The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৩, ৭ চৈত্র ১৪১৯, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ফুটবল: এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে মূল পর্বে বাংলাদেশ | রাজধানী হাতিরঝিলে বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত নিহত | রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মরদেহ সিএমএইচ হাসপাতালের হিমঘরে | প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরবে; দাফন রাজধানীর বনানী কবরস্থানে | বঙ্গভবনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

পেছনের মানুষ

সময়ের প্রয়োজনে

অল্প কাজের দিয়েও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করা যায়। তার জন্য সে কাজের মধ্যে থাকতে হবে বৈচিত্র্য ও মানের দিক থেকে হতে হবে ষোলাআনা। নিজের কাজের মাধ্যমে সেটাই প্রমাণ করেছেন নাট্যনির্মাতা ইরানী বিশ্বাস। তার নাট্যনির্মাতা হয়ে ওঠার গল্প শোনাচ্ছেন

খালেদ আহমেদ

মানুষ বেঁচে থাকে স্বপ্নের মাধ্যমে। স্বপ্ন না থাকলে যেন মানুষের বাঁচাটা অর্থহীন হয়ে পড়ে। আবার সত্ মনোভাব নিয়ে স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে একজন মানুষের স্বপ্ন ঠিকই পূরণ হয়। তেমনি নাট্যনির্মাতা ইরানী বিশ্বাসও নিজেকে পরিচালক হিসেবে তৈরি করেছেন একটু একটু করে। নিজের স্বপ্ন পূরণ হওয়াটাও তারই চেষ্টার ফসল। তার ভাষ্যে, 'আসলে এটাকে আমি সরাসরি পেশা হিসেবে প্রথমে নিইনি। শুরুটা হয়েছিল লেখালেখি দিয়ে। আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে গোপালগঞ্জের গ্রামে। এরপর কলকাতায় যাই। সেখানে আর্ট স্কুলে পড়ালেখা করি। ১৯৯৯ সালে ঢাকায় এসে ইডেন কলেজে ভর্তি হই। পাশাপাশি মোহাম্মদপুর কাটাসুর এলাকায় একটি আর্ট স্কুলও প্রতিষ্ঠা করি। ২০০৫ সালে দৈনিক যুগান্তরের নারী পাতায় লিখতাম। পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদন ম্যাগাজিনেও লিখতাম নিয়মিত। পরের বছর একুশে বইমেলায় আমার লেখা প্রথম উপন্যাস 'স্বপ্নের ডানা' প্রকাশিত হয়। এরপর ২০১০ সালে প্রকাশিত হয় উপন্যাস 'অন্ধকারে স্পর্শ'। ওই বছর আমি দৈনিক বাংলাদেশ সময়-এ কাজ করি। একদিন আমার এক শুভাকাঙ্ক্ষী আমাকে বললেন, 'আপনি তো উপন্যাস লিখছেন পাশাপাশি নাটকের স্ক্রিপ্টও লিখতে পারেন।' পরে জিনাত হাকিমের পরামর্শ নিয়ে নাটক লেখা শুরু করি। আমার লেখা প্রথম নাটক ছিল একটি প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে। যার নাম 'মোড়ক উন্মোচন'। ওই নাটকটি পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হয়। এরপর এইডস দিবসে বিটিভিতে প্রচার হয় আমার লেখা নাটক 'নীল চুমুক'। এ ছাড়া প্রচার হয় 'বাঙালি বধূ', 'প্রতিশোধ' ও ধারাবাহিক নাটক 'অস্তিত্ব অনুভবে'। ২০১২ সালে প্রকাশ পায় তৃতীয় উপন্যাস 'অস্পৃশ্য'। ডিরেকশন নিয়ে পড়াশোনা করে নিজেকে ঋদ্ধ করতে চেষ্টা করেছি সব সময়। মূলত দেশের সংস্কৃতি ও নিজের চিন্তা-ভাবনাকে গণমাধ্যমে উপস্থাপনের প্রয়াসেই পরিচালনায় আসা।' তার নির্মিত নাটকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—'বিসর্জন', 'চাঁদের পালকি', 'কিপটার ধন পিঁপড়ায় খায়', 'স্বীকৃতি' ও ধারাবাহিক নাটক 'মনের জানালা' প্রভৃতি। বর্তমানে এক খণ্ডের 'স্বপ্ন ছুঁয়ে যায়', 'ইলটুস বিলটুস' ও 'তবুও প্রতীক্ষা' এবং ধারাবাহিক নাটক 'পিএইচডি সালমান', 'বৃত্তের বাইরে' ও 'মমতার বন্ধনে'-এর কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আমাদের দেশে এত পেশা থাকতে আপনি কেন নিজেকে এই পেশায় জড়ালেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানী বিশ্বাস বলেন, 'আমার দৃষ্টিতে আমি এটাকে কখনোই পেশা বলব না। কারণ সৃজনশীল কাজে অনেক ধৈর্য, মেধা ও শ্রম ও ব্যয় করতে হয়। নাটক বা সিনেমা যাই বলেন না কেন এ ধরনের কাজের সময় হিসেব করে করা যায় না। এখানে কাজের সময় বা বিরতি বলে কিছু নেই, প্রতিটি মুহূর্তই মনে হয় আরেকটু সময় পেলে ভালো করা যায়। তবে যেহেতু আমার বেশির ভাগ সময় এ কাজের মধ্যে ব্যয় হয় তাই সে অর্থে পরিচালনাকে আমার পেশা বলতে পারেন।' নিজের কাজের অনুপ্রেরণায় কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, 'আসলে আমার ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল এ জগতে কাজ করার। অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এ কাজে আসার পর অনেক ভালো লাগছে। এক কথায় বলতে গেলে প্রয়োজনই আমাকে এখানে এনেছে। আর অনুপ্রেরণাও পেয়েছি প্রয়োজনের তাগিদে। কেননা আমার সাত পুরুষের মধ্যে কেউই সংস্কৃতিমনা নয়। সবাই বাস্তববাদী। আমার আত্মীয়-স্বজন সবাই চাকরি বা ব্যবসা করে জীবন চালান। কিন্তু আমি কখনোই তাদের মতো হতে চাইনি। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে আমি চেয়েছি এমন কিছু করতে যাতে সবাই আমার নামটা জানবে।' ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা কথা জানতে চাইলে ইরানী বিশ্বাস বলেন, 'আমার ভবিষ্যত্ নয়, নির্মাণের সাথে জড়িত হওয়ার পর থেকেই আমার চিন্তা, ভাবনায় ও মননশীলতাজুড়ে রয়েছে সিনেমা নির্মাণ। এবং সে দিকেই আমি এগিয়ে গেছে। সিনেমা বা চলচ্চিত্র যাই বলি না কেন ভালো মানের এবং দর্শক নন্দিত ফিল্ম বানানোই আমার আপাতত পরিকল্পনা। সেদিক থেকে আমি দু'টি সিনেমার স্ক্রিপ্ট রেডি করে ফেলেছি। আশা করছি এ বছরেই আমার পরিকল্পিত সিনেমার কাজে নেমে পড়তে পারব। আর এটাই ছিল আমার এতদিনের স্বপ্ন।'

ছবি আশীষ সেনগুপ্ত

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
মির্জা ফখরুল বলেছেন নির্যাতন নিপীড়ন আওয়ামী লীগের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য, তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। তার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?
6 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২০
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :