The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৩, ৭ চৈত্র ১৪১৯, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ফুটবল: এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে মূল পর্বে বাংলাদেশ | রাজধানী হাতিরঝিলে বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত নিহত | রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মরদেহ সিএমএইচ হাসপাতালের হিমঘরে | প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরবে; দাফন রাজধানীর বনানী কবরস্থানে | বঙ্গভবনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

তারকাগল্প

ভাবনার পালাবদল

অভিনয়ের সাথে জেনির সখ্যতা হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের একটু বাড়তি আগ্রহ ছিল তাকে নিয়ে। তিনি তাদের সেই আগ্রহের মূল্য দিতে সব সময় চেষ্টা করেছেন। সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে তার কাজের ধারাও। অভিনয় নিয়েই তার এখনকার সব ভাবনা।

অজেয় চৌধুরী

ছোটবেলা থেকেই বেড়ে উঠেছেন ঢাকার ইস্কাটন এলাকায়। তাই তার সবই যেন ঢাকাকেন্দ্রিক। বাবা এবং মা দুজনই তার খুব ভালো বন্ধু। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবার হাত ধরে শোবিজে পা রেখেছিলেন জেনি। তিব্বত ৫৭০ সাবানের সেই বিজ্ঞাপনের স্মৃতি যখন দর্শকদের বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়ার জোগার, তখনই পূর্ণ তরুণী জেনি পর্দায় ফিরে আসেন পন্ডস ডেইলি ফেসওয়াশের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তাহসানের বিপরীতে সেই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মাতিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অ্যাপোলো হসপিটাল, লিপটন ইয়েলো, মেরিল বেবী লোশনসহ বেশকিছু চমত্কার বিজ্ঞাপনে পারফর্ম করে দর্শক মন জয় করে জেনি নাম লেখান অভিনয়ে। 'রমিজের আয়না'য় মুখ দেখিয়ে পরবর্তী সময়ে 'টুলেট' ও 'শান্ত কুটির'সহ বেশ কিছু নাটকে সু-অভিনয় দিয়ে দর্শক হূদয় জয় করেছেন তিনি। জেনির ভাষ্যে, 'আমি খুব ভাগ্যবতী যে, আমি যা চেয়েছি সবই পেয়েছি। আজকের অবস্থানের জন্য আমি আমার ভক্তদের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। কারণ, তারাই আমাকে ভালোবাসা দিয়ে এখানে এনেছেন। ছোটবেলা থেকে আমি বিজ্ঞাপনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। কারণ, যাকের আংকেল আমাকে বলা যায় জোর করে মিডিয়াতে নিয়ে আসেন। ২০০৫ সালে ইউনিলিভারের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করি। তারপর করি পন্ডসের একটি বিজ্ঞাপন। ২০০৬ সালে শুরু করি নাটকের কাজ। এভাবেই আমি দর্শকদের ভালোবাসার জেনি হয়েছি।' একজন অভিনয়শিল্পীর বড় গুণ হলো শেখার মানসিকতা। এই ধারার শিল্পীদের মধ্যে জেনিকে একটু এগিয়েই রাখতে হবে। বেশ কয়েক বছর ধরে অভিনয় করে অনেক নাটকের জন্য দর্শকদের ভালোবাসা অর্জনের পরও এই অভিনেত্রী এখনও নিজেকে অভিনয়ের শিক্ষার্থী ভাবতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর তার এই মানসিকতার কারণেই সমসাময়িক অন্যদের থেকে তাকে সহজেই আলাদা করা যায়। নিজের ভাবনার ভিন্নতা নিয়ে এভাবেই বললেন জেনি, 'আমি যেহেতু অভিনয় শিখে এসে টিভি নাটকে কাজ করার সুযোগ পাইনি, তাই অভিনয় করতে করতেই আমাকে তা শিখতে হয়েছে। আমি একটি নাটকে কাজ করে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করি, তাই পরবর্তী নাটকে কাজে লাগাই। আর আমার এই অভিনয় শেখার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা পালন করছেন আমার সিনিয়র শিল্পীরা। আমি কাজ করতে গিয়ে একেকজনের কাছ থেকে অভিনয়ের বিভিন্ন বিষয় রপ্ত করেছি। সত্যি বলতে কী, অভিনয়টা আসলে অবজারভেশনের বিষয়। আমি প্রতিনিয়ত নানা রঙের মানুষ দেখে তাদের মাঝ থেকেই নিজের অভিনীত চরিত্রের বিভিন্ন উপাদান সংগ্রহ করি। তবে বেশিরভাগ সময়ই চেষ্টা থাকে নিজের চরিত্রগুলোকে একটু আলাদাভাবে উপস্থাপনের। তবে সব সময়ই যে নিজের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল ঘটে তা নয়। কখনও কখনও স্বপ্নের সাথে বাস্তবতার অমিল তৈরি হয়। আর এই যে অতৃপ্তি—এটাই একজন অভিনয়শিল্পীকে আগামীতে আরও ভালো কাজ করতে প্রেরণা জোগায়। আমি অভিনেত্রী হিসেবে সব সময় অতৃপ্তিকে অন্তরে পুষে রাখি।' শিহাব শাহিনের পরিচালনায় 'রমিজের আয়না' নাটকের মাধ্যমেই অভিনেত্রী হিসেবে জনপ্রিয়তার সাথে প্রথম সাক্ষাত্ হয়েছিল জেনির। সেই থেকে শুরু। আজও একই ধারায় কাজ করছেন সমান জনপ্রিয়তা নিয়ে। সময় বদলেছে। জেনিও সময়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে কাজের ধারাতেও পরিবর্তন এনেছেন। তবে তার এই মানসিকতার একটুও পরিবর্তন হয়নি—'মানসম্পন্ন কাজকে সঙ্গী করেই সব সময় পথ চলব।' আর এই ভাবনার প্রতিফলন আমরা দেখতে পেয়েছি তার কাজে। এনটিভিতে প্রচারিত ধারাবাহিক নাটক 'রুমালি'তেও এর ছাপ স্পষ্ট। বর্তমানে তার ব্যস্ততা বেশ কিছু নাটকের শুটিং নিয়ে। আমাদের শোবিজ জগতের শিল্পীদের অধিকাংশই নিজের ইতিবাচক সমালোচনা শুনতে অভ্যস্ত। প্রিন্ট মিডিয়া বা সহশিল্পীর নেতিবাচক মন্তব্য তাদের অনেকেই সহজ ভাবে নিতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে জেনি নিজেকে একটু আলাদা জায়গায় দাঁড় করালেন। এ নিয়ে জেনি বলেছেন, 'একজন শিল্পীর কাজের চেয়ে যদি তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা বেশি হয়, তখন সে আলোচনা আমার পছন্দ নয়। এখন এটা একটা আনন্দের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, আমরা গসিপ করব আর তা নেগেটিভ হবে। এমনটি না হয়ে যদি কারও কোনো খারাপ দিক তাকে সরাসরি বলা হয়, তবে সেটা সেই শিল্পীর জন্য পজেটিভ হয়ে দাঁড়াবে। এর ব্যতিক্রম হলে এই গসিপ একজন শিল্পীর মধ্যে রাগ, ক্ষোভ ও অভিমান তৈরি করবে। এর ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার কাজের নেতিবাচক সমালোচনাকে দারুণভাবে গ্রহণ করি। আমি প্রশংসার চেয়ে এর নেতিবাচক সমালোচনাটাকে বেশি প্রাধান্য দিই। আমাকে যদি কেউ বলেন যে, জেনি তোমার অভিনয়ের ওই জায়গায় ওভাবে না করে এভাবে করলে ভালো হতো। এক্সপ্রেশনটা এভাবে না দিয়ে ওভাবে দিলে ভালো হতো। তখন সেই পরামর্শটা আমি গ্রহণ করি। যে আমার কাজের ভুল-ত্রুটি নিয়ে কথা বলে—আমি ধরে নিই তিনি আমার ভালো চান, আমাকে কেয়ার করেন।' অভিনয় নিয়ে আগামীর ভাবনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এখন অভিনয়ই আমার সবকিছু। আমি অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই আগামীতেও। দর্শকদের আনন্দ দিতে চাই। নিজেও অভিনয় করে আনন্দ পেতে চাই।'

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
মির্জা ফখরুল বলেছেন নির্যাতন নিপীড়ন আওয়ামী লীগের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য, তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। তার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?
1 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৪
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৫
মাগরিব৫:৩৭
এশা৬:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৫৫সূর্যাস্ত - ০৫:৩২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :