The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৪, ১ বৈশাখ ১৪২১, ১৩ জমাদিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ মিল্কি হত্যা মামলায় ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট | বারডেমে চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি | কালিয়াকৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ | তারেকের বক্তব্যে ভুল থাকলে প্রমাণ করুন : ফখরুল

বৈশাখী গান আর মিষ্টি

মুন্না রায়হান

এসো হে বৈশাখ এসো এসো

তাপস নিশ্বাস বায়ে, মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে...

রবীন্দ নাথ মুমূর্ষুরে উড়ায়ে বৈশাখকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই গানটি ছাড়া কি বৈশাখ আসে? ঠিক তেমনি বাঙালির এত বড় উত্সব কি মিষ্টি ছাড়া সম্পূর্ণ হয়। বলা যায়, ভাবাই যায় না। বৈশাখকে আপ্যায়নই হয় মিষ্টি দিয়ে। বলা যায়, বাঙালির ঐতিহ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মিষ্টি। সাথে বৈশাখী গান, সাজুগুজু, লাল সাদা পাড় শাড়ি।

মিষ্টির কথা আসলেই জিভে জল চলে আসে। আসবেই বা না কেন, মিষ্টিতো হরেক রকমের মিষ্টি।

ব্যবসায়ীরা বৈশাখে নতুন খাতা খোলেন মিষ্টি খাইয়ে। ভ্যাপসা গরম, চৈত্রের কাঠফাটা রোদ, ধূলোর ওড়াওড়ি, ঘাম দরদর-ঝরঝর হাল- সবকিছু ছাপিয়ে যায় হালখাতার টানে। দোকান ঘুরে ঘুরে মিষ্টিমুখ, কোলাকুলি, নতুন খাতায় নাম ওঠানো সবই হয় মিষ্টির মাধ্যমে। মিষ্টি বিক্রি উপলক্ষে বাড়তি লাভও জোটে মিষ্টি ব্যবসায়ীদের। সেই সাথে খুঁজে পায় এক নতুন আস্বাদ, নতুন করে জীবন চলার পথের উপাদান, প্রেরণা আর উদ্দীপনা।

নববর্ষে মিষ্টি আসল কিভাবে?

১৫৫৬ সালে শুরু হয়েছিল বাংলা সনের প্রর্বতন। মোগল সম্রাট জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবরের সিংহাসনে আরোহণের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে তার রাজস্ব র্কমর্কতা আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজী প্রথম ১৫৫৬ সালে উত্সব হিসেবে বৈশাখকে পালন করার নির্দেশ দেন। একই ধারাবাহিকতায় ১৬০৮ সালে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নির্দেশে সুবদোর ইসলাম খাঁ চিশতি ঢাকাকে যখন রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলেন, তখন থেকেই রাজস্ব আদায় ও ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশ শুরু করার জন্য বাংলা বছরের পহেলা বৈশাখকে উত্সবের দিন হিসেবে পালন শুরু করে। ঐতিহাসিক তথ্যে আছে, সম্রাট আকবরের অনুকরণে সুবেদার ইসলাম চিশতি তাঁর বাসভবনের সামনে সব প্রজার শুভ কামনা করে মিষ্টি বিতরণ এবং বৈশাখী উত্সব পালন করতেন। সেখানে সরকারি সুবেদার হতে শুরু করে জমিদার, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত থাকত। প্রজারা খাজনা নিয়ে আসত। সেই উপলক্ষে সেখানে খাজনা আদায় ও হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি চলত মেলায় গান-বাজনা, গরু-মোষের লড়াই, কাবাডি খেলা ও হালখাতা অনুষ্ঠান।

পরবর্তীতে ঢাকা শহরে মিটফোর্ডের নলগোলার ভাওয়াল রাজার কাচারিবাড়ি, বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী ঢাকার নবাবদের আহসান মঞ্জিল, ফরাসগঞ্জের রূপলাল হাউস, পাটুয়াটুলীর জমিদার ওয়াইযের নীলকুঠির সামনে প্রতি পহেলা বৈশাখে রাজ পুণ্যাহ অনুষ্ঠান হতো। সেই অনুষ্ঠানের সাথে মিষ্টান্ন ছিল ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে।

বাঙালির সেই ঐতিহ্য ধরে সেই আদিকাল থেকে পহেলা বৈশাখের সাথে মিষ্টি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ঢাকায় সেই আদিকাল থেকে গড়ে উঠেছে নামকরা সব মিষ্টির দোকান। রয়েছে আদি মরণ চাঁদ, বিক্রমপুর সুইটস্, রস, প্রিমিয়াম সুইটস।

বাঙালির মিষ্টির ঐতিহ্যকে দেশে ও বিদেশে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে প্রিমিয়াম সুইটস বাই সেন্ট্রাল। মিষ্টি খেতে গিয়ে পছন্দ না হওয়ায় নিজেই মিষ্টির দোকান দিয়ে বসেন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার এইচ এম ইকবাল। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, কানাডা ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির ২০টি দেশে কার্যক্রম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করেন ৭শ'র উপরে কর্মচারী-কর্মকর্তা। এর ৬০ শতাংশ কর্মচারী মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন।

তিনি বলেন, ক্রেতাদের ভালো মানের মিষ্টি খাওয়াবো শুধু এ উদ্দেশ্যেই প্রতিষ্ঠানটি গড়া হয়েছে।

এর প্রধান কার্যালয় গুলশান ২। ফোন: ৮৮৩৫৯৪১, ই-মেইল: [email protected] Ges I‡qe mvBU: www.premiumsweets.net

প্রতিষ্ঠানটির পান্থপথ শাখার সিনিয়র ম্যানেজার সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন,প্রিমিয়াম সুইটস তাদের নিজস্ব কারখানার মাধ্যমে উন্নতমানের মিষ্টি তৈরি করে থাকে। এখানে বিভিন্ন ধরনের খুবই সুস্বাদু মিষ্টি পাওয়া যায়। এরমধ্যে রয়েছে- মতিচূরের লাড্ডু প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা। গোলাপজাম ৪২৫ টাকা, ক্ষীর টোস্ট ৭৫০ টাকা, মালাইচপ ৬৫০ টাকা, চমচম ৫৯৫ টাকা, কাজুবরফি ২৩৫০ টাকা, নদীয়া সন্দেশ ৮৯৫ টাকা, দধি ৪২৫ টাকা, মাওয়া লাড্ডু ৭৭৫ টাকা, প্রিমিয়াম লাড্ডু ৫৯৫ টাকা, রসগোল্লা ৩৭৫ টাকা ও ক্ষীর মোহন ৭২৫ টাকা। এছাড়া আরো হরেক রকমের মিষ্টি রয়েছে বলে তিনি জানান। ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির ১০টি শাখা রয়েছে।

এদিকে গতকাল ঢাকার আরেকটি আদি মিষ্টির দোকান আদি মরণ চাঁদ। প্রতিষ্ঠানটির একাংশের স্বত্বাধিকারী প্রশান্ত কুমার ঘোষ বলেন, ১৮৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৩৭টি বছরের এই প্রতিষ্ঠানটির বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। মানের সাথে দামের সমন্বয় ঘটিয়ে কয়েক দশক ধরে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। এখানে নিজস্ব কারখানায় উত্পাদিত মিষ্টি ব্যতীত দেশের অন্য অঞ্চলের বিশেষ কোন ধরনের মিষ্টান্ন পাওয়া যায় না। শাখাগুলোতে বসে খাওয়ার তেমন কোন ব্যবস্থা নেই, তবে কোন কোন শাখায় স্ট্যান্ডিং টেবিলে ৩-৪ জন লোকের খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। দোকানগুলোতে মিষ্টি এবং মিষ্টি জাতীয় অন্য খাবারগুলো নরমাল তাপমাত্রায় শোকেসে সংরক্ষণ করা হয় তবে দই এবং এ জাতীয় খাবারগুলো ফ্রিজে রাখা হয়। এখানে তৈরিকৃত একদিনের মিষ্টি অন্যদিন বিক্রি করা হয় না। দিনশেষে অবশিষ্ট মিষ্টিগুলো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নষ্ট করে ফেলা হয়। শাখাগুলোতে বিকল্প বিদ্যুত্ হিসেবে আইপিএস-এর ব্যবস্থা রয়েছে। পণ্য ক্রয়ের পর বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ক্যাশ ও ক্রেডিট কার্ড উভয় ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রচলিত কার্ডসমূহ হল - মাস্টার কার্ড, ভিসা কার্ড, ডিবিবিএল (এটিএম) কার্ড। সর্বমোট শাখা রয়েছে আটটি। এর মধ্যে বাংলাদেশে সাতটি এবং কানাডায় একটি। শাখাগুলো হল-

হাউজ # ৭, রোড # ৪, মমতাজ প্লাজা, ধানমন্ডি, ঢাকা। হাউজ # ১, রোড # ১৩, ঈশাখাঁ এভিনিউ, সেক্টর-৬, উত্তরা । এয়ারপোর্ট ডিপার্চার লাউঞ্জ, টার্মিনাল-১, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঢাকা । ডিপার্চার লাউঞ্জ, টার্মিনাল-২, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা। এয়ারপোর্ট ডমেস্টিক লাউঞ্জ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ম্যানেজার সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ক্রেতাকে অর্ডার দিতে হলে অন্ততপক্ষে ২৪ ঘন্টা আগে অর্ডার দিতে হবে।

এদিকে ঢাকার আদি মিষ্টির দোকান আদি মরণ চাঁদের একাংশের স্বত্বাধিকারী প্রশান্ত কুমার ঘোষ বলেন, ১৮৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৩৭টি বছরের এই প্রতিষ্ঠানটি দাম ও মানের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করে আসছে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, 'দেশ আজ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে। এদেশে বিদেশিরা বিনিয়োগ করছে না'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ২১
ফজর৩:৫৮
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:২৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :