The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০১৪, ১ চৈত্র ১৪২০, ১৩ জমা. আউয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ শরীয়তপুরে ব্যালট ছিনতাইকালে গুলিতে যুবক নিহত | ভোট গ্রহণ সম্পন্ন, চলছে গণনা | ২৬ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত: ইসি | জাল ভোট ও কেন্দ্র দখলের মহোৎসব চলছে: বিএনপি | ময়মনসিংহে বাস খাদে, নিহত ৫ আহত ৪০

কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি

সমপ্রতি ইডেন কলেজকে পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন তুঙ্গে উঠিয়াছে। ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালনের পর এইবার আগামী ২০ মার্চ আন্দোলনরত ছাত্রীরা অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়াছে। গত সরকারের আমলে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বুয়েট ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গন ছিল আন্দোলনমুখী ও উত্তপ্ত। এইবার নূতন সরকারের আমলে এই বত্সরের শুরুতেই শিক্ষাঙ্গনে পরিলক্ষিত হইতেছে ভিন্নতর আন্দোলন। প্রথমেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন হলগুলি পুনরুদ্ধারের দাবি দুর্বার আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করে। বর্তমানে সেইখানকার পরিস্থিতি শান্ত। কিন্তু ইতোমধ্যেই ইডেন কলেজে নূতন করিয়া অস্থিরতা দেখা দিয়াছে। আন্দোলনকারী ছাত্রীদের দাবি অনুযায়ী ইডেনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা হইলে তাহা হইবে দেশের প্রথম পাবলিক উইমেন্স ইউনিভার্সিটি। দেশে সেন্ট্রাল উইমেন ইউনিভার্সিটি নামে একটি বেসরকারি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন নামে একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। রংপুরে বেগম রোকেয়ার নামেও আছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে যতদূর জানা যায়, সেইখানে কো-এডুকেশন পদ্ধতি প্রচলিত। এখন একটি স্বতন্ত্র পাবলিক মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিটি অনেকটা নূতন। তবে সামগ্রিক বিবেচনায় কতটা যৌক্তিক সেই প্রশ্নও অবান্তর নহে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে কো-এডুকেশনই সাধারণত প্রাধান্য পাইয়া থাকে। তবে যাহারা ধর্মপ্রাণ, তাহারা মনে করেন মাধ্যমিক হইতে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নারীদের জন্য পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকা বাঞ্ছনীয়। সেই দৃষ্টিকোণ হইতে গার্লস স্কুল-কলেজের ন্যায় উইমেন্স ইউনিভার্সিটির ধারণাটি চমত্কার। কিন্তু এইখানে তাহা বড় বিষয় নহে। প্রশ্ন হইল আমাদের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের সরকারের পক্ষে একের পর এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করিবার দাবি পূরণ করা আদৌ সম্ভব কিনা।

বর্তমানে রাজশাহী ও চট্টগ্রামের সরকারি মেডিক্যাল কলেজকে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করিবার চেষ্টা চলিতেছে, যদিও ইহার পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি দাঁড়াইয়া গিয়াছে। দেশে এই ধরনের একটি মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় আছে। তাহা হইল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। সামগ্রিকভাবে সেবাধর্মী চিকিত্সা শিক্ষার উন্নয়নে ইহার প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সূত্র অনুযায়ী যেইখানে দেশে ৩৪টি সরকারি ও ৭৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সেইখানে সরকারি খাতে আরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিয়া কথা উঠিবে ইহাই স্বাভাবিক। ইতোমধ্যে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজকেও বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি উঠিয়াছে জোরালোভাবে। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে জন্ম হইয়াছে এমন প্রাচীন ও গৌরবান্বিত কলেজ আমাদের দেশে আরও একাধিক আছে। আছে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজও। এইসব কলেজের যে শিক্ষা অবকাঠামো আছে তাহা বর্তমানের কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়াও নাই। অর্থাত্ এইগুলিকে অনায়াসে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা যায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলি চলিবে কিভাবে তাহাই সর্বাগ্রে গভীরভাবে ভাবিয়া দেখা প্রয়োজন। জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর আমাদের যেইসব অভিজ্ঞতা হইয়াছে তাহা হইতে শিক্ষা গ্রহণ করিবার দরকার আছে বলিয়া আমরা মনে করি। প্রথমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্বপ্রণোদিতভাবে আয় বাড়াইবার ব্যবস্থা রাখা হয়। অর্থাত্ সরকার কিছুটা বাজেট দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিজেদেরই পূরণ করিবার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। কিন্তু শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মিলিত আন্দোলনের কারণে শেষপর্যন্ত তাহা বাতিল হয়। এখন আবাসন সংকটের সমাধানসহ নানা দাবিতে ছাত্র-ছাত্রীরা সোচ্চার। অর্থাত্ আর্থিক সক্ষমতা না থাকিলে সরকার কেবল রাজনৈতিক কারণে বাহবা পাইবার জন্য বা ভোটব্যাংক বাড়াইতে নূতন নূতন বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করিতে পারে না।

উল্লেখ্য, গত নব্বই দশক হইতে গণতান্ত্রিক সরকারগুলি শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগকে অধিক মাত্রায় উত্সাহিত করিয়া আসিতেছে। ইহা আশাব্যাঞ্জক একটি দিক। এখন চলমান সংকটের সমাধান হইতে পারে দুইভাবে। এক. আরও অধিক সংখ্যক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানো। দুই. নয়তো উল্লেখযোগ্য খাতে নিজ আয়ে ব্যয় মিটাইতে ইচ্ছুক এমন বৃহত্ কলেজগুলিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করা। যাহা হউক, বাস্তবতাকে অগ্রাহ্য করিয়া শেষপর্যন্ত কোনকিছুর পরিণামই ভাল হয় না। বরং সবখানে লেজে-গোবরে অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই ব্যাপারে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও প্রশাসনের সকলের সচেতনতার পরিচয় দিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
9 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২১
ফজর৪:৩১
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :