The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৩, ১ বৈশাখ ১৪২০, ২ জমাদিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ভেনেজুয়ালার নতুন প্রেসিডেন্ট মাদুরো | পদ্মায় নৌকাডুবি: তিন লাশ উদ্ধার | রাজশাহীর তিন জেলায় হরতাল পালন: ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যা, বিএনপি কার্যালয়ে ভাংচুর | সাংবাদিকদের অনশনে বিএনপির সংহতি | ঢাবিতে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি: ১১ কর্মী বহিষ্কার | ক্ষমা চাইল প্রথম আলো ও হাসনাত আবদুল হাই | সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখবে সশস্ত্র বাহিনী: তিন বাহিনীর প্রধান | যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মাননা পাচ্ছেন ড. ইউনূস | বিদেশে কর্মী পাঠাতে প্রতারণা করলে সাত বছরের কারাদণ্ড

বাঙালির চেতনা থাকবে অনড়

আনিসুজ্জামান

দল, মত, ধর্ম নির্বিশেষে বাংলা নববর্ষ পালন বাঙালির ধর্মনিরপেক্ষ উত্সব। এ উত্সব বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে মিশে আছে। দেশভাগের আগে থেকেই বাংলা নববর্ষ উত্সবকে নিবিড়ভাবে দেখছেন প্রফেসর এমিরেটাস আনিসুজ্জামান। পাকিস্তান পর্বে এ উত্সবকে আমাদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তের ক্ষেত্রে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। এবাবের বাংলা নববর্ষ ১৪২০ সেই ধারাবাহিকতায় পালনে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সময়ের ধারাবাহিকতায় বাংলা নববর্ষ পালনে পরিবর্তন প্রসঙ্গে আনিসুজ্জামানের সাক্ষাত্কার নিয়েছেন ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে— আশফাকুর রহমান

ইত্তেফাক:আপনি ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান পর্ব ও বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছেন। এ তিন পর্বে নববর্ষ পালনের মিল-অমিল সম্পর্কে বলার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি।

আনিসুজ্জামান: আমার ছেলেবেলা কেটেছে কলকাতায়। তখন বাংলা নববর্ষ বলতে আমরা দেখেছি মূলত হালখাতার ব্যাপারটা—অর্থাত্ যারা দোকানপাট চালাতেন, ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন, তাঁরা নববর্ষের দিনে আগের বছরের হিসাবপত্র শেষ করে নতুন খাতায় তার জের টানতেন এবং সেই উপলক্ষে খাওয়া-দাওয়া হতো। আমার আব্বা ছিলেন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। আমি তাঁর সঙ্গে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বিক্রি করে এরকম বড় দোকানে হালখাতা উত্সবে অংশ নিতে গেছি। তাঁর তিনটি জায়গায় নেমন্তন্ন থাকতো। একটা হচ্ছে এলিয়ট রোডে কিং অ্যান্ড কোম্পানি, একটা বৌবাজারে এম ভট্টাচার্য অ্যান্ড কোম্পানি আর একটা ডালহৌসিতে সি রিংগ্যার অ্যান্ড কোম্পানি। তিনটিতে তিনি যেতে না পারলেও অন্তত দুটিতে যেতেন। আমাকেও সঙ্গে নিয়ে যেতেন। আমরা সেখানে গিয়ে মিষ্টি খেয়ে প্যাকেট হাতে বাড়ি ফিরতাম। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত আমার কাছে নববর্ষ বলতে এরকমই ছিল।

তারপরে আমরা ১৯৪৯-৫০ সালে ঢাকায় দেখতাম— নববর্ষ উপলক্ষে সন্ধ্যায় সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। আমার মনে পড়ে—লেখক-শিল্পী মজলিস নামে একটি সংগঠন ছিল। তারা একবার মাহবুব আলী ইনস্টিটিউটে, এটা হচ্ছে কাপ্তান বাজারে রেলওয়ের একটা হল, সেখানে, আরেকবার কার্জন হলে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠান করে। মূলত কবিতা আবৃত্তি আর গান আমরা তখন উপভোগ করেছিলাম। প্রচুর লোকজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিল। পরে ১৯৫১ সালে আমরা যখন পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করি— তখন সাহিত্য সংসদের উদ্যোগেই আমরা সওগাত অফিসে নববর্ষ উদযাপন করেছি পর পর কয়েকবার। তারপরে সামরিক শাসন— নববর্ষ পালনে ছেদ। এর মধ্যে আমার যতদূর মনে পড়ে, ছায়ানটের উদ্যোগে নববর্ষ অনুষ্ঠান পালিত হয়েছিল বলদা গার্ডেনে ছোট করে। বলদা গার্ডেনে যে বড় পুকুরটা আছে তার চারপাশে বসেছিলেন শ্রোতারা। আর ঘাটের দিকে মঞ্চ করে উল্টোমুখে শিল্পীরা। এর মধ্যে আমরা দেখেছিলাম, নববর্ষ অনুষ্ঠান সম্পর্কে নানা রকম বিরূপতা প্রকাশ করা হচ্ছে। মর্নিং নিউজ পত্রিকায় এবং সরকারঘেঁষা লোকজন বলছেন যে, এসব পৌত্তলিকতার ব্যাপার— হিন্দু আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন এ নিয়ে লেখাও হলো। আমার মনে আছে, সওগাত পত্রিকায় মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী একটি প্রবন্ধে বলেছিলেন যে, যদি পশ্চিম পাকিস্তানে নওরোজ উত্সব পালিত হতে পারে তাহলে পূর্ব পাকিস্তানে আমরা বাংলা নববর্ষ পালন করতে পারবো না কেন? কারণ নওরোজ তো প্রাক-ইসলামের পরম্পরাগত ইরানি আচার-অনুষ্ঠান। বিশেষ করে বাংলা নববর্ষ মোঘল সম্রাট প্রবর্তন করেছেন, তখন আমরা তো এটাকে মুসলিম সংস্কৃতির অংশ হিসাবেই দেখতে পারি। এরকম একটা লেখা। নববর্ষ নিয়ে কিছু বাক-বিতণ্ডা তখন হচ্ছিল মৃদু স্বরে— খুব প্রবলভাবে না।

এ অবস্থায় ছায়ানট বড় করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করলো রমনার বটমূলে। এবং সেইদিন থেকে নববর্ষ পালন আমাদের একটি জাতীয় উত্সবে রূপ নেয়ার দিকে অগ্রসর হলো। প্রতিবছরই লোকের সংখ্যা বাড়ে। আয়োজকরা অনুষ্ঠান আরও একটু আড়ম্বরের সঙ্গে আয়োজন করেন। এবং এটা বাধাহীনভাবে পালিত হয়ে আসছে। মধ্যে নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে আমরা দেখলাম যে, কারা যেন বটমূল আগেই দখল করার চেষ্টা করেছিল। তারা সরকারি দলের লোকজন ছিল। পরে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে তাদেরকে মেলা, স্টল ইত্যাদি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে এবং পাহারা দিয়ে নববর্ষ উদযাপিত হয়। তারপরে— সেবার আমি যাইনি রমনায়, বাড়িতে টেলিভিশনে দেখছিলাম— নববর্ষের অনুষ্ঠানে বোমা নিক্ষিপ্ত হলো এবং সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেন। ছেলে-মেয়েরা যেদিকে পারলো দৌড় দিল। আমার মনে আছে, টেলিভিশনে দেখলাম— সাংবাদিকরা অল্পবয়সী এক মেয়েকে জিজ্ঞাসা করেছে— তুমি কি সামনের বছর আসবে? সে বললো— হ্যাঁ, আবার আসবো। আমি খুবই আপ্লুত হলাম। এই যে অল্পবয়সী মেয়েটি নির্ভয়ে বললো, প্রত্যয়ের সঙ্গে বললো, দীপ্রতার সঙ্গে বললো— আমি আবার আসবো— এই বলার মধ্য দিয়ে নববর্ষের সঙ্গে আমাদের প্রাণের ঐক্য খুঁজে পেলাম।

এখন সুরের ধারাও চৈত্র সংক্রান্তির দিনে অনুষ্ঠান করে। এটি এখন নিয়মিত আয়োজন এবং মানুষজনকে আকর্ষণ করছে। ছায়ানটের সকালের অনুষ্ঠান আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদ থেকে যে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয় সেটি এখনও অব্যাহত আছে। ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠান করে। বাংলা একাডেমী নববর্ষ পালন উপলক্ষে নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে সকালে এবং বিকালে। বিসিক একটা মেলা করতো। এখন সেই মেলার আয়োজনের সময়টা একটু এগিয়ে নিয়ে এসেছে— এবারে অন্তত। এটিও নববর্ষ পালনের অংশ হয়ে গেছে। সারা দেশের সকল জেলাশহরে তো বটেই, কখনো কখনো আমি দেখেছি উপজেলায় সাড়ম্বরে বাংলা নববর্ষ পালিত হচ্ছে।

ইত্তেফাক: আপনার একটা লেখায় বলেছিলেন—রাজনারায়ণ বসু দাবি করেছিলেন, ইংরেজি নিউ ইয়ার্স পালনের দেখাদেখি বাংলা নববর্ষ পালনের রেওয়াজ শুরু হয়েছে।

আনিসুজ্জামান: এটা তো উনিশ শতকের কথা।

ইত্তেফাক: সেটা তো নগর জীবনের বিষয় ছিল। কিন্তু বাংলার গ্রামীণ সমাজে বাংলা নববর্ষ পালন তো জীবন-যাপনের অংশ...

আনিসুজ্জামান: গ্রামীণ সমাজে নববর্ষ পালন হয়ে আসছে। বিশেষ করে আমাদের যে কৃষিভিত্তিক সমাজ তারা এটাকে একটা উত্সবের দিন হিসাবে নিয়েছে। এটা এখনো পালন হয়। আমি আগে যা বললাম সেটা মূলত নাগরিক মধ্যবিত্তের কথা। কিন্তু আমি যেটা বললাম, এর মধ্যে সচেতনভাবে নববর্ষ পালন বাংলা সংস্কৃতির প্রবহমান ধারার অংশ হিসাবে দেখা এবং ঐতিহ্যকে পুনরায় সামনে নিয়ে আসার একটা প্রয়াস ছিল। আমি বললাম, কীভাবে বাংলা নববর্ষ পালন আমাদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে মিলে গিয়েছে। এখনো যেটা হয়, সেটাই আমাদের আদি নববর্ষ পালনের ধারা। যেমন-কোথাও কোথাও এখনো হালখাতা হয়।

ইত্তেফাক: বাংলা নববর্ষ পালন জাতীয়তাবাদী চেতনার অংশ হওয়া মূলত গত শতকের ষাটের দশক থেকেই শুরু হয়। বাংলা নববর্ষ পালন কেন আমাদের জাতীয়তাবাদী চেতনার অংশ হয়ে উঠলো?

আনিসুজ্জামান:বাঙালির যে একটা নিজস্ব পঞ্জিকা আছে—এই বোধ, যদিও সারা বছর আমরা এ পঞ্জিকা অনুসরণ করি না। কিন্তু আমাদের যে নিজস্ব একটা পঞ্জিকা আছে সেটা জানানোর মধ্যে গৌরবের একটা ব্যাপার আছে। ওই যে হিন্দুয়ানীর অভিযোগের উত্তর হিসাবে তুলে ধরা—নববর্ষ পালনকে হিন্দুয়ানী বলা যাবে না। এটা হিন্দু-মুসলমান ধর্মনির্বিশেষে সকল বাঙালির উত্সব। কাজেই বাংলা নববর্ষ পালনের তিনটি দিক এখনো আছে। একটি সচেতনভাবে নগরে যেটি হচ্ছে, দ্বিতীয়ত আমাদের ঐতিহ্যবাহী কৃষিভিত্তিক যে ব্যাপারটা আর তৃতীয় হচ্ছে হালখাতার অনুষ্ঠান।

ইত্তেফাক:আপনি বললেন, গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে সরকার সমর্থিত পত্রিকা ও সরকারি লোকজন বাংলা নববর্ষ পালনের বিরোধিতা করেছিল। কেন বিরোধিতা করেছিল বলে আপনার মনে হয়?

আনিসুজ্জামান:তারা ওই একটি কথাই বলতো, এটা হিন্দুদের অনুষ্ঠান। যেমন-আল্পনাকে বলতো হিন্দুয়ানী চিহ্ন। শহীদ মিনারে যখন আল্পনা আঁকা হতো তখন তারা বাধা দিয়েছিল। তাদের একটা ধারণা ছিল যে, বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবন ও সামাজিক জীবনের অনেকখানিই হিন্দু সংস্কৃতি থেকে নেয়া। সেগুলো থেকেই আমাদের যতদূর সম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা ছিল।

ইত্তেফাক:তাহলে এটা সেই সময়ের রাষ্ট্রিক দায়িত্ব ছিল...

আনিসুজ্জামান:সরকার তো কখনো নিষিদ্ধ করেনি। কিন্তু তারা মনে করতো—রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসাবে, জাতির অভিভাবক হিসাবে—এসব লোকজন বা পত্রিকার দায়িত্ব এটার বিরোধিতা করা।

ইত্তেফাক: কীভাবে আপনারা এই ধারণার প্রতিবাদ করেছিলেন?

আনিসুজ্জামান:আমি একটু আগেই মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর একটি লেখার কথা বললাম। এভাবেই অনেকেই প্রতিবাদ করেছেন। এটি সামাজিক বা সাংস্কৃতিক ব্যাপার। এটা কোনো ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠান না। কাজেই কোনো বিশেষ ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠান হিসাবে এটা দেখা ঠিক নয়। এটা সকল ধর্মাবলম্বীর ধর্মনিরপেক্ষ অনুষ্ঠান। আমাদের যে কয়েকটি ধর্মনিরপেক্ষ অনুষ্ঠান আছে, তার মধ্যে বাংলা নববর্ষ প্রধান। এছাড়াও আছে জাতীয় দিবসগুলো ও রবীন্দ্র-নজরুলের জন্মবার্ষিকী পালন।

ইত্তেফাক:কিন্তু আমরা যদি বাংলাদেশ পর্বে দেখি, বাংলা নববর্ষ অনুষ্ঠান পালনের স্থান রমনার বটমূল দখল এবং এ অনুষ্ঠানে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। অন্যদিকে স্বৈরাচারী শাসনের বিরোধিতা করে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়...

আনিসুজ্জামান:এই যেমন কিছুদিন আগে মাহমুদুর রহমান বললেন যে, মঙ্গলপ্রদীপের সংস্কৃতি এবং আজানের সংস্কৃতি—প্রদীপ জ্বালানোকে মনে করা হচ্ছে অমুসলমান সংস্কৃতির নিদর্শন। এভাবে যেটা যা নয় সেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। অর্থাত্ বাঙালি সংস্কৃতিকে হিন্দুত্বের সঙ্গে এক করে দেখার একটা অপপ্রয়াস আছে। বোমা যে নিক্ষেপ করা হলো—এই একই কারণে সেটা ঘটেছে।

ইত্তেফাক: আমরা এখনো কেন এসব অপপ্রয়াস থেকে মুক্ত হতে পারিনি?

আনিসুজ্জামান: তার কারণে হলো—সমাজে এখনো সেই শক্তিগুলো আছে যা পাকিস্তান আমলেও ছিল। যারা মনে করতো, যা কিছু দেশীয় তা সবকিছুই মুসলমানের পক্ষে বর্জনীয়। কাজেই তারা অনেক কিছুর ব্যাপারেই আপত্তি করে। এখন যেমন বলা হচ্ছে—ছেলে-মেয়েদের মেলামেশা, এটাও আপত্তিকর হিসাবে দেখা হচ্ছে।

ইত্তেফাক: আমরাও তো এসব সমস্যার সমাধান করতে পারিনি...

আনিসুজ্জামান: আমি বলবো যে, সমাধান হয়েছে এই অর্থে—সারাদেশের মানুষ এটাকে গ্রহণ করেছে। কিছু লোকের হয়তো আপত্তি আছে। তুমি যদি দেখো, ব্যাপকভাবে এসব অনুষ্ঠান হচ্ছে। এখানে যারা আসছে তাদের সংখ্যার বিপুলতা, শুধু বিপুলতাই নয়—ক্রমবর্ধমান হারে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সপরিবার, শিশুসহ সবাই আসছে।

ইত্তেফাক: তবে এখন বাংলা নববর্ষ পালনের অন্যতম অনুষঙ্গ হালখাতা করার চল এখন নেই বললেই চলে...

আনিসুজ্জামান: এখন বোধ হয় ব্যবসার চরিত্র বদলে যাওয়ার কারণে হালখাতার প্রচলন কমে গেছে।

ইত্তেফাক: বাংলা পঞ্জিকা নিয়ে যে বিতর্ক আছে তার সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

আনিসুজ্জামান: এটা এরশাদ সাহেবের আমলে হলো। তিনি বোধহয় চাইলেন যে, পশ্চিমবঙ্গের যে পঞ্জিকা—তার থেকে পৃথক কিছু করি। কাজেই তিনি সবকিছু ছেড়ে বাংলা পঞ্জিকা সংস্কারে উত্সাহ দিলেন। এ সংস্কারের প্রস্তাব পণ্ডিতরা বহু আগে থেকেই করে আসছেন। বিশেষ করে বাংলা পঞ্জিকাকে কীভাবে আরো একটু সরল করা যায়। বাংলা বর্ণমালা নিয়ে যেমন হয়েছে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা পঞ্জিকা সংস্কার নিয়ে লিখেছেন। এই পঞ্জিকাকে সরল করতে গিয়ে এখনো পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্র-নজরুলের জন্মদিন দুই দিনে পালিত হচ্ছে। এটা নিয়ে কিছু অস্বস্তি আছে। তবে নতুন পঞ্জিকা মেনে নিলে কোনো সমস্যা নেই।

ইত্তেফাক: এবারের বাংলা নববর্ষ ১৪২০ ভিন্ন আবেদন নিয়ে পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাহলে এবারে নববর্ষ পালনের অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই ভিন্ন রকম হবে?

আনিসুজ্জামান: আমার মনে হয়—আন্দোলন যখন বড় রূপ নেয়, সেই সময় এসব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালনে বিশেষ যত্ন দেখা যায়। এ বছরের জানুয়ারি মাস থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে দেশের মধ্যে অস্থিরতা চলছে। যারা ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি তারা যা চাইছে, আর যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন তাদের ভাবনার মধ্যে একটা বিরোধ আছে। সেই বিরোধের পটভূমিতে নববর্ষ পালন, মঙ্গল শোভাযাত্রা বা অন্যান্য আয়োজন বড় করার চেষ্টা খুব স্বাভাবিক—এক ধরনের সংহতি প্রকাশের চেষ্টা, এটা এক ধরনের শক্তি-সমর্থন বৃদ্ধি।

ইত্তেফাক: আপনার আছে ব্রিটিশ, পাকিস্তান, বাংলাদেশ—এই তিন পর্বের নববর্ষ পালনের স্মৃতি। এই তিন পর্বেই ব্যক্তি, পরিবারসহ জাতীয় জীবনে বাংলা নববর্ষ পালনে এসেছে পরিবর্তন। ভবিষ্যতে কীভাবে এ পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে?

আনিসুজ্জামান: আমার মনে হয়, ভবিষ্যতেও বাংলা নববর্ষ উদযাপন চলতে থাকবে। তবে যতদিন না আমরা ব্যবহারিক কাজে বাংলা পঞ্জিকা প্রয়োগ করবো, ততদিন পর্যন্ত প্রাত্যহিক ব্যাপারে বাংলা পঞ্জিকা আমরা স্মরণ করবো না। এখনো আমি অনেক জায়গায় দেখি—'১৯৩০ সালের শ্রাবণ মাসে এটা হলো'। এরকম একটা ব্যাপার রয়ে গেছে। বাংলা সন অসম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমাদের খবরের কাগজগুলো প্রতিদিনই বাংলা তারিখ ছাপছে। আমাদের জীবনে যেটা হয়, আমরা তো তিন রকম পঞ্জিকাই অনুসরণ করি। খ্রিস্টীয় পঞ্জিকা সারা বছরই অনুসরণ করি, মুসলমানদের উত্সব-অনুষ্ঠানে হিজরি আর সামাজিক পার্বণে বাংলা পঞ্জিকার দরকার হয়। আমার মনে হয়—ভবিষ্যতেও আমাদের এই তিনটি পঞ্জিকার দরকার হবে। তবে নববর্ষ নিয়ে বাঙালিত্বের যে চেতনা সেটা অনড় থাকবে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবে সংসদীয় ঐকমত্য কমিটি। টিআইবির এ প্রস্তাবের সঙ্গে আপনি একমত?
5 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৮
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :