The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০১৩, ১৭ চৈত্র ১৪১৯, ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ মঙ্গলবার শিবিরের সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল | আড়াইহাজারে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ৩৫ | শপথ নিয়েছেন চার বিচারপতি | বিএনপি নেতাদের চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি ১৭ এপ্রিল | ইবিতে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০ | ফেনির দাঁগনভুইয়া থেকে ৩৫টি ককটেল ও গান পাউডার উদ্ধার | রাজশাহীতে শিবিরের বোমা হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত

রা জ নী তি

রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে গুজবের ঘুড়ি ও বাস্তবতা

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

বাঙ্গালি জাতি যতো দুঃখকষ্টে থাক, তারা যে রসিক জাতি, শুধু ভোজন-রসিক নয়, জীবন-রসিকও এ কথাটা রবীন্দ্রনাথ বহুদিন আগে উপলব্ধি করেছিলেন। বাঙালি শোকে-দুঃখেও হাসতে জানে এবং হাসাতে জানে। এই মনীষী-বাক্যের সত্যতা উপলব্ধি করেছি সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের প্রয়াণের সময়েও। তাঁর মৃত্যুতে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষ শোকসাগরে ভেসেছে। তাঁর নামাজে জানাজায় শোকার্ত মানুষের বিশাল সমাবেশ ঘটেছে। আবার এই শোক কাটতে না কাটতেই বঙ্গভবনে নতুন কে আসবেন, তা নিয়ে রসিকতারও খই ফুটছে।

এই লন্ডনেও বাঙালিদের কোনো সভা-সমাবেশে গেলে একটি টিভি হিন্দি অনুষ্ঠানের নাম নকল করে বাঙালিদের মুখ থেকেই প্রশ্ন শুনছি কৌন বনেগা রাষ্ট্রপতি? দু'দিন আগে এমন একটি প্রশ্নের জবাবে বলেছি, কেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদের স্পিকার আবদুল হামিদ সাহেব তো অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিন মাস পর তিনিই হয়তো স্থায়ী রাষ্ট্রপতি হবেন।

এই জবাব শুনে কেউ প্রশ্ন করা থেকে বিরত হন না। তারা ঢাকার কাগজের নানা খবর উদ্ধৃত করে পর পর একই প্রশ্ন করেন কৌন বনেগা রাষ্ট্রপতি? এদের দোষ দিতে পারি না। নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে ঢাকার এক শ্রেণীর কাগজ যে গুজবের ঘুড়ি ওড়াচ্ছে, তাতে মানুষের বিভ্রান্তি না হয়ে উপায় নেই। স্পেকুলেটিভ সাংবাদিকতা যে সম্পূর্ণ বাস্তবতা-বর্জিত গুজব ছড়ানো নয়, এটা আমাদের এক শ্রেণীর মিডিয়াকে কে বোঝাবে? পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্য এরা প্রায় উন্মদ।

জিল্লুর রহমানের মৃত্যু হতে না হতেই ছড়ানো হলো সাজেদা চৌধুরী নতুন রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন। কেউ কেউ রসিকতা করে বললেন, বাংলাদেশের নাম শীঘ্রই নারীস্থানে বদল হতে যাচ্ছে। সাজেদা চৌধুরী সংক্রান্ত গুজবটি বেশিদিন টেকেনি। তারপর একে একে বহু নারী-পুরুষ নামের সঙ্গে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে শেখ রেহানার নামও উঠে এসেছে। সর্বশেষ কিনা জানি না, লেটেস্ট গুজবটি হলো, দেশে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার প্রবর্তিত হতে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা নিজে রাষ্ট্রপতি হয়ে দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিযুক্ত করতে যাচ্ছেন। আমি এই কাগুজে গুজবটি শুনে বলেছি, সাংবাদিকতাতেও গাঁজার নৌকা যে পাহাড় ডিঙাতে পারে, এই গুজবটি তার প্রমাণ।

এই গুজবটির ব্যাপারে আমার তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও ঢাকার কোনো কোনো বিশিষ্ট বন্ধু আমাকে 'স্থূলবুদ্ধির লোক' আখ্যা দিয়ে বলেছেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে নিজে রাষ্ট্রপতি হয়ে পুত্র তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার পরিকল্পনাতো বেগম খালেদা জিয়াই আগে করেছেন। এখন তাঁর পরিকল্পনার মাথায় চাট্টি মেরে শেখ হাসিনা যদি আগেই নিজে রাষ্ট্রপতি হয়ে দলের অনুগত কাউকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসান, তাহলে বিস্ময়ের কী আছে?

আমি তাদের বোঝাতে পারি না, শেখ হাসিনা ও বেগম জিয়া সমান মাপের রাজনৈতিক নেত্রী নন। সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি শেখ হাসিনার কমিটমেন্ট বেগম জিয়ার মতো ঠুনকো নয়। আওয়ামী লীগেরও ভালো-মন্দ দুই দিকই আছে। কিন্তু সে বিএনপি'র মতো সামরিক ছাউনিতে সৃষ্ট দলছুটদের পার্টি নয়। বিএনপি নেত্রী রাতারাতি নিজে রাষ্ট্রপতি হয়ে পুত্রকে প্রধানমন্ত্রী করার কথা ভাবতে পারেন। শেখ হাসিনার পক্ষে তা ভাবা এবং করা সম্ভব নয়। তাকে আগে দেশের মানুষের এবং দলের নেতা-কর্মীদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কথা ভাবতে হবে। সেজন্যেই ছেলে জয়কে তিনি রাজনীতিতে টেনে আনার চেষ্টা করেছেন, তাকে বেগম জিয়ার মতো রাজনীতিতে নিজের উত্তরাধিকারী করার ঘোষণা দেননি। একথা প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা সম্পর্কেও সত্য।

শেখ হাসিনা যখন দ্বিতীয় দফা প্রধানমন্ত্রী হন, তখন আমি তাঁর কাছে একটি ব্যক্তিগত প্রস্তাব দিয়েছিলাম। প্রস্তাবটি ছিলো সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে সরকারের প্রভাবমুক্ত রাখা এবং শেখ হাসিনার উপর সভানেত্রী হিসেবে চাপ কমানোর জন্য শেখ রেহানাকে দলের এক্সিকিউটিভ সভানেত্রী করা হোক। শেখ হাসিনা হেসে বলেছেন, 'আমি রাজি। আপনি চেষ্টা করে দেখুন।' এখন শেখ রেহানার মনোভাব কি তা আমি জানি না। কিন্তু তখন বহু চেষ্টা করেও রাজি করাতে পারিনি। সুতরাং এখন বলা হলেই রেহানা হুট করে কোনো পদ গ্রহণে রাজি হবেন তা আমি বিশ্বাস করি না। তাঁর মেয়ে টিউলিপ ব্রিটিশ রাজনীতিতে ঢুকেছে; বাংলাদেশের রাজনীতিতে নয়।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক চরিত্র পর্যবেক্ষণে আমার যদি ভুল না হয়, তাহলে নিঃসঙ্কোচে বলতে পারি, একটি সাধারণ নির্বাচন যখন একেবারে সামনে, তখন তিনি সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার কথা ভুলেও ভাববেন না। তাছাড়া দেশের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা নামে হলেও কাজে কেবিনেট পদ্ধতির সংসদীয় ব্যবস্থা নয়, বরং অনেকটাই প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতির (প্রধানমন্ত্রীর হাতে সর্বক্ষমতা) সংসদীয় ব্যবস্থার মতো, সুতরাং পদ্ধতি পরিবর্তনের দরকারটা কি? আর তাছাড়া শেখ হাসিনা এখনই রাজনীতি থেকে অবসরে যাচ্ছেন না বা বেগম জিয়ার মতো নানা অসুস্থতায় ভুগছেন না যে, তাকে এখনই উত্তরাধিকারী হিসাবে কাউকে কোনো পদে বসানোর কথা ভাবতে হবে। সময় এলে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার গ্রহণ করবে তাঁর দল; তাঁর পরিবার নয়। তাঁর পরিবারের কেউ যোগ্যতা দেখিয়ে এগিয়ে এলে সেটা অন্য কথা। যেমন তিনি দেখিয়েছেন।

আরো একটি কথা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতি শেখ হাসিনার অঙ্গীকার এতো বেশি যে, তিনি এই ব্যবস্থা নিয়ে অতীতে কখনো দায়িত্বহীন ছেলেখেলা (তসলিমা নাসরিনের ভাষায় মেয়েখেলা) করার মনোবৃত্তি দেখাননি, ভবিষ্যতে দেখাবেন, তা আমার মতো অনেকেই মনে করেন না। বরং বেগম জিয়াই সংসদীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপতি পদটির মর্যাদা কখনো রক্ষা করার মনোবৃত্তি দেখাননি। বরং প্রধানমন্ত্রীর পদে বসে রাষ্ট্রপতি পদের নিরপেক্ষতা ও মর্যাদাকে একাধিকবার ক্ষুণ্ন করেছেন।

জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপি এখন তারস্বরে চিত্কার শুরু করেছে, বর্তমানে তারা নির্দলীয় মনোভাবের একজন রাষ্ট্রপতি চান। কিন্তু এই ব্যাপারে তাদের ট্রাক রেকর্ডটি কি? প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী পদে বসেই বেগম জিয়া রাষ্ট্রপতি পদে বসানোর জন্য আর কাউকে খুঁজে পাননি, বরিশালের একাত্তরের এক রাজাকারকে রাষ্ট্রপতি পদে বসিয়েছিলেন। তাকে সকলেই বলতো রাজাকার রাষ্ট্রপতি।

দ্বিতীয় দফায় বেগম সাহেবা ক্ষমতা গ্রহণ করে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি পদে বসান। তিনি দলীয় লোক হলেও সজ্জন ও ভদ্রলোক হিসাবে পরিচিত। আশা করা গিয়েছিল তিনি রাষ্ট্রপতি পদের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা রক্ষা করে চলবেন। রাষ্ট্রপতি চৌধুরী তাঁর পদের এই মর্যাদা রক্ষার পথে একটু এগুতেই নিজেদের মনোনীত এবং দলীয় রাষ্ট্রপতিকে বেগম জিয়া অত্যন্ত অবমাননাকরভাবে বঙ্গভবন থেকে বের করে দেন। পুলিশকেও তখন বঙ্গভবনে ঢোকানো হয়েছিল।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অর্ধপরিচিত অধ্যাপককে এনে রাষ্ট্রপতি পদে বসানো হয় তাঁর নাম ইয়াজউদ্দীন আহমদ। লোকে ঠাট্টা করে বলতো ইয়েস উদ্দীন আহমদ। কিন্তু রাষ্ট্রপতি হিসাবে এই ইয়েসউদ্দীনেরও মর্যাদা রক্ষা করেননি বেগম জিয়া, যদিও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিকৃত ও ধ্বংস করার ব্যাপারে তাঁকে দলের ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ইয়াজউদ্দীন আহমদ একবার চিকিত্সার জন্য বিদেশে যান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন তত্কালীন স্পিকার জমিরুদ্দীন সরকার।

ইয়াজউদ্দীন আহমদ সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসার পরও তাঁকে বঙ্গভবনে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বিএনপি সরকার কয়েকদিন তাঁকে চিকিত্সাধীন সাজিয়ে হাসপাতালে রাখায় দেশে নানা গুজব সৃষ্টি হয়, তখন ইয়াজউদ্দীনকে বঙ্গভবনে ফিরতে দেওয়া হয়। কিন্তু বহুদিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রপতি পদে তখন দুই রাষ্ট্রপতি। একজন দায়িত্ববিহীন, আরেকজন ভারপ্রাপ্ত। একই সময়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে দুই রাষ্ট্রপতিকে বসিয়ে বিএনপি এই পদটির মর্যাদা নিয়ে যে খেলা খেলেছে, সংসদীয় রাজনীতিতে তার দ্বিতীয় নজির নেই।

এই ব্যাপারে বলা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনো সংসদীয় ব্যবস্থার অমর্যাদা ঘটাননি। তিনি যখন প্রথম দফা প্রধানমন্ত্রী হন, তখন বিএনপি কর্তৃক মনোনীত রাজাকার রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে অধিষ্ঠান করেছেন। শেখ হাসিনা সব জেনেও তাঁর মর্যাদার কোনো হানি ঘটাননি। বিদেশ সফরে গেলে তিনি দেশে ফিরে সংবিধান মেনে প্রথমেই রাষ্ট্রপতির কাছে গেছেন এবং এই সফর সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে ব্রিফ করেছেন। এই রাষ্ট্রপতিকে তিনি তাঁর মেয়াদ পূর্ণ করে বঙ্গভবন ত্যাগ করার সুযোগ দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের মনোনীত রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম যাকে বেছে নেন তিন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। নির্দলীয় এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে যিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয় ছিলেন। পরবর্তীকালে দেশ পরিচালনায় তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার কোনো কোনো ব্যাপারে মতভেদ হওয়া সত্ত্ব্বেও শেখ হাসিনা তা প্রকাশ হতে দেননি। তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারণের চেষ্টা করেননি। বরং পদে থাকার মেয়াদের সময় তাঁর পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তদারকি করাও মেনে নিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় দফা ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা জিল্লুর রহমানের মতো একজন প্রবীণ দলীয় নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদে বসালেও তাঁকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করেননি। জিল্লুর রহমানও যে দলীয় ভূমিকার ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রপতি পদের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারেন, তার প্রমাণ রেখে গেছেন। ফলে তাঁর মৃত্যুতে দেশব্যাপী সকল দলমতের মানুষের এই শোক এবং বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এবং তাঁর দলও তিনদিন ধরে এই শোক পালন করেছেন এবং তাঁর প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন।

শেখ হাসিনার অতীত এবং বর্তমান ভূমিকাই আমার এই বিশ্বাসকে শক্তিশালী করেছে যে, তিনি দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় সহসা কোনো পরিবর্তন আনবেন না এবং পরবর্তী রাষ্ট্রপতি বাছাইয়েও এমন এক ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেবেন, যিনি দলীয় ভূমিকার ঊর্ধ্বে উঠে একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করবেন। এই ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকেই যদি পরবর্তী চার বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয় তাহলে দেশের মানুষ অখুশি হবে না। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেক্টর কমান্ডার, বর্তমানে প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের নেতা এ.কে খোন্দকারের নামও এই পদের জন্য প্রচারিত হয়েছে। তিনিও এই পদের জন্য একজন যোগ্য ব্যক্তি। সে যাই হোক, সমস্ত গুজবের অবসান ঘটিয়ে যথাসময়ে একজন যোগ্য ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপ্রধানই যে পরবর্তী চার বছরের জন্য বঙ্গভবনে থাকার জন্য মনোনীত হবেন এ বিষয়ে আমার সন্দেহ নেই। দেশের সচেতন নাগরিকদের উচিত হবে উদ্দেশ্যমূলক গুজবে কান না দিয়ে বঙ্গভবনের পরবর্তী নির্বাচিত অতিথির জন্য অপেক্ষা করা। দেশের মানুষ হতাশ হবেন না।

পুনশ্চঃ ৩০ মার্চ আমার বন্ধু রাজনীতিক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক মোনায়েম সরকারের ৬৯তম জন্মদিন। এই উপলক্ষে তাকে শুভেচ্ছা জানাই, তার দীর্ঘজীবন কামনা করি। তিনি একজন প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং যে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ডেভলপমেন্ট রিসার্চ নামক সংস্থার তিনি প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক, সেই সংস্থা থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বহু বইপুস্তক, দলিলপত্র, মানচিত্র, গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন এবং এখনো করছেন। তিনি এক সময় বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে একবার তার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকও হয়েছিলেন। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনে যাঁরা প্রথমদিকে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তিনি তাঁদের একজন। '৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তিনি বিদেশে চলে যান এবং দেশে ফ্যাসিবাদ উচ্ছেদে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেন। এমন এক বর্ণাঢ্য চরিত্রের অধিকারী মানুষটিকে বন্ধু হিসেবে পেয়ে আমি গৌরবান্বিত। তাঁকে আবারও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই।

লন্ডন, ৩০ মার্চ শনিবার, ২০১৩

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আইন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য হারিয়ে সন্ত্রাসী দলে পরিণত হয়েছে বিএনপি। তার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?
1 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ১৫
ফজর৩:৫৪
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:২০সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :