The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৩, ১২ চৈত্র ১৪১৯, ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ টাইগারদের টার্গেট ৩০৩ : প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে আব্দুর রাজ্জাকের ২০০ উইকেট | আপিল করেছেন সাঈদী | আপিল করবেন না সঞ্জয় | মুন্সীগঞ্জে ১৪৫ মণ জাটকা আটক | সাতক্ষীরায় পুলিশের ওপর শিবিরকর্মীদের সশস্ত্র হামলা, গুলিবিদ্ধ ৪

আমাদের সম্পর্ক নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে

মু খো মু খি

এমএ জলিল অনন্ত। গত কয়েকদিন ধরেই চিত্রতারকাজুটি অনন্ত-বর্ষার সাংসারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে নানান ধরনের কথা উঠছে। দুজনাই দুজনার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করে তা আবার প্রত্যাহার করলেও তারা এখনও আলাদাই থাকছেন। পুরো বিষয়টি জানতেই তাই বিনোদন প্রতিদিনে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিয়েছেন অনন্ত নিজে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তারিফ সৈয়দ

গত কয়েকদিনের ঘটনার পর আপনাদের দুজনার অবস্থান এখন কোন পর্যায়ে? একটু বলবেন।

দেখুন, আমি মনে করি আমাদের সম্পর্ক নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এ দেশে কেউ একটু উন্নতি করতে শুরু করলেই তার পিছনে শত্রু লেগে যায়। আমাদের সম্পর্ক নিয়ে, আমাকে নিয়েও সেই ঘটনাই ঘটেছে। আমাদের দুজনার চলচ্চিত্র যখন দেশ পেরিয়ে বাইরের দেশেও ব্যাপক আলোচনায়, প্রশংসিত হচ্ছে, ঠিক তখন আমাদের নিয়ে এ ধরনের অপপ্রচার আমাকে সত্যিই অবাক করেছে।

কিন্তু আপনি কোনটাকে অপপ্রচার বলছেন? মিডিয়া কি এখানে আপনার শত্রুতা করেছে? মিডিয়া তো আপনার ও আপনার চলচ্চিত্রকে সব সময় সাপোর্ট দিয়ে এসেছে। বরং আপনারাই তো পাল্টাপাল্টি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পরে তা আবার ফিরিয়েও নিয়েছেন।

হ্যাঁ। এটা ঠিক আমার থানায় যাওয়াটা ছিল বড় ভুল। দেখুন আপনি নিজেও জানেন হাজারটা ঝামেলার কারণে আমার মাথা ঠিক থাকে না। অনেক বড় দায়িত্ব, ব্যবসা, ফিল্ম, অনেক মানুষের জীবিকা আমার ওপর নির্ভর করে। সেখানে হয়তো রাগের মাথায় ঘরের খবর আমি বাইরে নিয়ে এসেছি। কিন্তু এই সামান্য ঘটনা বা ভুল বুঝাবুঝিকে মিডিয়া এত কিছু করে ফেলবে বুঝিনি। তাদের নিজস্ব একটা দায়িত্ববোধও তো রয়েছে। দেখুন আমি গত ৫ বছর ধরে যে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছি, কেউই আমাকে নিয়ে এতটুকু স্ক্যান্ডাল বা কোনো ধরনের খারাপ রিপোর্ট করতে পারেনি। ব্যবসা আর আমার কাজ ছাড়া আমার কোনো বদভ্যাস নেই। নারী, মদ, সিগারেট কোনো কিছুর নেশাই আমার নেই। অথচ সামান্য সাংসারিক ভুল বুঝাবুঝিকে এত বড় আকারে নিয়ে গেছে মিডিয়া।

এদিকে সদ্য প্রয়াত মডেল রাহাকে জড়িয়েও কথা উঠছে। এর সত্যতা কতটা?

প্রকৃত সত্য এই যে রাহার সাথে আমার ব্যক্তিগত সখ্য দূরে থাক, কখনও পরিচয়ই হয়নি। ২০০৮ সালে আমার প্রযোজিত ও ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত 'খোঁজ দ্য সার্চ' সিনেমায় রাহা একটি পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছিল। সিনেমায় আমি মূল নায়ক থাকলেও রাহার সাথে আমার উল্লেখযোগ্য কোনো দৃশ্যও ছিল না। কেবল একটি গ্রুপ অ্যাকশন দৃশ্যে তিনি ছিলেন। পরবর্তীতে তার সাথে আমার দেখা ও সাক্ষাত্ কিছুই হয়নি। এ অবস্থায় তাকে আমার সাথে জড়িয়ে আমার সুনাম নষ্ট করাটা একটা চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু না। আমার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়েই তারা এ কাজটি করছে।

খবরে প্রকাশ, আপনি নাকি সামান্য খাবার দেওয়া নিয়ে থানায় জিডি করেছেন। বর্ষার গায়ে হাত তুলেছেন। এর আগেও নাকি এমন আচরণ করেছেন। এসব খবরই একাধিক পত্র-পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। এসব খবর কী চক্রান্ত?

দেখুন সংসারে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হবেই। আপনার আমার সবারই হয়। আর ঝগড়ার সময় নানারকম কথা উঠবেই। এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু আমি বলছি রাহার বিষয়টিতে আমাকে জড়ানো পুরোটাই ষড়যন্ত্র। আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে এইসব বিষয় নিয়ে অন্তত আপনারা মানবিক বিষয়টা বিবেচনা করেই খবরটা ছাপবেন।

আপনার পরবর্তী ছবিতে বর্ষাকে নেবেন না, এমন কথাও নাকি শোনা গেছে। এটা কতটা সত্য?

এটাও মিথ্যে। প্রতিটা চলচ্চিত্রে আমি আর বর্ষাই থাকব মূল নায়ক-নায়িকা। তবে চরিত্রের প্রয়োজনে একজন দুজন কো-আর্টিস্ট থাকতেই পারে। তেমনি সহ-অভিনেতা হিসেবেও একজন বা দুইজন থাকবে। এখানে তো বর্ষাকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ আসেনি। আর কথা যখন উঠলই তখন বলি, বর্ষাকে কিন্তু আমি ভালোবেসেই বিয়ে করি। আর এ কারণেই ওর বাড়িতে হেলিকপ্টারে করে রাজকীয়ভাবে আমি বিয়ে করি। এমনকি বিয়ের আগে থেকেই বিভিন্ন ফ্যাশন শো থেকে শুরু করে সব জায়গায় আমি তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েই রেখেছিলাম। সেটা বর্ষাও অস্বীকার করতে পারবে না। আমার চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা মনসুন ফিল্মসের মালিকানাও কিন্তু আমার একার না। আমার সমস্ত ব্যবসা আমার একার নামে হলেও ওকেই শুধু আমি এখানে পার্টনার রেখেছি। একমাত্র ভালোবাসার কারণেই। যদি সেই কথা চিন্তা করেন তাহলে বর্ষার আগের পারিবারিক অবস্থান থেকে কোথায় আজ তাকে এনেছি আমি আর কী সম্মানে রেখেছি, তা আপনারাই বিবেচনা করুন।

তবে কি সে কারণেই বর্ষাকে বাইরের চলচ্চিত্রে কাজ করতে বাধা দিয়েছিলেন। এমন অভিযোগও তো শোনা যাচ্ছে যে, কলকাতার একটি চলচ্চিত্রে কাজের ব্যাপারে বর্ষার অফার এলেও আপনার আপত্তি বা বাধা ছিল।

দেখুন, একুশে টিভির 'মিডিয়া গসিপ' থেকে শুরু করে একাধিক অনুষ্ঠানে একাধিক প্রশ্নে বর্ষা নিজেই বারবার বলেছে যে, সে আমাকে ছাড়া কোথাও অভিনয় করবে না। কারণ মান আর বৈচিত্র্যের দিক থেকে তেমন কাউকেই সে গুরুত্ব দেয় না। আমার প্রশ্ন—কার প্ররোচনায় বর্ষা এ ধরনের কথা বলছে। আমাদের সম্পর্ক ভেঙে আমার এই ফিল্ম ক্যারিয়ার ও আগামী পরিকল্পনা নষ্ট করার জন্যই সে এমনটা করছে।

তবে কি আপনি তৃতীয় পক্ষের কাউকে সন্দেহ করছেন? সে কে?

এটা যেই হোক, আমাদের সেই শত্রু জাতীয় চলচ্চিত্রের শত্রু। যে আমাদের চলচ্চিত্র বিশ্বমানের হোক এটা চায় না।

এ ছাড়া স্কাইপিতে একজন ক্রিকেটারের সাথেও বর্ষার সম্পর্কের জের ধরে নাকি আপত্তি তুলেছিলেন?

আমি আগেই বলেছি ফেসবুক রাজাকার প্রসঙ্গ একটি টিভি ইন্টারভিউতে। মানুষের সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য এই সব মাধ্যমই যথেষ্ট। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়ে একজন মানুষের প্রতি বিদ্বেষ তৈরি করেই আজকের এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আমি তাই সাংবাদিক ভাইদের সহযোগিতা নিয়ে এর একটা ইতিবাচক সমাধান চাইছি।

তাহলে, আপনারা দুজনই যখন অভিযোগ তুলে নিয়েছেন তবে কেন আলাদা থাকছেন? একটি পত্রিকা আপনাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে এমন খবরও ছেপেছে।

দেখুন, এই খবরের কোনো ভিত্তি নেই। আর সাংসারিক ঝগড়া হলে তো প্রত্যেক মেয়েই বাপের বাড়ি যায়। আমি বর্ষাকে একটি ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছি। সেটা আমার ফ্ল্যাটের সাথেই। অর্থাত্ আমার ফ্ল্যাটের পেছনের বারান্দা থেকে ওকে দেখা যায়। মান-অভিমানে সে এখন সেখানেই আছে। তার বাবা-মাও সেই ফ্ল্যাটেই থাকে।

তবে কি ব্যক্তিগতভাবে বর্ষার বিরুদ্ধে আপনার কোনো অভিযোগ নেই?

না। ওকে আমি ভালোবেসেই বিয়ে করেছি। বাইরের কারো প্ররোচনায় বর্ষা এ ধরনের আচরণ করে আমার একার শুধু ক্ষতি করছে না। আমাদের আগামী চলচ্চিত্রসহ এ দেশীয় চলচ্চিত্রের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এই সব কিছু চক্রান্তকারীদের জন্যই ঘটছে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দেশে যৌথ উদ্যোগে তরুণ এসএমই উদ্যোক্তা তৈরির ভারতীয় প্রস্তাব সরকার গ্রহণ করবে বলে মনে করেন?
9 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৮
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৪
এশা৬:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :