The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৩, ১২ চৈত্র ১৪১৯, ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ টাইগারদের টার্গেট ৩০৩ : প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে আব্দুর রাজ্জাকের ২০০ উইকেট | আপিল করেছেন সাঈদী | আপিল করবেন না সঞ্জয় | মুন্সীগঞ্জে ১৪৫ মণ জাটকা আটক | সাতক্ষীরায় পুলিশের ওপর শিবিরকর্মীদের সশস্ত্র হামলা, গুলিবিদ্ধ ৪

৭ই মার্চ ও এবারের স্বাধীনতা দিবস

শান্তনু কায়সার

৭ই মার্চ তো হঠাত্ করে আসেনি। তার প্রত্যক্ষ শুরু সত্তরের নির্বাচন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সংসদ এবং পূর্ব পাকিস্তান পরিষদে আওয়ামী লীগ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে মিথ্যে প্রমাণ করে এই ঘটনা ঘটেছিল। ফলে পাকিস্তানের শাসকদের সব হিসাব-নিকাশ তালগোল পাকিয়ে গিয়েছিল এবং তারা ভাবতে পারছিল না—কী করবে। ওদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে পাকিস্তান পিপলস পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের সমর্থন ছিল না। ফলে রাষ্ট্রের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে গিয়েও ভুট্টোকে দুই সংখ্যাগরিষ্ঠতার অদ্ভুত তত্ত্বের কথা বলতে হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের শাসকদের সঙ্গে তিনি এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন।

প্রকাশ্যে ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবকে পাকিস্তানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করলেও তাঁকে সেভাবে মেনে নেওয়ার কোনো আন্তরিক ও সদিচ্ছা তাঁর, সামরিক জান্তা ও পাকিস্তানি নেতৃত্বের ছিল না। সে কারণে শুরুতেই তাঁরা ৩ মার্চের জাতীয় পরিষদের আসন্ন অধিবেশন স্থগিত করেন।

কিন্তু তারও আগে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বাংলা একাডেমীর অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধনের জন্য সদ্য নির্বাচন বিজয়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তা করতে গিয়ে বলেন, যদি আমরা ক্ষমতায় যাই...। নির্বাচনে এভাবে জিতেও তাঁকে বলতে হয়, 'যদি...'। এ থেকেই বোঝা যায়, নির্বাচনোত্তরকালেও ষড়যন্ত্রের শেষ ছিল না।

একাত্তরের মার্চের প্রথম সপ্তাহটা ছিল বিক্ষুব্ধ ও তরঙ্গমুখর। বাংলাদেশ (বাংলাদেশ, কারণ গত ডিসেম্বরে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর কবর-প্রাঙ্গণে যে আলোচনা সভা হয় তাতে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এখন থেকে আমাদের এই ভূ-খণ্ডের নাম হবে 'বাংলাদেশ') তার রাজধানী ঢাকা এবং সমগ্র 'দেশে' মানুষেরা বিক্ষুব্ধ ও প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে আসে ৭ই মার্চ।

তরুণেরা নানা অংশ থেকে স্বাধীনতার দাবি করতে থাকে। পাকিস্তানি কাঠামোর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তখনই স্বাধীনতা ঘোষণা করা শেখ মুজিবের পক্ষে সহজ ছিল না। ফলে ৭ই মার্চের ভাষণে কৌশলী হয়ে নেতাকে বলতে হয়, যখন রক্তের দাগ 'শুকায় নাই', তখন তিনি গোলটেবিল বৈঠকে যেতে পারেন না। তাঁকে বরং জন-আকাঙ্ক্ষা ও দাবির প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। নির্বাচনে জিতে এর আগেও তাঁরা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশকে বারবার বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এবার তাঁদের রুখে দাঁড়াতেই হবে। সে জন্য তিনি বলেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' অবশেষে বলেন, 'এ দেশকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাল্লাহ।'

এ সময় সমগ্র বাংলাদেশে এক ইস্পাতদৃঢ় ঐক্যের সৃষ্টি হয়েছিল। অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যে গণমাধ্যমের উদ্দেশে শেখ মুজিব বলেছিলেন, হয় তারা প্রকৃত তথ্য ও সত্য প্রকাশ করবে, নয় তাতে অসহযোগিতা এবং প্রয়োজন হলে তা বর্জন করবে। এ কারণে পাকিস্তানি শাসকেরা যখন বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করতে আপত্তি করে, তখন বেতারকর্মীরা ভবন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন এবং বাংলাদেশে তার সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন সকাল সাড়ে আটটায় এই ভাষণ প্রচারের শর্তেই বেতারের কর্মীরা আবার কাজে যোগদান করেন।

এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু আরও বলেছিলেন, 'তোমরা আমাদের দাবায়া রাখতে পারবা না।' এর রাজনৈতিক গুরুত্বের কথা জনগণের কাছে অস্পষ্ট ছিল না। ওই পরিস্থিতিতে নেতা বলেছিলেন, 'আমি যদি হুকুম দিবার না-ও পারি, তোমাদের যার যাকিছু আছে, তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।'

অতঃপর ২৫ মার্চ রাতে একটি জনগোষ্ঠীকে অপারেশন সার্চ লাইটের মধ্য দিয়ে যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল তাতেও এ জাতিকে পরাস্ত করা যায়নি। এখান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলে শেষ পর্যন্ত তারা একাই সশস্ত্র যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল।

কিন্তু ৭ই মার্চের ওই ভাষণ একটি সাংস্কৃতিক যুদ্ধও ছিল। চলতি বাংলার প্রমিত কাঠামো অনুসরণ না করে শেখ মুজিব যে পূর্ব বাংলার ভাষারীতি ও কাঠামো অনুসরণ করে বলেছিলেন, 'তোমরা আমাদের দাবায়া রাখতে পারবা না'; কিংবা 'আমি যদি হুকুম দিবার না-ও পারি'—তাতে যে আন্তরিকতার প্রকাশ ঘটেছিল এবং নেতা ও জনসাধারণের মধ্যে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেটি ছিল তৃণমূলের সঙ্গে নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ সংযোগ। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ তাঁর কথাসাহিত্যে ক্রিয়াপদকে যেভাবে পূর্ববঙ্গীয় বৈশিষ্ট্যে ঋদ্ধ করেছিলেন শেখ মুজিবও সেভাবে সাধারণ মানুষের ভাষা ও বৈশিষ্ট্যে তাঁর আবেদনকে হূদয়বেদ্য করে তুলেছিলেন। সে জন্য 'শুকায়নি' না বলে তিনি বলেছিলেন, 'শুকায় নাই'। একইভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের পরিভাষা ব্যবহার করে যেমন বলেছেন 'ইনশাল্লাহ' তেমনি তা অন্য ধর্ম-সম্প্রদায়ের মানুষের কাছেও আন্তরিক ও সহজবোধ্য বলে প্রতিভাত হয়েছে।

আজও, এত বছর পর, ২০১৩-য় গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান এইচ সরকার যখন 'ইনশাল্লাহ' বলেন, তখন তিনিও সকল মানুষের আস্থার জায়গাটিই স্পর্শ করেন, ধর্মান্ধ বা ধর্মহীন কোনোটাই হয়ে ওঠেন না। মতলব ও সংকীর্ণ স্বার্থবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়ে যারা তাকে বা তাদের নাস্তিক অথবা মুরতাদ বলে চীত্কার করে, ইতিহাস সাক্ষী, তারাই কালে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

এবার ৫ মার্চের হরতাল শেষে ৬ মার্চ যেভাবে ৭ মার্চের হরতাল ঘোষিত হয়, তা আসলে ছিল একাত্তরের পরাজিত শক্তির প্রতি সমর্থন এবং তাদের অধিকতর সখ্য লাভের উদগ্র আকাঙ্ক্ষা ও ভোটের কাঙালপনা। বোঝা যায়, বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত জেলে বন্দী ব্যক্তি ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঠিকই বলেছিল, তারা একই মায়ের পেটের দুই ভাই। বাস্তবে এই দুই দলের মধ্যে নীতিগত কোনো পার্থক্য নেই।

১৯৯৩-এর ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা থেকে মূল ওই দলের নারী সংসদ সদস্যর পুত্র রীমু হত্যার পর এই দলের মধ্যে পরাজিত ওই দলটিকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব উঠলেও এর মধ্যে পানি অনেক গড়িয়ে গেছে এবং মূল দলের মূল নেতৃত্ব নানা হিসাব-নিকাশ করে উভয়ের মধ্যে সখ্য বাড়িয়ে তোলাকেই শ্রেয়তর ভেবেছে।

কিন্তু ইতিহাস ও জনচেতনার বিরুদ্ধে গিয়ে কারও পক্ষেই প্রকৃত বিজয় অর্জন সম্ভব নয়। ৭ই মার্চ ইতিহাসের সাক্ষী। তাকে অগ্রাহ্য করে দলীয় সংকীর্ণ স্বার্থ হয়তো রক্ষা করা যাবে, কিন্তু ইতিহাসকে বিকৃত করা অথবা মুছে ফেলা যাবে না। যারা মুক্তিযোদ্ধা সৃষ্ট দল হিসেবে এবং সংখ্যাধিক্য মুক্তিযোদ্ধার কারণে গর্ববোধ করে তাদের ইতিহাস, বিশেষত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিরুদ্ধে গিয়ে ঘাতকদের সঙ্গে প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া আদৌ অথবা কতটা সুবিবেচনাপ্রসূত? আর শাহবাগকে যদি বলা হয় 'নষ্ট তারুণ্য' তাহলে প্রবচন অনুসরণ করে, মানুষ জিজ্ঞেস না করে পারবে না, নিজে কাচের ঘরে বাস করে অন্যের দিকে ঢিল ছুঁড়ে মারা কতটা সঙ্গত অথবা যুক্তিযুক্ত?

দুই.

এই মার্চে, স্বাধীনতা ঘোষণা ও তা উদযাপনবের এই মাসে যুদ্ধাপরাধী ও তার বিচারের বিষয়ে মানুষ আবার দৃঢ়চিত্ত ও স্থিরপ্রতিজ্ঞ হয়েছে। ন্যায়ের বোধ ও তা প্রতিষ্ঠার জন্যই মানুষের এই চেতনা।

যাঁরা সত্যের পক্ষে লড়াই করবেন তথ্য বিষয়ে তাঁরা সত্ ও বস্তুনিষ্ঠ হবেন—সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু আমরা দেখছি নির্জলা ও নির্বিচার মিথ্যা বলেই যেন কেউ কেউ সত্যের প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বাংলাদেশ-বিরুদ্ধ একটি দল যখন সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ও মন্দির আক্রমণের জন্য নিজেদের ধোয়া তুলসীপাতা প্রমাণ করে অন্যদের ওপর দোষ চাপায় তখন হাস্যকর হলেও অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোটাই তাদের নীতি ও দর্শন।

কিন্তু তাদের পক্ষ নিয়ে বিরোধী দলের নেতাও যখন কণ্ঠ মেলায়, তখন ভেবে পাই না—কে কাকে ব্যবহার করছে? প্রাণীটি লেজ নাড়াচ্ছে, নাকি লেজটি প্রাণীকে নাড়াচ্ছে? ১৪ মার্চ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে একজন লর্ডের বিবৃতি থেকে জানা যায়, ঐসব হামলার শিকার ব্যক্তিরা এসব কাজের জন্য কাদের দায়ী করেছেন তা কি বিরোধী দলের নেতা জানেন না? নাকি জেনেশুনেই তিনি বিষ পান করেছেন?

আর বেশি দূর যাওয়ার দরকারই বা কী? তিনি যে মুন্সীগঞ্জের গোয়ালীমান্দ্রায় ক্ষতিগ্রস্ত কালীমন্দির দর্শনে গিয়েছেন সেখানে ঘাতকের ফাঁসির রায় হওয়ার পর কারা ওই হামলা করেছিল, সেটা তো ভুক্তভোগী ধর্ম-সম্প্রদায়ের মানুষেরা তাদের ব্যানার ও পোস্টারে লিখে টাঙিয়ে রেখেছিল। বিরোধীদলীয় নেতা কি সেসব ব্যানার ও পোস্টার দেখতে পাননি? না কি চোখ বন্ধ করে তিনি সত্যকেও অস্বীকার করতে চেয়েছেন? কাকের মতো চোখ বন্ধ করে যদি জগেক অন্ধকার করা যেত, তাহলে তো কথাই ছিল না। মোটেই আওয়ামীপন্থী নন, বরং তার বিরোধী একজন বিশিষ্ট চিন্তক যখন দেশজুড়ে ফ্যাসিস্ট সহিংসতার জন্য তাঁর মিত্রদের কথা বলেন, তখনো কি বিরোধী নেতার চোখ বন্ধ থাকে এবং তিনি সত্য দেখবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেন?

এতে অবশ্য সরকার ও তার দায়কেও অস্বীকার করা যায় না। যে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে সম্ভাবনার বিকাশের জন্য, সেই বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের সতের বছরের কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী যখন নিহত হয়, তখন আমাদের আশাবাদ কি প্রচণ্ড রকম ধাক্কা খায় না? ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রায় সকল প্রগতিশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, যেমন এখন আছেন গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে। অন্যায় বাসাভাড়া বৃদ্ধির যেমন প্রতিবাদ করেছেন তেমনি জনসংকটের সকল ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিবাদী ও বলিষ্ঠ কণ্ঠ নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। নিজে আঁকেন, শিল্পী ও চারুশিল্পের ওপর তাঁর বই রয়েছে। মা রওনক রেহানা গৃহিণী হয়েও শিল্পচর্চা করেন। এ রকম বাবা-মায়ের ফুলের মতো দুটি সন্তানের বড়জন যদি দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হয় তাহলে তা শুধু পরিবারেরই অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও সুকৃতিরও মৃত্যু। রাব্বি ও অন্যরা যথেষ্ট সত্যোচ্চারণ করেছেন, তাতেও যদি খুনিরা চিহ্নিত না হয় এবং উপযুক্ত শাস্তি না পায় তাহলে নীরবে-নিভৃতে কাঁদা বিচারের বাণী আমাদের অবশ্যই অভিশাপ দেবে।

অন্যসব অন্যায়ের সঙ্গে রাব্বি একাত্তরের ঘাতক ও শত্রুদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। অন্যায়কারীরা যে এভাবে তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে তা হয়তো তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি। আমরা যারা তাঁর ভাই, অগ্রজ, পিঠেপিঠি অথবা অনুজ—তারা সমস্বরে বলি, একাত্তরের ঘাতকদের সঙ্গে এদেরও বিচার হতে হবে। কারণ সামগ্রিক ন্যায্যতাই শুধু পারে একাত্তরের ঘাতক ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে, এবারের স্বাধীনতা দিবসে তা-ই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

তিন.

একাত্তরের অপরাধীদের সম্পর্কে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, নমনীয় অর্থাত্ ভ্রান্ত দৃষ্টি অনুসরণ করে চলেছে পাকিস্তান থেকে সদ্য পাওয়া তরুণ প্রজন্মের এক কর্তা তাদের সে ফাঁপা বেলুনকে ফাঁসিয়ে দেবে। এই মার্চের ১১ তারিখে পাকিস্তানি ব্যান্ড দল 'লাল' তাদের ফেসবুকে শাহবাগের প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ১৯৭১-এ যারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দালাল ও সহযোগী ছিল, তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের 'এইতো সময়' গ্রুপের সহযোগিতা নিয়ে তারা প্রকাশ করেছে নিজেদের ভিডিও 'না হোনে পায়'—যেন না হতে পারে। 'লাল' মনে করে, অতীতের ওইসব ঘটনা বিস্তৃত হওয়ার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। দায়িত্ব এড়িয়ে না গিয়ে উত্তরপ্রজন্মের উচিত কৃত অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। নির্যাতিত মানবতার বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানোই তাদের ঐতিহাসিক কর্তব্য।

হায়, বাংলাদেশের কিছু জ্ঞানপাপী তা-ও বুঝতে পারে না! এবারের স্বাধীনতা দিবস কি তাদের বিবেককে একটুও জাগ্রত করবে না?

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দেশে যৌথ উদ্যোগে তরুণ এসএমই উদ্যোক্তা তৈরির ভারতীয় প্রস্তাব সরকার গ্রহণ করবে বলে মনে করেন?
7 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৯
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :