ওই তেলের মান বাংলাদেশে প্রচলিত তরল জ্বালানি ডিজেল বা ফার্নেস অয়েলের কাছাকাছি। যা বিকল্প জ্বালানি হিসাবে ব্যবহারের যোগ্য। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী একশ' ভাগ বর্জ্য টায়ার থেকে ৫০ ভাগ তেল এবং উপজেলা হিসাবে ৩৮ ভাগ চারকোল ও ১২ ভাগ গ্যাস পাওয়া যায়। উক্ত উপজাত দু'টিও জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার যোগ্য। প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, 'প্রকল্পটি যদি সরকারি বা কোন সংস্থার উদ্যোগে বাণিজ্যিক ব্যবহার করা যেতো তাহলে সেটি আমদানি নির্ভর জ্বালানি সংকট মোকাবেলা ও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।'

শরীর চর্চায় বিদ্যুত্ উত্পাদন : সাধারণ ধারণা অনুযায়ী শরীর চর্চা শরীর গঠনে ভূমিকা রাখে। কিন্তু শরীর চর্চার সময় অপচয়কৃত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদনের কৌশল উদ্ভাবন করেছেন রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী সাদ্দাত হোসেন রাজিব, মোস্তফা রিশাত কামাল ও ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের দিপু বিশ্বাস। তারা বলেন, উদ্ভাবিত যন্ত্রের মাধ্যমে হাত-পায়ের ব্যায়ামেই প্রায় ৩০০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুত্ উত্পাদন সম্ভব। যা দিয়ে ৭-৮টা ফ্যান কিংবা ১৩-১৪টা এনার্জি বাল্ব জ্বলতে পারে। প্রকল্পটি তৈরিতে তাদের সময় লেগেছে প্রায় দেড় বছর। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে প্রস্তুত যন্ত্রটি উত্পাদন খরচ প্রায় ৭ হাজার টাকা। বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদিত হলে আরও সাশ্রয়ী হবে। দলের সদস্য রাজিব বলেন, 'যন্ত্রটি ব্যায়ামাগারে ব্যবহারের ফলে ব্যায়ামাগারের প্রয়োজনীয় বিদ্যুত্ এই যন্ত্র থেকেই যোগান দেয়া সম্ভব। প্রয়োজনে অন্যান্য যন্ত্রপাতিতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে।' ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর রুয়েটের হিট ইঞ্জিন ল্যাবে শিক্ষকদের উদ্যোগে প্রকল্পের প্রদর্শনী হয়। যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক ড. নীরেন্দ্রনাথ মুস্তাফী বলেন, 'এ প্রকল্পটিকে যদি বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো যায় তাহলে বিদ্যুত্ উত্পাদনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।'

শব্দের অনুভূতি সম্পন্ন স্বয়ংক্রিয় রোবট : রুয়েটের দুই ক্ষুদে বিজ্ঞানী, রুয়েট রোবটিক সোসাইটির সদস্য সাদ্দাম ও আবুল মোনজের উদ্ভাবন করেছেন। এটি নিরাপত্তা ক্ষেত্র, উদ্ধার অভিযান ও বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ব্যবহার করা যাবে। এ রোবটে রয়েছে শব্দ ফিল্টারিং বা বাছাইয়ের বিশেষ ব্যবস্থা। যার মাধ্যমে রোবটটি বিভিন্ন শব্দের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করতে পারবে। অনিরাপদ শব্দ পেলেই এটি তার কাজ শুরু করবে। বহির্বিশ্বে শব্দ নিয়ে রোবটের কাজ হলেও বাংলাদেশে এটাই প্রথম। এ প্রকল্পটি তৈরিতে তাদের সময় লেগেছে প্রায় দেড় বছর। প্রাথমিকভাবে উত্পাদন ব্যয় একটু বেশি হলেও বাণিজ্যিক উত্পাদন করতে পারলে এর ব্যয় ২-৩ হাজার টাকায় সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব বলেও জানান তারা। ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রুয়েট শিক্ষকদের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে উক্ত রোবট প্রকল্পের এক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

গোয়েন্দা রোবট : রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী রুবেল আহম্মেদ ও মোঃ রাকিবুল ইসলাম গোয়েন্দা রোবট উদ্ভাবন করেন। উদ্ভাবকরা বলেন, ধরুন কোথাও সামরিক অভিযান চলছে। অপরাধী ধরতে হবে, পাল্টা আক্রমণ হতে পারে। কিংবা চলছে বিস্ফোরক উদ্ধার অভিযান। এ রকম ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে উদ্ভাবিত রোবট মানুষের উপস্থিতি ছাড়াই কাজ করতে পারবে। এ রোবট মানুষের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করতে পারে। ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ইন্টারনেট ও সফটওয়ারে নিরাপত্তা কোডের মাধ্যমে রোবটটি সংযোগ করতে হবে। এরপর রোবট নিশ্চয়তামূলক বার্তা দেবে। দূরে অবস্থানকারী নিয়ন্ত্রকের কাছে রোবটটি প্রতি মূহূর্তে পাশের পরিবেশের জীবন্ত ভিডিও পাঠাতে থাকবে। ওই ভিডিও দেখে নিয়ন্ত্রক কখন কি করতে হবে? সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এছাড়া গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমে (জিপিএস) রোবটটি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ করা যাবে। মানচিত্রের মাধ্যমেও রোবটটির অবস্থান জানা যাবে। এ রকম প্রযুক্তি বহির্বিশ্বে থাকলেও বাংলাদেশে এটাই প্রথম। যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক শাহজাদা মাহমুদুল হাসান বলেন, এ প্রকল্পটিকে যদি বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদন করা যায় তবে সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন খাতে রোবটটিকে ব্যবহার করা যেতে পারে।'

বাংলা ভাষা ও ইশারায় চলতে সক্ষম রোবট : বাংলাদেশে রোবট নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে। কিন্তু বাংলা ভাষার কমান্ডে চলবে এমন রোবট উদ্ভাবন এটাই প্রথম। এর উদ্ভাবক রুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থী সাদলী সালাহউদ্দিন ও সৌমিন ইসলাম। এ রোবটে বাক প্রতিবন্ধীর জন্যও যুক্ত হয়েছে বিশেষ সংবেদনশীল ব্যবস্থা। অর্থাত্ রোবটটি ইশারায় কাজ করবে। ২০১৩ সালের ৯ জুলাই উদ্ভাবিত রোবটের প্রদর্শনীতে 'ডানে যান, বামে যান, থামুন, এবার চলুন' আদেশ দিয়ে রোবটটির কাজ করে তা দেখানো হয়। ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের প্রফেসর রফিকুল ইসলাম শেখ বলেন 'প্রকল্পটির বাণিজ্যিক উত্পাদন হলে বাক প্রতিবন্ধীদের সুবিধা হবে।'

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন সম্পর্কে রুয়েটের বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. মর্ত্তুজা আলী বলেন 'আমাদের সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই প্রতিভাবান তরুণ শিক্ষার্থীর বেশকিছু উদ্ভাবন সত্যিই গর্বের বিষয়। সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে উদ্ভাবনগুলো দেশের মানুষের কল্যাণে আসবে এবং উদ্ভাবকদের পরিশ্রম সার্থক হবে।'

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
5 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২২
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :