The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৪, ১ বৈশাখ ১৪২১, ১৩ জমাদিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ মিল্কি হত্যা মামলায় ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট | বারডেমে চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি | কালিয়াকৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ | তারেকের বক্তব্যে ভুল থাকলে প্রমাণ করুন : ফখরুল

রাজধানীতে আবারও রাসায়নিকের বিস্ফোরণ

প্রথমে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট হইতে অগ্নিকাণ্ড, ইহার পরপরই ড্রামভর্তি রাসায়নিকের প্রচণ্ড বিস্ফোরণ। মুহূর্তে সর্বগ্রাসী রূপ পরিগ্রহ করে আগুন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাইয়াছেন যে রাজধানীর তেজতুরি বাজারে যেই দোকানটিতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সেই দোকানটিকে গ্রাস করিয়া 'আগুনের গোলা' ছুটিয়া আসিতেছিল জনবহুল রাস্তায়। মনে হইতেছিল আগুন যেন মানুষের পিছনে দৌড়াইতেছে। আর গত বৃহস্পতিবার সংঘটিত সেই আগুনে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা ছাড়াও মারাত্মকভাবে দগ্ধ হইয়াছেন একাধিক পথচারীও। তন্মধ্যে ছিলেন বেসরকারি দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন ছাত্রীও। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ ১১ জনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হইয়াছে। আরও ৫ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলিয়া সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকরা জানাইয়াছেন। মর্মস্পর্শী এই ঘটনা আমাদেরকে নিমতলী ট্র্যাজিডির কথা স্মরণ করাইয়া দেয়। হতাহতের সংখ্যায় ফারাক থাকিলেও দুইটি দুর্ঘটনার ধরনই প্রায় অভিন্ন। নিমতলী ট্র্যাজিডি শতাধিক মানুষের জীবন কাড়িয়া নিয়াছিল। চিরতরে পঙ্গু করিয়া দিয়াছিল বহু মানুষকে। তছনছ করিয়া দিয়াছিল বহু সাজানো সংসার। প্রবলভাবে আলোড়িত হইয়াছিল সারাদেশ। সেই সাথে ইহাও স্পষ্ট হইয়া গিয়াছিল যে ইহা নিছক দুর্ঘটনা মাত্র নহে, বরং কিছু মানুষের চরম দায়িত্বহীনতা ও অবিমৃষ্যকারিতারই অনিবার্য পরিণতি মাত্র। সঙ্গত কারণেই জোর দাবি উঠিয়াছিল দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির এবং ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের। যথারীতি কর্তৃপক্ষের দৌড়ঝাঁপ শুরু হইয়াছিল। দেওয়া হইয়াছিল নানা প্রতিশ্রুতিও। কিন্তু অবস্থা যে খুব একটা বদলায় নাই, তেজতুরি বাজারের দুর্ঘটনাটি তাহাই যেন চোখে আঙুল দিয়া দেখাইয়া দিল সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

কী বিপজ্জনক বিশৃঙ্খলা আর ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রাজধানীর লক্ষ লক্ষ মানুষের নিত্য বসবাস নিমতলীর সেই নারকীয় আগুন তাহা দিবালোকের মতো স্পষ্ট করিয়া তুলিয়াছিল দেশবাসীর সম্মুখে। তখনই জানা গিয়াছিল যে আবাসিক এলাকার মধ্যে যত্রতত্র গড়িয়া তোলা হইয়াছে রাসায়নিকের গুদাম ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চলিতেছে বেচাকেনা। নিমতলীর যেই রাসায়নিকের গুদামটি বিস্ফোরিত হইয়াছিল তাহাও ছিল বহুতল একটি আবাসিক ভবনের নীচে। অথচ কোথায় কীভাবে রাসায়নিক ব্যবসা করা যাইবে তাহার জন্য আইন আছে, আছে পূর্বানুমতি গ্রহণের বিধানও। কিন্তু কেহই তাহার তোয়াক্কা করে নাই। ব্যবসায়ীরা যদি জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে আইন লঙ্ঘন করিয়া থাকেন, সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী করিয়াছেন সেই প্রশ্ন উঠিতেই পারে। উঠিয়াও ছিল। সেই বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো! অতএব, সরিষার ভিতরেই যদি ভূত থাকে তাহা হইলে প্রতিটি দুর্ঘটনার পরপরই যে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি উঠে তাহাতেই-বা কী লাভ? মোদ্দাকথা হইল, ইহা কোনো বিচ্ছিন্ন চিত্র নহে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই যেন এই অনিয়ম-বিশৃঙ্খলার রাজত্ব চলিতেছে। যাহা হইবার কথা তাহা হইতেছে না, আবার যাহা হওয়া উচিত নহে ঠিক তাহাই হইতেছে। তেজতুরি বাজারের দুর্ঘটনার অন্তর্নিহিত চিত্রটিও ইহার ব্যতিক্রম নহে। দুর্ঘটনাকবলিত দোকানটি ছিল পোশাক কারখানার সরঞ্জাম ও বৈদ্যুতিক সামগ্রীর। কিন্তু সেইখানেই মওজুদ করিয়া রাখা হইয়াছিল ২০০ লিটার অতি উচ্চমাত্রার রাসায়নিক দাহ্যপদার্থভর্তি একটি ড্রাম। সেই ড্রামটিই বিস্ফোরিত হইয়াছিল। দোকানটিতে এই ধরনের বিপজ্জনক রাসায়নিক বেচাকেনার অনুমতি ছিল কী ছিল না তাহার চাইতেও অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হইল, তেজতুরি বাজারের মতো অতি ব্যস্ত ও জনবহুল একটি এলাকায় রাসায়নিক মওজুদ ও বেচাকেনা চলিতে দেওয়া হইবে কেন? পাশাপাশি, ইহাও সাব্যস্ত করিতে হইবে যে অনুরূপ আরেকটি দুর্ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত রাজধানী জুড়িয়া এই ধরনের যথেচ্ছচারিতা অব্যাহত থাকিবে কিনা।

আমাদের বক্তব্য খুবই স্পষ্ট। এই ধরনের অনভিপ্রেত ও দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অনতিবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। সেই সাথে দায়ী ব্যক্তিদের দাঁড় করাইতে হইবে বিচারের কাঠগড়ায়। সর্বোপরি, নিজের ও অন্যের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হইতে পারে এমন কর্মকাণ্ড হইতে সজ্ঞানে নাগরিকদেরও বিরত থাকা উচিত বলিয়া আমরা মনে করি।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, 'দেশ আজ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে। এদেশে বিদেশিরা বিনিয়োগ করছে না'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ১৬
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৫০
এশা৮:১৫
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :