The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৩, ১ বৈশাখ ১৪২০, ২ জমাদিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ভেনেজুয়ালার নতুন প্রেসিডেন্ট মাদুরো | পদ্মায় নৌকাডুবি: তিন লাশ উদ্ধার | রাজশাহীর তিন জেলায় হরতাল পালন: ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যা, বিএনপি কার্যালয়ে ভাংচুর | সাংবাদিকদের অনশনে বিএনপির সংহতি | ঢাবিতে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি: ১১ কর্মী বহিষ্কার | ক্ষমা চাইল প্রথম আলো ও হাসনাত আবদুল হাই | সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখবে সশস্ত্র বাহিনী: তিন বাহিনীর প্রধান | যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মাননা পাচ্ছেন ড. ইউনূস | বিদেশে কর্মী পাঠাতে প্রতারণা করলে সাত বছরের কারাদণ্ড

এবার অন্যরকম নববর্ষ

আবেদ খান

এবারের বাংলা নববর্ষের চেহারাটাই অন্যরকম। ১৪২০ বাংলা সন যেভাবে আসছে, তেমনটি আমরা এর আগে বোধহয় বার দু'তিনেক দেখেছি। একাত্তরের এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখে অর্থাত্ বাংলা ১৩৭৮ সনের বাংলা নববর্ষ ছিল অবশ্য এক অন্য চেহারার। তখন ২৫ মার্চের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের রেশ চলছে দেশব্যাপী। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গোলার আঘাতে বিধ্বস্ত শহীদ মিনার, বিধ্বস্ত দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদ, দি পিপল, ধ্বংস হয়েছে প্রেসক্লাবের একাংশ, বিভিন্ন ছাত্রাবাস, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাসমূহ। প্রতিদিন হত্যা-ধ্বংস আর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে দেশের সর্বত্র। নিরাপত্তার অভাবে মানুষ ছুটে বেড়িয়েছে এখানে-ওখানে। শহরের মানুষ সামান্য সহায়সম্বল নিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। আবার গ্রামের মানুষ শহরে ছুটেছে বাঁচার তাড়নায়। হন্যে কুকুরের মতো দাবড়ে বেড়িয়েছে সর্বত্র পাকিস্তানি খুনি সেনা এবং সেই জল্ল¬াদদের এদেশীয় দোসররা। ঘরে ঘরে আতঙ্ক-বিভীষিকা পুরুষশূন্য বাড়ি-গ্রাম-জনপদ।

ঠিক এমনি একটা পরিস্থিতিতে সেদিন বাংলার বুকে এসেছিল বাংলা নববর্ষ, দ্রাঘিমাঙ্কিত পৃথিবীর দিন-রাত্রির পরিক্রমার অমোঘ নিয়মে। কিন্তু সেদিন রমনার বটমূলে কোনো মানুষের পদচারণা ছিল না—আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সামান্যতম স্পর্শ ছিল না কোথাও। রবীন্দ্রনাথের সুর মূর্ছনা অনুরণিত হয়নি প্রকৃতিতে, পরিবর্তে ছিল শুধু পাকবাহিনীর আগ্নেয়াস্ত্রের মৃত্যুউদ্গীরণ করা ধ্বনি এবং আক্রান্ত মানুষের আর্তনাদ আর আহাজারি। রমনার বৃক্ষশাখে পাখির কলকাকলি ছিল না—কোনো মানুষ ছিল না কোথাও। হয়তোবা কোনো জীবন্ত প্রাণীও ছিল না আশেপাশে। রমনার বটমূলের সেই শূন্য বেদিতে দেখা গেল একগুচ্ছ রক্তগোলাপ সযত্নে রাখা। ভোরবেলায় বনরক্ষী জীর্ণ কুঠুরির জানালা দিয়ে সেদিকে তাকিয়ে চমকে উঠল। কী আশ্চর্য! মানবতার বহ্নুত্সবে জ্বলতে থাকা নারীর একটি বৃক্ষতলে একখণ্ড প্রদীপ্ত প্রতিবাদ যেন সেই পুষ্পস্তবক! এবং আশ্চর্য দেখা গেল গোলার আঘাতে বিধ্বস্ত শহীদ মিনারের পাদমূলে—যেটাকে পাকবাহিনীর এদেশীয় দোসররা মসজিদে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করেছিল—ঠিক একই ধরনের পুষ্পগুচ্ছ! দুঃশাসনের শ্যেনদৃষ্টিকে ফাঁকি দিয়ে কোন সে দুরন্ত বাঙালি প্রাণ মৃত্যুর ভ্রূকুটিকে তুচ্ছ করে নিবেদন করেছিল শ্রদ্ধার্ঘ!

বাহাত্তরের বাংলা নববর্ষের চেহারা ছিল একেবারেই উল্টো! সদ্যপ্রাপ্ত স্বাধীনতার আনন্দে উদ্ভাসিত বাঙালির প্রাণের রঙে রাঙানো বাংলা নববর্ষ। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার প্রাণস্পর্শে উদ্বেলিত বাংলা নববর্ষ। এর পর থেকে প্রতিটি বাংলা নববর্ষ হয়েছে বাঙালির একান্ত আপন একটি দিন। এমনকি পঁচাত্তরের পরেও এই দিনটি বাঙালির হাতছাড়া হয়নি কখনো। ২০০১-এর নববর্ষের অনুষ্ঠানে জঙ্গি আক্রমণ হলো। প্রাণহানি ঘটল বেশ কয়েকজনের। কিন্তু সেই হামলা নিবৃত্ত করতে পারেনি সংস্কৃতিমনা মানুষকে। বাংলা নববর্ষ আর সীমাবদ্ধ রইল না নাগরিক জীবনের গণ্ডিতে। এখন প্রত্যন্ত গ্রামের ঘরে ঘরে বাংলার মাঠে-ঘাটে-প্রান্তরে বাংলা নববর্ষের উত্সব।

বাঙালির জীবনের চারটি উত্সব সার্বজনীন। একটি একুশে ফেব্রুয়ারি, একটি বাংলা নববর্ষ, একটি স্বাধীনতা দিবস এবং আর একটি বিজয় দিবস। এই চারটি দিন সব বাঙালির চেতনার রঙে রাঙানো। ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় অবনত হয় বাঙালি জাতি—কৃতজ্ঞতা জানায় তাঁদের উদ্দেশে যাঁরা পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি ভূখণ্ডের অভ্যুদয়ের জন্য বছরের পর বছর সংগ্রাম করেছেন, জীবনদান করেছেন, বাংলাকে জাতীয় জীবনে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি অর্জনে সর্বশক্তি নিয়োগ করে সফলতা নিয়ে এসেছেন এবং বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীর গর্ব করার জন্য একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক ঠিকানা নিশ্চিত করেছেন।

এদেশের একটা অনুপম বৈশিষ্ট্য হলো যখন ভাষা এবং বাঙালির অস্তিত্বের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হয়, তখন ফুঁসে ওঠে বাঙালি একুশের মধ্য দিয়ে, যখন বাঙালির সংস্কৃতি আক্রান্ত হয়, তখন জীবন্ত হয় বাংলা নববর্ষ। আর যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক মানসসত্তা এবং মানবিক মূল্যবোধ আক্রান্ত হয়, তখন সর্বশক্তি নিয়ে জাগ্রত হয় স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবস। এই চারটি সুদৃঢ় অক্ষয় স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের অস্তিত্ব। তাই একাত্তরের সেই অবরুদ্ধ নগরীতেও বাংলা নববর্ষ আসে রক্তময় পুষ্পাঞ্জলি নিয়ে। এখানেই বাঙালি অনন্য—তুলনাহীন।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবে সংসদীয় ঐকমত্য কমিটি। টিআইবির এ প্রস্তাবের সঙ্গে আপনি একমত?
8 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৮
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :