The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৩, ১২ চৈত্র ১৪১৯, ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ টাইগারদের টার্গেট ৩০৩ : প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে আব্দুর রাজ্জাকের ২০০ উইকেট | আপিল করেছেন সাঈদী | আপিল করবেন না সঞ্জয় | মুন্সীগঞ্জে ১৪৫ মণ জাটকা আটক | সাতক্ষীরায় পুলিশের ওপর শিবিরকর্মীদের সশস্ত্র হামলা, গুলিবিদ্ধ ৪

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

ফারাজী আজমল হোসেন

আজ ২৬শে মার্চ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর দিন আজ। ১৯৭১ সালের এদিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বাংলার মানুষের ভোটে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে। তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনার আড়ালে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহার কারণে বাংলার মুক্তকামী মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে ২৫শে মার্চ কালরাত্রিতে পাক হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারাদেশে 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ঐ রাতেই ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়ি (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু ভবন) থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইপিআরের ওয়্যারলেসে স্বাধীনতার ডাক দেন। চট্টগ্রামে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জহুর আহমেদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার বাণী সেই রাতেই সাইক্লোস্টাইল করে শহরবাসীর মধ্যে বিলির ব্যবস্থা করেন। পরে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত বিবৃতিটি সর্বপ্রথম পাঠ করেন আওয়ামী লীগ নেতা এমএ হান্নান । এরপর ২৭শে মার্চ তত্কালীন মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যে ঘোষণা পাঠ করা হয় সেখানে উল্লেখ ছিল ...ডিক্লেয়ার দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্স অব বাংলাদেশ। অন বিহাফ অব আওয়ার গ্রেট ন্যাশনাল লিডার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।' বঙ্গবন্ধুর আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণার কপি ইংরেজি ও বাংলায় ছাপিয়ে হ্যান্ডবিল আকারে চট্টগ্রামে বিলি করা হয়। এই ঘোষণা টেলিগ্রাম, টেলিপ্রিন্টার ও তত্কালীন ইপিআর'র ওয়ারলেসের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এই ঘোষণা প্রচারিত হয়। বঙ্গবন্ধুর এই স্বাধীনতার ঘোষণার ভিত্তিতেই ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়।

এর আগে ৭ই মার্চে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) উত্তাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' ঘোষণা দিয়ে গোটা জাতিকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করেন। ৭ই মার্চ তিনি আরো বলেন, 'আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো, তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।'

মূলত ৭ই মার্চে আমাদের স্বাধীনতা ঘোষণা হয়ে যায়। ২৫ মার্চ সন্ধ্যা রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেন, 'ইয়াহিয়া খান সমস্যা সমাধানের জন্য সামরিক ব্যবস্থা বেছে নিলেন আর এখানেই পাকিস্তানের সমাপ্তি হলো।' রাত সোয়া একটার দিকে ট্যাঙ্ক সাজোয়া গাড়ি ও এক লরি সৈন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। তারা গুলি ছুড়তে ছুড়তে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তখন বাঙালীর নেতা বঙ্গবন্ধু বীর বাঙালীর মতোই দোতলার ঝুল বারান্দায় এসে দাঁড়ান। রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে এ বাড়ির টেলিফোনের লাইন কেটে দেয়া হয়। আর বাঙালীর স্বাধীনতার স্বপ্নকে চিরতরে নিভিয়ে দেয়ার জন্য বাঙালী জাতির নেতা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় হায়েনার দল। এরপর এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতিকে তাদের স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়। মার্চ থেকে ডিসেম্বর মাত্র নয় মাসে ত্রিশ লাখ মানুষের আত্মত্যাগ, লাখো লাখো মা-বোনের সম্ভ্রম আর স্বজন হারানোর মধ্য দিয়ে বিশ্বের বুকে নতুন এক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

এবারে সত্যিই এক ভিন্ন আবহে, প্রেক্ষাপটে জাতির সামনে এসেছে স্বাধীনতা দিবস। যে দলের নেতৃত্বে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতা, সেই বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগ গত চার বছর ধরে মহাবিজয় নিয়ে ক্ষমতায়। দীর্ঘ চার দশকের দাবি পূরণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় শুরু হয়েছে। চারদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার তরুণ প্রজন্মসহ দেশের আপামর জনগণ। আজ জাতি ব্যথাতুর চিত্তের বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করবে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রয়াত চার জাতীয় নেতা, মুক্তিযুদ্ধে আত্মোত্সর্গ করা দেশমাতৃকার অগণিত বীর সন্তান এবং যারা সহায়-সম্পদ-সম্ভ্রম হারিয়েছেন, তাদের।

সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার মহান স্বাধীনতা দিবসটি পালন করা হবে। সব ভবনে ও শহরের প্রধান সড়কগুলোতে উড়বে রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা। সকালে ফুলে ফুলে ভরে উঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে দলমতনির্বিশেষে সেখানে হাজির হবে লাখো মানুষ। ভোর ৬টায় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণের পরই সাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। আজ সরকারি ছুটির দিন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির বাণী

বাণীতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ এডভোকেট দেশবাসী ও প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশের সকল নাগরিককে স্বাধীনতা দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে এক গৌরবময় দিন। বহু ত্যাগ-তিতীক্ষা এবং দীর্ঘ ন'মাস সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় আমাদের মহান স্বাধীনতা। তিনি সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোত্সর্গকারী বীর শহীদদের, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, জাতীয় চার নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থকসহ সকল স্তরের জনগণকে-যাদের অসামান্য অবদান ও সাহসী ভূমিকা আমাদের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়া তিনি স্মরণ করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে-যারা স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রামে বিভিন্ন পর্যায়ে এদেশের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের মহান স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়া। সে লক্ষ্য অর্জনে সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় জীবনে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব ও ক্রীড়া, মহিলা ও শিশু কল্যাণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমাদের সফল অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। তৈরি পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিক, জাহাজ তৈরি শিল্পসহ বেসরকারি খাতে উন্নতি হয়েছে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায়ও সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও আমাদের অর্জন কম নয়। এতদসত্ত্বেও স্বাধীনতার মূল লক্ষ্যে পৌঁছতে আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। এজন্য প্রয়োজন দলমত নির্বিশেষে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রকামী। গণতন্ত্রের বিকাশ ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ব্যতীত সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। পরমতসহিষ্ণুতা, সংযম এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গণতন্ত্র বিকাশের পূর্বশর্ত। জাতীয় জীবনে আমাদের আরও ধৈর্য, সংযম ও সহনশীলতার পাশাপাশি অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। জাতীয় সংসদকে পরিণত করতে হবে সকল আলোচনা ও সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের 'সোনার বাংলা' বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার 'ভিশন ২০২১' ঘোষণা করেছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে একটি তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সবাই বাস্তব অবদান রাখবেন-এ প্রত্যাশা করি।

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি স্বাধীনতার এ মহান দিনে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে দেশ-বিদেশে বসবাসরত সকল নাগরিককে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন। এই অর্জনকে অর্থপূর্ণ করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে দিনবদলের লক্ষ্যে, দুর্নীতি, সন্ত্রাসমুক্ত, অসামপ্রদায়িক ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে। তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী গত চার বছর দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা, পররাষ্ট্র, তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুত্, যোগযোগসহ সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন, সরকার সপরিবারে জাতির পিতা হত্যা মামলার রায় কার্যকর করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় প্রদান শুরু হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে এবং গণতন্ত্র ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বানচাল করতে স্বাধীনতাবিরোধী, সাম্প্রদায়িক ও চিহ্নিত প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি মরিয়া হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতা দিবসের এইদিনে তিনি দেশবাসীকে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সামপ্রদায়িক সম্প্রীতি ও বাংলাদেশের উন্নয়নবিরোধী যে কোনো অপতত্পরতা নস্যাত্ করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরমুক্ত আধুনিক ডিজিটাল ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশরূপে গড়ে তুলতে 'রূপকল্প ২০২১' বাস্তবায়নের জন্য আমরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিটি বাঙালি ত্যাগ ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে এই প্রচেষ্টায় শামিল হয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা সকলে মিলে জাতির পিতার আজন্ম লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবই ইনশাআল্লাহ।

বিরোধীদলীয় নেত্রীর বাণী

বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া তার বাণীতে বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে এক গৌরবোজ্জ্বল সোনালী দিন। এদিনে বিশ্ব মানচিত্রে দেশমাতৃকার স্বাধীন সত্তা ফুটে উঠেছিল। আজকের এদিনে আমি দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এ মহান দিনে আমি শ্রদ্ধা জানাই স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি, যাদের আত্মত্যাগে আমরা অর্জন করেছি স্বজাতির মুক্তি। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ সকল জাতীয় নেতার স্মৃতির প্রতি আমি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। এদিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। সেদিন জাতীয় নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে তার ঘোষণায় দিশেহারা জাতি পেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অভয়মন্ত্র। তিনি বলেন, আজও বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার এক গভীর চক্রান্ত চলছে। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার অপতত্পরতায় লিপ্ত দেশি-বিদেশি চিহ্নিত মহল। সকল ষড়যন্ত্র- চক্রান্ত প্রতিহত করে মাতৃভূমির স্বাধীনতা সুরক্ষা এবং গণতন্ত্রের পতাকাকে সমুন্নত রাখতে আমাদের সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

জাতীয় পার্টির (জেপি) বাণী

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম ৪৩তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, ১৭৫৭ সালের ২৬ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলাদেশের যে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে তা আবার পুনরুদ্ধার করে।

বাণীতে নেতৃদ্বয় বলেন, আমরা এই প্রজন্ম যদি আমাদের বর্তমানকে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য উত্সর্গ করতে পারি তবেই নতুন শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আগামীদিনে এমন এক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে যারা বিশ্বের বুকে উন্নতির শীর্ষে দাঁড়াতে পারবে।

মহান স্বাধীনতা দিবসে দেশবাসীর প্রতি এই নবতর সংগ্রামে উজ্জীবিত হওয়ার এবং একই সঙ্গে সকল রাজনৈতিক দলকে ক্ষুদ্র ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে জনকল্যাণের লক্ষ্যে ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

কর্মসূচি

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। সকল সরকারি-আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। দিবসের তাত্পর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে, সরকারি ও বেসরকারি বেতার ও টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর এলাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হবে। ভোরে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ও সদরঘাট থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নৌপথে বিশিষ্ট শিল্পিগণ কর্তৃক দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন এবং ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিনেমা হলসমূহে বিনা টিকিটে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও দেশের সর্বত্র মিলনায়তনে, উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এছাড়া দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্র, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশুসদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাত্পর্য তুলে ধরে অনুরূপ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের দুইদিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ মঙ্গলবার সূর্যোদয়ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৬টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, সকাল ৭টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। আগামীকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনাসভা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বরেণ্য বুদ্ধিজীবিগণ বক্তব্য রাখবেন।

জেপির কর্মসূচি

মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টায় জাতীয় পার্টির (জেপি) কেন্দ্রীয় ও সকল দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় সাভারস্থ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পূষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। জাতীয় পার্টির (জেপি) সকল জেলা শাখাকে অনুরূপ কর্মসূচি পালনের জন্য জেপির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম অনুরোধ জানিয়েছেন।

মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় ৩৭/এ সেগুনবাগিচাস্থ কচিকাঁচা মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা নিয়ে আলোচনা করবেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) এম. মাসুদুর রহমান বীর প্রতীক। সভাপতিত্ব করবেন মেলার সভাপতি খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দেশে যৌথ উদ্যোগে তরুণ এসএমই উদ্যোক্তা তৈরির ভারতীয় প্রস্তাব সরকার গ্রহণ করবে বলে মনে করেন?
1 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৮
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৪
এশা৬:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :