The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৩, ৮ চৈত্র ১৪১৯, ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ মিয়ানমারে আটক ৪ বাংলাদেশির মুক্তি অনিশ্চিত | পরশুরাম থেকে ৬ শিশু ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় বাহিনী | ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডোতে নিহত ৯, আহত ৩০০ | রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাষ্ট্রপতির দাফন সম্পন্ন

টেলিফোনে পাঠকের মতামত

মানবসেবাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে

ানবসেবাকে রাজনীতির মূলমন্ত্র হিসাবে গ্রহণ করা উচিত। দেশের রাজনীতিকেরা যদি মানবতার সেবা করার উদ্দেশ্যে রাজনীতি করেন তবে ব্যক্তিগত স্বার্থচিন্তা অনেকটাই বিলুপ্ত হবে। দেশের অরাজকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার কমে দেশে শান্তি বিরাজ করবে। দেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে ও জনগণের মধ্যে নেতার প্রতি বিশ্বাস সৃষ্টি হবে।

নাসিরউদ্দিন ফুরকান

বাংলা বিভাগ,

সরকারি বাঙলা কলেজ, ঢাকা

দেশ এখন রাজনীতির নৈরাজ্যবাজ, সহিংসতা আর সংঘাতের কবলে। এই কারণে জানমালের ক্ষতি, জ্বালাও-পুড়াও আর হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ ঘটে যাচ্ছে। লুণ্ঠিত মানবাধিকার, বিপন্ন গণতন্ত্র, সংকটে দেশ আর আতংকে জাতি। এই মুহূর্তে মানবসেবার উত্তরণ জরুরি। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে বিবেকহীন ব্যক্তিত্ব বিবেকবর্জিত মহলকে চিহ্নিত করে তাদের পরিহার করা প্রয়োজন। তাদের কারণেই আজ দেশের গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়েছে। দেশ এখন গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে। তারা কি জানেন দেশের এই পরিণতির শেষ কোথায়। তাই এখন মানবসেবার উত্তরণ ঘটাতে হবে। আর জরুরিভাবে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে জাতিকেই।

শাহ্ মো. হেলাল উদ্দিন হিরু

কালিহাতী, টাঙ্গাইল

রাষ্ট্রপরিচালনার প্রথম এবং প্রধান নীতি হচ্ছে গণতন্ত্র। একটি দেশের গণতন্ত্র প্রথমেই সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠে যখন দেশের প্রতিটি মানুষ নিজের দায়িত্ববোধ, আচার-আচরণ, কথা-বার্তা, সংযম এবং অন্যের অধিকার ও নিজের অধিকারের সীমা সম্পর্কে সচেতন হয়। দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে মনে হয় দেশে এখন বল প্রয়োগের রাজনীতি চলছে। সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি থেকে দেশকে সকলের জন্য নিরাপদ করে তোলার জন্য সঠিক কাজটি সাধারণ মানুষ দেখতে চায়।

মো. মোতাসিন বিল্লাহ

শালটি বাড়ি, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারি

গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে আজকের দিনের রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা। এ সহিংস রাজনীতি থেকে দেশও জনগণকে মুক্তি পেতে কতকাল অপেক্ষা করতে হবে জানি না, তবে জনগণের জন্য সেবা বর্ধিত করলে রাজনীতি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে অথবা বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণ হলেও হতে পারে। জনগণ রাজনীতিবিদদের কাছে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করে বাঁচতে চায় না, তারা চায় যোগ্য ও সত্ মানুষের হাত দিয়ে রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হোক। ক্ষমতার আস্ফাালন জনগণ কখনো পছন্দ করেনি, করবেও না। মানুষ চায়— দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রিত থাকুক, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হোক, সাথে সাথে দেশে শিক্ষর অধিকার অবারিত হোক। হরতাল, হত্যা, ভাঙচুর জনগণের কোন মঙ্গল সাধন কবে না। মেকিয়াভেলির ভাষায়, রাজনীতিবিদদের শিয়ালের মতো চতুর হতে হয়। বাস্তবিক অর্থে চতুর চরিত্র জনগণের কল্যাণ করে না। আমরা সেই রাজনীতি ও রাজনীতিবিদ চাই যারা জনগণের সেবক হিসাবে কাজ করবে।

ওয়াহিদ মুরাদ

দিলু রোড,

নিউ ইস্কাটন, ঢাকা

মানবসেবা সর্বক্ষেত্রে সকল সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ। এই সাথে আমি আজ পোপ-এর উক্তির সূত্র ধরে বলতে চাই, দরিদ্র ও দুর্বলকে রক্ষার আহ্বান তাঁর। দেশের বড় দুই দলের দুই নেত্রীর উচিত বিদেশি কূটনৈতিকদের কথার দিকে না তাকিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনার পথ সৃষ্টি করুন। গণতন্ত্র ঠিক রেখে উন্নয়ন এবং জনসাধারণকে প্রাধান্য দিয়ে দেশ সেবার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা দ্বারা এগিয়ে যান ততে গরিব আর গরিব হবে না— খুন-রাহাজানি বন্ধ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সচল হবে, হিংসা-বিদ্বেষ দূর হবে। ভ্রাতৃত্ববোধ ফিরে আসবে এবং দেশে সুন্দর পরিবেশ ফিরে আসতে সক্ষম হবে।

এম মতিউর রহমান

৫/১ সিদ্ধেশ্বরী, আমিনাবাদ কলোনী, ঢাকা

মানবসেবা উত্তম সেবা। আর এই মানবসেবায় নিয়োজিত করতে হবে আমাদের সবাইকে। বিগত দিনে বাংলাদেশের মানবসেবায় জড়িত ছিল যারা তারা মানবসেবা না করে জনগণকে দুর্বিষহ জীবনে পতিত করেছে। তাই মানবসেবার দায়িত্ব নিয়ে যারা কাজ করছে তারা মানবসেবা না করে নিজের সেবা করছে। ফলে দেশে সৃষ্টি হচ্ছে সহিংস রাজনীতি। তাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে মানবসেবায় নিয়োজিত হতে হবে। সুতরাং মানবসেবাই হোক প্রকৃত সেবা।

ফারুক আহমেদ

বাঘমারা, রাজশাহী

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজকু। কোন কিছুতেই দেশের মানুষ আশার আলো দেখছে না। তাই আমি বলবো জাতীয় দুই নেত্রী পরস্পরের অস্তিত্ব স্বীকার করে সমঝোতার রাজনীতির পথেই এগিয়ে আসবেন। প্রতিহিংসার রাজনীতি কোন সুফল বয়ে আনবে না। এতে করে কোন মানবসেবামূলক কাজ হবে না। রাজনীতি আমাদের কারোর জন্য মঙ্গলজনক নয়।

সৈয়দা নাসরিন সুলতানা

স্যানি সাইড, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

ভালো কাজের জন্য পুরস্কার অবশ্যই আছে। তাই দু'নেত্রীকে বলবো ভালো কাজের জন্য নেমে পড়ুন। জনগণ অবশ্যই ভালো কাজের জন্য আপনাদের ভালবাসবে।

শাহানারা ইয়াসমিন

মিরপুর, ঢাকা

অভিজ্ঞ মহল যাই মনে করুন না কেন আমি বলবো এই মুহূর্তে দরকার গণতন্ত্রকে রক্ষা করা।

মো. সেলিম

মহাখালী, ঢাকা

রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে মানুষ মুক্তি চায়। মানুষ চায় শান্তি সুখ ও নিরাপদে বসবাস করতে। প্রয়োজন তাই গণতন্ত্র ও মানবসেবাকে বিশেষ করে কাজে লাগানো।

মোস্তান সিরুন

ধানমন্ডি, ঢাকা

দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এবং জাতীয় উন্নয়নে দুই নেত্রীর ভূমিকা রয়েছে। আমরা মনে করি, জাতীয় নেতাদের মতো তাদের জীবন, কর্ম ও ভাষা থেকে আগামী প্রজন্ম শিক্ষা গ্রহণ করবে। এতে করে মানবমূলক কাজের ধারা আরো শক্তিশালী হবে।

আইরিন সুলতানা সন্জু

ধুপপুল, মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম

সভ্যতার বিকাশ পর্ব থেকেই পৃথিবী মানবের তরে বলেই বিবেচিত হয়ে আসছে, দানবের তরে নয়। কিন্তু সময়ে সময়ে নানা অশুভচক্রের থাবায় ভ্রম হয় পৃথিবীটা দানবের তরে চলে গেল কিনা? অবশ্য সেই ভ্রম ক্ষণিকের জন্য বটে। কারণ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষকে তার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার জন্য মানবতার জয়গান গেয়েই এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক রাজনীতির আকাশ ঘন কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। চতুর্দিক থেকে কাল নাগিনীরা কখনো সামপ্রদায়িকতার আড়ালে, কখনো ধর্মান্ধ আড়ালে, কখনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ছদ্মাবরণে, কখনো বিধিবদ্ধ বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে হিংস ছোবল দিয়ে যাচ্ছে। ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মূলত রাজনৈতিক কারণেই এ ধরনের নৃশংস ঘটনা অহরহ ঘটছে। অথচ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা রাজনীতিতে জনকল্যাণধর্মী কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি দিয়ে গেছেন। সেই কল্যাণধর্মী কর্মকাণ্ডকে বেগবান করার জন্য গণতন্ত্রকেই উত্কৃষ্ট পন্থা হিসেবে নিরূপণ করা হয়েছে। হাল আমলের ব্যতিক্রমধর্মী অর্থনীতির প্রবক্তা নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনও কল্যাণধর্মী ও দারিদ্রবান্ধব রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থায় গণতন্ত্রের মাহাত্ম্য সবিশেষ গুরুত্বের সাথে ব্যক্ত করেছেন। এই গণতন্ত্রের প্রকৃত অলংকার হলো পরমত সহিষ্ণুতা। সেটা ধীরে ধীরে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলেই নানা অশুভচক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবং জাতীয় জীবনে বিভিন্ন ট্র্যাজিডিপূর্ণ ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে যাচ্ছে। অথচ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচিত দল সরকারি দল হিসেবে যেমন সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করবে তেমনি বিরোধী দল ছায়া মন্ত্রীসভা হিসেবে বিরাজমান থেকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার হাতকে শক্তিশালী করার নিয়ামক হিসেবে কাজ করে যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, সংশ্লিষ্টদের এধরনের ছায়া মন্ত্রীসভার অস্তিত্ব্ব স্বীকার করা তো দূরের কথা বরং আমাদের সরকার দলীয় সংসদীয় নেত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং ছায়া প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর মধ্যে কথাবার্তা, আলাপ-আলোচনা, পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় তো দূর অস্ত বরং একে অপরের চোখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ। আমরা যদি প্রকৃতির দিকে তাকাই তা'হলে দেখতে পাই প্রকৃতির সকল আইন সর্বক্ষেত্রেই মানব কল্যাণের জন্য নিবেদিত। পৃথিবীর সকল ধর্ম, মতবাদ, আইন-কানুন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একমাত্র মানব কল্যাণের জয়গান গেয়েই এবং মানবসেবা করেই। পৃথিবীর সর্বশেষ ধর্ম ইসলামের প্রচার, প্রসার ও প্রতিপত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়াসহ অর্ধ পৃথিবীর শাসন কার্য পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে মানবকল্যাণের বিপ্লবাত্মক পদক্ষেপগুলোর কারণেই এবং উক্ত ধর্মের প্রবক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা হযরত মোহাম্মদ (সা) আরব বিশ্বের ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলের কাছে আল-আমিন নামেই পরিচিত ছিলেন। তিনি মানবতার অবতার হিসেবে ইসলামের মহাশত্রু বহু ইহুদির সেবা পর্যন্ত স্বহস্তে করেছেন। আমরা নিকট অতীতে দেখেছি বাংলার বাঘ খ্যাত শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক অপরের কল্যাণে নিজ অর্থ সাহায্য করে সংকুলান না হওয়ায় তখনকার দিনের মহাজন কাবুলিওয়ালাদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে টাকা ধার করে সাহায্য প্রার্থনাকারীদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন। পরবর্তী পর্যায়ে দেনার দায়ে কাবুলিওয়ালাদের অত্যাচারে ঘর থেকে বের হয়ে তাঁর তখনকার কর্মস্থল কোর্টে যেতে না পেরে তিন দিন একনাগাড়ে অভুক্ত ছিলেন। এতে তাঁর গৌরব কমেনি বরং শতগুণে বেড়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে থাকা অবস্থায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে কারাগারে আটক বহু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের খাবার তাঁর নিজের বাসা থেকে পাঠানোর ব্যবস্থা করে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। তাছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সাথে তাঁর শিষ্টাচার কিংবদন্তীতুল্য। বাংলাদেশের বর্তমান শাসক গোষ্ঠী যে গণতন্ত্রের নামাবলী গায়ে জড়িয়ে দেশ শাসন করছে সেই গণতন্ত্রের সংজ্ঞা সংজ্ঞায়িত হয়েছে The Government of the people, by the people and for the people বলেই। কাজেই গণমানুষকে বাদ দিয়ে এবং তাদের হিত সাধন না করে গণতন্ত্রের উত্তরণ কিংবা তাকে টিকানো সম্ভব নয়। আমরা কি ভুলে গেছি, "নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল, বৃক্ষ কভু নাহি খায় নিজ নিজ ফল; গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান, কাষ্ঠ দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্নদান"। তাই আসুন না ম্রিয়মাণ আশার আলো এবং গভীর থেকে গভীর সংকটে নিপতিত দেশের বর্তমান সংঘাতময় সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রকৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে মানবসেবায় এগিয়ে আসি।

ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী,

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পূর্বাভাস দেবার মতো বিশ্লেষক আমি নই। কিন্তু মানবসেবাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এ কথার সাথে আমি একমত হতে পারছি না। অবশ্যই অভিজ্ঞমহল মনে করতে পারেন যে, মানবসেবা গণতন্ত্র শক্তিশালী করে; কিন্তু আমার সুচিন্তিত মতামত হলো- আমাদের বুঝতে হবে সময়, স্থান, কাল, পাত্র। এই মুহূর্তে মানবসেবা নয়। সঠিক বোধদয় ও দেশপ্রেমিক হওয়া প্রয়োজন। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য নয় বরং গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য এই মুহূর্তে যে রাজনৈতিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। আমাদের উচিত হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে স্বদেশপ্রেমী হওয়া।

মোহাম্মদ কাবিউল ইসলাম

সহকারী শিক্ষক,

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

রাজনীতিতে গঠনমূলক সমালোচনা এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারই জনসাধারণের মন জয়ের সর্বোত্তম উপায়। গণতন্ত্রকে সত্যিকার মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজন মানবসেবা। মানবসেবার কোন বিকল্প নেই।

আবদুল মালেক মিয়া

মিরপুর-১, ঢাকা

দুই বড় দল প্রধান এখন সংযম আচরণের পরিচয় দিন। তাহলেই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা সহজ হবে।

ফারুক আলম

মালিবাগ, ঢাকা

হরতাল আর হরতাল দিয়ে কখনো কোন সরকারকে দমানো যায়নি। কখনও কখনও পরস্পর পালটাপালটি কড়া বক্তব্য দিয়ে জনসাধারণের মন জয় করা যায় না। মন জয় করতে হলে প্রয়োজন ভালোবাসা ও মানবসেবা।

নীলুফা আক্তার

টোলারবাগ, মিরপুর-১, ঢাকা

সুস্থধারার রাজনীতি ও টেকসই গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা এবং আন্তরিকতা ও মানবসেবার কাজে নিয়োজিত হওয়া একান্ত জরুরি।

মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদউল্লাহ

মিরপুর-১, ঢাকা

মানবসেবা ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন সহিষ্ণুতা ও শিষ্টাচার। একটাকে বাদ দিয়ে অন্যটি সম্ভব নয়। গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে কোন কিছু সম্ভব নয়।

লাড্লা

আজিমপুর, ঢাকা

দেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনই সংঘাতময়—এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দুই বড় দলের মধ্যে সমঝোতা একান্ত প্রয়োজন। অন্যদিকে দেশের জনসাধারণের মধ্যে মানবসেবামূলক কিছু গ্রহণযোগ্য বিষয় নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

সৈয়দা পারভীন সুলতানা

ঝিনাইদহ

দক্ষিণ এশিয়ার মানব উন্নয়নে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। এদেশের জনসাধারণ দারিদ্র্যসীমার মধ্যে বসবাস করে। তবে এদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সফল হচ্ছে না।

খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ

একটি দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় সে দেশের সম্মিলিত মানবসেবাকে বুঝায়। আধুনিক বিশ্বের উন্নত দেশসমূহের দিকে তাকালে দেখা যাবে, সে দেশের রাজনীতিবিদরা সব সময় দেশ ও জাতির কল্যাণে রাজনীতি করে আসছে। কিন্তু আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার কারণ হিসাবে দেখা যায়, এখানকার রাজনীতিবিদরা শুধু তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার জন্য অবৈধ অর্থের বিনিময়ে রাজনীতি করে যাচ্ছে। যেমন এদেশের যতগুলো রাজনৈতিক দল আছে কেউ কারোর প্রতি সাবলীল ভাষায় কথাবার্তা বলে না। সব সময় দেখা যায়, একে অপরের খারাপ দিকগুলো তুলে ধরে। এতে বোঝা যায় এদেশের রাজনীতিতে কখনও সম্মিলিত মানব কল্যাণ ও গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে বলে মনে হয় না।

মো. সিরাজুল মনির

গুলশান-১, ঢাকা

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, মানবসেবা কিংবা দেশসেবার কোনো বালাই নেই। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, খুন, ঘুম, রাহাজানি ইত্যাদি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকন্তু আগামী নির্বাচন এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এই দুইটি অমীমাংসিত রয়ে গেল। এই মুহূর্তে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি সরকার মেনে নিলে দেশে সিংহভাগ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

শাহ আলম খান

সরল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম

ভূপেন হাজারিকার সেই বিখ্যাত গানের কলি থেকে বলছি, একমাত্র মানবসেবাই একজন মানুষকে উন্নত ও মর্যাদাশীল প্রকৃত মানুষরূপে পরিণত করতে পারে। সুনাম কিংবা পুণ্যের আশায় মানবসেবা প্রকৃত মানবসেবা নয়। এই সেবা নিজ থেকে যাদের মধ্যে জাগ্রত হয় তারাই তা সঠিকভাবে পালন করতে পারে। প্রকৃত মানবসেবায় ব্রত যারা তারা পরের জন্য বিসর্জন দিতে পারে নিজের আরাম আয়েশ ভোগ বিলাশকে। আর্তমানবতার সেবায় বিলিয়ে দিতে পারে নিজেকে। কিন্তু আমাদের দেশের আজকের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে? একবাক্যে সবাই বলবে রাজনীতিবিদরা। সমস্যা যে প্রতিনিয়ত তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। দেশের স্বার্থে তারা ত্যাগ করতে পারছে না ব্যক্তি স্বার্থ তথা দলীয় স্বার্থ। প্রতিমুহূর্তে বিপন্ন হচ্ছে মানবতা। আইনের শাসন আজ কোথাও কায়েম নেই। জনপ্রতিনিধি হয়েও তারা বেমালুম ভুলে যাচ্ছে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা। ভৌগোলিক সীমারেখায় ছোট হলেও কী নাই আমাদের বাংলাদেশে। প্রাকৃতিক সম্পদে ও সৌন্দর্যে ভরপুর এদেশটি আজ আন্তর্জাতিক হায়েনাদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। অনেক দূরে বসে তারা রিমোট কন্ট্রোল দ্বারা অত্যন্ত সুকৌশলে দেশটিকে ঠেলে দিচ্ছে গৃহযুদ্ধের দিকে। রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এ সমস্ত চাল বুঝেও না বোঝার ভান করছে। কথায় কথায় হরতাল ভাঙচুর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। মানবসেবা তথা দেশ প্রেমের বিন্দু পরিমাণ রেশ না থাকার কারণেই সরকারি দল ও বিরোধীদল আজ বিপরীতমুখী অবস্থানে। মানবপ্রেমের পরিবর্তে তারা আজ ব্যস্ত নিজ প্রেম ও দলপ্রেম নিয়ে। রাজনীতিবিদদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে বিদেশের মাটিতে আর আমাদের দেশের অনেক শিশু তাদের মৌল মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা বেঁচে থাকার তাগিদে রাস্তায় ভিক্ষা করছে। কখনো বেছে নিচ্ছে ঝুকিপূর্ণ কাজ। জাতিসংঘের শিশুসনদ আইনে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। ধনী দরিদ্রের এত বৈষম্য পৃথিবীর আর কোন দেশে নেই। তাই রাজনীতিবিদরা যদি প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে ভাবে, অন্যের অধিকার নিয়ে ভাবে তবেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে এবং এ জাতির ভাগ্যাকাশে কালো মেঘ কেটে দেখা দিতে পারে আশার আলো।

ডা. মর্জিনা আক্তার

বারিধারা পাইল্স কিউর সেন্টার,

গুলশান, ঢাকা ১২১২

মানবসেবা সমষ্টিগত বিষয়। সমষ্টিগত বিষয়টি যখন রাজনৈতিক কূটচালে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়, তখন মানবসেবা হয়ে পড়ে উপেক্ষিত। অথচ রাষ্ট্রের ভাইটাল অলংকারের প্রধান স্তম্ভ জনসমষ্টি, সেবা বঞ্চিত জনসমষ্টি দ্বারা রাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেখা সম্ভব নয়। রাজনীতিকরা গণতন্ত্র ও জনগণের শাসন বলে যে স্লোগান দেন, মূলত তাহলো কৌশলিক এক বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ছাড়া কিছুই না। এ পর্যায়ে রাষ্ট্র গণতন্ত্রের পথ মাড়াতে ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি হাঁড়ির হাল হয়েছে, ইতিমধ্যে বাঙালি না বাংলাদেশি, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে না বিপক্ষে, স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্কে, সুশীল-কুশীল সমাজ নির্মাণে, বুদ্ধিজীবী নির্বুদ্ধিজীবী সৃষ্টি করে, অপরদিকে রাজনীতির ভাষা প্রয়োগে রক্ত, লাশ, রাতের আঁধার, বন্দুকের নল, আস্তিক-নাস্তিক, এর অতিমাত্রার চর্চায় আমাদের সমাজের নিবিড় বুননটা টুকরো টুকরো হয়ে, ব্যক্তিতে এসে ঠেকেছে, ব্যক্তি এখন আমিত্ব নিয়ে নিজের মনমতো চলছে বিধায় সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়েছে। সংঘাত সংঘর্ষ দিয়ে আর যাই হোক গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদেয়া সম্ভব নয়। সম্ভব নয় বর্তমান রাজনৈতিক সৃষ্ট সমস্যা দূর করা। রাজনৈতিক ঘোলাটে পরিবেশে এক চিলতে আলো দেখতে সবাইকে দেশপ্রেমের অগ্নিমন্ত্রের দীক্ষা নিতে হবে। সমাজকে টুকরো টুকরো না করে বৃহত্ জাতি গঠনের পথে হাঁটতে হবে। অলক্ষ্যে আমাদেরকেও ব্যবহার করছে কিনা বা ব্যবহূত হচ্ছি কিনা, তা অনুধাবনিক জ্ঞান সঞ্চয় করতে হবে, জোড়াতালি দিয়ে রাষ্ট্র টেকে না বড়জোর কাগজ দিয়ে ফুটো বন্ধ করা যেতে পারে। কিন্তু তাতে ভবিষ্যত্ নির্মাণ তথা গণতন্ত্রের স্বস্তিদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা যাবে না। ঘৃণা বিদ্বেষ দিয়ে রাষ্ট্রের সংহতি নির্মাণ করা যায় না। এ মুহূর্তে বৃহত্ জাতি গঠনের কোনো বিকল্প নেই।

মুরাদ হোসেন

মধুখালী, ঝিকর গাছা, যশোর

পৃথিবীতে যত ধর্মাবলম্বী রয়েছেন, সকল ধর্মাবলম্বীই স্বীকার করেছেন যে, মানবসেবাই পরম ধর্ম। মানুষের কল্যাণে সাধন করাই হলো মানবতার মূল মন্ত্র। হযরত মোহাম্মদ (সা) এরই ভিত্তিতে পৃথিবীতে ধর্ম প্রচার করে গেছেন। এ লক্ষ্যে যুগে যুগে পৃথিবীতে নগর, বন্দর, রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে। ঠিক তদ্রুপ আমাদের বাংলাদেশও গণতান্ত্রিক কল্যাণে রাষ্ট্র হিসাবে বিগত ৪২ বছর আগে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। আর এর রাষ্ট্রীয় শাসনভার একজন গণতন্ত্রমনা সুযোগ্য নাগরিকের হাতে ন্যস্ত হয়েছিল। যার নাম আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তথাপিও বলা দরকার— তিনি হলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা তার মানবসেবা বেশিদিন ভোগ করতে পারিনি। যা হোক, বর্তমানে আমাদের দেশে যে গণতান্ত্রিক সঙ্কট বিরাজ করছে তা যদি দলমত নির্বিশেষে গণতান্ত্রিক উপায়ে উত্তরণ ঘটানো না যায় বা মানবের কল্যাণে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী না করতে পারি তবে ঐ গণতন্ত্র কোনোদিনই শক্তিশালী মানবসেবার গণতন্ত্র হিসাবে পরিগণিত করা যাবে না বলে আমি মনে করি।

আলহাজ মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম (হিফজু)

হাউজিং স্টেট, রাজশাহী ৬২০২

আমাদের দেশে গণতন্ত্র এক আস্থাহীন প্রক্রিয়া। অনেকে মনে করেন, প্রচলিত গণতান্ত্রিক ধারায় আমাদের জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। ৪২ বছরের পরেও গণতন্ত্রের সৃষ্টি হয়নি। আজো রাষ্ট্র পরিচালনায় কল্যাণকর পথটি শনাক্ত হয়নি। এপথ না ঐপথ ভালো তা কেউ বোঝে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় চলে কানামাছি খেলা। জনগণ বিভ্রান্ত রাষ্ট্রের কর্ণধারদের নিয়ে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের গণতন্ত্র যেন ভানুমতির খেলা।

সুমন শিকদার

মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা

বাংলাদেশে এখন যে রাজনীতির ধারা চলছে, রাজনৈতিক দলের বাহিরে ও ভিতরে কোথাও গণতন্ত্র নেই। এখন সরকারি দল ও বিরোধী দলের ভিতরে কোনো গণতন্ত্র নেই। তাহলে দেশের গণতন্ত্রের কথা তারা কীভাবে বলেন? এখন যে রাজনীতি চলছে সেখানে গণতন্ত্রের ছোঁয়া নেই। হরতালে মানুষ পোড়ানো ও ডাক্তারদের গাড়িতে যেভাবে আগুন দিয়ে পোড়ানো হলো, সংবাদপত্রের গাড়িতে যে আগুন দেয়া হলো, সেটা কি গণতন্ত্র? বিরোধী দল ও সরকারি দলের নেত্রীর কাছে আবেদন, আগে গণতন্ত্র চর্চা করুন— এর পর গণতন্ত্রের কথা বলুন।

সৈয়দ হায়দার আলী

মহাখালী, ঢাকা

মানবসেবা মহত্ সেবা। দেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় মানবসেবা। মানবসেবার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।

হোসনে আরা

এনায়েতগঞ্জ লেন, ঢাকা

দেশে দিন দিন সহিংসতা বেড়ে চলেছে। নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘটে চলেছে সহিংসতা। তাতে প্রাণহানি হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে সম্পদ। সম্প্রতি খালেদা জিয়া বলেছেন, আন্দোলন করতে গেলে হয়তো আরো কিছু প্রাণহানি হবে। জানমালের ক্ষতি হবে। আমার কথা হচ্ছে— আমাদের প্রতিবাদ হোক সুস্থ, মানবিক মূল্যবোধের। নাশকতা পরিহার করে ইতিবাচক রাজনীতির সংস্কৃতি সচল হোক। এই সংকট নিরসনে উভয় দলকে মানবসেবামূলক কাজে নিয়োজিত হওয়া দরকার।

এস কে মোহাম্মদ রমিজ উদ্দিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

কোথায় সুখ, কোথায় শান্তি, কোথায় আশার আলো। দুই মহিলার হিংসাত্মক রাজনীতির কারণে দেশ আজ ঘোর অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাঁদের প্রতিহিংসার কারণে কত মায়ের কোল খালি হচ্ছে, কত নারী স্বামীহারা হচ্ছে। এর জবাব কে দেবে? কত সন্তান পিতৃহারা হচ্ছে—এর দায় কে নেবে? এর সান্ত্বনার ভাষা কী? মানুষ হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর, দেশের সম্পদ নষ্ট করার অধিকার কে কাকে দিয়েছে? ব্যবসা-বাণিজ্য সব পিছিয়ে যাচ্ছে। দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। ঘরে-বাইরে আলোচনা হচ্ছে— দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সেনাবাহিনীর বসে থাকা উচিত নয়। সেনাবাহিনী ২ বছরের জন্য হাল ধরুক এবং একজন ভালো ও যোগ্য প্রতিনিধি দেশবাসীকে উপহার দিয়ে আবার ব্যারাকে ফিরে যাক।

তাহমিনা আক্তার মিনু

পিরোজপুর হাউজ,

উত্তর বাড্ডা বাজার, ঢাকা

সংসদীয় গণতন্ত্র চলছে দেশে—এটাকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন— এটা সরকারের মনোভাব; কিন্তু বিরোধী দল বলছে, তাদের সে সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। সংসদকে কার্যকর করার জন্য বিরোধী দলকে সব সময় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে হবে। এদেশের প্রশাসন আরো এগিয়ে নিতে হবে।

এন জামান

জামালপুর

মানবসেবা এমনই এক সেবা যার মধ্যে রয়েছে মানুষের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনই দেখা যাচ্ছে যে, কোথাও সুখের মুখ দেখা যাচ্ছে না। বরঞ্চ দিন দিন আরো সঙ্কট বাড়ছে। সুতরাং এ থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হচ্ছে মানবসেবা।

মুজিব

উত্তরা, ঢাকা

জনগণের শাসনই গণতন্ত্র। গণতন্ত্র দু'ভাগে পরিচালিত হয় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে। সরকার পরিচালনায় প্রত্যক্ষভাবে জনগণ জড়িত থাকে বলে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র। সরকার পরিচালনায় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি শাসনকার্য পরিচালনা করে বলেই তাকে পরোক্ষ গণতন্ত্র বলা হয়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ গণতন্ত্রের মানবসেবাই মূল কথা। বাংলাদেশ নির্বাচিত সরকার দ্বারা পরিচালিত হয় বলেই পরোক্ষ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সংবিধান অনুসারে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হওয়া জরুরি। দেশরক্ষা ও মানবসেবার জন্যই দেশের সরকার রক্ষী বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী, মন্ত্রী পরিষদ, সেনাবাহিনী রেখেছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে যে সংঘাতের রাজনীতি চলছে বিশ্বের অভিজ্ঞ মহলও হতবাক হয়ে যাচ্ছে। এই সংঘাত রাজনীতিবিদদেরই সমাধান করা উচিত বলে আমি মনে করি। হিংসা-বিদ্বেষ, সহিংসতা, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মকে অবমাননা করা, রাজনীতিবিদদের কাজ নয়। নবনির্বাচিত মাননীয় পোপ বলেছেন, দারিদ্র্য ও দুর্বলদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে যেতে, সবার প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন, বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধদের পাশে দাঁড়াতে। অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক জীবনে দায়িত্ববানদের সৃষ্টিশীলতা রক্ষা করার আহবান জানিয়েছেন। এ পথে আশার আলো আছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন। অন্যথায় মানুষ ধ্বংস, নিমর্মতা ও মৃত্যুর পথে ধাবিত হবে। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টবস্তু ধ্বংস করার অধিকার কারোরই নেই। সকল ধর্মের মূল বাণী সবার উপরে মানুষ সত্য। মানবসেবাই ধর্ম। মানবসেবার গুরুত্ব নিয়ে কবি বলেছেন,

পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি

এ জীবন মন সকলেই দাও

তার মতো সুখ কোথাও কি আছে

আপনার কথা ভুলিয়া যাও।

মানুষের কল্যাণেই প্রকৃত সুখ। ধ্বংসে সুখ নেই, শুধু দুঃখে ভরা। আমাদের দেশে রাজনীতি বিষয় নিয়ে মানবজীবনকে সংকটাপন্ন করে তুলছে। শিক্ষার জীবন থেকে মানবসেবার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও সেবামূলক কাজে নিয়োজিত করতে হবে। অন্যথায় নিজেরাও বাঁচবে না। অন্যদেরও বাঁচতে দেবে না। প্রবাদ আছে—স্বার্থ মগ্ন যে জন বিমুখ বৃহত্ জগত্ হতে, সে কখনো শিখেনি বাঁচিতে।

আশা এলিজাবেত গোমেজ

লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা

ব্রিটিশ আমল এবং ব্রিটিশমুক্ত আমলে রাজনীতিবিদদের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্যে ছিল দেশের জনগণের জন্য জনকল্যাণমূলক কাজ করা। তথা দেশসেবা ও গণতন্ত্র রক্ষা করা। তত্কালীন ত্যাগী সব রাজনীতিবিদ ত্যাগী মনোভাব রেখে জনগণের মাঝে মানবসেবার মনোবৃত্তি নিয়ে কাজ করতো। কিন্তু বড়ই আফসোস ও পরিতাপের বিষয় আমাদের বর্তমান রাজনীতিবিদদের মাঝে উল্লিখিত গুণাবলীর পরিবর্তে আপন সেবা ও লুঠপাট, খুনখারাবি, ক্ষমতা মরণের আগ এবং মরণ-পরবর্তী সময়ে কীভাবে বংশপরম্পরায় টিকে থাকবে তারই নীল নক্শার ছক অংকনে সময় ক্ষেপণের মানসিকতা লক্ষণীয়। আর যদি সকল দলের রাজনীতিবিদদের মাঝে মানবসেবার মনোবৃত্তি কাজ করতো তবে হয়তো এত জীবনহানি আর সহায়-সম্পত্তি হিংসার জ্বলন্ত আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলতে আমাদেরকে আর দেখতে হতো না। সাধারণ মানুষও তাদের সুকর্ম দেখে যার যার সাধ্যানুসারে মানবসেবার ভূমিকা রাখতে পারতো এবং সর্বোপরি গণতন্ত্র ফাঁকা বুলি না হয়ে সত্যিকার গণতন্ত্রে রূপান্তরিত হতো। তাই আমার অভিমত, সত্ উপায়ে কীভাবে আবার ক্ষমতায় ফিরে বা এসে আপন সেবার পরিবর্তে সত্যিকারভাবে মানবসেবা এবং গণতন্ত্রকে শ্রদ্ধা দেখানো যায়, সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য তেমন পথ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেত্রীকে সাথে নিয়ে খুঁজে বের করবেন। দু'জনের উদ্দেশ্য মহত্ হলে বর্তমান লোমহর্ষক ঘৃণিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবশ্যই প্রশমিত হবে। আর তা না হলে আমরা সাধারণ জনগণ ভাববো উভয়ের উদ্দেশ্য অসত্, গণতন্ত্রের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল এবং সাধারণ জনগণের জানমাল তাদের কাছে রাস্তার নেড়ি-কুত্তার সমান।

মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান

এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা

রাজনীতির লক্ষ্য যদি হয় গণমানুষের কল্যাণ, তাহলে এমন রাজনীতি করা দরকার যা মানব কল্যাণের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত। তা না হলে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়।

কাউসার আকন্দ

মতিঝিল, ঢাকা

হরতালে জনদুর্ভোগ এবং অর্থনীতির বিপুল ক্ষতিতে দেশ মারাত্মক অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে এখন প্রয়োজন দুই বড় দলকে মানবসেবায় নিয়োজিত হওয়া। গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে মানবসেবার ভূমিকা অনেক।

হামান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী

কবিরহাট, নোয়াখালী

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। আপনি এটা সমর্থন করেন?
1 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ৫
ফজর৫:০৬
যোহর১১:৪৯
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :