The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ৪ মে ২০১৩, ২১ বৈশাখ ১৪২০, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্দলীয় সরকার ঘোষণা দেয়ার আল্টিমেটাম : মতিঝিলে ১৮ দলের সমাবেশে খালেদা জিয়া | প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অন্তসারশূন্য, অবরোধ হবেই: হেফাজত | দয়া করে আর মানুষ হত্যা করবেন না: খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বমিডিয়া, বস্ত্রশিল্প ও সাবধানতা

অজয় দাশগুপ্ত

কান্না ও দুঃখ সংক্রামক— বিশেষ করে তা যদি হয় প্রিয়জনের। দেশের বর্তমান অবস্থা আর বেদনার ভয়াবহতায় বিদেশের বাঙালির ঘরেও আজ আনন্দ উধাও। কিন্তু শোকের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে ভবিষ্যত্ ভাবনা। বিশেষ করে বেঁচে থাকা আর বাঁচার নিশ্চয়তার প্রশ্নে উদ্বেগাকুল হয়ে উঠেছে বিশ্ববাঙালি। এ যাবত্ বাংলাদেশের কোন ঘটনা-দুর্ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়ার এমন তত্পরতা দেখিনি। প্রতিদিন খবর, সংবাদ বিশ্লেষণ আর ছবি নিয়ে হাজির হয়েছে তারা। পোশাক শিল্প, শ্রমিকদের দুর্দশা, অনভিপ্রেত ঘটনা আর আাাগামী দিনগুলো নিয়ে রিপোর্ট, ফিচার আর বিশ্লেষণে আমাদের জন্য সহানুভূতির পাশাপাশি সাবধানতাও চোখে পড়ছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ ও তার বস্ত্রশিল্প প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার লাভ করতে শুরু করেছিল। করেছিল না বলে করেছে বলাটাই সমীচিন মনে হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা কম হলেও ক্রয়ক্ষমতা বেশি। এদেশের কোন নাগরিক এমনকি বটম-লেভেল নামে পরিচিত আপেক্ষিক দীন-দরিদ্রের ও ব্র্যান্ড পোশাক কেনার সামর্থ্য আছে। ফলে বাজারটি ছোট কিছু নয়। এই বাজারে বাংলাদেশের হঠাত্ আবির্ভাব ও জায়গা দখল আমাদের যুগপত্ বিস্মিত ও উল্লসিত করে তুলছিল। চীনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানি আমাদের উন্নয়নমুখী দেশ ও শ্রম বাজারের ওপর অনেকের কড়া নজর আছে। প্রতিবেশীরা এতে যে খুব খুশি বা বগল বাজান তাও কিন্তু নয় বরং এটা ধরে নেয়া যেতেই পারে বৃহত্ প্রতিবেশীর ক্ষুদ্রের এই উত্থানে সন্তুষ্ট হবার কারণ নেই। আমি ঢালাওভাবে বা বিখ্যাত হবার চেষ্টায় কূটতর্কে যাব না। বাজার গরম করাও উদ্দেশ্য নয়। এও মানি না রানার গার্মেন্টস শ্রমিক হত্যা, প্লাজা ধসে পড়ায় বিদেশি প্ররোচনা বা ধাক্কাধাক্কি কাজ করেছে। কিন্তু হত্যাপরবর্তী অসন্তোষের ধারাবাহিকতা জ্বালাও-পোড়াও নিজের শ্রমবাজারে নিজে আগুন দেয়া, কাজ ও রুজির জায়গাটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার উগ্রতায় অনেক প্রশ্ন আপনা থেকেই হাজির হতে শুরু করে। আমাদের শ্রমজীবী মানুষরা এত গরীব, এত অল্পশিক্ষিত আর এতটাই বোকা যে এদের মেরে ফেলাও কোন ঘটনা নয়। সেখানে উত্তজনার সূত্র ধরে ক্ষেপিয়ে তোলার চক্রান্ত দূরে সরিয়ে দেয়া যায় না। মারোয়ারী, বেনিয়া, শ্বেতাঙ্গ বা পাকি ষড়যন্ত্র কোনটাই উপেক্ষার নয়।

বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প, নারী প্রগতি, নারী শ্রমের বিস্তার অনেকের গাত্রশূল। এটা মানতে হবে ক্রেতারাও সব পুরুষ নয়। তারা তাদের প্রাপ্য বুঝে না পেলে বাজার বদলাতে একদিনও দেরি করবে না। পশ্চিমাদের আমি হাড়ে হাড়ে চিনি। পুঁজিবাদ তাদের এমনভাবে গড়ে তুলেছে চ্যারিটি বা অনুদানে এক পা এগিয়ে বা দু' পা এগিয়ে আসলেও হাত থাকবে অন্যের পকেটে। ফলে আমাদের সতর্কতার বিকল্প নেই।

কিন্তু আমরা না সতর্ক, না তা নিয়ে চিন্তিত। রাজনীতির জন্ম হয়েছিল মানুষের কল্যাণ আর দেশ ও সমাজকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখবার জন্য। রাজতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র, সামন্ততন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, সামরিকতন্ত্র পেরিয়ে মানুষ পৌঁছেছে গণতন্ত্রের পাদপীঠে। যেখানে বহুমত, বহুজন হিতায় মেনেও সবাই কোন না কোন পয়েন্টে এক মত বা সমঝোতায় পৌঁছে। যাকে বলা হয রাষ্ট্রীয় বা দেশজ ঐক্য। বিশেষত যে কোন বিপদে বা দুঃসময়ে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হবে এক হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তা অতিক্রম করা। তাকে সহজ ও অতিক্রম্য করে তোলা। সাভার ট্র্যাজেডির পরও রাজনীতি তা করতে পারেনি। পৃথিবীর আর কোন দেশে দুঃখে-মৃত্যুতে এমন অনৈক্য আর মতভেদ চোখে পড়ে না। রাজনীতির এই ব্যর্থতা প্রমাণ করে দেশের কোন শিল্প বা কোন শিল্প শ্রমিকই এদের হাতে নিরাপদ নয়। সে কারণেই বস্ত্রখাত ধ্বংস আগ্রাসন আর বিনষ্টের শিকার হলেও কেউ মাঠে নামবেন বলে বিশ্বাস হয় না। কিন্তু আমাদরে ভরসা জনগণ যে, জনগণ মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে রক্ত লাশের গন্ধ এড়িয়ে অন্ধকূপে নামেন। যারা যে কোন পেশাদার বাহিনীর সমান দক্ষতায় জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে সামিল হন, এক প্যাকেট স্যালাইন আর একটি অল্প আলোর টর্চ নিয়ে অপেক্ষা করেন। এরাই আমাদের শক্তি। এই শক্তির জয়যাত্রা বা ক্ষমতা দেশের মত বিদেশেও আজ প্রশংসিত। চাক্ষুস না হলেও বিশ্বমিডিয়ার কল্যাণে জননন্দিত। হয়তো এরাই শেষতক বস্ত্রশিল্পকে রক্ষা করবেন। তারপরও সোহেল রানার অভাব নেই। এরা কখনো মরে না। এক গৃহ থেকে অন্য ঘরে, এক দুর্গ থেকে অন্য দুর্গে, ঠাঁই নেয়। রাজনীতির এই কঠিন জায়গাটি নিয়ে কথা হচ্ছে না। যেমনটি হয়নি ভবনের নকশা, পরিকল্পনা, নির্মাণ ও অনুমোদন নিয়েও। আবেগবর্জিত বাস্তবতা দিয়ে এগুলো তুলে আনতে না পারলে কোন শিল্পই বাঁচবে না। সমস্যা যাবে না, দুনিয়াকে জানাতে হলে, পাশে পেতে হলে নির্মোহভাবে এগুলোকেই সামনে আনতে হবে। সময় বয়ে যাচ্ছে। যা করার তা তাড়াতাড়ি করতে পারাতেই মঙ্গল।

 সিডনি থেকে

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি বলেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিলে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বসার আহ্বানে সাড়া দেবে। দলটির এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?
1 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ৪
ফজর৪:০৭
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪২
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০২
সূর্যোদয় - ৫:২৯সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :