The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৪, ১ বৈশাখ ১৪২১, ১৩ জমাদিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ মিল্কি হত্যা মামলায় ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট | বারডেমে চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি | কালিয়াকৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ | তারেকের বক্তব্যে ভুল থাকলে প্রমাণ করুন : ফখরুল

[ রা জ নী তি ]

আসল বিরোধী দল কারা

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

'সরকারি-দল' ও 'বিরোধী-দল' নিয়ে এখন তালগোল পাকিয়ে গেছে। একটি রাজনৈতিক দলকে সরকারি দল বলা হবে, না কি তাকে বিরোধী দল বলা হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের শেষ নেই। কোনো কোনো দল অস্বীকার করতে চায় যে, তারা সরকারি দল। সে দলটি আবার একথাও মেনে নিতে রাজি নয় যে, তারা বিরোধী দল। তাদের কথা, তারা সরকারি দলও না, আবার বিরোধী দলও না। অন্যদিকে, কোনো কোনো দল দাবি করছে যে, তারা একই সাথে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ই। এরূপ সব বিভ্রান্তির জট কাটাতে হিমশিম খাওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অনেক ধরনের রাজনৈতিক দল পাশাপাশিভাবে অস্তিত্বমান থাকে। এটি শুধু স্বাভাবিকই নয়, সেই ব্যবস্থায় সেরূপ থাকাটা অত্যাবশ্যকও বটে। বিভিন্ন ধারার ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি ও কাজকর্ম গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়। একটি বুর্জোয়া রাষ্ট্রীয় ও আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার কাঠামোগত চৌহদ্দির মধ্যে সেরূপ গণতন্ত্র বিরাজমান থাকার সম্ভাবনা থাকে। বুর্জোয়া ব্যবস্থায় অবশ্য সব সময় গণতন্ত্র থাকে না। শোষকদের স্বার্থরক্ষার প্রয়োজনে গণতন্ত্রকে বিসর্জন দিয়ে স্বৈরতন্ত্র কিংবা এমনকি ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করা হয়। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সামাজিক ব্যবস্থার সমাজতন্ত্রমুখী বিপ্লবী পরিবর্তন সূচিত হলে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় গণতন্ত্রকে কার্যকর করার জন্য ভিন্নতর কাঠামোগত উপাদানের আশ্রয় নিতে হয়। সে যাই হোক— বর্তমানে আমাদের দেশ যে রাষ্ট্রীয় ও আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে সেখানে বহু দলের স্বাধীন অস্তিত্বের বিষয়টি স্বীকৃত ও বাস্তব।

বহুদল কিন্তু সব ধরনের দলকে বোঝায় না। একটি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু থাকলেই যে সে দেশে ইচ্ছেমতো সব ধরনের দল করার অধিকার স্বীকৃত হবে তা কিন্তু ঠিক নয়। ইউরোপের কোনো দেশেই নািস অথবা ফ্যাসিবাদী মতবাদকে ভিত্তি করে কোনো দল করা কিংবা এমনকি কোনো তত্পরতা চালানোর অধিকার নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 'কু ক্লাক্স ক্লান' নামের ফ্যাসিস্ট-সন্ত্রাসী দল করার অধিকার কারো নেই। 'আল-কায়দা' সংগঠনটি এখনো বিশ্বের সব 'বহুদলীয় গণতন্ত্রের' দেশেই নিষিদ্ধ। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার পর বাংলাদেশেও পাকিস্তানি আদর্শধারী 'ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল' গঠন ও পরিচালনা সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ হয়েছিল (৩৮নং অনুচ্ছেদ দ্বারা)। জিয়াউর রহমান ৫ম সংশোধনীর দ্বারা সেই ধারা পরিবর্তন করেছিল। শেখ হাসিনা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আদি সংবিধানের অনেক বিধান ফিরিয়ে আনলেও ৩৮নং অনুচ্ছেদটি তার আদি রূপে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেননি। বরঞ্চ এরশাদের চাপিয়ে দেয়া 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম' সম্পর্কিত বিধানটি তিনি বহাল রেখেছেন। বর্তমানে ৩৮নং অনুচ্ছেদটি তার আদি রূপে পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম'-এর সামপ্রদায়িক পক্ষপাতমূলক বিধান বাতিলের দাবির পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবিটি জোরদার গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনে সরাসরি জড়িত দল জামায়াত-শিবিরের কোনো স্থান থাকতে পারে না। জামায়াত এবং এ ধরনের দল সম্পর্কে বলা যায় যে, এগুলো সরকারি দলও না, বিরোধী দলও না— এগুলো সবই হলো 'অবৈধ দল'।

বহুদলীয় গণতন্ত্রের দেশে যেসব দলের সাংবিধানিকভাবে কাজ করার অধিকার আছে, তাদের মাঝে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নানা আদর্শ-দর্শন-নীতি-কর্মসূচি। সেই হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর শ্রেণিকরণ করা হয়ে থাকে। সাধারণত দক্ষিণপন্থি (বা ডানপন্থি) এবং বামপন্থি— এই দুই ভাগে দলগুলোকে চিহ্নিত করা হয়। সাথে সাথে মাঝামাঝি অবস্থানকারীদেরকে মধ্যপন্থি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। বামপন্থি দলের মধ্যেও অনেক প্রকারভেদ রয়েছে। কমিউনিস্ট, মার্কসবাদী, সমাজতন্ত্রবাদী ইত্যাদি ধরনের দলগুলো এই কাতারে পড়ে। কোনো কোনো দলকে 'বাম-সম্ভাবনাপূর্ণ' দল অথবা 'বাম-দাবিদার' দল হিসেবেও চিত্রায়িত করা হয়ে থাকে। কিছু দল নিজেদেরকে বামপন্থি দল বলে পরিচয় দেয়ার বদলে র্যাডিকাল, প্রগতিশীল ইত্যাদি রূপে আখ্যায়িত হতে পছন্দ করে। মধ্যপন্থিদের মাঝেও রকমভেদ রয়েছে। রয়েছে বামদিকে ঝুঁকে থাকা মধ্যপন্থি (মধ্য-বাম) কিংবা ডানদিকে ঝুঁকে থাকা মধ্যপন্থি (মধ্য-ডান) চরিত্রের দল। উদার-গণতন্ত্রের আদর্শ অনুসারীরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ঝোঁকের মধ্যপন্থি দল হিসেবেই ভূমিকা পালন করে থাকে।

দক্ষিণপন্থি (অথবা ডানপন্থি) দলগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো, তারা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অনুসারী। তাদের মধ্যে উদারবাদী প্রবণতা সম্পন্ন দল যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে রক্ষণশীল চিন্তার দল। প্রচলিত ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখাই তাদের লক্ষ্য। দক্ষিণপন্থিদের মধ্যে প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্রসম্পন্ন দলও আছে। এসব দল উগ্রপন্থায় কায়েমি শোষক শ্রেণির স্বার্থরক্ষায় নিয়োজিত থাকে। সাধারণত তারা গণতন্ত্রের কোনো ধার ধারে না এবং প্রায় সব ক্ষেত্রেই ঘোরতর প্রগতি বিরোধী ভূমিকা পালন করে থাকে।

রাজনৈতিক দলের চিত্রায়ণ ও মূল্যায়ন, তাদের অনুসৃত মৌলিক নীতি-দর্শন-কর্মসূচি অনুসারে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু আমাদের দেশের বড় বুর্জোয়া দলগুলো রাজনীতিতে ক্ষমতার বিবেচনাকেই প্রধান বিবেচ্য বিষয়ের স্থানে নিয়ে এসেছে। দলের নীতি-আদর্শ-কর্মসূচির বিষয়গুলোকে করে তোলা হয়েছে গৌণ এবং ক্ষমতার প্রয়োজনে দরকার হলে পরিত্যাজ্য। তাদের এই মনোভাবের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সীমিত ধারণাটিই প্রচলিত যে, দেশের রাজনৈতিক দল হলো সোজা-সাপটা দুই শ্রেণিতে বিভক্ত। একটি হলো সরকারে অন্তর্ভুক্ত দল বা সরকারি দল, অন্যটি হলো সরকারের অন্তর্ভুক্ত নেই এমন দল তথা বিরোধী দল। এ রকম 'সরকারি দল' ও 'বিরোধী দল' হিসেবে সোজা-সাপটা বিভাজনের ও শ্রেণিকরণের ক্ষেত্রেও এখন সৃষ্টি হয়েছে গুরুতর তালগোল অবস্থা। প্রশ্ন উঠেছে— কারা এখন সরকারি দল, কারাই বা বিরোধী দল?

দেশে এখন 'সরকারি দল' কারা সে হিসেব বের করাটা অনেকটা স্বচ্ছ ও সহজ। সরকারের মন্ত্রিসভায় যেসব দলের প্রতিনিধি রয়েছে তাদের সবগুলোকেই সরকারি দল হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। এদের মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি-জেপি (মঞ্জু), জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি। এই ৫টি দলের মধ্যে প্রধান ও নেতৃত্বদানকারী দলটি হলো আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী এবং মূল মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রীসহ ৯০% মন্ত্রীরা হলেন আওয়ামী লীগ দলভুক্ত। বর্তমান সরকারকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার বলে আখ্যায়িত করা যায় এবং সাথে সাথে উল্লিখিত এই ৫টি দলকে সন্দেহাতীতভাবে বিশুদ্ধ সরকারি দল বলে চিহ্নিত করা যায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য ৪টি দল নিজেদেরকে 'সরকারি দল' বলে আখ্যায়িত করতে এক ধরনের সংকোচ ও লজ্জা অনুভব করে থাকে।

এর বাইরে সরকারি দল আছে আরো কিছু। বর্তমান সরকার যেমন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার, তেমনি তা ১৪ দলেরও সরকার। 'একসাথে আন্দোলন, একসাথে নির্বাচন, একসাথে সরকার গঠন'— এই লক্ষ্য ও ঘোষণার ভিত্তিতেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট গঠিত হয়েছিল। একথা অবশ্য শুরু থেকেই সত্য যে, ১৪ দলে প্রকৃতভাবে ১৪টি দল নেই, আছে মাত্র ৯টি। ৯টি দল নিয়ে গঠিত আওয়ামী নেতৃত্বাধীন একটি রাজনৈতিক জোটকে ১৪ দল বলে চালিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টাটি পাটিগণিতের যোগ অঙ্ক কষতে গিয়ে ভুল করার একটি প্রমাদজনিত বিষয় ছিল না। তা ছিল এক ধরনের রাজনৈতিক প্রতারণার ফসল। যাই হোক, মন্ত্রিসভার অংশিদার আওয়ামী লীগ, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি— এই ৩টি দল ছাড়াও এই ১৪ দলে আছে আরো ৬টি দল। এ দলগুলো হলো গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাপ, সাম্যবাদী দল, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ও কমিউনিস্ট কেন্দ্র। মন্ত্রিসভায় এই ৬টি দলের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকলেও সরকার যেহেতু '১৪ দলের সরকার' বলে ঘোষিত, উল্লিখিত ৬টি দলকেও তাই সরকারি দল হিসেবে আখ্যায়িত করা পরিপূর্ণভাবে যুক্তিসংগত। ৫ আর ৬, এই মোট ১১টি দলের বাইরে তরিকত ফেডারেশন আওয়ামী লীগ কর্তৃক বরাদ্দ দেয়া আসন থেকে নির্বাচন করেছে। তাছাড়া, 'কিংস পার্টির' কায়দায় নবউত্থিত বিএনএফ নামের একটি দলের প্রার্থী আওয়ামী লীগের ব্যবস্থাপনায় ঢাকার একটি সিট থেকে জয়লাভ করেছে। অতএব, এই দু'টি দলকেও সরকারি-দল বলে বিবেচনা করাটা ভুল হবে না। এভাবে হিসেব করলে সরকারি দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ তে।

সংসদে এই ১৩টি দলের বাইরে অন্য কোনো দলের কোনো সদস্য নেই। এরা সবাই যদি সরকারি দল হয়, তাহলে সংসদে বিরোধী-দল হিসেবে কোনো দলের অস্তিত্ব থাকার কোনো সুযোগ নেই। প্রকৃত প্রস্তাবে, বর্তমান সংসদ হলো একটি 'বিরোধী দলবিহীন সংসদ'। কিন্তু সরকার অথবা সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ১৩টি দল 'সংসদে সব দলই সরকারি দল বিধায় সেখানে কোন বিরোধী দল নেই'— এই বক্তব্য মেনে নিতে রাজী হচ্ছে না (মহিলা সংরক্ষিত একটি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া ১জন ন্যাপ সদস্য থাকাটাকে যদি পৃথক আরেকটি দলের থাকা বলে ধরে নেয়া হয়, তাহলে এই সংখ্যা হবে ১৪)। সমপ্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তার 'পার্লামেন্ট ওয়াচ' প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় বর্তমান দশম সংসদকে একটি 'বিরোধী দলবিহীন সংসদ' হিসেবে উল্লেখ করায় তা নিয়ে সংসদে বক্তৃতা করে প্রায় সব দল তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে এবং সে কারণে টিআইবি ও তার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোর হুমকি দিয়েছে।

সুতরাং, যে যাই বলুক, সত্য কথাটি হলো— সংসদে এখন কোনো বিরোধী দল নেই। অথচ জাতীয় পার্টিকে মন্ত্রিসভায় রেখেই আবার সেই দলটিকেই 'বিরোধী দল' সাজানো হয়েছে। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো এমনই যে, দেশের সাধারণ মানুষ এখনো বিরোধী দল বলতে বিএনপিকেই বোঝে। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতারাও মুখ ফসকে (!) বিএনপিকেই বিরোধী দল হিসেবে আখ্যায়িত করে ফেলেন। বাস্তবতার সাথে এক ধরনের মিল ঘটানোর জন্য জাতীয় পার্টি (এরশাদ)-কে বিরোধী দল (সংসদ) এবং বিএনপিকে বিরোধী দল (রাজপথ) হিসেবে চিত্রায়ণ করার ফর্মুলা উদ্ভাবন করা হয়েছে। প্রথমটি হলো সরকারের 'গৃহপালিত' বিরোধী দল। দ্বিতীয়টি হলো 'ক্ষমতার-প্রতিদ্বন্দ্বী' বিরোধী দল।

'গৃহপালিত' এবং 'ক্ষমতার-প্রতিদ্বন্দ্বী' বিরোধী দলের হিসেব তো পাওয়া গেল। কিন্তু 'গদির বিরোধিতাকারী' দল হিসেবে বিএনপি প্রধান হয়ে থাকলেও সরকারের 'গদি ও নীতি'— উভয়ের বিরোধিতাকারী দল কি বাংলাদেশে নেই? হ্যাঁ আছে! সেই দলকেই 'গদি ও নীতির' বিরোধিতাকারী বিরোধী দল বলা যেতে পারে যে কিনা সরকারের অনুসৃত পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতি, অবাধ বিরাষ্ট্রীয়করণ, বিনিয়ন্ত্রণ, উদারিকরণ, সাম্রাজ্যবাদ নির্ভরতা, চুঁইয়ে পড়া 'উন্নয়নের' মডেল, গণতন্ত্র হরণ, সামপ্রদায়িকতাকে মদদদান বা তার সাথে সহবাস—ইত্যাদি নীতির বিরোধিতা করে। দেশে বিরাজমান অর্থনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থাকে বদলাতে চায়। ধারণা হতে পারে যে, সামপ্রদায়িক জঙ্গি মৌলবাদী শক্তিগুলো যেহেতু বর্তমান অবস্থান থেকে দেশকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পাকিস্তানি ধারায় নিয়ে যেতে চায়, সে কারণে তারাও এর আওতায় পড়ে। কিন্তু জামায়াতসহ এ ধরনের অধিকাংশ দল প্রচলিত ব্যবস্থাকেই বহাল রাখতে চায়। যেটুকু বদল তারা ঘটাতে চায়, সেটুকুও সম্মুখমুখী হওয়ার বদলে পশ্চাদমুখী। তাই, এসব শক্তিকে 'গদি ও নীতির' বিরোধিতাকারী বলে আখ্যায়িত করা যায় না। তাহলে 'গদি ও নীতি'—উভয়ের বিরোধী সেরূপ শক্তি ও দল কারা? কারা সেরূপ 'প্রকৃত বিরোধী দল'? তারা হলো দেশের কমিউনিস্ট, বামপন্থি ও র্যাডিকাল-প্রগতিবাদী দল ও শক্তি। এখন তারা হয়তো দুর্বল। কিন্তু একদিন তারা সবল হয়ে উঠবে। সেই 'প্রকৃত' বিরোধী দলের সরকার প্রতিষ্ঠা হলেই দেশ সংকটমুক্ত হওয়ার পথে যাত্রা শুরু করতে পারবে।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি

E-mail : [email protected]

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, 'দেশ আজ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে। এদেশে বিদেশিরা বিনিয়োগ করছে না'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
8 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ১৬
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৫০
এশা৮:১৫
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :