The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ৪ মে ২০১৩, ২১ বৈশাখ ১৪২০, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্দলীয় সরকার ঘোষণা দেয়ার আল্টিমেটাম : মতিঝিলে ১৮ দলের সমাবেশে খালেদা জিয়া | প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অন্তসারশূন্য, অবরোধ হবেই: হেফাজত | দয়া করে আর মানুষ হত্যা করবেন না: খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

খু ব ধী রে এ গু চ্ছে

মিয়ানমারের অর্থনীতি

শফিকুর রহমান রয়েল

প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের অধীনে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারের সময় কেটে গেছে দু'বছরেরও বেশি। এ সময়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে সত্য; কিন্তু সেগুলো দেশের ৫৫ মিলিয়ন লোকের সামান্য অংশকেই স্পর্শ করতে পেরেছে। এ ব্যাপারে সাবেক রাজবন্দী ও ডাক্তার উ ইয়ান মিও থেইনের অভিমত, পরিবর্তন স্পর্শ করেছে কেবল সমাজের উঁচু অংশকে। চাকরির সুযোগ এখন পর্যন্ত খুবই সীমিত, স্থবির অবস্থায় রয়েছে পারিবারিক আয়। বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুফল খুব শিগগিরই ভালোভাবে পেতে শুরু করবে মিয়ানমারের জনগণ— এমন আশা করাটা অবশ্য বোকামি। এদিকে এরই মধ্যে অনেকে আশংকা প্রকাশ করতে শুরু করেছেন,পরিবর্তনের সুফল সর্বস্তরের লোকজন আদৌ পাবে কি-না। তাদের ধারণা বেশিরভাগ লোকের সমস্যা হয়তো সমস্যা হিসেবেই থেকে যাবে। মাউ হটুন নামক আইন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক উ ফোন উইন রাখঢাক করে কিছু বলেননি, 'সামরিক ও সমাজতান্ত্রিক যুগের ছায়া থেকে বেরুতে পারছে না মিয়ানমার। থাইল্যান্ড কিংবা চীনের মতো স্বাধীন অর্থনীতিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে পিছু টেনে ধরে রাখা হচ্ছে। সরকার এখন পর্যন্ত বাজার উন্মুক্ত করতে পারেনি'। বিদেশি কোম্পানিগুলোকে মিয়ানমারে বিনিয়োগের জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকে উ ফোনের প্রতিষ্ঠান।

উ ফোন জানান, সীমাবদ্ধতার কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসা পর্যন্ত এগুতে পারছে না মিয়ানমারে। সরকারি কর্মচারীদের 'সামরিক অভ্যাস' এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে। রেস্টুরেন্ট, দোকান অথবা বুটিক হোটেল খোলার অনুমতি দিতে গেলেও আমলারা চেয়ে থাকে ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের নির্দেশের দিকে। হোটেলের ঘাটতি রয়েছে যথেষ্ট; কিন্তু নতুন কোন হোটেলের নির্মাণ কাজ চোখে পড়ে না। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মিছিল বইছে মিয়ানমারে; কিন্তু সুফল আসছে খুবই কম। বিলিওনেয়াররা ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে আসলেও ফিরে যাচ্ছে কোন চুক্তি ছাড়াই। অপেক্ষা এবং দেখার নীতি গ্রহণ করেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।

২০১০ সালের আগ পর্যন্ত এশিয়ার সবচে' নির্দয় একনায়কতন্ত্র কায়েম ছিল মিয়ানমারে। অবরুদ্ধ ও নির্দেশিত অর্থনীতিতে সাবান থেকে শুরু করে বাইসাইকেল পর্যন্ত উত্পাদিত হতো সরকারি কারখানায় আর সাবেক একনায়কেরা এটিকে বলতো যে,সমাজতন্ত্রের বার্মিজ পথ। অবশ্য গত দু'বছরে সূচিত পরিবর্তনগুলো একবারেই যে লক্ষণীয় নয়, এমন কিন্তু নয়। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার উন্নয়নের নামে মুক্তি দেয়া হয়েছে শত শত রাজবন্দীকে; বিলুপ্ত করা হয়েছে মিডিয়ার সেন্সরশিপ; জাতিগত সহিংসতা দূর করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। মিয়ানমারে এমন কয়েকটি জাতি রয়েছে, যাদের আছে নিজস্ব সেনাবাহিনী। একই সময়ে সরকার বলছে, অর্থনীতিতে উদারীকরণের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মতো গতিশীলতা আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মিয়ামারের সমস্যা অনেক। দেশের পশ্চিমাঞ্চলে গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ২০০ জন। সেনাবাহিনী চীন সীমান্তে কাচিন বিদ্রোহীদের সঙ্গে গৃহযুদ্ধের মোকাবেলা করেছে দীর্ঘদিন।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহ-সভাপতি স্টিফেন গ্রোফ মিয়ানমারের বর্তমান পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতার তুলনা টেনেছেন। ভিয়েতনামে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের অনুমতি মিলেছিল ১৯৮০'র দশকের গোড়ায়। মিয়ানমারের পরিবর্তন আসছে ভেতর থেকে এবং পুরো বাস্তবায়নের জন্য হয়তো অনেক সময় লেগে যাবে। এডিবি ২৫ বছর অনুপস্থিত থাকার পর ফের জড়িত হয়েছে মিয়ানমারের উন্নয়নের সঙ্গে। অতিসম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির উপর থেকে তুলে নিয়েছে অর্থনৈতিক অবরোধ।

ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় এখন ভিড় চোখে পড়ে। কেন্দ্রস্থলে বড় ধরনের অপরাধ হয় না বললেই চলে, যদিও চুরির সুযোগ রয়েছে যথেষ্ট। কারণ, ক্রেডিট কার্ড চালু হয়েছে অতিসম্প্রতি; ব্যাংকগুলো এখনো প্রায় অকার্যকর। অধিবাসীরা বহন করে বড় অংকের নগদ অর্থ। সেক্রেটারি ও অফিস কর্মচারীরা চালের বস্তায় করে ব্যবসাস্থলে নিয়ে যায় মিয়ানমারের মুদ্রা। পরিবর্তনের কৌশলগুলোকে এখন পর্যন্ত দুর্বলই মনে হচ্ছে। চরম দমনমূলক সামরিক জান্তার হয়ে যেসব আমলা একসময় কাজ করেছে, তারাই পদ্ধতি ভাঙার চেষ্টা করছে। অথচ এই লোকগুলোই পদ্ধতিটির সৃষ্টিতে সহায়তা করেছিল। তাদের দেখে মনে হয়, নতুন কিছু করার চেষ্টা করছে ঠিকই; কিন্তু ভেতরে হয়তো অন্য চিন্তা কাজ করছে। এ ব্যাপারে স্টিফেন গ্রোফের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি শোনান, 'এখনো অনেক দূর যেতে হবে। আইন ও নিয়ন্ত্রণের পরিবেশ এবং আর্থিক পদ্ধতি খুবই দুর্বল ও অনুন্নত'। নতুন পদ্ধতিগুলো চালুর ব্যাপারে নিযুক্ত উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, পরিবর্তন সূচিত হয়েছে থেইন সেইনের অফিস থেকে এবং তা সরকারের নিম্নস্তর পর্যন্ত পৌঁছাবে।

প্রেসিডেন্টের অফিসের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক থাকা গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিয়ানমার ডেভেলপমেন্ট রিসোর্সের পরিচালক উ টিন মাউংয়ের অভিমতও স্টিফেন গ্রোফের মতো, 'আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাদের প্রত্যাশাকে খাটো করে ফেলতে হবে। জনগণেরও প্রয়োজন রয়েছে প্রত্যাশা কমিয়ে ফেলার'। ইয়াঙ্গুনের শহরতলির দিনমজুর সেইন মাউংয়ের প্রত্যাশা মোটেই বেশি নয়। রেফ্রিজারেটর ও টেলিভিশনের কথা তিনি স্বপ্নেও ভাবেন না; থাকেন বস্তিতে। তার ঘরে বিদ্যুত্চালিত জিনিস বলতে কেবল একটিমাত্র বাল্ব। সেটিও অধিকাংশ সন্ধ্যায় জ্বলে না। স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে তিনি ঘুমান অসমতল মেঝেতে। চার মাসের শিশুটিকে কোলে নেয়া অবস্থায় তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, এ সন্তানটির জন্য নতুন মিয়ানমারে কী ভবিষ্যত্ অপেক্ষা করছে? হাসতে হাসতে তিনি এ প্রশ্নের উত্তর দেন, 'আমি জানি সে কখনোই ধনী হতে পারবে না। ধনী হওয়ার কথা আমরা স্বপ্নেও ভাবি না। আমি শুধু চাই, আমার এ সন্তানটি লেখাপড়া করার সুযোগ পাক, যাতে সে সত্যিকারের মানুষ হতে পারে।'

— ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউন অনুসরণে

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি বলেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিলে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বসার আহ্বানে সাড়া দেবে। দলটির এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?
1 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২৬
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০১
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :