The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৩, ১ বৈশাখ ১৪২০, ২ জমাদিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ভেনেজুয়ালার নতুন প্রেসিডেন্ট মাদুরো | পদ্মায় নৌকাডুবি: তিন লাশ উদ্ধার | রাজশাহীর তিন জেলায় হরতাল পালন: ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যা, বিএনপি কার্যালয়ে ভাংচুর | সাংবাদিকদের অনশনে বিএনপির সংহতি | ঢাবিতে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি: ১১ কর্মী বহিষ্কার | ক্ষমা চাইল প্রথম আলো ও হাসনাত আবদুল হাই | সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখবে সশস্ত্র বাহিনী: তিন বাহিনীর প্রধান | যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মাননা পাচ্ছেন ড. ইউনূস | বিদেশে কর্মী পাঠাতে প্রতারণা করলে সাত বছরের কারাদণ্ড

মেলা কথন

'বারো মাসে তের পার্বণ' আমাদের দেশে প্রচলিত এই প্রবাদটি মনে করিয়ে দেয় বাংলার উত্সবের প্রাচুর্যতার কথা। এ দেশে এমন কোনো ঋতু বা মাস নেই, যখন কোথাও না কোথাও কোনো না কোনো উত্সবকে কেন্দ্র করে মেলা বসে না। সব বদলালেও বদলায়নি আমাদের চীরচেনা গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা এবং উত্সবগুলো।

 রিয়াদ খন্দকার

গুড়পুকুর মেলা

হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্পদেবী মা মনসা পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হয় সাতক্ষীরার তিন শ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা। এর আগে দীর্ঘ ৮ বছর বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি ছোট পরিসরে মেলা শুরু হলে মেলার স্বাদ কিছুটা হলেও পেয়েছে সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ। প্রতি বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্পদেবী মনসা পূজার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকায় প্রাচীন আমলের গুড়পুকুর পাড়ের বটতলায় শুরু হয় গুড় পুকুরের মেলা। মেলা ছড়িয়ে পড়ে জেলা শহরব্যাপী। এই মেলায় ঢাকা, খুলনা, যশোর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা মেলায় গাছের কলম, কাঠের আসবাবপত্র, বাঁশ, বেত, মৃত্তিকা ও লোহার তৈরি নানা হস্তশিল্প, ছেলেমেয়েদের খেলনা, মনোহারি সামগ্রী, হরেক রকম মিষ্টি ও মৌসুমী ফলের সম্ভার নিয়ে মেলায় হাজির হয়। সার্কাস, যাত্রা, পুতুল নাচ, জাদু প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলা পরিণত হয় এক মহামিলন উত্সবে।

বেরা উত্সব

বেরা উত্সবের সময় পুরো মুর্শিদাবাদ ফিরে পায় নবাবি আমলে। আলোয় সেজে উঠল হাজারদুয়ারি চত্বর। ভাদ্র মাসের শেষ বৃহস্পতিবার আলোর রোশনাইয়ে কৃষ্ণপক্ষের আকাশ আলোয় ঝলমল করে ওঠে, তেমনি আতশবাজি থেকে ছড়িয়ে পড়া আলোর মালা জলে পড়ে ভাগীরথীকেও রঙিন করে তুলে। প্রায় তিন শ বছরেরও প্রাচীন এই আলোর উত্সব জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর সীমানা ছুঁয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৭০৪ সালে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার সুবেদার হিসেবে মুর্শিদকুলি খান মুর্শিদাবাদে আসার পর থেকেই প্রতি বছর নিয়ম করে দিল্লির মসনদে বাত্সরিক কর সংগ্রহ করে পাঠাতেন। ওই বজরার যাত্রা শুরুর মুহূর্তে তোপ দাগা হতো। ওই যাত্রাপথ মঙ্গলময় করতেই বেরা উত্সবের সূচনা। উর্দুবাজার ঘাটে দাঁড়ানো বড় নৌকায় (পাটেয়ালা) মালপত্র-সামগ্রী রাখা থাকত আর নবাবের উচ্চপদস্থ কর্মচারী রাজস্ব নিয়ে বজরায় থাকতেন। মুর্শিদকুলি খাঁ 'মহলসরায়' ভবন থেকে শোভাযাত্রা করে উর্দুবাজার ঘাটে পৌঁছাতেন। ১৫টি মোহর ও সোনার চিরাগ ১৫টি সোনার থালায় সাজিয়ে বজরার প্রধানের হাতে তুলে দিয়ে যাত্রার সূচনা করতেন।

বারুহাস মেলা

দেশের বৃহত্তম চলনবিল অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মেলা হচ্ছে বারুহাস এবং সিংড়া উপজেলার তিশিখালী মেলা। প্রতি বছর চৈত্র চন্দ্রিমার ১৩ তারিখে জমিদার খ্যাত বারুহাস গ্রামে অনুষ্ঠিত ২ দিনব্যাপী এই মেলার বয়স প্রায় দেড় শ বছর। আগে বারুহাস গ্রামের পশ্চিমে ভদ্রাবতী নদীর তীরে এই মেলা বসত বলে সে সময় সবার কাছে এই মেলা ভাদাই মেলা নামেই পরিচিত ছিল। কালের বিবর্তনে ভাদাই থেকে এখন বারুহাস গ্রামের নামানুসারেই পরিচিত।

তিশিখালী মেলা

চলনবিল অঞ্চলের সিংড়া উপজেলা সদর হতে ১০ কিমি পূর্বে পীর ঘাসী দেওয়ান মাজারকে ঘিরে তিশিখালী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। চৈত্র-চন্দ্রিমার ৬ তারিখে ২ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই তিশিখালী মেলার বয়স প্রায় সাড়ে তিন শ বছরেরও বেশি। এই মেলার সবচেয়ে বড় ঐতিহ্য হলো মেলার পূর্ব রাতে মাজারকে ঘিরে শুরু হয় জমজমাট গানের আসর। দূর-দূরান্তের আগত ভক্ত-আশেকানরা দলবেঁধে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে গানের আসর বসান। দেহতত্ত্ব গানে মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। এখানে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টানদের কোনো ভেদাভেদ নেই। গানে গানে সবাই যেন এক কাতারে সামিল।

ধলের মেলা

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের স্মৃতিবিজড়িত কালনী নদীর কোলঘেঁষে ধল গ্রামে বসে ঐতিহ্যবাহী ধলের মেলা। ধল মেলা নিয়ে শাহ আবদুল করিম বলেন, 'ফাল্গুনে এসেছে ধলের মেলা/যাবি যদি আয় দলে দলে, উঠেছে বেলা।' জানা গেছে, আজ থেকে আড়াই শ বছর আগে ধল গ্রামের মাঠে একটি পরমেশ্বরী শিলা দেখা যায়। এরপর থেকে এ শিলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার ভেড়া, মহিষ বলি দিয়ে পূজা করতে থাকেন। ওই দিন মাঠে বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। ধল মেলা নিয়ে বাউল সম্রাট আবদুল করিম বই লিখেছেন। মেলায় উপজেলার তাড়ল, কুলঞ্জ ও জগদল ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী শালা ও নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ আসেন। মেলা মূলত হিন্দুদের উত্সব হলেও বর্তমানে এ মেলা হিন্দু-মুসলিমের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এ মেলার আকর্ষণীয় জিনিস হচ্ছে বেল এবং আখ। তবে দই, মুড়ি এবং রসগোল্লা খেতে ভুল করেন না কেউ।

গোলইয়া মেলা

মাদারীপুরে মেলাকে ঐতিহ্যের দিক থেকে 'গোলইয়া' বলা হয়। মাদারীপুর এবং এর আশপাশের জনপদ অনেক আগে থেকেই হিন্দু অধ্যুষিত। মাদারীপুর জনপদটির বয়স প্রায় এক হাজার ৮০০ বছর। এ কারণে এই জেলায় বিভিন্ন পূজা-পার্বণ, বিশেষ বিশেষ দিনে বিভিন্ন ধরনের উত্সব এবং গ্রামীণ জনপদ থেকে শুরু করে শহুরে জনপদে মেলা বসত।

চড়ক মেলা

মাদারীপুর সদর উপজেলা, রাজৈর, কালকিনি ও শিবচরে ছোট ছোট মেলা হয়। তবে রাজৈরের আমগ্রামে বসে জেলার সবচেয়ে বড় মেলা। এই মেলার বিশেষ আকর্ষণ ভক্তের কোমর বা পিঠে বড়শি গেঁথে চড়কগাছে বেঁধে ঘোরানো। এই দৃশ্য দেখে ছোট ছোট শিশুসহ বড়রাও শিউরে ওঠেন। এ ছাড়া এই মেলায় রয়েছে পুতুলনাচ ও নাগরদোলাসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান। কোথাও তিন দিন, আবার কোথাও সাত দিন চলে এই আয়োজন। মাদারীপুর জেলা ছাড়াও আমগ্রামের সাধুর আশ্রমে ভিড় করে শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরসহ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের হাজার হাজার ভক্ত। বিদেশি ভক্তদল গেরুয়া রঙের থান কাপড় পরে সারিবদ্ধভাবে আসে এই মেলায়। তাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। সাধুর আশ্রমের অতিথি আপ্যায়নসহ মেলার ঐতিহ্য, পূজা ও জিনিসপত্রের মুগ্ধতায় হাজারো কষ্ট উপেক্ষা করে অতিথিরা প্রতিবছরই আসে এখানে। মাদারীপুর সদরের আমগ্রাম ও খোয়াজপুর, রাজৈরের খালিয়া, সেনদিয়া ও নাগরদী, শিবচরের রবহামগঞ্জ, হাতিরমাঠ ও চান্দেরচর এবং কালকিনির সাহেবরামপুর, ফাসিয়াতলা, শশীকর ও খাসেরহাট এলাকার মানুষ বিভিন্ন মেলার ঐতিহ্য এখনো ধরে রেখেছে।

বারুনী মেলা

সিলেটের ওসমানীনগরের বসে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বারুনী মেলা। সনাতন ধর্মালম্বীরা প্রতি বছর দোল পূর্ণিমা তিথিতে শত বছর আগে বুড়ি-বরাক নদীতে পুণ্যস্নান করতেন। মহাভারতে বর্ণিত বুড়ি-বরাক নদী গঙ্গার সাথে যুক্ত। গঙ্গা নদী হচ্ছে পাপ মোচনকারী নদী। পূর্ণিমা তিথিতে গঙ্গার জোয়ারের পানি বুড়ি বরাক নদীতে এসে মিলিত হয়। সঙ্গত কারণেই যারা গঙ্গা নদীতে স্নান করতে অক্ষম তারা বুড়ি বরাক নদীতে স্নান করতেন। গোয়ালা বাজার, তাজপুর, বোয়ালজুর, বুরুঙ্গা, দয়ামীর প্রভৃতি মোহনায় হাজার হাজার মানুষ স্নান করতেন। তাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যোগানের লক্ষ্যে মেলার শুরু হয়। আর তখন থানার বাজার (বর্তমানে তাজপুর বাজার) সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম ঘটত। সেখানের বারুনীর মেলা ছিল সিলেটের বিখ্যাত। বর্তমানে বুড়ি-বরাক নদী ইতিহাস থেকে প্রায় হারিয়ে গেলেও ইতিহাসের পথ ধরে সে মেলা এখনও অনুষ্ঠিত হয়। তবে আগে মেলা একটানা ৭ দিন ধরে না চললেও বর্তমানে তা সীমিত আকারে ১ দিনে এসে ঠেকেছে।

মাছের মেলা

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রামে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা বসে। দুই দিনব্যাপী এই মেলাকে ঘিরে গ্রামজুড়ে বিরাজ করে উত্সবের আমেজ। আশপাশের জেলা থেকেও শত শত মানুষ মেলায় আসেন। সারাদিনই চলে মাছ বিক্রির উত্সব। তবে সন্ধ্যায় মাছ বেচা-কেনা জমে উঠে। শুরু হয় বেশি দামে মাছ কেনার প্রতিযোগিতা। বিশালাকৃতির বাঘাই, বোয়াল, চিতল, রুই, কাতল, কার্প, কালী বাউশ, ঘাসকার্প, শোল, গজার ইত্যাদি মাছ মেলায় স্থান পায়। এ ছাড়া পুঁটি, চিংড়ি, কৈ, চাপিলা, চান্দা ইত্যাদি মাছও ছিল। মাছের পাশাপাশি মেলায় বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্যের সমাগমও ঘটে। এ ছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্য ছিল নানা ধরনের খেলনার দোকান।

খাউড়া মেলা

উত্সবমুখর পরিবেশে বগুড়ার শাজাহানপুরের ২শ' বছরের ঐতিহ্যবাহী খাউড়া মেলা (ছোট সন্ন্যাসী মেলা) অনুষ্ঠিত হয়। মেলাকে ঘিরে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নাইওরি প্রথা দিয়ে কানায় কানায় ভরে উঠে খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের জালশুকা, চান্দাই, শেরকোল, চাঁচাইতারা, মাদলা, সুজাবাদ, বোহাইল, মোস্তাইল, দুবলাগাড়ী, চোপীনগর, শাহ্ নগর সহ আশপাশ এলাকার প্রতিটি বাড়ি। সন্ন্যাসী পুজাকে কেন্দ্র করে প্রায় ২শ বছর যাবত ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবারে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে খাউড়া মেলা। কথিত আছে—বগুড়ার গাবতলী উপজেলার পোড়াদহে বড় সন্ন্যাসীর পূজা হতো আর শাজাহানপুরের খাউড়ায় পূজা হতো ছোট সন্ন্যাসীর। কালের আবর্তে এখন আর সন্ন্যাসী পূজা হয় না। তবুও আবহমান কাল থেকে বসছে মেলা। মেলা থেকে কেনা মাছ, মাংস, বড়ই, মিষ্টান্ন দিয়ে চলছে নাইওরি আপ্যায়ন।

রথ উত্সব

ঢাকার ধামরাইয়ে ৪০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উত্সব শ্রী শ্রী যশোমাধবের রথযাত্রা ও এ উপলক্ষে মাসব্যাপী মেলা। দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের রথ উত্সব ও মেলার সবচেয়ে বড় আয়োজন হয়ে থাকে এই ধামরাইয়ে। এ ঐতিহ্যবাহী রথ উত্সবকে কেন্দ্র করে গোটা ধামরাইয়ে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। রথ উত্সব উপলক্ষে কায়েতপাড়াস্থ রথ খোলায় ও রথের সামনে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এ সময় ঢোল, কাসর ঘণ্টা ও মহিলাদের উলুধ্বনিতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। দুপুরে মাধব মন্দিরে ভোগ রাগের পর প্রসাদ বিতরণ করা হয় আগত ভক্তদের মাঝে। বিকেল ৪টায় মাধব মন্দির থেকে মাধব বিগ্রহসহ অন্য বিগ্রহগুলো নিয়ে সারা বছর যেখানে রথটি থাকে সেই রথ খোলায়, রথের ওপর মূর্তিগুলো স্থাপন করা হয়। রথটি মূর্তি সমেত রথ উত্সবে আগত লাখো ভক্ত নর-নারী পাটের রশি ধরে টেনে নিয়ে যায় পৌর এলাকার গোপনগরে। এখানেই রথটি প্রতিবছরের ন্যায় ৯ দিন অবস্থান করে। মাধব ও অন্যান্য বিগ্রহগুলো রথ থেকে নামিয়ে নিয়ে ৯ দিন পূজারিদের দ্বারা পূজিত হবে কথিত মাধবের শ্বশুরালয় যাত্রাবাড়ি মন্দিরে। ৯ দিন পর অনুষ্ঠিত হয় উল্টো রথ যাত্রা উত্সব। পূর্বের ন্যায় মাধব ও তার সহচরদের রথে চড়িয়ে ২ জুলাই সন্ধ্যায় টেনে আনে পূর্বের স্থান ধামরাই পৌর এলাকার কায়েতপাড়াস্থ রথখোলায়। মূর্তিগুলো চলে যাবে পুরোনো মাধবের নিজ আলয় মন্দিরে। রথ খোলায় রথটি সারা বছর থাকে বলে এই স্থানটির নামকরণ হয়েছে রথ খোলা।

রাজপুণ্যাহ উত্সব

বান্দরবানের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাজপূণ্যাহ উত্সব। প্রতিবছর প্রজাদের কাছ থেকে জুমের বাত্সরিক খাজনা আদায়ের জন্য রাজপূণ্যাহ মেলার আয়োজন করে বোমাং রাজ পরিবার। রাজপূণ্যাহ উত্সবের উদ্বোধনী দিনে বোমাং সার্কেলের রাজা ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় পোশাক পরিধান করে রাজবাড়ী থেকে রাজকীয় বাঁশির সুরে অনুষ্ঠানস্থলে নেমে আসেন। এসময় তার সৈন্য-সামন্ত, উজির-নাজির, সিপাহী শালাররা রাজাকে গার্ড দিয়ে মঞ্চস্থলে নিয়ে যায়। বোমাং রাজা সিংহাসনে উপবিষ্ট হলে সারিবদ্ধভাবে বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলার ৯৫টি মৌজা এবং রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই ও রাজস্থলী দুটি উপজেলার ১৪টি মৌজাসহ মোট ১০৯টি মৌজার হেডম্যান, ৮ শতাধিকেরও বেশি কারবারী, রোয়াজারা রাজাকে কুর্নিশ করে জুমের বাত্সরিক খাজনা ও উপঢৌকন রাজার হাতে তুলে দেন। রাজপুণ্যাহ মেলা বসে নাগর দোলা, ভেরাইটিসু, পপসংগীত, পুতুল নাচ, মৃত্যুকূপসহ ব্যতিক্রমী নানা আয়োজন। এ ছাড়াও হরেক রকম জিনিসপত্রের দোকান এবং সারারাত ব্যাপী চলে যাত্রা অনুষ্ঠান। রাজপুণ্যাহ উত্সব পরিণত হয়েছে পাহাড়ি-বাঙালির মিলন মেলায়। শুধুমাত্র বান্দরবান, রাঙামাটি নয়, রাজপুণ্যাহ মেলা দেখতে ভিড় জমিয়েছে দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটকও।

এ ছাড়াও বাংলাদেশ এবং কলকাতা মিলিয়ে বসে আরও কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী মেলা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাকড়া মেলা, সাড়েঙ্গার বড়দি মেলা, সিমলার শিবগাজন, ইন্দ পরব, সাঁওতালী মেলা, দধিয়া বৈরাগীতলার মেলা, রামকেলির মেলা, ধর্মরাজের গাজন, হনুমানজির উত্সব, মনসার মেলা, ন্যাংটেশ্বরের মেলা, ক্ষীরগ্রামের মেলা, গাজন উত্সব, বুড়োরাজের মেলা, বন্যেশ্বর শিবের উত্সব, খুন্তীর মেলা, রঘুনাথের মেলা, গাজীর মেলা, টুসু ইত্যাদি।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবে সংসদীয় ঐকমত্য কমিটি। টিআইবির এ প্রস্তাবের সঙ্গে আপনি একমত?
5 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১২
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :