The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০১৪, ৯ চৈত্র ১৪২০, ২০ জমা.আউয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ নির্বাচনী সহিংসতা: গজারিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান, আখাড়উায় যুবদল নেতা ও রাজাপুরে যুবলীগ কর্মী নিহত | ভারতের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৭ উইকেটে পরাজয় | পাকিস্তানের কাছে ১৬ রানে হারল অস্ট্রেলিয়া

বিচার না পেয়ে ঘাতক হয়েছি

মেয়েকে উত্ত্যক্তকারীকে হত্যার দায়ে গ্রেফতারকৃত মা

পিনাকি দাসগুপ্ত/আহমেদ সাঈদ বুলবুল

দানবের রোষানল থেকে কিশোরী কন্যাকে রক্ষা করতে পুলিশ ও প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। সবাই দেখছি বলে আশ্বাস দিলেও কেউই সাহায্যের হাত বাড়ায়নি। শেষটায় বাধ্য হয়ে নিজেই সব বিচারের ভার কাঁধে তুলে নিয়ে ঘাতক হতে বাধ্য হয়েছি। কারণ মা হয়ে মেয়েকে রক্ষা করতো পারব না ?- এ যন্ত্রণা আমাকে তাড়িত করছিল। জানি, বিচারে আমার ফাঁসি হবে। তবে এ নিয়ে আমার কোন অনুশোচনা নেই। দুঃখ শুধু একটাই, দুর্বলের পাশে কেউ থাকে না। যার ক্ষমতা ও দাপট বেশি তাকেই সবাই সমীহ করে। সে যত বড় শয়তানই হোক না কেন। পুলিশ ও উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন কিশোরী কন্যার উত্ত্যক্তকারীকে নিজ হাতে হত্যা করার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত যশোর সদর উপজেলার দেয়ারা ইউনিয়নের ভেকুটিয়া গ্রামের কৃষাণী খাদিজা বেগম (৪৫)। গত ১২ মার্চ নিজ বাড়িতে তিনি হাসুয়া (বড় দা) দিয়ে হত্যা করেন উত্ত্যক্তকারী একই এলাকার বাসিন্দা পাঁচ সন্তানের পিতা মফিজুর রহমান মফিকে (৪৪)। এ ঘটনায় যশোর কোতয়ালী থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ খাদিজাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

পুলিশের জিজ্ঞা-সাবাদে খাদিজা বেগম বলেন, প্রচুর বিষয় বৈভব না থাকলেও সংসারে সুখ ছিল অনেক। কিন্তু মানুষরূপী দানব মফি আমার সেই সুখের সংসার তছনছ করে দিয়েছে। তার হাত থেকে রেহাই পাবার জন্য পুলিশ-দারোগা, মেমা্বর, পার্টির লোকের কাছে গিয়েছি। কেউ আমার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।

ঘটনা সম্পর্কে খাদিজা বেগম বলেন, একই ইউনিয়নের তেতুলবাড়িয়া গ্রামের মোসলেম শেখের ছেলে মফিজুর রহমান মফি। সে আমার বোনের ননদের মেয়েকে প্রথম বিয়ে করে। ঐ ঘরে তার চার মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে কলেজে পড়ে। তারপরও সে কোটচাঁদপুরে গিয়ে আমার বোনের মেয়ে রুনাকে উত্ত্যক্ত করত। সেখান থেকে রুনার বাবা-মা রুনাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দেয়। আমার বাড়িতে এসেও মফি তাকে বিরক্ত করত। একটা সময় রুনা বাধ্য হয়ে মফিকে বিয়ে করে।

তিনি আরও বলেন, এখানেই শেষ নয়। এরপর মফি আমার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে উত্ত্যক্ত করা শুরু করে। আমি তাকে নানাভাবে বুঝাই যে, ও তোমার মেয়ের চেয়েও ছোট। ওকে বিরক্ত করো না। কিন্তু সে আমার কথা না শুনে সাঙ্গপাঙ্গদের সঙ্গে নিয়ে মাঝেমধ্যেই বাড়িতে এসে শাসাত এবং বিয়ের জন্য চাপ দিত। এ নিয়ে এলাকার লোকজনও নানা বাজে মন্তব্য করতে শুরু করে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে মফির বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছি, জানিয়েছি এলাকার মেম্বারকে, ধর্না দিয়েছি রাজনৈতিক নেতাদের কাছে। কিন্তু মফির বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টা মফির উত্পাত আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় মাসখানেক আগে মেয়েকে আমার মেজ ছেলের ( রাজমিস্ত্রী) কাছে ঢাকায় পাঠিয়ে দেই।

খাদিজা বেগম বলেন, ঘটনার দিন মাগরিবের নামাজের পর কোরআন শরীফ পড়ছিলাম। এ সময় মফি ঘরে ঢুকে আমার মেয়ে কোথায় তা জানতে চায় এবং এখনই মেয়েকে তার হাতে তুলে দিতে বলে। এ সময় কৌশল করে রান্নাঘর থেকে বেটে রাখা মরিচ এনে মফির চোখে লাগিয়ে দেই। এরপর হাসুয়া (বড় দা) দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করি।

কথা বলার এক পর্যায়ে খাদিজা বেগম ডুকরে কেঁদে ওঠেন এবং বলেন, ইজ্জতের মালিক আল্লাহ। আল্লাই রক্ষা করবে। খুন করে আমি কোনো ভুল করিনি। আমার কষ্টটা আমার মত মায়েরাই একমাত্র বুঝতে পারবেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ ( ওসি) এমদাদুল হক শেখ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে খাদিজাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিহত মফির সম্পর্কে তিনি কোন ধরনের মন্তব্য না করে বলেন, নিহত মফিজ ইতিপূর্বে ৪টি বিয়ে করেছে। মফি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার পিতা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। তবে মফির বিরুদ্ধে থানায় দায়ের করা খাদিজা বেগমের জিডি সম্পর্কে ওসি জানান, ঐ সময় পুলিশ এলাকায় গিয়েও মফিকে খুঁজে পায়নি।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'জঙ্গিবাদে বিশ্বাসীদের কোনো ধর্ম নেই, সীমানা নেই।' আপনি কি তার সাথে একমত?
2 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৫
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :