The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০১৪, ৯ চৈত্র ১৪২০, ২০ জমা.আউয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ নির্বাচনী সহিংসতা: গজারিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান, আখাড়উায় যুবদল নেতা ও রাজাপুরে যুবলীগ কর্মী নিহত | ভারতের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৭ উইকেটে পরাজয় | পাকিস্তানের কাছে ১৬ রানে হারল অস্ট্রেলিয়া

জাতীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠানে ইসলামি ব্যাঙ্কের অর্থদান প্রসঙ্গ

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, 'ভাঙা পা সবসময় খাদে পড়ে।' কথাটা আওয়ামী লীগের বেলায় যতোটা সত্য, বাংলাদেশের আর কোনো দলের বেলায় তা ততোটা সত্য বলে মনে হয় না। একবার ফতোয়া চুক্তি, আরেকবার হেফাজতিদের সঙ্গে ব্যর্থ দহরম মহরম করে আওয়ামী লীগ তার সেকুলার ভাবমূর্তিকে যথেষ্ট ক্ষুণ্ন করেছিল। মনে হয়েছিল তা থেকে শিক্ষা নিয়ে দলটি এই ধরনের খাদে আর ভাঙা পা ফেলবে না। এখন দেখা যাচ্ছে, আমাদের এই অনুমান সঠিক নয়। আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকায় কোটি কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার যে অভূতপূর্ব আয়োজন করা হয়েছে, তাতে জামায়াত এবং জঙ্গিদের অর্থের জোগানদার বলে অভিযুক্ত ইসলামী ব্যাঙ্কের কাছ থেকে তিন কোটি টাকা চাঁদা গ্রহণ করে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আবার অনাবশ্যক এবং অনভিপ্রেত বিতর্কে জড়িত হয়েছেন। আমার প্রশ্ন, এই তিন কোটি টাকা না নিলে কি এই অনুষ্ঠান কিছুমাত্র ক্ষুণ্ন হবে?

এই একই ভুল করেছে আওয়ামী লীগ সরকার বছর দুই আগেও। ২০১২ সালে ঢাকায় বিশ্বকাপের খেলার সময় ইসলামী ব্যাঙ্কের কাছ থেকে বিরাট অঙ্কের টাকা নিয়ে শহরের বিলবোর্ডগুলো দখল করতে দেয়া হয়েছিল ইসলামী ব্যাঙ্ককে। আমি তখন ঢাকায় ছিলাম। রাজপথে বেরিয়ে দেখেছি, রাজধানীর সকল রাস্তায় কেবল ইসলামী ব্যাঙ্কের পোস্টার ও বিলবোর্ড। এসব বিলবোর্ডে ইসলামী ব্যাঙ্ক বাংলাদেশ কথাটি পর্যন্ত ব্যবহার করেনি। লিখেছিল "এই দেশ।" শহরে ঘুরতে গিয়ে আমার মনে হয়েছিল, আবার বুঝি বাংলাদেশ পূর্ব পাকিস্তান হয়ে গেছে।

আমি তখন অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেবকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, মুহিত ভাই, এই টাকাটা কি না নিলেই হতো না? তিনি বলেছেন, "হামছে না পুছো, পুছো প্রাইম মিনিস্টারছে।" আমি বলেছি, আপনারা সময় থাকতে প্রাইম মিনিস্টারকে সতর্ক করলে এবং সাবধান করে দিলে তিনি নিশ্চয়ই এই ভুলটা করতেন না। মুহিত ভাই আমার এ কথার কোনো জবাব দেননি। পরে ঢাকায় একটি সরকারি ব্যাঙ্কের কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপে জেনেছি, দেশের ব্যাঙ্কগুলোই বিশ্বকাপের খেলার অর্থের জোগান দিতে সক্ষম এবং ইসলামী ব্যাঙ্কের অর্থ নেয়ার কোনো দরকার নেই বলে সরকারকে জানিয়েছিলেন। সরকার তাদের কথায় কর্ণপাত করেননি।

বর্তমানে কোটি কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার অনুষ্ঠানেও ইসলামী ব্যাঙ্কের অর্থ প্রদানের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত (আমি যখন এই নিবন্ধ লিখছি) সরকারের নীরবতা এবং মন্ত্রীদের পরস্পর বিরোধী কথাবার্তা রহস্যপূর্ণ। সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রথমে বলেছেন, ইসলামী ব্যাঙ্কের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়নি। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, টাকা নেয়া হয়ে থাকলে তা ফেরত দেয়া হবে। সব রহস্যের ইতি ঘটিয়ে ইসলামী ব্যাঙ্ক স্পষ্টভাবে বলেছে, তারা টাকা দিয়েছেন। সেই টাকা প্রদানের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাঙ্কের কাছ থেকে এই অর্থ গ্রহণের বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের গণতান্ত্রিক মহল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনগুলো। তারা দাবি জানিয়েছেন, এই অর্থ নেয়া হয়ে থাকলে ফেরত দেয়া হোক। সরকার আমার এই নিবন্ধ লেখার সময় পর্যন্ত বিস্ময়করভাবে এই ব্যাপারে নীরব। এই ব্যাপারে জনমনের বিভ্রান্তি ঘোচানোর জন্য সরকারের একটি বিবৃতি প্রচার করা উচিত এবং ইসলামী ব্যাঙ্কের টাকাটা তাদের ফেরত দেয়া জরুরি। যে অর্থ দ্বারা দেশে ধর্মান্ধ জঙ্গি লালন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে, সেই অর্থ দ্বারা গণতান্ত্রিক ও সেকুলার বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত কোটি কণ্ঠে গাওয়ার অনুষ্ঠান করা যায় না। আমার এই লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার কিছু আগে কিংবা পরেও যদি ইসলামী ব্যাঙ্কের টাকা গ্রহণ যে ভুল হয়েছে এই মর্মে সরকার যদি একটি বিবৃতি প্রচার করেন এবং ব্যাঙ্কের অর্থ ফেরত দেন তাহলে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাব।

জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার অনুষ্ঠানে ইসলামী ব্যাঙ্কের অর্থ প্রদান সদুদ্দেশ্যপূর্ণ নয়। এটি একটি ট্রাপ। উদ্দেশ্য, সরকারের সেকুলার ভাবমূর্তি সম্পর্কে জনসাধারণের মনে সন্দেহ বাড়ানো এবং জামায়াত, হেফাজত সম্পর্কে আওয়ামী সরকার যে মনে মনে দুর্বলতা পোষণ করেন এবং তার প্রতিফলন ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঝুলিয়ে রাখার কাজেও ঘটছে এই সন্দেহ সকলের মনে আরও বাড়িয়ে দেয়া। এই সন্দেহ বাড়লে আওয়ামী লীগ বর্তমানে দেশের গণতান্ত্রিক ও সেকুলার শক্তির যেটুকু ঐক্য ধরে রেখেছে তাও ভেঙে পড়বে।

বেশ কয়েক বছর আগে আওয়ামী লীগের জন্য এই ধরনের আরেকটি ট্রাপের কথা মনে পড়ছে। সেটা করেছিল জামায়াত অত্যন্ত কৌশলে ঢাকার সউদি আরব দূতাবাসের সহযোগিতায়। এক রমজান মাসে সউদি দূতাবাস আওয়ামী লীগ নেতাদের এক ইফতার পার্টিতে দাওয়াত দেন। সেই দাওয়াতে যে জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও আমন্ত্রিত হবেন এবং উপস্থিত থাকবেন সে কথা আওয়ামী নেতাদের জানা ছিল না। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান তখন আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা। তিনি আরো কয়েকজন আওয়ামী নেতাসহ ঢাকায় সউদি দূতাবাসে গিয়ে দেখেন, দরোজার গোড়াতেই সারা গালভর্তি হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মতিউর রহমান নিজামী, সঙ্গে অন্যান্য জামায়াত নেতা। জিল্লুর রহমানকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে নিজামী দু'হাতে তার হাত চেপে ধরে করমর্দন করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার ছবি ক্যামেরাবন্দী করা হয়। পরদিন ঢাকার একশ্রেণির দৈনিকে ফলাও করে সেই ছবি ছেপে ক্যাপসন দেয়া হয়, আওয়ামী-জামায়াত সৌহার্দ্যপূর্ণ করমর্দন। তারপর পূর্ব পরিকল্পনামতো আওয়ামী লীগের জন্য ছিঃ ছিঃ ধিক্কার ধ্বনি।

আওয়ামী লীগের জন্য এই ধরনের একটা ট্রাপ পেতেছিল একবার আলো-স্টার পত্রিকাও। কয়েক বছর আগের কথা। তাই ডেইলি স্টার অথবা প্রথম আলো কোন্ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সেটি ছিল তা আজ আর আমার স্মরণ নেই। ঢাকার এক অভিজাত হোটেলে এই অনুষ্ঠানের ভোজপর্ব। তাতে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা শাহ মোহাম্মদ কিবরিয়া ও (সাবেক অর্থমন্ত্রী, তখন জীবিত ছিলেন)। তার সঙ্গে মোনায়েম সরকার।

তাদের যে টেবিলে বসানোর ব্যবস্থা হয়েছে, সেই টেবিলেই যে তারেক রহমান ও মান্নান ভুঁইয়া প্রমুখকেও বসানোর ব্যবস্থা ছিল তা তারা জানতেন না। নিজেদের নির্ধারিত আসনে বসার পরই কিবরিয়া সাহেব ও মোনায়েম সরকার দেখতে পান, তারেক রহমান ও মান্নান ভুঁইয়া (ভুঁইয়া তখন বেঁচে আছেন) এসে তাদের দু'পাশে বসে পড়লেন। চতুর তারেক হাসিমুখে কিবরিয়া সাহেবের সঙ্গে করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ভদ্রতার খাতিরে কিবরিয়া সাহেব সে হাত ফেরান কিভাবে? তাতেও আপত্তি ছিল না। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে আলো-স্টারের ফটোগ্রাফারদের ক্লিক ক্লিক ছবি তোলা। পরদিন প্রথম আলোতে প্রথম পৃষ্ঠায় ফলাও করে যে ছবিটি ছাপা হয়েছে তা ছিল কিবরিয়া সাহেব ও তারেক রহমানের পাশাপাশি ভোজের টেবিলে বসা এবং সহাস্যে কথোপকথন। ভোজসভায় এভাবে তাদের বসানো এবং তার ছবি তুলে ছাপানোর উদ্দেশ্যটি বুঝতে তখন আর কারো বাকি থাকেনি।

বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাঙ্ক নামধারী ব্যাঙ্কটি যদি সত্যি একটি ইসলামী ব্যাঙ্ক হতো তাহলে তার অর্থ গ্রহণে কোনো আপত্তি ছিল না। সউদি আরব একটি ধর্মভিত্তিক দেশ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। তথাপি সউদি সরকারের সর্বপ্রকার সাহায্য বাংলাদেশের সেকুলার গভর্নমেন্টও গ্রহণ করেন। সুতরাং ইসলামী ব্যাঙ্কের অর্থ গ্রহণেও আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য কোনো আপত্তি ছিল না; যদি ব্যাঙ্কটির ইসলামী নামকরণ একটি খোলস না হতো এবং বাংলাদেশ বিরোধী নানা জঙ্গি তত্পরতায় নানা ধরনের সাহায্য ও অর্থ জোগান দেয়ার অভিযোগ ব্যাঙ্কটির বিরুদ্ধে না থাকতো।

ব্যাঙ্কটির বিরুদ্ধে সবচাইতে বড় অভিযোগ, ইসলামী নামের আড়ালে এটি আসলে জামায়াতী ব্যাঙ্ক। জামায়াতী প্রোপাগান্ডা ও জঙ্গি পোষণ ও তাদের তত্পরতায় এই ব্যাঙ্কের বড় রকমের ভূমিকা রয়েছে এই অভিযোগে বহুবার এই ব্যাঙ্কের ব্যাপারে তদন্ত হয়েছে এবং ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী সরকার আজ পর্যন্ত এই ব্যাঙ্কটিকে জামায়াতী কব্জা থেকে মুক্ত করে রাষ্ট্রায়ত্ত করার কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং সুযোগ পেলেই ব্যাঙ্কটিকে সরকারি তহবিলে মোটা অঙ্কের অর্থদান করে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার কৌশলটি সফল করার কাজে সাহায্য জোগাচ্ছেন।

কোনো উন্নত গণতান্ত্রিক দেশেও দেশ-বিরোধী কাজে লিপ্ত অর্থনৈতিক অথবা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ করতে দেয়া হয় না। এককালের বিখ্যাত ব্যাঙ্ক অব ক্রেডিট কমার্সকে (বিসিসিআই) মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে ব্রিটেনে সরকারি নির্দেশে বন্ধ করে দেয়া হয়। বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাঙ্কের ভূমিকা সম্পর্কে যে অভিযোগ, তা সত্য হলে মানি লন্ডারিংয়ের চাইতেও তা ভয়ানক অপরাধ। সরকার যদি ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাঙ্ক সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রচণ্ড জাতীয় ও আন্তর্জাতীয় চাপের মুখে সাহস দেখাতে পারেন; তাহলে ইসলামী ব্যাঙ্ক সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের সাহস দেখাতে পারছেন না কেন?

জামায়াত বাংলাদেশে গত কয়েক বছর যাবত্ মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রোডলারের সাহায্যে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ব্যাঙ্ক, ইনসিওরেন্স কোম্পানি, হাসপাতাল (যেমন ইবনে সিনা হাসপাতাল) এবং বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠা দ্বারা যে বিশাল অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, সেই নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে দিতে না পারলে বাংলাদেশে জঙ্গি তত্পরতা যেমন বন্ধ করা যাবে না, তেমনি তাদের অভ্যুত্থানও দীর্ঘকাল ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। সেজন্য কোথায় আওয়ামী লীগ সরকার এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের আর্থিক উত্সমুখগুলো বন্ধ করার কঠোর ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন; তা না করে তাদের কাছ থেকে কিছু অর্থ উপঢৌকন (না, উেকাচ?) পেয়ে যদি তাদের প্রশ্রয় দিতে থাকেন, তাহলে কেবল পুলিশ ও র্যাব দিয়ে জঙ্গি ঠেঙিয়ে কোনো লাভ হবে না। ধর্মান্ধ মৌলবাদের সঙ্গে আপস করে কোনো দেশের গণতান্ত্রিক সরকার লাভবান হয়েছে, কিংবা সেকুলারিজম রক্ষা পেয়েছে তার কোনো প্রমাণ নেই। বর্তমান মিসর তার সাম্প্রতিক উদাহরণ।

কোটি কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাঙ্ক যে টাকা দিয়েছে তা অবিলম্বে ফেরত দেয়ার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাই। এই অর্থ গ্রহণ তার নিজের এবং তার সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে। এবং তরুণ প্রজন্মের কাছেও একটা ভুল বার্তা দেবে যে, এই সরকার দেশের ধর্মান্ধ এবং অশুভ মৌলবাদী চক্রের সঙ্গে আপসরফা করে ক্ষমতায় থাকতে চান। অবিলম্বে তাদের এই ভুল ভাঙানো দরকার।

অন্যদিকে খবর পেয়েছি, এক বা একাধিক প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নাকি ইসলামী ব্যাঙ্কের টাকা ফেরত দেয়া না হলে ঢাকায় কোটি কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার অনুষ্ঠান বর্জন করতে চান। তাদের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ, তারা যেন তা না করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের উপর রাগ করে জাতীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠান বর্জন করা হবে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা। এবং এই সঙ্গীতকে কেন্দ্র করে সেকুলার ও গণতান্ত্রিক শক্তির যে বিরাট ঐক্যের প্রকাশ ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তা নষ্ট করা।

এ কাজটি কারো করা উচিত নয়। প্রগতিশীল মহল আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানান। আওয়ামী লীগ সরকারকে জানিয়ে দিন, ইসলামী ব্যাঙ্কের অর্থ ফেরত দেয়া না হলে কিংবা ভবিষ্যতে এই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি করা হলে তারা আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আর সহযোগিতা করবেন না। কিন্তু এই মুহূর্তে তারা যেন জাতীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠান বর্জন না করেন তাতে তারা নিজেরাও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন।

আমার একান্ত আশা, এই লেখাটি 'ইত্তেফাকের' পাতায় প্রকাশিত হওয়ার আগেই বা অব্যবহিত পরেই ইসলামী ব্যাঙ্কের অর্থ সংক্রান্ত বিতর্কটির অবসান হবে এবং সরকার এই অর্থ ফেরত দিয়ে কোটি কণ্ঠের গাওয়া এই অনুষ্ঠানটিকে সর্বতোভাবে সফল করে তুলবেন। আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি-এই গানে ঝঙ্কৃত হোক সারা বিশ্বের বাঙালি কণ্ঠ।

[লন্ডন ২২ মার্চ, শনিবার, ২০১৪]

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'জঙ্গিবাদে বিশ্বাসীদের কোনো ধর্ম নেই, সীমানা নেই।' আপনি কি তার সাথে একমত?
6 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২৬
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০১
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :