The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ৪ মে ২০১৩, ২১ বৈশাখ ১৪২০, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্দলীয় সরকার ঘোষণা দেয়ার আল্টিমেটাম : মতিঝিলে ১৮ দলের সমাবেশে খালেদা জিয়া | প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অন্তসারশূন্য, অবরোধ হবেই: হেফাজত | দয়া করে আর মানুষ হত্যা করবেন না: খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

আলোকপাত

কক্সবাজার থেকে বলছি

মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন

ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ায় দেখেছি সেসব দেশের মানুষের জীবনের একটি অংশ যেন সাগরের সাথে জড়িত। জন এফ কেনেডী তার পুত্রকে সাগরের ধারে নিয়ে বলেছিলেন, মানবজীবন সাগরেরই সৃষ্টি, আবার সাগরেই তার বিলুপ্তি। বস্তুত ঐসব দেশের মানুষ সাগরের জন্য পাগল। সেসব দেশের সৈকতসমূহ হাজার হাজার পর্যটকে দিনরাত মুখরিত থাকে। সেখানকার সকলেই খানিকটা সময় ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি ছেড়ে সমুদ্রকে আপন করে নেয়। আবার এই সময় তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই হাতে বই থাকে। সমুদ্র সৈকতে বই পড়াটা তাদের দারুণ অভ্যাস। আমি নিজেও সমুদ্রের প্রতি দারুণ অনুরক্ত। আমার বাড়ি উত্তরবঙ্গে হওয়ায় সেখানে পাহাড়, সমুদ্র কিছুই নেই। কলেজে পড়া অবস্থাতেই তাই সমুদ্র দেখতে কক্সবাজার ছুটে এসেছিলাম। আমার জেলা শহরে সে সময় আমার বয়সে কেউ সাগর না দেখায় তাদের সাথে এ নিয়ে প্রচুর গল্পও করেছিলাম। সেই থেকেই সমুদ্রের প্রতি আমার ভীষণ টান। বিদেশে গেলেই বিচে যাই। সেসব দেশের বিচ অবশ্য খুবই উন্নত। ইংল্যান্ডের ব্রাইটন বিচে মহামূল্যবান সব বাংলো দেখে এসেছি। বিচের বালুর উপর দিয়ে শত শত মিটার কাঠের পাটাতন দেয়া, যাতে কেউ বালু না মাড়িয়েও বিচে হাঁটা-চলা করতে পারে। অস্ট্রেলিয়া গিয়ে প্রচুর বিচ দেখেছি। সেখানকার একটি বিচে দেখলাম ইরাকীরা প্রচুর বাড়ি কিনে ইরাকী মহল্লা বানিয়েছে। এদিকে দেশে বেশ কিছুদিন পর কক্সবাজার এসে এবারে ভীষণ হতাশ হলাম। আমি আমার নিজ দেশের পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের কথা গর্বভরে বিদেশিদের কাছে তুলে ধরি। তেমনি এক বৃটিশ দম্পত্তির সাথে পেনাং- এ আলাপ হওয়ায় তার কাছে আমার দেশের কথা তুলে ধরায় তারা একবার কক্সবাজার এসে আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, আসলেই তোমাদের কক্সবাজার সৈকতটি খুবই সুন্দর এবং দীর্ঘ। এটা হাঁটার জন্য আরামদায়ক এবং ইচ্ছে করলে সারাদিন হাঁটা যায়। সেই সৈকতেই এবারে এসে দেখলাম একেবারে পর্যটকশূন্য। বিদেশি তো দূরের কথা, দেশি পর্যটকও নেই বললেই চলে।

সীগার হোটেল হতে সকাল-বিকাল সৈকতে গিয়ে আমার ভিতরটা কেঁদে উঠে। সৈকতসহ হোটেলগুলো একদম ফাঁকা। আমি যে প্যাকেজ টুরে এসেছিলাম তার অতিরিক্ত দিনগুলো হোটেল কর্তৃপক্ষ আমাকে আরো অতিরিক্ত ডিসকাউন্টে থাকতে দিল। সেদিন সন্ধ্যায় একটি রিকশায় ঘুরে বেড়ানোর সময় রিকশাওয়ালা বললো, তার বাড়ি টাঙ্গাইল। সে তিন বছর যাবত্ এখানে রিকশা চালায়। কিন্তু এতো পর্যটকের আকাল সে ইতিপূর্বে দেখে নাই। পরদিনই একজন টমটম (ইজিবাইক) চালক ধরাগলায় বললো, গাড়ি ভাড়া পরিশোধ করে সে সংসার চালাতে পারছে না। তার বড় ছেলেটি হাইস্কুলে পড়ে। তার পড়াশোনা চালানো এখন আর সম্ভব নয়। সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক পাঠাতে যারা বিলাসবহুল জাহাজ নামিয়েছিলেন তাদেরও এখন মাথায় হাত। আমি নিজে টিকিট কেটে হরতালের কারণে টাকা ফেরত নিয়েছি। কারণ হরতালে কক্সবাজার হতে টেকনাফ যাতায়াত সম্ভব নয়। হোটেল- রেস্টুরেন্টগুলো লোকসান গোনা শুরু করেছে। এলোমেলোভাবে হলেও কক্সবাজারে প্রচুর হোটেল-রেস্টুরেন্ট নির্মিত হয়েছে এবং হচ্ছে। স্টুডিও এপার্টমেন্ট নির্মাণসহ প্রচুর প্রাইভেট বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু যুগ যুগ ধরে দেশের প্রতিকূল রাজনৈতিক আবহাওয়া অন্যান্য খাতের মতো পর্যটন খাতকেও অগ্রসর হতে দিচ্ছে না। সরকারি এবং বিরোধী দলের মারামারি-কাটাকাটি না থামলে পর্যটন শিল্পও মুখ থুবড়ে পড়বে। অথচ শুধুমাত্র এই শিল্পের সঠিক বিকাশ ঘটিয়ে তাকে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এই খাত হতেই দেশের বাজেট তৈরির মতো রাজস্ব আসতো। আমার ইচ্ছা ছিল দেশে পর্যটন শিল্পের সঠিক বিকাশ ঘটুক, দেশের পর্যটন এলাকাসমূহ পর্যটকে ভরে উঠুক। কিন্তু আমার সে প্রত্যাশা যে পূরণ হবার নয় এবারে কক্সবাজার এসে তাই দেখতে পাচ্ছি। আমি নিজেই হরতালে আটকা পড়ে আছি। এবারে আর বান্দরবন, সেন্টমার্টিন যাওয়া হলো না। কক্সবাজার পর্যটন নগরীর অবস্থা দেখে এখানকার ট্যুর অপারেটর, জাহাজ মালিক, হোটেল- রেস্টুরেন্ট মালিক, রিকশাওয়ালা, টমটমওয়ালা, দোকান ব্যবসায়ীদের বেহাল অবস্থা দেখে আমার খুবই খারাপ লাগছে। এই মুহূর্তেও দেশের দুই নেত্রী, দুই বৃহত্ দল যদি একে অপরকে দেখে নেয়ার নেশা ত্যাগ না করতে পারেন তাহলে সার্বিকভাবে আমরা আবার অন্ধকারে নিমজ্জিত হবো। আমি এখনো টানেলের শেষে আলোকচ্ছটা দেখতে পাচ্ছি। সেই আলোকচ্ছটাটুকু মিলে যাবার আগেই একটা মীমাংয় আসতে না পারলে সব কিছু অন্ধকারে ঢেকে যাবে এবং সেই অন্ধকারে কি ঘটবে তা বলা মুশকিল। এ অবস্থায় দুই নেত্রী, দুই দলের কাছে দেশবাসীর পক্ষ হতে আবেদন, আপনারা দেশের মানুষকে জিম্মি করে রাজনীতি করা বন্ধ করুন। আমি দেশের এক প্রান্ত কক্সবাজার থেকে বলছি, দেশের মানুষের পিঠ কিন্তু দেয়ালে ঠেকে গেছে।

লেখক: মুক্তিযোদ্ধা, কলামিস্ট

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি বলেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিলে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বসার আহ্বানে সাড়া দেবে। দলটির এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?
3 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :