The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৩, ১২ চৈত্র ১৪১৯, ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ টাইগারদের টার্গেট ৩০৩ : প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে আব্দুর রাজ্জাকের ২০০ উইকেট | আপিল করেছেন সাঈদী | আপিল করবেন না সঞ্জয় | মুন্সীগঞ্জে ১৪৫ মণ জাটকা আটক | সাতক্ষীরায় পুলিশের ওপর শিবিরকর্মীদের সশস্ত্র হামলা, গুলিবিদ্ধ ৪

স্বাধীনতা দিবসের কথা

মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

কয়েক শ বছর পরে বাংলাদেশে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের জন্ম হলো ১৯৭১ সালে। এর সম্পর্কে আমাদের তেমন কোনো পূর্ব-কল্পনা বা পরিকল্পনা ছিল না। নতুন দেশটির সম্পর্কে অভিজ্ঞ মহলে বেশ নেতিবাচক ধারণা কাজ করছিল। আমরা সকল প্রতিপক্ষের মুখে ছাই দিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছি।

প্রথম দুই দশকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ২ শতাংশ। ১৯৯০ সালের পর তা ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে যে দারিদ্র্যসীমা ২০০০ সালে ছিল ৪৯ শতাংশ, তা এক দশকে ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রবৃদ্ধির তুলনায় এখানে দারিদ্র্য হরাস পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত ৪০ বছরে ধানের চাষ তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর রপ্তানি করার মতো কিছু উদ্বৃত্ত ছিল। আমনের পরিবর্তে বোরো চাষের ফলে ফসলহানির আশঙ্কা কমেছে। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এই পাঁচ বছরে বিশ্বে খাদ্যশস্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে তিনবার এবং দেশে ঘূর্ণিঝড় হয়েছে দুবার। ভরসার কথা, দেশে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পায়নি।

আমাদের দেশ নিম্ন আয়ের দেশ হলেও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি ও সুশীল সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে দারিদ্র্য বিমোচনে সফলতা লাভ করেছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কর্মতত্পরতা ও প্রভাবও ছিল সুস্পষ্ট। অক্সফোর্ড প্রোভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। বাংলাদেশে দারিদ্র্য-বিমোচনের হার যেখানে ৩.২ শতাংশে সেখানে ভারতের হার ১.২ শতাংশ।

২০১২ সালে 'দেশের হাল হকিকত' প্রবন্ধে আমি বলি, 'আমাদের সরকারবিরোধিতার যে যে ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে তা বড়ই নিরাশাব্যঞ্জক। দেশ শাসন করার যিনি দায়িত্বভার বহন করেন তাঁর জন্য সামর্থ্য-ক্ষমতার প্রয়োজন। তাঁর হাড়গোড় ভেঙে ঠুঁটো জগন্নাথ করলে দেশের সমূহ বিপদ। অনুরূপভাবে, বিরোধী দল দেশের সম্ভাব্য বিকল্প সরকার, সেই বিকল্পের হাড়গোড় ভেঙে তাকে আমরা যে ঠুঁটো করে রাখতে পারি না। সরকারকে মনে রাখতে হবে বিরোধী দল বিকল্প সরকারের সম্ভাব্য-সূত্র। সরকার বিরোধী দলকে সম্মান করবে, সমীহ করবে এবং অযথা আঘাত দিয়ে কথা বলবে না, কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা ছড়িয়ে দেবে না। বিরোধী দলকে মনে রাখতে হবে তারা সরকারের সমকক্ষ নয়। আইনে বা মানুষের চোখেও তাদের অধিকার বিশেষ অধিকার, সরকারের সমতুল্য নয়। তারা বিরোধী দলের দায়িত্ব সাধ্যমতো পালন না করলে তাদের মর্যাদার আসন নষ্ট হতে বাধ্য। অবশ্য বিরোধী দলের বাক্স্বাধীনতা সরকারি দলের চেয়ে ব্যাপকতর ও প্রশস্ততর। তবে বিরোধী দল যদি তাদের দায়িত্বের অবহেলায় অযথা সংসদ বর্জন করতে থাকে, তখন আমার মনে হয় সরকারের ওপর কোনো মানভঞ্জনের দায়িত্ব অর্পিত হয় না; দায়িত্বগুণে সরকার সত্যভাষণে সিদ্ধহস্ত হবে, তা না হলে ধরা খেয়ে যাবে। সংসদীয় গণতন্ত্রের রেওয়াজমতে সরকারের অবস্থান বিরোধী দলের চেয়ে অনেক বেশি নাজুক। বিরোধী দল অবিবেচিত বক্তব্য দিয়ে পার পেয়ে যেতে পারে আসামি পক্ষের উকিলের মতো; সরকারের সে রেয়াত নেই।' এ পর্যন্ত বিরোধী দল হিসেবে আমাদের দেশের সব রাজনৈতিক দলের ব্যর্থতা প্রায় অনুরূপ।

২০১৩ সালে দ্য ইকোনমিস্ট পত্রিকার বিশেষ বিভাগ ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কর্তৃক গণতন্ত্রের সূচকের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। নির্বাচনী-প্রক্রিয়া ও বহুত্ববাদ, জনগণের স্বাধীনতা, সরকারের কর্মপদ্ধতি, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি-এই—পাঁচটি বিষয় বিবেচনা করে বলা হয়েছে, পূর্ণ গণতন্ত্র রয়েছে ২৬টি দেশে। এখন নরওয়ের স্থান শীর্ষে। সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে গণতন্ত্রচর্চায় অবনতি ঘটেছে। ৫৩টি ক্রটিযুক্ত গণতন্ত্রের মধ্যে ভারত একটি। বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে তৃতীয় শ্রেণীতে, সংকর শাসনব্যবস্থার দেশগুলোর মধ্যে। যেখানে বহু উন্নয়শীল দেশ গণতন্ত্রের সূচকে পিছিয়ে পড়েছে, সেখানে বাংলাদেশ আট ধাপ এগিয়ে বর্তমানে ৮৩তম স্থানে আছে।

গণতন্ত্রের সূচকে প্রথম শ্রেণীতে উঠতে আমাদের আরও দুই শ্রেণী পার হতে হবে। পাঁচটির প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্বাচনী-প্রক্রিয়া ও বহুত্ববাদ, জনগণের স্বাধীনতা, সরকারের কর্মপদ্ধতি, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আমাদের অনেক ঘাটতি রয়েছে। সে ঘাটতি দূর করে আমাদের নাগরিক পূঁজি বৃদ্ধি করতে হবে।

আমাদের দেশে প্রথম স্থানীয় নির্বাচন হয় ১৮৭১ সালে। ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৩৫ বছরে ১৪টি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি গণভোট, তিনটি রাষ্ট্রপতি এবং ৯টি সংসদ নির্বাচন। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে, তেমনি ভোট চুরি, কারচুপি ও সহিংস নির্বাচনও হয়েছে। কারচুপি দুই প্রকার, সূক্ষ্ম এবং স্থূল। ভোট চুরি ছাড়াও ভোট ডাকাতি হয়েছে। পাতানো নির্বাচন বা নির্বাচনের ট্র্যাজেডির নিদর্শন রয়েছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল সেসব ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য কার্যত প্রভাবান্বিত হয়নি।

রাষ্ট্র নামের যোগ্য হতে হলে রাষ্ট্রকে একটা অপরিহার্য ব্যবস্থার সৃষ্টি করতে হবে, জনগণ যেন তাদের মতামত প্রকাশের পূর্ণ সুুযোগ পায় পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে।

১৯৪৮ সালের আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের ঘোষণার ২১(ক) ধারায় বলা হয়, 'প্রত্যক্ষভাবে বা অবাধে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিজ দেশের সরকারে অংশগ্রহণের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে।' ওই ধারার উপধারা (গ)-তে বলা হয়েছে, 'জনগণের ইচ্ছাই হবে সরকারের ক্ষমতার ভিত্তি। এই ইচ্ছা সর্বজনীন ও সমান ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ও প্রকৃত নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যক্ত হবে। গোপন ব্যালট বা এ ধরনের অবাধ ভোটদান পদ্ধতিতে এরূপ অনুষ্ঠিত হবে।'

একই কথা আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের সনদ, ১৯৬৬-এর ২৫ ধারায় পুনরুল্লেখ করে বলা হয়েছে, 'প্রত্যেক নাগরিকের ভোট দেওয়ার অধিকার ও সুযোগ থাকবে এবং সে ব্যাপারে কোনো বৈষম্য বা অন্যায্য বাধা থাকবে না। নির্বাচকদের মুক্ত ইচ্ছা প্রকাশের নিরাপত্তা বিধানের জন্য এমন ব্যবস্থা থাকবে যে, প্রত্যেক নাগরিক তার সর্বজনীন ও সমতাভিত্তিক ভোটাধিকারের বলে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমিকভাবে অনুষ্ঠিত প্রকৃত নির্বাচনে ভোট দিতে এবং ভোট দ্বারা নিজেকে নির্বাচিত করতে পারবে।'

প্রতিটি নির্বাচনের প্রাক্কালে আমাদের দেশে এক নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যে দশম সংসদের নির্বাচন প্রসঙ্গে ওই নিম্নচাপ ঘণীভূত হয়ে উঠেছে। সমস্যা দূর করণের জন্য আমরা যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংবিধানিক বিধান প্রর্বতন করি, তা দুটি নির্বাচনের পর বিকৃতি ধারণ করে। এক-এগারোর ঘটনার উদ্ভব ঘটে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সম্পর্কিত সাংবিধানিক বিধানকে সহজভাবে আমরা গ্রহণ করতে পারিনি। অবশেষে সেনাবাহিনীর সমর্থনে ও কূটনৈতিকদের সল্লাপরামর্শে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশে একটি নির্বাচন সমাধা করতে পারে। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান দেশের সর্বোচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করায় এখন বিরোধী দলের দাবি কীভাবে সরকার মোকাবিলা করে, তার ওপর দেশের ভবিষ্যত নির্ভর করবে।

৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে জামায়েতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার শুধু যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকার শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে এক গণজাগরণের সৃষ্টি হয়। স্লোগান-কন্যা লাকী আক্তার ও অন্যদের কণ্ঠে ক্ষণে ক্ষণে প্রকম্পিত হয় চেতনা জাগানিয়া সব স্লোগান 'বাঁচাও মাটি বাঁচাও দেশ, লাখো শহীদের নির্দেশ', 'বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, জামাত-শিবির নির্মূল করো', 'জামাত শিবিরের রাজনীতি, আইন করে নিষিদ্ধ করো', 'মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার', 'আর কোনো দাবি নাই, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই'...। এই জাগরণ মঞ্চের ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইমরান এইচ সরকার সমাবেশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও শপথ পাঠ করান। তিনি বলেন, 'আমাদের এই আন্দোলন রাজনীতির পক্ষ নয়, জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার নতুন মুক্তিযুদ্ধ। ন্যায়বিচার, আইনের শাসন আর গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ গড়ার যুদ্ধ। এই যুদ্ধ অবিচলভাবে আমরা এগিয়ে নেব। যুব-তারুণ্যের এই আন্দোলন একাত্তরের অসমাপ্ত কাজকে পূর্ণতা দেবে। লাখো শহীদের স্বপ্নকে সার্থক করবে।'

ইতিমধ্যে দেশের আবহাওয়া উত্তপ্ত থেকে উত্তপ্ততর হয়েছে। ১৫ মার্চ ২০১৩ মুন্সীগঞ্জের এক জনসভায় বিরোধীদলীয় নেত্রী যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবিতে শাহবাগের তরুণদের 'নষ্ট ও নাস্তিক' বলে নিন্দা করেছেন এবং পরের দিন বর্তমান সরকারকে খুনি সরকার বলে অভিহিত করে বলেছেন, এদের সঙ্গে কথা বলে কোনো লাভ হবে না। এই সরকারের পতন ছাড়া কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। আন্দোলন করে আরও কিছু প্রাণহানি হবে। ১৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেত্রীকে 'মানসিকভাবে অসুস্থ' ও 'রক্তপিপাসু' বলে অভিহিত করেন এবং অভিযোগ করেন 'তিনি রক্ত নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চান'। উত্তরে বিএনপির কার্যালয় থেকে বলা হয়, 'প্রধানমন্ত্রীর হাতই রক্তে রঞ্জিত'।

দেশে সহিংস কর্ম সম্পর্কে জাতীয় সংসদে এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আলোচিত হয়েছে। সহিংস ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭০ জন নিহত হয়েছে। ২৪টি হিন্দু মন্দির এবং সংখ্যালঘুদের ১২২টি আবাসন ও বহু দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কানসাটের বিদ্যুত্ কেন্দ্র, রেলওয়ে, ওয়াগন, বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ের স্লিপার উপড়ে ফেলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত হরতালের সময় হরতালের উদ্যোগী ব্যাক্তিরা পরীক্ষার্থী-শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুকম্পাবশত পরীক্ষার দিন কোনো হরতাল করত না। এবার পাবলিক পরীক্ষার জন্যও কোনো রকমের রেয়াত দেওয়া হয়নি। ফলে পরীক্ষার্থীরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হরতালের ভয়াবহতা ও বিকৃতি যেভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে তা দেশের জন্য বড়ই অশুভ। এই অস্বাস্থ্যকর আবহাওয়ায় মানুষ পরস্পরের প্রতি মানুষের সহিষ্ণুতা ও অনুকম্পা বোধ সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে। সে হবে দেশের জন্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। শান্তি-শৃঙ্খলায় প্রত্যাবর্তনের সব ধরণের উদ্যোগ এবং সুযোগকে আমাদের দু-বাহু বাড়িয়ে আহ্বান করতে হবে।

১৯৪১ সালের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অভীষ্ট লক্ষ্য হিসেবে চার স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করেন। বাক্স্বাধীনতা, আরাধনার স্বাধীনতা এবং অভাব ও ভয় থেকে স্বাধীনতা। আমি মনে করি, আমরা আরেকটি ভয়ে আতঙ্কিত। সে ভয় হচ্ছে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়। যত দিন না আমরা এই ভয় থেকে মুক্ত হচ্ছি, তত দিন আমাদের নির্বাচন হবে ব্যয়বহুল, জবরদস্তিমূলক, বিদ্বিষ্ট ও পঙ্কিল। সামনে নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচন। আমাদের দেশে প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনের সময় এক রাজনৈতিক নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়, সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য আমরা নানান ধরনের পন্থা অবলম্বন করেছি। ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক আয়োজনের যে বিধান দেওয়া হয় তৃতীয়বারে তা এক দারুণ সঙ্কটে পড়ে। অবশেষে সামরিক বাহিনীর সমর্থনে এক তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশে মোটামুটিভাবে একটি শান্তিপ্রিয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সক্ষম হয়। এবার পঞ্চদশ সংশোধনীর দ্বারা সেই বিধান বিলোপ করা হয়েছে। সরকারের কথা—অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হবে। এ পর্যন্ত দেশে একাধিক স্তরে নির্বাচন হয়েছে এবং সরকারের স্বীয় দলের পক্ষে কোনো কলকাঠি নাড়ার চেষ্টা করা হয়নি। বিরোধী দলের কথা—সরকারের প্রশাসনে যেভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে তাতে বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। এই বিষম অবস্থায় লোকে প্রধান দুই দলের মধ্যে সংলাপের কথা বলছে। এই সংলাপের মধ্যে কী ধরনের অনুশীলন হবে, সে সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। ব্রিটিশ আমলের গোল টেবিল, পাকিস্তান আমলের লাহোরের গোল টেবিল, বাংলাদেশ আমলেও একাধিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতীতের সংলাপের ইতিহাস সুখকর বা আশাপ্রদ নয়। একতরফাভাবে দেওয়া সমাধান দুই পক্ষই যখন রাজি-নিমরাজি হয়ে গ্রহণ করেছে তখন একটা সুরাহা হতে আমরা দেখেছি। দেশের লোক আশা করে একটা বড় ধরনের সংঘাত ও লোকক্ষয় এড়িয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদল একটা কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছতে পারবে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দেশে যৌথ উদ্যোগে তরুণ এসএমই উদ্যোক্তা তৈরির ভারতীয় প্রস্তাব সরকার গ্রহণ করবে বলে মনে করেন?
3 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ১৭
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৪
আসর৪:১৮
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :