The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ৪ মে ২০১৩, ২১ বৈশাখ ১৪২০, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্দলীয় সরকার ঘোষণা দেয়ার আল্টিমেটাম : মতিঝিলে ১৮ দলের সমাবেশে খালেদা জিয়া | প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অন্তসারশূন্য, অবরোধ হবেই: হেফাজত | দয়া করে আর মানুষ হত্যা করবেন না: খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

নাসির-জিয়ার বুলাওয়ে জয়

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

এক সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে পরিহাস করার সেরা কৌশল ছিল এই দলটির ব্যাটসম্যানদের গড় নিয়ে কথা বলা। সমালোচকরা তখন কথায় কথায় আশরাফুলকে ইঙ্গিত করে বলতেন—তোমাদের সেরা ব্যাটসম্যানের গড় ২১!

দিন বদলেছে। এখন সাকিব-তামিম-মুশফিক যে কেউ এই কথার জবাব দিতে পারেন। কিন্তু এই কথাকে 'চপেটাঘাত' করার যোগ্যতা সম্ভবত একজনেরই আছে—নাসির হোসেন। টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ফরম্যাটেই গড় তার ৪৫-এর কাছে। এমন ব্যাটসম্যানেরই তো জবাব দেয়ার কথা।

মুখে নয়, ব্যাটে কাল আরেকবার যেন জবাব দিলেন নাসির হোসেন। সেইসঙ্গে জিয়াউর রহমান টেস্টের বোলিং ফর্মটা টেনে নিয়ে এলেন ওয়ানডেতেও; বরং হয়ে উঠলেন আরও দুর্দান্ত। আর এই দুইয়ে মিলেই আরও একবার 'কুপোকাত' জিম্বাবুয়ে—ম্যাচ হারলো তারা ১২২ রানে।

দিনশেষে নায়ক বলে আমরা যাকেই মেনে নেই না কেন, এই জয়টা বাংলাদেশকে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ইতিহাসের পথে হাঁটতে সহায়তা করলো। বাংলাদেশ যে ওয়ানডের একটা পরাশক্তি হয়ে উঠছে, সেটার প্রমাণ দিতে অন্তত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জেতাটা খুবই জরুরি।

জিম্বাবুয়ের সঙ্গ সিরিজ জয় সম্পন্ন হলে এটা নিঃসন্দেহে বলা যাবে, বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে তার সফলতম যুগ অতিক্রম করছে। ২০০৬-০৭ সালে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে, স্কটল্যান্ড, কেনিয়ার সঙ্গে টানা অনেক জিতেছে। তাতে বাংলাদেশ বড় দল হয়ে উঠতে পারেনি। সর্বশেষ বাংলাদেশ এমন সাফল্য টানা পেয়েছিল ২০০৯ সালে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুইটি এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের খর্ব শক্তির দলের বিপক্ষে একটি—টানা তিনটি সিরিজ জিতেছিল সে সময়। ফলে সেটাও খুব বড় ব্যাপার হিসেবে দেখা হয়নি।

তবে এবারের ব্যাপারটি হবে আলাদা। এই সিরিজটি জিতলে বাংলাদেশ টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজে জয় ও ড্র করবে, যার দুইটির প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের পূর্ণশক্তির দল ও শ্রীলঙ্কা। আরো ভালো করে দেখলে আমরা দেখতে পাই, বাংলাদেশের সর্বশেষ তিনটি টুর্নামেন্ট বা সিরিজের ফলাফল হলো—এশিয়া কাপের ফাইনালিস্ট, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ড্র। এর সঙ্গে জিম্বাবুয়ের এই দলের বিপক্ষে জয় হলে সোনায় সোহাগা হয়।

সেই সিরিজ জয়ের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে দিতে কাল ভিত্তিটা গড়ে দিলেন মূলত নাসির। তামিম ও আশরাফুলের ৬৫ রানের উদ্বোধনী জুটির পরও বাংলাদেশ বেশ বিপাকে ছিল। দুই ওপেনারের পর মুশফিককেও স্ট্যাম্পের বাইরের এক বলে আউট করে সিংগিরাই মাসাকাদজা জিম্বাবুয়েকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন। পরপর সাকিব এক ভয়াবহ ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে ফিরেন। বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৯৪ রানে ৪ উইকেট!

এখান থেকেই বাংলাদেশকে আবারও টেনে তোলার দায়িত্ব নিয়েছিলেন নাসির। মোমিনুলের সঙ্গে ৭৬ ও মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৪৪ রানের জুটি করে বাংলাদেশকে নিরাপদ পথ দেখান। শেষ পর্যন্ত আউট হওয়ার আগে ৬৭ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ৬৮ রান করে যান। শেষদিকে জিয়া ও রাজ্জাকের ক্যামিও ও মাহমুদউল্লাহর ফর্মে ফেরা ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ ২৬৯ রানের লড়াকু পুঁজি পায়।

এই পুঁজিটাকে যথেষ্ট বলে প্রমাণ করতে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা দিয়ে দেন সফিউল। কিন্তু আসল কাজটা করেন সেই জিয়া। হারারে টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেই মূলত প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন এই অলরাউন্ডার। এই ওয়ানডেতেই পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম রান।

তবে বল হাতে আবার বুঝালেন তিনি থাকতে এসেছেন। ঠিক দরকারের সময় জ্বলে উঠেছেন। বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটার, সব সময়ের ভরসা সাকিব আল হাসান যখন নিষ্প্রভ, তখনই জ্বলে উঠলেন জিয়া। এক প্রান্ত আগলে থাকা হ্যামিলটন মাসাকাদজাকে ৩৮ রানে ফিরিয়ে খেলা নিয়ন্ত্রণে এনে দিলেন। এরপর চিগুম্বুরা ও উেসয়াকে অঘটন ঘটানোর স্বপ্ন দেখার আগেই খালি হাতে ফেরালেন। আর শেষ পর্যন্ত গলার কাঁটা হয়ে ঝুলতে ঝুলতে অষ্টম উইকেটে ৫৫ রানের জুটি করে ফেলা সিংগি মাসাকাদজা ও ওয়ালারের জুটিটাও ভাংলেন এই জিয়া; ওয়ালারকে ফেরালেন ১৯ রানে। সর্বশেষ পানায়াঙ্গারেকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরির পাশাপাশি ম্যাচে ৫ উইকেটও পূর্ণ করলেন; নিশ্চিত হ্যাটট্রিকটা হতে দিল না আম্পায়ারের অদ্ভুত আচরণ। এখন এই সিরিজের প্রাপ্তির খাতায় জিয়ার নামটাও যোগ করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের সেরা বোলিং

বোলিং বোলার প্রতিপক্ষ ভেন্যু সাল

৬/২৬ মাশরাফি বিন মুর্তজা কেনিয়া নাইরোবি ২০০৬

৫/২৯ আব্দুর রাজ্জাক জিম্বাবুয়ে ঢাকা ২০০৯

৫/৩০ জিয়াউর রহমান জিম্বাবুয়ে বুলাওয়ে ২০১৩

৫/৩০ আব্দুর রাজ্জাক জিম্বাবুয়ে ঢাকা ২০১০

৫/৩১ আফতাব আহমেদ নিউজিল্যান্ড ঢাকা ২০০৪

বাংলাদেশের বৃহত্তম জয়

ব্যবধান প্রতিপক্ষ ভেন্যু সাল

১৬০ রান ও. ইন্ডিজ খুলনা ২০১২

১৪৬ রান স্কটল্যান্ড ঢাকা ২০০৬

১৩১ রান কেনিয়া বগুড়া ২০০৬

১২১ রান জিম্বাবুয়ে বুলাওয়ে ২০১৩

স্কো র কা র্ড

বাংলাদেশ ব্যাটিং:

তামিম ক টেইলর ব শিঙ্গি ৩১

আশরাফুল ক উতসেয়া ব শিঙ্গি ২৯

মমিনুল ক টেইলর ব চাতারা ৩৮

মুশফিক ক টেইলর ব শিঙ্গি ৫

সাকিব রান আউট (ওয়ালার) ১

নাসির ক ওয়ালার ব পানিয়াঙ্গারা ৬৮

মাহমুদুল্লাহ ব শিঙ্গি ৩৬

জিয়াউর ক চাকাভা ব চাতারা ১২

রাজ্জাক অপরাজিত ১৬

সফিউল অপরাজিত ১

অতিরিক্ত (বাই ৫, লেগ বাই

৯, ওয়াইড ১৮) ৩২

মোট (৮ উইকেট, ৫০ ওভার) ২৬৯

উইকেট পতন:১-৬৫ (তামিম), ২-৭৫ (আশরাফুল), ৩-৯২ (মুশফিক), ৪-৯৪ (সাকিব), ৫-১৭০ (মমিনুল), ৬-২১৪ (নাসির), ৭-২৩৭ (জিয়াউর), ৮-২৬৩ (মাহমুদুল্লাহ)।

বোলিং: চাতারা: ১০-০-৫২-০, পানিয়াঙ্গারা: ১০-১-৪৯-১, চিগাম্বুরা: ৫-০-২৪-০, শিঙ্গি: ১০-০-৫১-৪, উতসেয়া: ১০-০-৪৮-০, মাসাকাদজা: ৪-০-২৪-০, ওয়ালার: ১-০-৭-০।

জিম্বাবুয়ে ব্যাটিং:

মাসাকাদজা এলবিডব্লিউ ব জিয়াউর ৩৮

চাকাভা ব শফিউল ১

রাজা ব শফিউল ৩

টেইলর ব রাজ্জাক ৩৩

উইলিয়ামস রান আউট (রাজ্জাক/মুশফিক) ১০

ওয়ালার ব জিয়াউর ১৯

চিগাম্বুরা ব জিয়াউর ০

উতসেয়া ক মমিনুল ব জিয়াউর ০

শিঙ্গি এলবিডব্লিউ ব রবিউল ৩৩

পানিয়াঙ্গারা এলবিডব্লিউ ব জিয়াউর ০

চাতারা অপরাজিত ০

অতিরিক্ত (লেগ বাই ২, ওয়াইড

৭, নো বল ২) ১১

মোট (অল আউট, ৩২.১ ওভার) ১৪৮

উইকেট পতন: ১-৪ (চাকাভা), ২-১৩ (রাজা), ৩-৭৮ (টেইলর), ৪-৯৩ (উইলিয়ামস), ৫-৯৩ (মাসাজাদজা), ৬-৯৩ (চিগাম্বুরা), ৭-৯৩ (উতসেয়া), ৮-১৪৮ (ওয়ালার), ৯-১৪৮ (পানিয়াঙ্গারা), ১০-১৪৮ (শিঙ্গি)।

বোলিং: রবিউল: ৫.১-১-২১-১, সফিউল: ৬-০-৩৯-২, রাজ্জাক: ৬-২-১০-১, সাকিব: ৩-০-২৭-০, জিয়াউর: ৯-১-৩০-৫, মাহমুদুল্লাহ: ২-০-১২-০, মমিনুল: ১-০-৭-০।

ফল: বাংলাদেশ ১২১ রানে জয়ী।

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ তে এগিয়ে।

ম্যান অফ দ্য ম্যাচ: জিয়াউর রহমান (বাংলাদেশ)।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি বলেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিলে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বসার আহ্বানে সাড়া দেবে। দলটির এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?
9 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ২১
ফজর৩:৪৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৩৯
এশা৮:০১
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :