The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ১ মে ২০১৩, ১৮ বৈশাখ ১৪২০, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ উত্তর কোরিয়ায় মার্কিন নাগরিকের ১৫ বছরের জেল | ভৈরবে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের চেহলাম শুক্রবার | মুন্সীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩ | সাভার পৌর মেয়র রেফাত উল্লাহ বরখাস্ত | সাভারে ভবন ধস: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩৩ | নির্দলীয় সরকারের দাবি মানলে সংলাপে যাবে বিএনপি: দুদু | রাজি থাকলে সংলাপ আয়োজনে পদক্ষেপ নেব: স্পিকার ড. শিরীন | দু'এক দিনের মধ্যে সংলাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিবে আওয়ামী লীগ: সৈয়দ আশরাফ | জামিন পেল আব্বাস-গয়েশ্বর-নোমান-রিজভী-আমান ও আলাল | খালেদা জিয়াকে সংলাপের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর | বিএনপি'র ৬ নেতার জামিন | সাভারের পৌর মেয়র রেফাত উল্লাহ বরখাস্ত

অনেক ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা ও সিলগালা

জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু

ইত্তেফাক ডেস্ক

ঢাকার সাভারে ভবন ধসে বিপুল সংখ্যক মানুষ হতাহতের ঘটনাটি প্রবল নাড়া দিয়েছে গোটা সমাজকে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সরকারকে। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিতকরণের কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ফাটল ধরা অনেক ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক ভবন থেকে লোকজন, মালামাল সরিয়ে সেগুলো সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের জরাজীর্ণ ভবন ও সেগুলো চিহ্নিতকরণসহ বিভিন্ন খবর জানিয়েছেন আমাদের অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।

চট্টগ্রাম: ঢাকার সাভার ট্র্যাজেডির পর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং সিটি কর্পোরেশন এবার চট্টগ্রাম মহানগরীতে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সন্ধানে নেমেছে। সিডিএ সোমবার থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নকশা বহির্ভূত, অবৈধ এবং ঝুঁকিপূূর্ণ ভবন খুঁজতে অভিযান শুরু করেছে। অপরদিকে সিটি কর্পোরেশন নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে চিহ্নিত প্রায় ৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শন শুরু করেছে। জানা যায়, সিডিএ গত শনিবার ৬ সদস্যের একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে। অভিযানে নকশা বহির্ভূত ও অবৈধ ভবন নির্মাণকারী বিশেষ করে বাসাবাড়ির জন্য ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে কল-কারখানা, হাসপাতাল, গার্মেন্টস, স্কুল, কলেজ, মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত কিংবা কমিউনিটি হলের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন সকল ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিডিএ'র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানান, ২০০৯ সাল থেকে সিডিএ কর্তৃক ইমারত বিধিমালা এবং একইসাথে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বাস্তবায়ন শুরু হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। মূলত বিল্ডিং নির্মাণে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার তথা ভবন নির্মাণ থেকে শুরু করে ব্যবহার শুরু পর্যন্ত তদারকির কথা বিধিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তদারকি তেমন হচ্ছে না। দেখা যায়, শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি ভবন নকশা বহির্ভূতভাবে তৈরি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের কারণে বিধিমালা পালন করা সম্ভব হয় না। একইভাবে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বাস্তবায়নও সবক্ষেত্রে সমভাবে হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেবক কলোনি ভেঙে ফেলা হচ্ছে

নগরীর বান্ডেল রোডস্থ সিটি কর্পোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ সেবক কলোনি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। ভবনটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত হওয়ায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেয়। এ সময় ভাঙন কাজ তদারকি করেন কর্পোরেশনের সচিব মো. সামসুদ্দোহা ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এয়াকুব নবী।

সিলেট: সিলেট মহানগরীতে শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ব্যবসা, অফিস কার্যক্রম, শিক্ষাদান। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু আবাসিক ভবনও। এসব ভবন যে কোন সময় ধসে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারে। কিন্তু এসব বিপজ্জনক ভবনকে সংস্কার বা পরিত্যক্ত ঘোষণার তেমন কোন উদ্যোগ নেই। কোন কোন সরকারি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পর যথাযথ সংস্কার না করেই সেগুলো ফের ব্যবহার করা হচ্ছে। সাভারে ভবন ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনার প্রেক্ষিতে সিলেটের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো আবার আলোচনায় উঠে এসেছে।

জানা যায়, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও গণপূর্ত বিভাগ সমপ্রতি সিলেট নগরীর কিছু ভবন চিহ্নিত করে সেগুলোতে 'ঝুঁকিপূর্ণ ভবন' সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। তবে চিহ্নিতকরণ ও সাইনবোর্ড ঝুলানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এ দুই কর্তৃপক্ষের কাজ। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে বিপদ মাথায় নিয়েই চলছে জীবনযাত্রা। ফলে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা এমন আশংকা সংশ্লিষ্টদের।

বিগত চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে নির্মিত সিলেট জেলা কালেক্টরেট ভবন-৩ আজ থেকে ৬ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও গত কিছুদিন ধরে এই ভবনে চলছে আদালত সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম। সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও গণপূর্ত বিভাগ যে সকল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- কালেক্টরেট ভবন-৩, সমবায় ব্যাংক ভবন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় ভবন, খাদ্য অধিদফতর ভবন, কাস্টমস ও ভ্যাট অফিস ভবন, জেলা এসএ রেকর্ড অফিস, সুরমা মার্কেট, বন্দরবাজারের সিটি সুপার মার্কেট ও জিন্দাবাজারের মিতালী ম্যানশন।

এদিকে সিলেটে বহুতল ভবন ধসের মতো বড় দুর্ঘটনায় দ্রুত ও যথাযথ উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর তেমন সামর্থ্য নেই ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের। ফায়ার সার্ভিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা অকপটে নিজেদের এই সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন। এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, সিটি কর্পোরেশনের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কোন চূড়ান্ত তালিকা নেই। তার মতে, সিলেট মহানগরীতে প্রায় অর্ধশত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। এগুলোর ব্যাপারে কর্পোরেশন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি।

জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চারতলা নিউমার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবনটি পরীক্ষা করে দেখার জন্য গঠন করা হয়েছে সাত সদস্যের কমিটি। সম্প্রতি নিউমার্কেটের শতাধিক ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারী পৌরসভায় জানায়, নিউমাকের্েটর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী ঘটনাটি জেলা প্রশাসককে জানালে তিনি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি টিম পাঠান এবং তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে বিকেল সাড়ে ৩টার সময় ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুর রহমান নিউমার্কেটের সকল গেটে তালা মেরে সিলগালা করেন।

রাজবাড়ী: সম্প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত করে রাজবাড়ী জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী চিত্রা সিনেমা হল সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসক। রাজবাড়ীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম জাকারিয়া জানান, রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জেল হোসেন মিয়ার ছোট ভাই আক্তারুজ্জামান রনির মালিকানাধীন চিত্রা সিনেমা হল ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় প্রদর্শনী অব্যাহত রাখা হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর সম্প্রতি প্রধান ফটক সিলগালা করা হয়।

কুমিল্লা: কুমিল্লা মহানগরীর ঝুঁকিপূর্ণ, পুরাতন ও পরিত্যক্ত ৮৬টি ভবন চিহ্নিত করে তালিকা করেছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন। আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে এসব ভবন স্বউদ্যোগে অপসারণের জন্য ভবন মালিকদের নোটিস দেয়া হয়েছে। এসব ভবনের মধ্যে নগরীর পুরাতন ও পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে ৬৬টি, অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত ভবন ৬টি ও নতুন করে আরো ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে রয়েছে সরকারি ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীসহ ব্যক্তি মালিকানার অনেক ভবন। এসব ভবনে জানমালের মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েই বসবাস ও ব্যবসা করছেন কয়েক হাজার মানুষ। এদিকে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ দালান, নকশা অনুমোদনের আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে নির্মিত দালানের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে সিটি কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তালিকা প্রণয়ন করে সিটি মেয়রের নিকট দাখিল করার জন্য সোমবার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা পৌরসভা বিলুপ্তির আগে ২০০৯ সালের ৪ জুন কুমিল্লা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ স্থানীয় সরকার পৌরসভা ইমারত নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশের ৩৭ (১) ধারা অনুযায়ী নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭টি ওয়ার্ডের ৬৬টি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ১৫ দিনের মধ্যে ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়ে ভবন মালিকদের নোটিস দেন। পরে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের তদবিরসহ বিভিন্ন কারণে গত ৪ বছরেও এসব ভবন ভাঙ্গা হয়নি। এদিকে ভবন ধসে সাভার 'রানা প্লাজা' দুর্ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবন ভেঙ্গে ফেলার বিষয়ে টনক নড়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের। ওই ৬৬টি ভবন ছাড়াও নতুন করে আরো ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে গত ২৮ এপ্রিল রবিবার ওইসব ভবন মালিকদের বরাবরে নোটিস প্রদান করে সিটি কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে নগরীর বাদুরতলায় অবস্থিত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, ঝাউতলা এলাকায় রাজলক্ষ্মী ও কামিনী কুটির নামে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের দু'টি বাসভবনসহ নগরীর অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির মালিকানাধীন ভবন রয়েছে। এছাড়াও অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মিত ৬টি বহুতল ভবন চিহ্নিত করা হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার ময়নামতি গোল্ডেন টাওয়ার, ঠাকুরপাড়ার ঠিকানা এপার্টমেন্ট অন্যতম। এদিকে বহুতল ভবনের বেইজমেন্টে কার পার্কিংয়ের নামে নকশা অনুমোদন নিয়ে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট চালু করায় দুর্ঘটনার আশংকায় নগরীর ঝাউতলা এলাকার কিংফিশার হোটেল, নিউমার্কেট এলাকার এস.বি প্লাজায় স্পাইসি ও ময়নামতি গোল্ডেন টাওয়ারে হোটেল অপসারণ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভবনগুলো হচ্ছে-নগরীর রামঘাটলা এলাকায় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) দ্বিতল ভবন, লাকসাম সড়কের এম. ভট্টাচার্য অ্যান্ড কোম্পানির দ্বিতল ভবন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় দ্বিতল ভবন, অশোকতলায় জাতীয় মহিলা সংস্থার কার্যালয়, একই এলাকার গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই-এর দ্বিতল ভবন, বাগিচাগাঁও রোডে ডিজিএফআইয়ের কার্যালয়, বাদুড়তলা চৌধুরী মার্কেটের তিনতলা ভবন, ধর্মসাগর পাড়ে কুমিল্লা মহিলা মহাবিদ্যালয়, মনোহরপুর কৈলাশ ভবন, রাণীর দীঘিরপাড় ফুলার হোস্টেল, রাজগঞ্জ জাতীয় পার্টির অফিস, ঠাকুরপাড়ায় মৃণালিনী দত্ত ছাত্রী নিবাস, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর ৩টি ভবন, ডিআইজি প্রিজন্স কার্যালয়সহ ৬৬টি পরিত্যক্ত ভবন।

এ বিষয়ে সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু জানান, '৮৬টি ভবনের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন কান্দিরপাড় এলাকার মসজিদ মার্কেট ও বাদুরতলা সিটি কর্পোরেশন কল্যাণ পরিষদ মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ভেঙ্গে ফেলা হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত অন্যান্য ভবনগুলো ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণের জন্য নোটিস দেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব ভবন অপসারণ করা না হলে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ এর ধারা ৪১ এর ১৭.১ অনুযায়ী বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার সর্বাধিক লেনদেনকৃত সরকারি ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখাসহ ২টি ভবন জরাজীর্ণতার কারণে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে প্রাথমিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের জরাজীর্ণ ভবনে ব্যাংকিং কার্যক্রম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মতামত দিয়েছেন সাতক্ষীরার গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ। তবে গত এক বছর আগে একইভাবে ভবনটিকে ব্যবহার অনুপযোগী বলে মতামত দেয়ার পরও ব্যাংকিং কার্যক্রম চলতে থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ব্যাংকের ৫০ জন কর্মচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তারা জানিয়েছেন। শহরের লাবনী সিনেমা হল এলাকায় অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের এই দ্বিতল ভবনটিতে দীর্ঘ চার দশক ধরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চলছে। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসনের এনডিসি মোঃ রবিউল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, সোনালী ব্যাংকের এ ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী। তাই এখানে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জানান, সোনালী ব্যাংকের এ ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণার সুপারিশপত্র জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হবে। তিনিই এটিকে চূড়ান্তভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করবেন। পরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমানউল্লাহ জরাজীর্ণ ভবনটি পরিদর্শন করেন। এদিকে, শহরের সুলতানপুর পি এন বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলও ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনিও ঐ ভবনটিকে প্রাথমিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণার সুপারিশ করার মতামত দেন।

মঠবাড়িয়া: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের জরাজীর্ণ ভবনের একটি কক্ষে সোমবার সকালে ২য় শ্রেণির ক্লাস চলাকালে ছাদের প্লাস্টার খসে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীরা হলো রুদ্র (৭) ও ইমন (৭)। এ সময় বিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

গৌরনদী (বরিশাল): বরিশালের গৌরনদী উপজেলার হাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনের ছাদের আস্তর খসে পরে সম্প্রতি ৪ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এছাড়া গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে আহত হয়েছেন আরো ২ শিক্ষক। এ কারণে নির্বাহী কর্মকর্তা স্কুলভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হচ্ছে খোলা আকাশের নীচে।

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে সোয়েটার এবং গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে ফাটল দেখা দেয়ার পর এবার শহরের দেওভোগ হাকিম মার্কেটে ফাটল দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো এ মার্কেটে সম্প্রতি ফাটল দেখা দিলে মার্কেটের বিভিন্ন তলায় থাকা অন্তত দুই শতাধিক দর্জি ও হোসিয়ারী কারখানার শ্রমিকরা বাইরে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে ভবনটি খালি করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

গঙ্গাচড়া (রংপুর): রংপুরের গঙ্গাচড়ায় কে.এন.বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ছাত্রছাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। সমপ্রতি উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কে.এন.বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব বলেন, বিদ্যালয়টির ভবনের দু'জায়গায় ফাটল দেখা দেয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছেন তারা। বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরও কোন কাজ হয়নি।

বাকৃবি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) নবনির্মিত ছাত্রী হলসহ বিভিন্ন ভবনে মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফাটল দেখা দিলেও তাত্ক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় ফাটল মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ঝুঁকির মধ্যে ক্লাস করছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ছাত্রী হলের বিভিন্ন কক্ষে ফাটল দেখা দেয়ায় ঝুঁকিতে আছে হলের প্রায় তিন শতাধিক ছাত্রী বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ১ নম্বর ভবনটি দুই তলার ভিত্তি থাকলেও তিনতলা ভবন নির্মাণ করায় ভবনের প্রতিটি বিমে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে। তবে এসব ফাটল ভবনগুলোর মূল গঠনে কোন সমস্যার কারণে নয়, মৃদু ভূমিকম্পে ওইসব 'সামান্য' ফাটল দেখা দিয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাল্টিপ্ল্যাক্স এন্টারপ্রাইজের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১১ সালে নির্মিত শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব হলে ছাত্রীরা উঠার পর থেকেই বিভিন্ন কক্ষে ফাটল ধরতে দেখা যায়। পরবর্তীতে গতবছর থেকে ওই ফাটল ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। দিন দিন ফাটলের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। ফলে ঝুঁকিতে এবং আতংকে আছে ওই হলের আবাসিক প্রায় ৩৫০ ছাত্রী। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে ভবন নির্মাণ করায় নবনির্মিত ওই হলে সামান্য ভূমিকম্পের ফলে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে হলের আবাসিক ছাত্রীরা।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সাভারের ঘটনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে অর্ডার কমে যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
8 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মার্চ - ৩০
ফজর৪:৩৭
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৭
এশা৭:৩০
সূর্যোদয় - ৫:৫৩সূর্যাস্ত - ০৬:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :