The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৩, ৭ চৈত্র ১৪১৯, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ফুটবল: এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে মূল পর্বে বাংলাদেশ | রাজধানী হাতিরঝিলে বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত নিহত | রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মরদেহ সিএমএইচ হাসপাতালের হিমঘরে | প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরবে; দাফন রাজধানীর বনানী কবরস্থানে | বঙ্গভবনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

মূল ফিচার

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র

মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে দেশকে হানাদারদের কবল থেকে রক্ষা করতেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ। এরপর এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি প্রিয় স্বাধীনতা। বাঙালির সবচেয়ে বড় এই অর্জনকে নতুন প্রজন্ম তথা সারা দেশের মানুষের কাছে স্মরণীয় করে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ দেশের গণমাধ্যম। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন এমনকি আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্র—মুক্তিযুদ্ধের জয়গান সর্বত্রই। স্বাধীনতার এই মাসে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

খালেদ আহমেদ

বাঙালির সবচেয়ে বড় অর্জন মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এ দেশের মানুষের আবেগ ও অনুভূতিটা একটু বেশিই। স্বৈরাচারী পাকিস্তানি বাহিনীর কাছ থেকে স্বাধীনতার লাল সূর্যকে ছিনিয়ে আনতে আমাদেরকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পেয়েছি আমাদের পরম আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। একজন বাঙালি হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দেশের আপামর জনতা সব সময়ই হূদয়ের গভীরে লালন করেন। তেমনি প্রতিটি শিল্পী তার নানা কাজের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরেছেন ভিন্নমাত্রায়। আমাদের গণমাধ্যমও এর ব্যতিক্রম নয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র যেমন আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করেছে তাদের নানা পরিবেশনার মাধ্যমে, তেমনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও বাংলাদেশ বেতার মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয় পরিবেশন করেছে নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে। পাশাপাশি একই অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশন। বিশেষ করে আমাদের টিভি নাটকে মুক্তিযুদ্ধকে অনেক যত্নের সাথে তুলে ধরেছেন নির্মাতারা। তবে, আমাদের অহংকারের মুক্তিযুদ্ধকে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যম হিসেবে একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছে দেশীয় চলচ্চিত্র। বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র হিসেবে মুক্তি পায় চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত 'ওরা এগারো জন'। ছবির অধিকাংশ কলাকুশলী ছিলেন সদ্য মুক্তিযুদ্ধ ফেরত বাংলার সূর্যসন্তান। দর্শক টান টান উত্তেজনা নিয়েই উপভোগ করেছে ছবিটি। এ ছাড়াও মুক্তি পায় সুভাস দত্তের 'অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী', মমতাজ আলীর 'রক্তাক্ত বাংলা' ও আনন্দের 'বাঘা বাঙালি'। যুদ্ধাহত নবীন বাংলাদেশে যুদ্ধের পরের বছরই এ চলচ্চিত্রগুলো মুক্তি পায়। মুক্তিযুদ্ধের তাণ্ডবের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সবাই তখন পর্দায় উপভোগ করে তাদের কীর্তিগাঁথা। ১৯৭৩ সালে মুক্তি পায় আলমগীর কবিরের 'ধীরে বহে মেঘনা'। ওই বছরই 'আমার জন্মভূমি' ছবিটি নির্মাণ করেন আলমগীর কুমকুম। খান আতাউর রহমান নির্মাণ করেন 'আবার তোরা মানুষ হ'। যুদ্ধ ফেরত মুক্তিযোদ্ধাদের সাধারণ জীবনে ফিরে এসে দেশ গঠনের কাজে নিয়োজিত হওয়ার আহ্বান করা হয়েছে এ ছবিতে। ১৯৭৩ সালে এই তিনটি ছবির পর ১৯৭৪ সালে চাষী নজরুল ইসলামের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দ্বিতীয় চলচ্চিত্র 'সংগ্রাম' মুক্তি পায়। '৭৪ সালে মুক্তি পায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরেকটি ছবি মিতা পরিচালিত 'আলোর মিছিল'। ১৯৭৪ সালে মুক্তি পায় হারুনুর রশীদ পরিচালিত 'মেঘের অনেক রঙ'। '৭০-এর দশকেই নির্মিত হয় ফখরুল আলম পরিচালিত 'জয় বাংলা', এস আলী পরিচালিত 'বাঙালির ছাব্বিশ বছর'। আলমগীর কবির নির্মাণ করেছেন 'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে' আর শহীদুল হক খান নির্মাণ করেছেন 'কলমিলতা'। নব্বইয়ে দশকে এসে বেশ কিছু গুণী চলচ্চিত্রকার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বেশ ভালো কিছু চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন। তারেক মাসুদ অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আর সংগ্রামের পর নির্মাণ করলেন 'মুক্তির গান'। প্রশংসিত হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের ছবি 'আগুনের পরশমণি'। তারেক মাসুদের 'মাটির ময়না' ছবিটি সব মহলে প্রশংসিত হয়। আর এটাই বাংলাদেশের প্রথম অস্কারের জন্য মনোনীত কোনো চলচ্চিত্র। এতে মুক্তিযুদ্ধ উঠে এসেছে ভিন্ন আঙ্গিকে। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায় চাষী নজরুল ইসলামের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তৃতীয় ছবি 'হাঙর নদী গ্রেনেড'। ২০০৪ সালে মুক্তি পায় হুমায়ূন আহমেদের 'শ্যামল ছায়া' আর তৌকীর আহমেদের 'জয়যাত্রা'। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্র 'খেলাঘর'। এতে মুক্তিযুদ্ধকে সরাসরি দেখানো হয়নি একবারও, তবুও যুদ্ধের উত্তাপ ছিল প্রতি মুহূর্তে। 'খেলাঘর' চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন মোরশেদুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এ রকম বেশকিছু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে আমাদের দেশে। যদিও বিশ্বমানের চলচ্চিত্র খুব একটা হয়নি বলেই অনেক চলচ্চিত্র সমালোচকদের ধারণা। তবুও সব নির্মাতাই চেষ্টা করেছেন নিজ নিজ জায়গা থেকে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল সময়েই প্রগতিশীল চলচ্চিত্র নির্মাতারা মুক্তিযুদ্ধের ওপর কিছু প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। জহির রায়হান নির্মাণ করেন অনন্য ছবি 'স্টপ জেনোসাইড', যা বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরি করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অন্য চলচ্চিত্রগুলো হলো—আলমগীর কবিরের 'লিবারেশন ফাইটার্স', শুকদেবের 'নাইন মান্থস টু ফ্রিডম' ও বাবুল চৌধুরীর 'ইনোসেন্ট মিলিয়নস'। যুদ্ধের ময়দান থেকেই বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সঙ্গে সঙ্গে প্রামাণ্যচিত্রের ইতিহাস শুরু হয়। ১৯৭২ সালে নির্মিত হয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'প্রোগ্রাম ইন বাংলাদেশ'। ১৯৮৪ সালে নির্মিত হয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'আগামী', ১৯৮৬ সালে 'প্রত্যাবর্তন'। এর পরিচালক ছিলেন মোরশেদুল ইসলাম। আর এই গুণী পরিচালকের হাতেই ১৯৮৮ সালে নির্মিত হয় 'সূচনা'। ১৯৮৯ সালে আক্তার হোসেন নির্মাণ করলেন 'দুরন্ত'। ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এই দশ বছরে নির্মিত হয়েছে আরও বেশকিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ১৯৯০ সালে নির্মিত হয় 'একজন মুক্তিযোদ্ধা' ও 'ধূসর যাত্রা'। ১৯৯৩ সালে নাসির উদ্দিন ইউসুফ নির্মাণ করেন 'একাত্তরের যীশু'। ২০০৪ সালে তানভীর মোকাম্মেল নির্মাণ করেন 'স্মৃতি ৭১'। এর আগের বছর কাওসার চৌধুরী তৈরি করেন 'সেই রাতের কথা বলতে এসেছি'। এ স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিটি দর্শক ও সমালোচকদের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এপর আরও বেশকিছু মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হলেও সবচেয়ে আলোচনায় আসে 'গেরিলা'। ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। এই চলচ্চিত্রটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত। সৈয়দ শামসুল হকের 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে এটি। 'গেরিলা' ছবিটিতে অভিনয় করেছেন সহস্রাধিক শিল্পী। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান, ফেরদৌস, এটিএম শামসুজ্জামান, রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযূষ বন্দোপাধ্যায়, শতাব্দী ওয়াদুদ, শম্পা রেজা, গাজী রাকায়েত প্রমুখ। 'গেরিলা' চলচ্চিত্রটি বাণিজ্যিকভাবেও দারুণ সফল হয়েছে। মুক্তির ১০০ দিন পরেও ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্স ও বলাকা সিনেওয়ার্ল্ডে প্রায় প্রতিটি প্রদর্শনীতেই দর্শক উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। চলচ্চিত্রটি ২০১১ সালে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে অংশগ্রহণ করে এবং ১৭তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব ২০১১-এ নেটপ্যাক পুরস্কার জিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ভূমিকা রাখে। 'গেরিলা' চলচ্চিত্রের জন্য নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালক হিসেবে ও জয়া আহসানকে প্রধান চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হয়।

এবং 'হূদয়ে ৭১'

একজন নারী মুক্তিযোদ্ধার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র 'হূদয়ে ৭১'। রোকেয়া ইসলামের রচনা এবং মির্জা রাকিবের কাহিনীবিন্যাস ও সংলাপে এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সাদেক সিদ্দিকী। ঢাকার দোহার উপজেলার কার্তিকপুরে এবং উত্তরার বিভিন্ন লোকেশনে এই চলচ্চিত্রের শুটিং হয়েছে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমন, রোমানা, আন্না, সাগর, সাইফ খান, রাখী, শহীদুল আলম সাচ্চু, হীরা, আশরাফ কবীর, আব্বাসউল্লাহ, মারুফ, আমীর, উদয় খান, নিশু রহমান আরও অনেকে। চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে পরিচালক সাদেক সিদ্দিকী আরও বলেন, 'এক নারী মুক্তিযোদ্ধার গল্প নিয়ে এই চলচ্চিত্র। এখানে তার জীবনের নানা ঘটনা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আশা করছি এটা দর্শকদের ভালো লাগবে। সবমিলিয়ে এটি দর্শকদের জন্য একটি আলাদা চমক হবে।' উল্লেখ্য 'হূদয়ে ৭১' চলচ্চিত্রটি আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সারাদেশে মুক্তি পাবে। পাশাপাশি ওই দিন এটিএন বাংলায় এই চলচ্চিত্রে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
মির্জা ফখরুল বলেছেন নির্যাতন নিপীড়ন আওয়ামী লীগের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য, তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। তার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?
8 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ২৪
ফজর৪:১৯
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:২৮
এশা৭:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৩৭সূর্যাস্ত - ০৬:২৩
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :