The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৩, ৮ চৈত্র ১৪১৯, ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ মিয়ানমারে আটক ৪ বাংলাদেশির মুক্তি অনিশ্চিত | পরশুরাম থেকে ৬ শিশু ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় বাহিনী | ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডোতে নিহত ৯, আহত ৩০০ | রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাষ্ট্রপতির দাফন সম্পন্ন

মানুষ সৃষ্টি :পানি ও মাটির ভূমিকা

মো. মাসুম বিল্লাহ বিন রেজা 

জগতের সবকিছুরই সৃষ্টিকর্তা হলেন আল্লাহ তা'আলা। জীবনের সূচনা ঘটেছে পানি থেকে (সেটা পানির জীব হোক বা স্থলের জীব হোক)। এটা যেমন বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য তেমনি আল কুরআনেও উদ্ধৃত হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে। তাই পানির সাথে জীবের আদি উেসর সম্পর্ক রয়েছে। সে পানি মানুষ সৃষ্টিতেও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, 'অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী একত্রে মিলিত ছিল? পরে আমি তাদের পৃথক করেছি এবং আমি প্রতিটি জীবন্ত জিনিস সৃষ্টি করেছি পানি থেকে, তারপরেও কি তারা ঈমান আনবে না?' (সূরা আম্বিয়া, ৩০)। ' আল্লাহ সব প্রাণীকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন' (সূরা নূর, ৪৫)। ' আল্লাহ সে একক সত্তা যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পানি হতে এবং প্রতিষ্ঠিত করেছেন বংশধারা (পুরুষের মাধ্যমে) এবং আত্মীয়তার ধারা (নারীদের মাধ্যমে)।' (সূরা কিয়ামাহ, ৩৭)। 'মানুষ কি সামান্য শুক্র ছিল না, যা সজোরে নির্গত হয়েছিল?' (সূরা সাজদাহ, ০৮)। 'নিশ্চয় আমি মানুষকে গঠন করেছি সামান্য পরিমাণ সংমিশ্রিত তরল পদার্থ (বীর্য) হতে' (সূরা দাহর, ০২)। 'তোমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি হতে' (সূরা তরীক, ০৬)। 'আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি রাসূল (স.) কে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (স.)! আমি যখন আপনার সাথে সাক্ষাত্ করি তখন আমার অন্তর প্রফুল্ল এবং চক্ষুু শীতল হয়। আপনি আমাকে প্রত্যেক বস্তু সৃজন সম্পর্কে বলে দিন। জবাবে তিনি বললেন, প্রত্যেক বস্তু পানি হতে সৃজিত' (মুসনাদে আহমাদ)। মানুষ সৃষ্টিতে পানি, তুচ্ছ পানি ও সবেগে স্খলিত পানির কথা এসেছে। সূরা ফুরকানের ৫৪ নং আয়াতে সরাসরি পানি থেকে মানুষ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। অন্য দিকে আম্বিয়া ৩০ ও নূরের ৪৫ নং আয়াতে সব জীবকে পানি থেকে সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। এখানে ফুরকান ৫৪, নূর ৪৫ এবং আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াতে যে পানির কথা বলা হয়েছে সে পানি সমুদ্র, নদী-নালা ও খাল-বিলের পানি। এ পানিতে কোন শুক্রকীট নেই। শুধু পানি এবং শুক্রমিশ্রিত পানি কখনো এক নয়। শুধু পানিতে থাকে অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন নামের দুটি মৌলিক পদার্থ। এগুলো একত্রে মিলিত হয়ে পানি নামের যৌগিক পদার্থ গঠন করেছে। আর পুরুষের শুক্রমিশ্রিত পানি হলো অণ্ডকোষ (Testis) ও প্রোস্টেট (Prostate) গ্রন্থির নিঃসরণ। এতে থাকে শুক্রাণু। এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য গ্লাণ্ডস (Glands) এর নিঃসরণ। সবমিলে এ তরল পদার্থ খুব পিচ্ছিল ও আঠালো থাকে। এর ফলে শুক্রাণুগুলো সহজে তার মধ্যে ভেসে বেড়াতে ও দ্রুত নির্গত হতে পারে। পরীক্ষা থেকে জানা যায়, সমুদ্র, নদী-নালা ও খাল-বিলের পানি আর শুক্রমিশ্রিত পানির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আমরা যদি সারা সমুদ্রের পানি খুঁজি তাহলে একটি শুক্রাণু পাব কি না সন্দেহ। অন্যদিকে পুরুষের একবার মিলনে যে বীর্য নিঃসৃত হয় তাতে কোটি কোটি শুক্রাণু থাকে। এবার আমরা দেখব শুধু পানি থেকে কিভাবে মানুষ সৃষ্টি হতে পারে? বর্তমানে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, আদিকালে কোন একসময় প্রোটোপ্লাজম নামের এককোষি প্রাণি পানিতেই সৃষ্টি হয়েছিল। এটি একটি জীবন্ত জীবকোষ। এ প্রোটোপ্লাজমের বংশগতির ধারা বিবর্তনের মাধ্যমে উন্নত জীব মানুষে উন্নীত হয়েছে। মানুষের দেহকোষে রয়েছে জীবকোষের সমাহার। এসব ইটের সারির মত দেহে সাজান থাকে। এদের কর্মচাঞ্চল্যই বহুকোষি প্রাণীকে জীবন সংগ্রামে টিকিয়ে রাখে। মানুষ সৃষ্টির বেলাতেও পানি এবং মাটির কথা এসেছে। মানুুষের দৈহিক কাঠামোতে রয়েছে পানি এবং বিশুদ্ধ কাদামাটির সারভাগ অর্থাত্ মানুষের দেহে পানি এবং মাটির সকল উপাদান মওজুদ রয়েছে। তবে মানুষের দেহ যে ইট (জীবকোষ) দিয়ে তৈরি তা পানিতেই সৃষ্টি হয়েছে। পানির এ আদি প্রাণসত্তা স্রষ্টার (আল্লাহর) উদ্দেশ্যমুখী সাংগঠনিক বিবর্তন ধারায় যখন স্থলের জীব হিসেবে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে তখন তাতে কাদামাটির সারঅংশও যোগ হয়েছে। তাই সূচনার ক্ষেত্রে শুধু পানির কথা এসেছে। এ ধরনের সৃষ্টিতে যৌন মিলনের প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু শুক্রমিশ্রিত পানির মাধ্যমে সৃষ্টির ক্ষেত্রে যৌন মিলনের প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের প্রয়োজন রয়েছে। সূরা কিয়ামাহ ৩৭, সাজদাহ ০৮, দাহর ০২ এবং তারীক ০৬ নং আয়াতে যে পানির কথা বলা হয়েছে তাহলো পুরুষের শুক্রমিশ্রিত পানি। বর্তমান পৃথিবীতে যে পদ্ধতিতে মানুষের জন্ম হয় সেখানে এ ধরনের পানির প্রয়োজন রয়েছে। এর মাধ্যমে বংশগতির ধারা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এখানে লক্ষণীয়, শুধু পানি ও কাদামাটির সারভাগ দিয়ে মানুষ সৃষ্টির কথা বলায় আমাদের বুঝতে হবে যে, পৃথিবীতে জন্ম পদ্ধতি একটি মাত্র প্রচলিত পদ্ধতিতেই সম্পন্ন হয়নি। মূলত মানুষ সৃষ্টির চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছাতে তিন ধরনের জন্ম পদ্ধতি কাজ করেছে। যেমন, ক, মাতা-পিতা ছাড়া জন্ম হওয়া (একক প্রাণসত্তা হিসেবে পৃথিবীতে আবির্ভাব)। খ, পিতা-মাতার যৌন মিলনে জন্ম হওয়া (বর্তমান জন্ম পদ্ধতি)। গ, পিতার সাথে যৌন মিলনহীন পদ্ধতি (মরিয়ামের গর্ভে ঈসার (আ.) জন্ম)। এ অধ্যায়ে দু ধরনের পানির কথা বলা হয়েছে তাতে ক ও খ পদ্ধতিতে মানুষ সৃষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (ক) পদ্ধতিতে প্রাথমিক পর্যায়েই পূর্ণ মানুষ সৃষ্টি না হলেও মানুষ সৃষ্টির মূলভিত্তি সৃষ্টি হয়।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। আপনি এটা সমর্থন করেন?
1 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ২৩
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :